জায়গাটা একটু অন্যরকম। আশপাশে তাকালে কোনো শপিং মল চোখে পড়ে না। মাল্টিপ্লেক্স চোখে পড়েনা। বড় বড় ফ্লেক্স ভিনাইলে লোম তোলা সুন্দরী মেয়েদের বিজ্ঞাপনের ছবি দেখতে পাওয়া যায় না। বেশ ঘন আম বাগান কাঁঠাল বাগান ফনি মনসার ঝোপ ঢোল কলমি জিকা গাছের জঙ্গল । মুখ গুলোও যেন একটু আলাদা। মাথায় তেল দেওয়া ঘন চুল। নিজের ছাঁচে দুখানা ভ্রু।  নাইটির উপর গামছা প্যাঁচানো। লুঙ্গি বা সস্তা দামের ফাটা জিন্স ফুট থেকে কেনা।  নাপিতের দোকান গুলিই রঙ চঙ করে নিয়েছে। লোকনাথ মা কালির ছবির ক্যালেন্ডারের নীচে ব্লিচ ফেসিয়াল...

ম্যালের ডান পাশে চৌমাথার ঘিঞ্জি গলিটার শুরুতে ফুটপাথ ঘেষে প্রথমেই দুটো মোমোর দোকান তারপর রাস্তার উপরেই তিন চারজন শব্জিবিক্রেতা মাটিতে তক্তা বিছিয়ে শব্জি বেচছে।  শব্জি গুলোর মধ্যে দুতিন রকম শব্জি আমার অচেনা, দার্জিলিংএ এসেই প্রথম দেখলাম এ সব্জিগুলো। গলির প্রথম মোমোর দোকানটা এ কদিনে আমার বেশ চেনা হয়ে গেছে। আসতে যেতে রোজ ই চোখে পড়ে ওই গোর্খা দম্পতি আর তাদের ওই এক চিলতে নীল প্লাস্টিক দিয়ে ঘেরা মোমোর দোকানটা। সন্ধ্যাবেলা ওদের বেচা কেনা শুরু। খুব সস্তায় ওরা যখন গরম গরম  মোমো বেচে,  ওদের দিকে তাকিয়ে তা...

গোল বাজারের দুর্গা বস্ত্রালয়। সামনে সোকেসে একটা নীল সাউথ ইন্ডিয়ান শাড়ি আর একটা মেরুন বেনারসী কাচের সোকেসের ভেতর কুচি করে পাখনার মতো মেলে রাখা। কুচির উপর দিয়ে দিব্যা ভারতীর হাসি মুখের কাটআউট। ভেতরে ডান পাশের র‍্যাকে দামী শাড়ি বাঁ দিকে ছাপা শাড়ি  আরো বাঁদিকের র‍্যাকে বাচ্চাদের জামাকাপড় তার পর গামছা লুঙ্গী আর স্যান্ডো গেঞ্জি।  আর দোকানের একেবারে বাঁ পাশটায় বড় বড় কাঠের লম্বা লম্বা মোটা লাঠিতে সার্টের থান কাপড় পেঁচিয়ে রাখা। ঢুকতেই ধুতি পরা  পুরুষ মালিকের হাসি হাসি গলার স্বরে শোনা যেত আসুন দিদি, কি দে...

ইসসস!! সাড়ে আটটা বেজে গেল। রাঁধুনি আসেনি। খবর না দিয়ে কেন যে এরা কামাই করে কে জানে!  দুদিন দিব্যি ছুটি নিয়ে তিন দিনের দিন এসে বলবে মেয়েটার জ্বর ছিল দিদি। এসব ছুতো, ছুতো, সব বুঝি। যত সব ভণ্ডামি। আরে জ্বর তো জ্বর,  তাই বলে কি এক ঘন্টা কাজটা করে যাওয়া যায় না? এখন কি করে চলে?  তার উপর কারেন্ট নেই, রাইস কুকার না চললে ভাতটা গ্যাসে হতেই কতো টাইম! আরে মোবাইলটাতেও তো চার্য নেই।অফফ! ট্রেন আজ রাইট টাইম কিনা জানতে ও পারবো না হোয়াটসএপে।সেই রাইট টাইমে ছুটতে ছুটতে গিয়ে বসে থাকো তারপর দেখব পাঁচ মিনিট লেট।এই ভ্য...

   একদিন তখন শেষরাত, পৌষ মাসের হাড়কাঁপানো শীত চলছে তখন, রাত আড়াইটা হবে । একটা মেয়ের প্রচন্ড চিৎকারে ঘুমটা ভেঙে গেল।  ভালো ভাবে সজাগ হয়ে বুঝলাম আমাদের ফ্ল্যাটের কোনো পরিবার থেকে আওয়াজটা আসছে না আসছে বাইরের বড় রাস্তা থেকে।  ঘুমিয়ে পড়লাম কম্বল্টা আবার ভালো করে গায়ে টেনে নিয়ে। সকালে আমাদের পাশের বস্তি থেকে যে বৌটা আমার ফ্ল্যাটে  কাজ করতে আসত শুনলাম  চিৎকারটা ওর ছিল। আমার পরা শাড়িগুলো ভেজাতে ভেজাতে ওর সার্ফ মাখা হাতটা উলটে চোখ মুছতে মুছতে বলল উনি কাল আমাকে ঘর সে বার করে দিয়েছিল ভাবী। এমনি সব ভালো রেগ...

এই তো, এই প্ল্যাটফর্মটা দিয়েই তো হারানের মা ওর মেজ ছেলের গুলি খাওয়ার খবরটা পেয়ে পাগলের মতো ওর খসখসে চুলগুলি ছেড়ে দিয়ে ছুটছিল। কে জানো, দুপুরবেলা হারাণের মা যখন ভাতগুলি চটকে মাখছিল, ওর বেড়ার দরজার পাশে এসে বলেছিল, লালগোলা না কোন বর্ডারে জেন তোর ছেলের লাশ দেখেছে ওই পাড়ার লোক। বলল ওরা, বর্ডারে মাল পাস করতে গিয়ে গুলি খেয়েছে রাত্তির বেলা। লাশটা পড়ে আছে দেখেছে।

তার চারদিন পর মাথায় আর ঘাড়ে একটা বিরাট ব্যান্ডেজ বেঁধে হারান আবার এই প্ল্যাটফর্মটাতেইতো লাস্ট ট্রেনে করে এসে আবার নেমেছিল।

খোঁড়াতে খোঁড়াতে ওই পা...

সকাল বেলা ফেসবুক খুলে এক মহিলার হাসি হাসি মুখের ছবি। উপরে লেখা আছে কৃতজ্ঞতা জানাই ডাক্তারকে যিনি আমাকে সিঙ্গল মাদার হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। নীচে কমেন্ট বক্স ভরা।  

অভিনন্দন....

আপনার সাহসী পদক্ষেপ কে কুর্ণীশ.....। 

প্রকৃত নারীশক্তির প্রতীক আপনিই....। পোস্টটাতে যখন লাইক দিচ্ছি আমার ট্রেনটা তখন ভায়না হল্ট ছেড়ে কচুরিপানা ভর্তি যে বিলটা আছে ওটা পেরোচ্ছে। পচা জল আর মানুষের হাড় চামড়া মাংস পোড়া গন্ধ আসছিল। নাক বন্ধ করলাম পারফিউম দেওয়া হ্যাঙ্কি দিয়ে।  লাইনের ধারে ওই কচুরি পানা ভর্তি  বিলটার একটা ধারে...

বিশ্বম্ভর চ্যাটার্জি বছর পাঁচেক আগে একদিন বহুকাল বাদে শহরের বন্ধুদের নিয়ে গ্রাম দেখাবে বলে জন্মস্থান
কাটোয়ার দাস পাড়ায় শীতকালে বেড়াতে গিয়ে হুজুগে পড়ে সেখান থেকে একটি কচি পাঠা কেটে সাথে
টাটাকা শাক শব্জি কিনে এনেছিল। আর তার একমাত্র ইঞ্জিনিয়ার ছেলের জন্য আঠারো বছর বয়সী ফর্সা
নাকচোখা লালঠোঁটের স্বাস্থ্যবতী একটি মেয়ের সাথে বিয়েটা পাকা করে আসে। ইঞ্জিনিয়ার পাত্রের আপত্তি
থাকলেও বাবার কথায় রাজী হয়ে গিয়ে দামী গাড়িতে ফুল সাজিয়ে টোপর পরে দমদম নাগের বাজারের ফ্ল্যাট
থেকে গেল কাটোয়ার দাস পাড়ায় বিয়ে করতে। শর্ত...

Please reload

সাম্প্রতিক পোস্ট
Please reload

Archive
Please reload

A N  O N L I N E  M A G A Z I N E 

Copyright © 2016-2019 Bodh. All rights reserved.

For reprint rights contact: bodhmag@gmail.com

Designed, Developed & Maintained by: Debayan Mukherjee

Contact: +91 98046 04998  |  Mail: questforcreation@gmail.com