কি রেখে গেলো চৈতন্য আরোগ্য নিকেতনে ?

সলাজ ব্যস্ত কুঁড়ি

আগাম নিমন্ত্রণ

আসতে হবে সৎ পুস্তক হাতে

সীমিত যন্ত্রযানে

আর সেখানে অপ্রাসঙ্গিক আবাসনের আবাসিক

প্রহেলিকা উদ্বায়ী সম্পদের

উপচে পড়ে আতঙ্ক

কোষের নিম্নকক্ষে আতশকাচ

কি রেখে গেলো চৈতন্য আরোগ্য নিকেতনে ?

শেষ ট্রেনে কোষের শেষ নিমন্ত্রণ

আর অন্যথা কিছু নেই ।

"বিপ্লব" মৃত কোনো শব্দ নয়,

ড্রয়ার থেকে টেনে বের করা

পুরনো কলম কিংবা চশমা নয়

ক্ষেত--খামার--কলকারখানা

হৃদয়ে লুকিয়ে থাকা---

 এক বুক যন্ত্রণার খনি।

শাণিত হোক বিপ্লব

শানিত হোক প্রেম।

জানিনা--

কে কার মতো করে

ডেকে নেবে একদিন ওই বুকে

বলতে পারে শুধু সময়........

স্পার্টাকাসের শৃঙ্খল ভেঙে আসুক

নতুন ভোর

তোমার চিবুক ছুঁয়ে

অন্ধকার চিরে চিরে আলো ভরে যাক

পাহাড় উপত্যকা গিরিখাত।

খুব পাখি-স্বভাব তোর!

কোন নীলে ভাসবি তুই বল হারাবি কোথায়?

কাঁচঘরের ভরসা ছিঁড়ে ছড়িয়ে পড়ছে ক্যানসার

নিরাময়ের বাজার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে বাজারবিদ

লোনা হাওয়ায় আজ আর কেউ সূর্যস্নানে যাবার কথা ভাবছে না

এ রকমই শোনা যাচ্ছে— শুনিসনি কি তুই?

কাকতাড়ুয়ার হাত জয় করে ডানামেলে

নেমে আসছে শালিক মলিন কুয়াশায়

রোদ্দুরের কারুকাজ সর্ষে ফুল ছুঁয়ে

ভেসে আছে আকাশ নরম নীল

কোথাও তো মৃত্যু ছিল না!

যে ডানায় ছিল জয়ের উল্লাস, দূর আকাশের সাড়া

দ্যাখ!

কী বিষ যন্ত্রণামাখা ডানা

ঝেড়ে ফেলছে মৃত্যু

জীবনেরে আঁকড়ে ধরার কী ক্ষিপ্রতা হলুদ নখে!

তবু

দ্যাখ!

রক...

কিছুই ইচ্ছে করছে না রাত থেকে

নিজেকে বড়ই অপরাধী মনে হচ্ছে

দুচোখের পাতা মেলেনি ক্ষোভেতে রাতে

লজ্জায় মুখ ঢাকতে ইচ্ছে করছে।

কলঙ্কের আজ হলাম যে ভাগিদার

চাইনি যা তার দায় এসে পড়ে ঘাড়ে

বিভেদের প্রাচীর হয়েছে যে নির্মাণ 

অস্বীকার তা কিভাবে করতে পারে।

ওদের দোহাই দিয়ে কর অপকর্ম 

বুঝতে কি বাকি থাকে এটা চক্রান্ত 

উদাহরণ যা দিলে তা হাস্যকর

ভ্রাতৃত্বকে আজ হতে দেখি আক্রান্ত।

মীরজাফরেরও নাম আছে ইতিহাসে

বিশ্বাসঘাতক হিসাবেই পরিচিত

হিংসার বীজ বোনবার অভিপ্রায় 

ইতিহাস ক্ষমা করবে না জেনে রেখো।

চোখের পাতা মেলেনি ক্ষোভেতে রাতে

লজ্জায় মুখ...

নিশানা তিন তিনটি দেশ
যারা শুরুতেই নিজেদেরকে জানতে চেয়েছিলো
কেউ নিজের তৈরি গাছের গতিপথ দেখে
কিংবা কেউ  আবার কবরের পাশে
আবার কেউ পতকার রঙ দেখে

তিন তিনটি দেশ
সহসা  গোলা বারুদের গন্ধ
কুয়াশায় ঢাকে আকাশ
খোলা রাস্তায় পাশাপাশি  লাশের পর লাশ
গাছের নীচে, কবরের পাশে, পতাকায়
ভেসে যায় রক্ত

তিন তিনটি দেশ

পরিচয় হারালেও
মাটিতেই পড়ে থাকে

নাগরিকত্ব চিহ্ন।


তোমার করতল বেয়ে আসা রক্তের ফোঁটাকে
আঙুল দিয়ে ছুঁয়ে দেবো এবার , আর দেখবো
কেমন করে সদর দরজা দিয়ে বেরিয়ে যায় আমার জাত !

জাহানারা , এখনও কি তুমি স্নান করো বহমান নদীর জলে
তোমার গা বেয়ে বয়ে চলে রূপোলি জলধারা 
যে জলে কুলিন মানুষরা স্নান করে শুদ্ধ হয় বারবার
আমি দেখবো তোমার গায়ের জলধারা ছুঁয়ে ছুঁয়ে তোমার জাত !
 কুলিন সন্তান আমি , ধর্মের দূরত্ব অনেক আমাদের
আমরা এখানে মন্দির ভাঙি মসজিদ ভাঙি গির্জা ভাঙি ,
আমি কিন্তু তোমার মন তোমার শরীর ভালবাসবো
দেখি কেমন করে সদর দরজা দিয়ে জাত যায় আমার !

আমি তো ধর্ম মানিন...

ক্রমশ  খালপথ ধরে

রক্ত ভেসে যায়

দোষী - নির্দোষীর বখাটে  হিসেব 

ভীড়ের  মাঝে  ভীড় 

আরও  ভীড়  বাড়তে থাকে 

এক,দুই , তিন...আট, নয়... ক্রমশ   বাঁচার লড়াই 

শোষকেরা খুঁজে  পায় 

শোষণের  প্রক্রিয়াকরণ 

আবার রক্ত... ক্রমশ  লাল, নীল , সবুজের  

হাঁটবার পথ শেষ 

সামনে শূন্যতা ...

রক্তের  স্রোতে 

ক্রমশ  এইভাবে... 

আমরা যদি বিলুপ্ত হই,

সমাজ হবে অচল ।

তবু কমেনি লাঞ্ছনার হার,

আলগা হয়নি শিকল ।।

মহাকাশ পেরিয়ে, এভারেস্ট ছুঁয়ে

বাঁচতে শিখেছি আদর্শ নিয়ে,

পৃথিবী বদলায়, নিয়ম বদলায়,

আধুনিকতার মিথ্যা অছিলায় ।

আজও ওরা শেষ করে ভ্রূণ,

ক্ষত বিক্ষত শরীরে আগুন !

সুবর্ণলতারা নীরবে মরে

একবিংশের অন্ধকারে ।।

রঙ্গমঞ্চের আব্রু মেখে ওরা,

চেতনা জাগায় নারীবাদীর,

যবনিকা শেষে ক্লান্ত শরীরে,

ভিক্ষা চাইছি আজাদীর ।।

(২৮ নভেম্বর হায়দ্রাবাদে  ধর্ষণের শিকার প্রিয়াঙ্কা রেড্ডির   অকাল প্রয়ানে  শ্রদ্ধাঞ্জলি) 

হাল্কা শিশিরের আদরে

সন্ধ্যা নামে। তখনও লাইটপোস্টের নীচে ঘন অন্ধকার

হঠাৎ আলো খেলে 

সদ্য প্রস্ফুটিত একতরুণীর শরীর বেয়ে

পশু চিকিৎসক হয়েও পশুদের চোখে খাদক হয়ে ওঠে

তখনও ভাবেনি তার শরীরে কাঁচা মাংসের গন্ধ লেগে আছে

হাসি, খুশি, প্রাণচ্ছল মেয়েটি 

বাড়ি ফেরার আনন্দে মাতে

মুহূর্তে শরীর ঘিরে   

কারা যেন রক্ত মাংসের স্বাদ নেয়

ভরা জোছনায়  রঙিন ও সুস্বাদু হয়ে ওঠে

নির্জন ঘন জঙ্গলের এক কোণে

বিষাক্ত দাঁত আর নখ...

চলো ভুলে যাই নিজেদের ইতিহাস 

চলো ভুলে যাই ঘাতকের তরবারি;

শুধু মনে রাখি আরোপিত মিত্রতা,

আর্তনাদকে চাপা দেওয়া দরকারি।

লাগানো আগুন-- আমি বলি দাবানল,

বনভূমি দায়ী, মশালের দোষ নয়।

বেশ ভুলে আছি অতীত পরম্পরা 

পুথিপত্রের ভস্মে জ্ঞানের লয়।

লুণ্ঠিত নারী অথবা জহরব্রত?

যদি হয়ে থাকে সে তো সনাতনী ক্ষয়।

এখনও বইছে রক্ত স্রোতের নদী--

চোখ বুজে ভাবি এমন কতই হয়!

চলো আঁকা ভুলি ভবিষ্যতের ছবি,

অন্ধকাররের কটাই বা রং হবে?

একখানি চোখ বাঁচানোর অভিলাষে

আর একখানি না হয় উপড়ে যাবে!

ReplyForward

  শীতের তাপ প্রবাহে 

সূর্যাস্তের  ক্লান্তি  আলোয় 

ভালোবার বীজ বোনে

গাছেদের স্নেহ মাখা কথা

সন্ধ্যার  সান্ধ্য বাতাসে ভাসে

বলে যায় পাখিদের  দল 

ভালোবেসে  বাসর সাজায়

সারারাত  ভাবনায় 

তোমার দেওয়া  কথা 

হৃদয়ে  ঘড়ির  কাটার মতো টিকটিক  বাজে

সময় তো ঠিক বলে যাবে

তোমার আমার ভালোবাসা

চিরন্তন  দুটো শরীরে 

মিথ্যে  কথায়  কথায়  

প্রমাণ  পরীক্ষায় 

ভালোবাসা  যায় না বৃথা 

পরস্পরের  হৃদয়  বলে যায় । 

22.11.2019

একটা কিশোরী সন্ধ্যা তোমার জন্যে তোলা থাক,

যে সন্ধ্যায় শহরটায় জ্বলে উঠবে আতশবাজির তারা-

আমরা দুই উন্মাদ বিভোর হয়ে আকাশ দেখবো,

আমরা দুই পাগল প্রেমি মন বিনিময়ে ব্যস্ত হবো,

সময় যখন দুটো ঠোঁটে চেপে ধরা 

অস্ফুট স্বর লজ্জায় লাল,তখন

একে অপরে ডুবে যাবো।

লোকলজ্জার ভয় বুকে নিয়ে কখনো কি প্রেম হয় !

প্রেমে পাগল দুটো মন শুধু ই নদী হতে চায়,

একটা সময় সেই নদীই সাগরে মিশে মোহনায় এসে থমকে দাঁড়ায়।

যেখানে শুধুই ধীরস্থির একটা সমঝোতা,

যেখানে আমরা শুধুই মেনে নেওয়া,মানিয়ে নেবার অভ্যেস মাত্র হয়ে বাঁচি।

কবে ছাইভস্ম ঘেঁটে সোনার খোঁজ শুরু,
মনেও পড়েনা। অনেক জল গড়িয়ে গেছে,
শান্তি মেলেনি, মেলেনি সোনা একদানা।
তবু খানিক অভ্যাসের ডানায় ছোটাছুটি।

একদিন এক পাগল কবি বলেছিল হেসে,
" আমরা সবকিছু গভীরভাবে ভালোবাসি,
কিন্তু গভীরতার মূল্যায়ন ঠিক জানা নেই "
সে পাগল হলে আমরাও কী পাগল নই? 

এভাবে চলতে চলতে চলা হারাবে যেদিন,
একটুকরো মনের কোণও কি মিলবে না?
সেই কোণে রেখে দেব অজস্র ছেঁড়াপাতা,
ঘুম এলে ঘুমিয়ে যাব কোলে মাথা রেখে।

যদি ঘুম ভাঙে, দেখবো সব বসন্ত রঙিন

কত মানুষ  হাঁটছে 

চেয়ে দেখছে  সবাই 

কেউ মাথায়  রক্ত নিয়ে

কেউবা হাতে রক্ত নিয়ে

কিংবা কেউ হাসপাতালের  মর্গে 

আমিও হাঁটতে  হাঁটতে হোটেলের  লাইনে  

আমি মশলা  মুড়ি  নিয়ে বসেছি একটু দূরে 

ভেসে আসছে একটা  দুর্গন্ধ 

অবিকল  মানুষের  মতো নোংরা  আবর্জনায়  চিৎ হয়ে শুয়ে 

কতগুলো  কুকুর  ছিঁড়ে ছিঁড়ে  খাচ্ছে 

আমি বিহ্বল চোখে 

আমি এই মৃত্যুর  জন্য  দায়ী 

আমরা  কেউই  এর থেকে  সরে আসতে পারিনা 

যে ছেলেটা  এম.এ পাশ করে  গলির...

কয়েকজন মাত্র কবি 
অতিপ্রাকৃত জগতের সন্ধান জেনেছেন। 

আমাদের মস্তিষ্ক কিংবা হরমোনগুলো 
সেই দুনিয়ায় কোনো কাজেই লাগে না। 
বরং কয়েকজন বৃদ্ধ কবির 
ঝাঁজালো করোটি ভেদ করে 
অজানা সব গাছ বেড়ে ওঠে, 
তাতে রক্ত আর ঘিলু মাখামাখি।
কবিরা সেই অবস্থায় 
নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করেন, 
আর নিজেদের থুতু ঘষে দেন 
অপরের ক্ষতচিহ্নে। 

কোনো কোনো নোংরা কবির
যকৃতে বিশাল বিশাল সাপ 
পেঁচিয়ে থাকতেও দেখা যায় মাঝে মাঝে, 
অনেক সাপ, তবে খুব নিরীহ। 

আর কিছু অল্পভাষী কবি 
জ্বলন্ত চুল্লিতে গোটা দেহ চুবিয়ে 
বিশ্রাম নেন চোখ বুজে। 
তাদের হাড়-মজ্...

Please reload

সাম্প্রতিক পোস্ট
Please reload

Archive
Please reload

A N  O N L I N E  M A G A Z I N E 

Copyright © 2016-2019 Bodh. All rights reserved.

For reprint rights contact: bodhmag@gmail.com

Designed, Developed & Maintained by: Debayan Mukherjee

Contact: +91 98046 04998  |  Mail: questforcreation@gmail.com