১.

সম্পর্কগুলোর মাঝখানে 

আমি হয়ে থাকি স্থানু একটি সিট বেঞ্চ

ধীর লয়ে দোল খায় অলিভ অরণ্যমনছায়া

কেউ কেউ এসে বসে কিছুক্ষণ 

ক্রোধ ও দুঃখের কথা বলে 

কারো কারো কাছে আমি ক্যাথিড্রাল

শান্ত ও নির্মোহ

শুধু তোমার সামনে আমি খুলে রাখি এসব আড়াল

২.

অসাবধানে ভেঙে যায় ফুলকাটা কথোপকথন 

টুকরো কুড়িয়ে নিতে ফুলঝাড়ুটিও সেই আমি

আমি ছাড়া আসলে তোমাকে দেখার কেউ নেই 

৩.

বিগত বছরগুলি জ্যোৎস্নায় সারবদ্ধ গাছ

আমাদের সম্পর্ক ওয়ানওয়ে ট্র‍্যাফিক 

প্রখর রৌদ্র থেকে সুষমায় ফিরতে পারি না 

৪.

তোমার চোখদুটি পরিত্যক্ত  কারশেড

শান্তি দায়ভারসহ চলে গেছে দূরের...

এই বিষণ্ণ শ্রাবণে আমি কী বলি তোমাকে

কথা নয়,সুর নয়

বৃক্ষ রেখে গেছ এক ছায়ামগ্ন রোদে

সেই বৃক্ষের আড়ালে তুমি হিরণ্ময় অবিনশ্বর 

তোমার কবিতায় গমন করতে করতে 

পায়ের তলা থেকে খসে যায় মেঘধূলি, অরণ্যের ঘ্রাণ 

অন্ধের স্পর্শের মতো নদী আসে, মৃদুস্বরে ডাকে

যে কটা দিন মোহডুবে থাকি

স্থির জল ভেঙে ভেঙে যায়

ভিজে পাখনায় সারস্বত হেঁটে আসে 

পায়ের পাতা থেকে খুঁটে নেয় কমলা রোদ্দুর 

তুমি দূরের বাঁশি বাজিয়ে যখন ডাকো

চলন্ত ট্রেন থেকে ডানা মেলে  নিষ্ক্রমণ 

জন্ম থেকে মৃত্যু ছুঁয়ে বয়ে যায় তোমার কবিতা 

সমস্ত ক্ষমার রঙ বৃষ্টির মতো 

তাই ব...

আমাদের সর্বোত্তম সম্পদটি কী? এই যে আমরা এত সঞ্চয় করি, লোকচক্ষুর আড়ালে লুকিয়ে রাখি আমাদের পার্থিব সম্ভার , এসবই কী আমাদের একমাত্র সম্পদ?  মজার কথা হল, মানুষ কিন্তু তার সর্বোত্তম সম্ভারটিকে অনেক সময়েই সঠিক চিনে উঠতে পারে না।  সে বুঝে উঠতে পারে না, যে তার ভালোবাসা, মানবতা বোধ,বিচার ক্ষমতা আর চেতনাই তার প্রকৃত সম্পদ, এসবই তাকে  অনন্য করে তোলে।আমাদের সম্পদ আমাদের সম্পর্ক, আমাদের পারস্পরিক বন্ধন, আমাদের স্বাধীনতা। তবু যখনই এই অপার্থিব সম্পদের দিকে কোন লোভাতুর হাত এগিয়ে আসে, কুক্ষিগত করে ফেলতে চায় ছলে...

চারদিকে কলরবের ধূম দেখতে পাচ্ছি। এটাকে বানান ভুল ভাবার আগেই ধরিয়ে দিই একটু। ধূম অর্থে ধোঁওয়ার কথাই বলছি। আগুন জ্বলে উঠতে গেলে কাঠকেও প্রস্তুত হতে হয়। সেই প্রস্তুতি কোথায় আমাদের? চিরকাল নিজের ভালো বুঝে আসা শামুক প্রজাতির মানুষ আমরা। সমস্যা টিকির কাছে আসি আসি করলেই টুপুত করে ঢুকে পড়ি খোলসের নিরাপদ আশ্রয়ে। তাই আমাদের আর আগুন হওয়া হয় না। ধোঁওয়া হয়েই জীবন থেমে যায়। 
এই যে এত রকমের ভয়ংকর ঘটনা ঘটে চলেছে, আমরা প্রতিবাদ করে চলেছি... কবিতা লিখছি... মিছিল করছি... কিছু কি হচ্ছে তাতে? হবে কেমন করে? একটা প্রত...

যতই বাড়াই হাত দিশাহীন দূরে চলে যায়
পায়ের আঙুল ছুঁয়ে বারবার ফিরে যায় জল
সফেন বালির পিঠে সংকেতময় ব্যবধানে
ভাঙাচোরা দুই গাছ শুয়ে থাকে জ্যোৎস্নার খালে

বিরাট ঝাউয়ের বনে সমাহিত হয়ে থাকে স্বর
কিছুতো বলার ছিল কিছুতো শোনার ছিল তার
রাতের মতন এক পাখির ডানার থেকে প্রেম
ঝরে ঝরে পড়ে যায় নিঃঝুম ছায়ার বাথানে

বাউর হাওয়ারা দেখে প্রাচীন দেশের লিপিকর
ক্লান্ত কপাল জুড়ে লিখে রাখে চিহ্নক রেখা
অন্য কপাল ভেবে যতবার ছুঁতে চাই  আমি
ততবার সেইসব চিহ্নেরা উড়ে উড়ে আসে

আমার শরীর ছুঁতে নেমে আসে নোঙরের মতো
বিষাদেরা থমকায় যেখানে না...

ট্রেন যাত্রীর ডায়েরী

শ্যামশ্রী রায় কর্মকার

ডায়মণ্ড হারবার গামী ট্রেনের মহিলা কামরা। জমিয়ে আড্ডা হচ্ছে। একদল যাত্রী হাসতে হাসতে এ ওর গায়ে ঢলে পড়ছে। হাসির এমন হল্লাহাটিতে কেউকেউ স্পষ্টতই বিরক্ত। কারোকারো মুখে আবার প্রশ্রয়ের প্রশান্তি। এমনিতে ওই কামরায় হকারের ঝুড়ির খোঁচা না খেলে, পাকা পেয়ারার গন্ধ না পেলে, ধণ্বন্তরী দাঁতের মাজন আর বাতের ব্যাথার মলমের গুণগান না শুনলে বেচারী যাত্রীদের দিনরাত হু হু করতে থাকে। রঙবাহারী কানের দুল আর হাতের চুড়ির পাহাড়প্রমাণ পশরা নিয়ে চেনামুখের সেইসব দাদাভাইরা কি করে যে ভীড়...

কেন যে বন্ধ থাকে হৃদয়ের জানলাকবাট!
কাঁচের দরজা খুলে মুখখানা বাড়াবিনা তুই?
এইতো এখনি পাখী গৃহস্থালির গান গেয়ে
করবীর ডাল থেকে বকুলের ডালে ফিরে গেল,
শুকনো তুলসীবন পিপাসায় কাঠ,
একটা সবজে জামা গমরঙা ওড়নার সাথে
ওবাড়ীর আলসেতে হাত পা ছড়িয়ে শুয়ে আছে,
পাশের বাড়ীর সাথে মুখ দেখাদেখি নেই,তবু
জানিসতো দুইবাড়ী রোজ রোদ ভাগাভাগি করে-
কাকে বলি বল এই ভীষণ কাজের কথাগুলো?
কার সাথে একদান খেলে নেব ফ্যাকাশে বিকেলে?
কথাগুলো এলোমেলো বেড়ে গেছে আগাছার মত,
নষ্ট করার মত সময় কি আছে তোর হাতে?

তোমার আমার মুখের স্বাধীন বোল ফোটানো ভোর
বাংলা ভাষার বিজয়দিনে বিশ্বজয়ের ঘোর
যুদ্ধ ভাষার যুদ্ধ বাঁচার
রক্তে বোনা নকশী কাঁথার
বুকের ভিতর বাংলা মায়ের কান্না হাসির ডোর
শহীদ সেনার শৌর্যে ভরা সূর্যে একুশ ভোর

আজকে যখন সম্মিলিত মহোৎসবের দিন
স্মৃতির পাতায় সোনার আখর শহীদ ভা'য়ের ঋণ
থাকুক মনের জানলা খোলা
রক্তে আবার লাগুক দোলা
শিকল ভাঙা বর্ণমালা ছড়াক অন্তহীন
বিশ্বভাষা বাংলা হবার স্বপ্ন দেখার দিন।

এইযে তোমার গভীর কালো ভুরু
এইযে তোমার মাধ্যাকর্ষী চোখ
এইযে এখন কপালে হাত রেখে
নিবিড় ভাবে ভাবছ তখন থেকে,
এসব দেখেই হঠাৎ হঠাৎ দেখি
সমস্ত স্রোত জমাট বাঁধে বুকে
হতেই পারে তখন কোন নদী
ছলছলিয়ে নামছে পাহাড় থেকে
হতেই পারে মাথার ওপর দিয়ে
আসাযাওয়া করছে ঝাঁকের পাখী
কিম্বা কোন মাটির ঘরে বসে
হ্যারিকেনে তেল ভরছে নারী
কি আসে যায় কি হয় আশেপাশে
কি আসে যায় সকাল নাকি রাত
জেটির কাছে ষ্টীমার ফিরে এসে
দু'দশ মিনিট জিরিয়ে নিচ্ছে নাকি
কজন লোকের বন্ধু মনের মত
কজন নারীর নিজের বাড়ী আছে
এসব তখন প্রসঙ্গহীন কথা
এসব তখন আবছা দূ...

দাঁড়াও,অযথা ডিঙাতে গেলে
অসময়ে স্থাবর জঙ্গম,
খান খান হয়ে যাবে ছদ্মবেশী ঘুম,
আবৃত চোখের নীচে
থরে থরে ইচ্ছে লিখে দিয়ে
এইমাত্র উঠে গেছে লেখকের
রাত্রিচরী নগ্ন কলম,
এখনো গোপন আছে
ডানাহীন সন্মার্গী উড়ান,
চুপিচুপি ধীরপায়ে এসো,
ঝেড়ে ফেলো লেগে থাকা
অসংলগ্ন হিম,
প্রকটের দিন চলে গেছে,
উত্তাপিত হাতে ধরে নিয়ে যাও
দূরত্বের শীতল প্রশ্রয়ে।।

কি মসৃণ দুপুর মেলে দিয়েছ সেদিন রাজপথে,

কি পেলব সূর্যশিখা ছুঁয়ে গেল গোধূলি শরীর!

কি অনন্য আয়াসহীন শুষে নিলে প্রবল আগুন

আর অতলান্ত প্রেম ঢেলে দিলে।

আজকে হঠাৎ করে তোমার বুকের লাল তিল,

সংবৃত গতিময় কনুইয়ের ভঙ্গিল  ভাঁজ,

সামান্য ঝুঁকে থাকা পৌরুষগর্বিত পিঠ

দুচোখের সিঁড়ি বেয়ে ছুঁয়ে দিল মগ্ন দেউল।

ঈষৎ বাদামী ঠোঁট নানা রঙা শব্দে প্যালেট,

ভেজা মনে আঁকা হয়ে গেল এক অস্ফুট ছবি,

একটু ছোঁয়ালে হাতে এখনো তো রঙ উঠে আসে,

অজস্র কবিতায় ধরে রাখি তাই তার রূপ। 

তোমার চওড়া হাতে নীরব হারিয়ে যেতে যেতে

ফুটপাথও গুলবাগ,ধোঁয়াও মেঘের মত লাগ...

ঐ তিনজন ছায়ার মত নারী,

ঐ তিনজন চাঁদের মতই নিশীথিনী ছিল,

ঐ তিনজন আসলে ঈশ্বরী,

ঐ তিনজন সর্বনাশের চিত্র এঁকেছিল।

চিত্র জুড়ে নষ্ট গাছের অজস্র হাত মেলা,

চিত্র জুড়ে নিভন্ত চাঁদ জ্বলে,

চিত্র জুড়ে ঘোড়ার পায়ের ধাতব আগমনী,

চিত্র জুড়ে মৃত্যু কথা বলে।

মৃত্যু তখন ঐ মানুষের নিশ্বাসে প্রশ্বাসে,

মৃত্যু তখন মূর্তিমতী মায়া,

মৃত্যু তখন খিলখিলিয়ে রূপবতী নারী,

মৃত্যু তখন প্রলোভনের ছায়া।

ছায়ার মতো ঐ তিনজন ধাঁধা মেলেছিলো,

ছায়ার মতো অস্তায়মান সিঁড়ি,

ছায়ার মতো ধাঁধায় ভরা সিঁড়ির ধাপে ধাপে

ঐ মানুষ আর আমরা ঘুরি ফিরি।।

শব্দ নিহিত রাখো বুকে,

অনিসর্গ শব্দভার ঢেকে দেয় 

দৃষ্টি ও শ্রবণ, আবছায়া লাগে।

এত যে সৌন্দর্যময় পৃথিবীর রূপ....

সব অনুভব করে যেতে চাই,

ছুঁতে চাই মাটি আর গাছের স্পন্দন।

যতবার মন রাখি গোধূলির আলোর ভিতরে,

অথবা ঢেউএর বুক ছুঁতে চাওয়া সূর্যের হাতে,

ছুটে আসে শাব্দিক উল্কা আবেগ।

গোলার্ধে ভেঙে যায় অতৃপ্তি  আর মেদুরতা।

দুমুঠো কুড়িয়ে নিয়ে কোনক্রমে ঝাঁপি ভরে রাখি,

তোমায় শিখিয়ে যাব সমস্ত কুড়োনো সম্পদ,

জেনো তার অন্য মানে আছে।

এই কবিতার ঠিক দুই হাত দূরে

       নুয়ে পড়া দেহ আর ঘাড়,

       থমথমে বাড়ীটার পেটের ভিতরে

       ঝালাইওলার কারবার।

রোজরোজ রোদ ভেজে কবিতা উঠোন,

বুড়োটার ব্যস্ত শরীর, 

ছোট বড় প্রাণহীন যান্ত্রিক দেহে

আগুন ও আঙুলের ভীড়।

       ফাটা মোটা চশমার খুলে আসা কাঁচে

       পবিত্র আগুনের শ্বাস , 

       এই কবিতার ঠিক  চার হাত দূরে

       ধানক্ষেতে নাতনীর লাশ।...

Please reload

সাম্প্রতিক পোস্ট
Please reload

Archive
Please reload

A N  O N L I N E  M A G A Z I N E 

Copyright © 2016-2019 Bodh. All rights reserved.

For reprint rights contact: bodhmag@gmail.com

Designed, Developed & Maintained by: Debayan Mukherjee

Contact: +91 98046 04998  |  Mail: questforcreation@gmail.com