দিনশেষে অভিনয়ের মিথ্যে হাসিগুলো রাতের আঁধারে বড্ড কষ্ট দেয়। রাত গভীর হয়ে আসলেই সব কষ্টগুলো নিরবে আঘাত হানে। ধুকে ধুকে খায় আমার মতো হাজারো নিম্নমধ্যবিত্ত কে!
-ওভারব্রীজের উপর দাঁড়িয়ে আছি আমি। সন্ধার সূর্যটা বহু আগেই বাড়ি ফিরে গেছে, রাস্তার সোডিয়াম হলুদ বাতিগুলোও জ্বলে উঠেছে আলোকময় নগরীকে আরেকটু আলোকিত করে দিতে। এই সময় বাড়ি ফেরার তাড়া থাকে মানুষের,ফিরে যাওয়ার নিরব প্রতিযোগীতা যেন শুরু হয়ে যায়। ভীড় বাড়ে বাসে, এই যাত্রাবাড়ি,গুলিস্তান,মিরপুর,শ্যামলী,   ডাক হাঁকায় কন্ট্রাক্টাররা। আর যাত্রিদের ফিরে যাব...

পথসভা শেষ। মাধবের কেমন হতাশ লাগছিল। লোকজন তেমন ভীড় করে শোনেনি। দোকান-বাজারের লোকজনের ক’জনই-বা শুনেছে বলা মুশকিল। মাধব বক্তা না। তবে বলা যায় তারই উদ্যোগে সভাটা হয়েছে। মাধবের এক বন্ধু মানবাধিকার-কর্মী, তাকে  ভয়ের বিরুদ্ধে কোনও কর্মসূচি নেওয়া যায় কি না ভাবতে বলেছিল। এবং তার ভাবনার কথাও জানিয়েছিল। মাধবের ভাবনা অনুযায়ী সভাটা হয়েছে। সাকুল্যে তারা দশ জন। এলাকার চার জন। বাইরে থেকে এসেছে ছ’ জন। বাইরের তিন জন ইতিমধ্যে চলে গেছে। আর তিন জন আজ এখানে থেকে যাবে। এলাকার দু’ জন ডেকরেটারসের ছেলেদের সহযোগিতা করছে।...

                                 

সেদিন পাবলিক বাসে আসছি কোলকাতার রাসবিহারী থেকে , যাব সি এম আর আই । শীতের সন্ধ্যে হলেও দুদিন হঠাৎ বর্ষার টানাপোড়েন গেছে শহরটার ...  সদ্য ভিজে শহর যেন একটু বেশিই জবুথবু । হাজরায় পৌঁছতেই একটা হালকা কোলাহল হাতে জনা দশ পনেরো লোক একসাথে উঠে পড়ল বাসে , তবে সে কোলাহলে একটা শ্রী ছিল। মোটের ওপর বাসটি খালি-ই। যে যেখানে পারল নিজেদের গুছিয়ে জায়গা করে নিল । দু-চারজন ছাড়া সকলেই সিটে বসে নিজেদেরকে...

ভোরের দিকে হঠাৎই জোরে এক পশলা বৃষ্টি হওয়ায় ঘুমটা বেশ গাঢ় হয়ে উঠেছিল নিখিলেশের। আর তখনই আবারও সেই স্বপ্নটা দেখলেন। এক অচেনা তরুণীর হাত ধরে ছোট্ট নদীর তীর ছুঁয়ে ছুটতে ছুটতে সামনের অফুরন্ত সাগরের ওপর দিয়ে ভেসে চলেছেন অবাধে। মাঝখানে আর কোনো ঘটনা নেই। আর কোনো বাক্যালাপ নেই। আর কোনো দৃশ্যপাটও নেই। শুধুই সংক্ষিপ্ত সময়ের ওই ছোট্ট এক টুকরো ঘটনা ছাড়া। তিনবার স্বপ্নটা দেখার পরে তরুণীর মুখখানা চেনা হয়ে গিয়েছিল। পরিচিত জনের ভিড়ে কোনোদিন দেখেছেন বলে মনে পড়ে না। নিজেকেও দেখেছিলেন নিখিলেশ। মোটেই ষাট পেরুনো বৃদ্...

            

 সন্ধ্যা প্রায় ৭টা। আমি তখন কবিতা যাপন করছি। হঠাৎ আমার মোবাইল ফোনে  একটি অজানা নম্বর ভেসে ওঠে। ধরতে গেলাম মিস্ট কল হয়ে গেলো। আমি গুরুত্ব না দিয়ে আবার নিজের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। তারপর পরপর দুবার একই নম্বর ভেসে ওঠে। 

বিরক্ত হয়ে পড়লাম। মনোযোগটা ফোনের দিকে পড়তে ভাবলাম আমারই একবার ফোন করা উচিৎ। নিজেদের কেউ হতে পারে। 

ফোন করতেই ও প্রান্ত থেকে একটা মহিলার কণ্ঠস্বর শুনে প্রথমেই চমকে উঠলাম। নিজেকেই ঠিক করে নিয়ে বললাম -কে বলছেন? কোথ থেকে বলছেন? কত নম্বর...

19.11.2019

সুন্দরবনন অঞ্চলের সংলগ্ন মাতলা নদী, একটি জলজ যানে গোটা কয়েক কলেজ স্টুডেন্ট পিয়ালী আইল্যান্ডে পিকনিকের পরিকল্পনা নিয়ে বেরিয়ে পড়লো। জনা পাঁচটি মেয়ে ও খান সাতটি ছেলে, এরা সকলেই সকলের ভীষন ভালো বন্ধু। সহপাঠী মেয়েদের সাথে খুনসুটি চলছে নাগাড়ে, সবথেকে কমবয়সী ছেলেটির থেকে যখন কঙ্কণা একটা সিগারেট চেয়ে ধরিয়ে একরাশ ধোওয়ার কুন্ডলী উড়িয়ে দিলো ছেলেটার মুখের ওপর ছেলেটা রাগত গলায় প্রতিবাদ করে উঠলো, বন্ধুরা পীঠ চাপড়িয়ে গোল থামাতে ব্যাস্ত, আর ঠিক তখনই হঠাৎ গর্জন করে উঠলো বাঘ। সাথে সাথে গোল গেলো থেমে, মাঝিভাই বলে...

          ঘোলা হাসপাতালে একদিন স্যালাইন আর দুটো ইনজেকশন .... কঠিন কেস বলে আরজি কর-এ পাঠানোর সুপারিশ করল। আরজি কর বলল পিজি। পিজিতে বিছানা ফাঁকা নেই। ছেলেটা খাবি খাচ্ছে। আপৎকালীন ওয়ার্ডের বাইরের বারান্দায় শয্যা বানিয়ে চিকিৎসার জন্য শুয়ে থাকা মানুষগুলো মৃত্যুর দিন গুনছে। মৃণালিনীর অবস্থা কি এদের মতো এতটা খারাপ? একমাত্র ছেলের চিকিৎসাটুকু করাতে পারবে না? প্রীতমের সঙ্গে আদালতে দস্তুর মতো লড়ে ছেলের দায়িত্ব জিতেছে। পোস্ট অফিসে এজেন্সি করে যা উপার্জন তাতে মা আর ছেলের চলে যাবে প্রমাণ দিয়ে তুমুল লড়াই।...


 

গণেশ দুয়ারির চল্লিশ বছরের ছেলে ভবেশ দুয়ারি। ভারি সাদাসিধে মানুষ। সবাই জানে, জীবনের বড়
ভাব, জটিল বিষয় কোনোকালেই তার ভাবনায় ঠাঁই পায় না। সংসারে বুড়ো বাপ, চার ছেলেমেয়ে, স্ত্রী
তরণী আর সে। ভবেশ অবস্থাসম্পন্ন কৃষক নয়। মাত্রই দু’ তিন বিঘে পৈতৃক সম্পত্তি আর গোয়ালের তিন
চারটে গরুই সারা বছরের অন্নের সংস্থান। সংসারে নিত্য অভাব। মুখরা বউয়ের চিৎকার হৈহুল্লোড়। তাতে
অবশ্য তার সাদাসরল জীবন উত্তেজনায় কোনোদিনও উতরোল হয়নি। কিন্তু কাল সন্ধের পরে হাট থেকে
সে ঘরে ফিরলো একেবারেই অন্যরকম চেহারা নিয়ে। গাঁয়ের মানুষ তো...


 

ভোরের দিকে হঠাৎই জোরে এক পশলা বৃষ্টি হওয়ায় ঘুমটা বেশ গাঢ় হয়ে উঠেছিল নিখিলেশের। আর তখনই আবারও সেই স্বপ্নটা দেখলেন। এক অচেনা তরুণীর হাত ধরে ছোট্ট নদীর তীর ছুঁয়ে ছুটতে ছুটতে সামনের অফুরন্ত সাগরের ওপর দিয়ে ভেসে চলেছেন অবাধে। মাঝখানে আর কোনো ঘটনা নেই। আর কোনো বাক্যালাপ নেই। আর কোনো দৃশ্যপাটও নেই। শুধুই সংক্ষিপ্ত সময়ের ওই ছোট্ট এক টুকরো ঘটনা ছাড়া। তিনবার স্বপ্নটা দেখার পরে তরুণীর মুখখানা চেনা হয়ে গিয়েছিল। পরিচিত জনের ভিড়ে কোনোদিন দেখেছেন বলে মনে পড়ে না। নিজেকেও দেখেছিলেন নিখিলেশ। মোটেই ষাট পেরুনো বৃ...

ইরিনা ওলগা, রোমানিয়ার মেয়ে। তারুণ্য পেরিয়েছে আগেই। জীবনের যাত্রাপথে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছে নানান ঘটনার স্রোতে ভেসে। তাতে আবেগের চেয়ে বুদ্ধির ধার বেশি। কারণ, তার মন দেহসর্বস্ব মানুষের প্রয়োজনের বাইরে যেতে রাজি নয়। আটপৌরে জীবনের উদ্বেলিত ক্ষিধে মেটানোই তার কাছে বেঁচে থাকার মূল মন্ত্র। পাঁচ ইন্দ্রিয়ের বাইরে দাঁড়িয়ে যার অস্তিত্ব অনুভব করার দরকার হয়, তার কথা নিরর্থক ভেবে সময় নষ্ট করার আকুলতা ইরিনার স্বভাবে নেই। আজও সে নতুন ঘটনার স্রোতে ভেসে পার্থিব প্রয়োজনের কথাই ভাবছিল। ভাবছিল, তার নতুন শিকার রবার্ট উ...

-- 'আরে পলাশদা, মুড অফ দেখাচ্ছে। বলি সকাল সকাল হলোটা কি?'

-- 'আর বলো না ভাই। আজকালকার বুড়ো সব্জিবিক্রেতাগুলোর ব্যবহার দেখলে, মনেহয়না শালাদের থেকে কিছু নিই

' জিনিসপত্রের দাম যা বাড়ছে। আমাদের মতো ওদের মেজাজটাও গরম। বলছি একটু সাবধানে কথা বলবেন।'-- হেসে বলে অম্বিকেশবাবু।

-- ছাড়ো তো ওদের কথা। তিনকাল গিয়ে এক কালে ঠেকেছে তবু বুড়োর কি তেজ!
এক টাকা কমাতে চাইলাম তাতেই বলে রেখে দিন, নিতে হবেনা। 

-- এমনটাওতো হতে পারে পলাশবাবু যে সে আপনাকে মিনিমাম দামটাই বলেছিল।

-- তুমি ওদেও চেনোনা। ওরা জাত শয়তান।

   ক...

ঘ্যাঁচ  করে ব্রেক কষল  ঋষি।মেয়েটা একেবারে সামনে এসে গেছে।খুব জার্কিং হ'ল,কিন্তু শেষমেশ লাগে নি কোথাও।ভীষণ  ভয় হয়ে গিয়েছিল।আর একটুর জন্যে।খুব সামলেছে আজ।কি মেয়ে রে বাবা।রাস্তাটা দেখেও পাড় হয় না,আশ্চর্য  তো।এর পরেও কোনো কেয়ার নেই।যেন  কিছুই হয় নি,এমনি ভাব।ক্রসিং এর সিগনাল পয়েন্ট থেকে তখন গান ভেসে আসছে।যদি তারে নাই চিনি গো। 

   গড়িয়াহাটের ক্রসিং।তায় পুজোর মরশুম।ভিড়ে মাথা খারাপ হয়ে যাবার  জোগাড়। আর এ মেয়েকে দেখো।গায়ে হাওয়া লাগিয়ে হাঁটছে।

   সুমনা তখন সত্যি অন্য জগতের...

কালো মসৃন হাইওয়ের ওপরে তখনো ওরা রক্তের স্রোতে ভেসে যাচ্ছিলো। ওরা মানে, এক জোড়া প্রেমিক প্রেমিকা। নিজেদের বহুকালের চেনা বাড়ি ছেড়ে যারা কাল গভীর রাতে নিরাপদ আশ্রয়ের অনুসন্ধানে যাচ্ছিলো। অন্তত এই গাঁয়ের বিন্দি হাড়ংকে জিজ্ঞেস করতে সেই রকমই জবাব দিয়েছিল সে বর্ষীয়ান সাংবাদিককে। ক্যামেরায় চোখ রেখে ছবি নিতে নিতে সাংবাদিক ফের অবাক হয়ে জানতে চেয়েছিলেন- ওরা দুজনে দুজনকে খুব ভালোবাসতো কিংবা অনেককাল ওদের মধ্যে প্রেম ছিল, সেটা তুমি জানলে কী করে বিন্দি?...

   একদিন তখন শেষরাত, পৌষ মাসের হাড়কাঁপানো শীত চলছে তখন, রাত আড়াইটা হবে । একটা মেয়ের প্রচন্ড চিৎকারে ঘুমটা ভেঙে গেল।  ভালো ভাবে সজাগ হয়ে বুঝলাম আমাদের ফ্ল্যাটের কোনো পরিবার থেকে আওয়াজটা আসছে না আসছে বাইরের বড় রাস্তা থেকে।  ঘুমিয়ে পড়লাম কম্বল্টা আবার ভালো করে গায়ে টেনে নিয়ে। সকালে আমাদের পাশের বস্তি থেকে যে বৌটা আমার ফ্ল্যাটে  কাজ করতে আসত শুনলাম  চিৎকারটা ওর ছিল। আমার পরা শাড়িগুলো ভেজাতে ভেজাতে ওর সার্ফ মাখা হাতটা উলটে চোখ মুছতে মুছতে বলল উনি কাল আমাকে ঘর সে বার করে দিয়েছিল ভাবী। এমনি সব ভালো রেগ...

এখনও ঝরোঝরো বৃষ্টি দিনে, সম্পদের আবেগী গলায় "ইন্দ্রানী"ডাকটি হাওয়ায় ভেসে আসে।মনের অলক্ষ্যে ইন্দ্রাণীর হৃদয়ে বেজে ওঠে---"আমি হৃদয়ের কথা বলিতে ব্যাকুল,শুধাইলো না কেহ মোরে।"
চল্লিশোর্ধ ইন্দ্রাণী, রানাঘাট মিউনিসিপালিটিতে কর্মরতা।
বিয়ের কিছুটা আগে থেকে।সম্পদের সাথে পরিচয় হয়েছিলো, চাকরী পাওয়ার পরে পরেই।বৃষ্টি মুখর শ্রাবণের কোলাহলকে অতিক্রম করে।
ভীড়ে ঠাসা ট্রেনের কামরায়।সেই শান্তিপুর লোকালে আজও ছুটতে হয় ইন্দ্রানীকে রোজই।শুধু হারিয়ে ফেলেছে সে সম্পদের নিরাপত্তার হাতের ছোঁওয়া।
ট্রেনের ভীড়ে বসেও কখন যেনো...

Please reload

সাম্প্রতিক পোস্ট
Please reload

Archive
Please reload

A N  O N L I N E  M A G A Z I N E 

Copyright © 2016-2019 Bodh. All rights reserved.

For reprint rights contact: bodhmag@gmail.com

Designed, Developed & Maintained by: Debayan Mukherjee

Contact: +91 98046 04998  |  Mail: questforcreation@gmail.com