রাঢ়-বাংলার মন্দির-শহর বলতে সবারই মনে পড়ে বিষ্ণুপুরের কথা। তাতে অবাক হবারও কিছু নেই। নয়নাভিরাম রাজকীয় স্থাপত্যের অজস্র নিদর্শন ছড়িয়ে আছে বিষ্ণুপুরের আনাচেকানাচে। পর্যটকরা বিষ্ণুপুরে আসেন, দেখেন, এক বুক তৃপ্তি নিয়ে ফিরে যান। বিষ্ণুপুরে আমিও গেছি। পোড়ামাটির মন্দির-ভাষ্কর্যের অনুপম সমস্ত নিদর্শন দেখে মুগ্ধ হয়েছি। কিন্তু সত্যি বলতে কি, যে অভিজ্ঞতা আজ হল, আমার ধারণা বদলে গেল। আজ থেকে বিষ্ণুপুরকে অবশ্যই অভিবাদন করব। কিন্তু সেটা করব তার রাজকীয় বিশালতার জন্য। বিষ্ণুপুর আমার কাছে আজ থেকে যেন এক ধ্রুপদ সঙ্...

বিখ্যাত ইংরেজ জীববিজ্ঞানী চার্লস ডারউইন বলেছিলেন, জীবনে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকাই জীবজগতে মৌলিক
প্রয়োজনের শেষ কথা। কিন্তু এই মৌলিক প্রয়োজনের ব্যাখ্যা যেভাবেই করা হোক না কেন, বলা বাহল্য এর
সীমারেখা অন্যসব মানবেতর প্রাণীর ক্ষেত্রে যেভাবে পরিমাপ করা যায় তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের পক্ষে সেটা
একেবারেই খাটে না। তার প্রমাণ, মানবসভ্যতায় যুদ্ধের দামামা, যুদ্ধের কারণ জীবনের মৌলিক প্রয়োজনের
বাইরে দাঁড়িয়েই প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে বহাল রয়েছে। সমাজবিজ্ঞানীরা তাই বলেন -

অনিঃশেষ চাহিদার কারণেই অনিঃশেষ যুদ্ধের প্রয়...

এবার আমাদের কয়েকদিনের ভ্রমণযাত্রার গন্তব্যস্থল পশ্চিম ইউরোপের ইতিহাসসমৃদ্ধ বৃহত্তম দেশ, শিল্পসংস্কৃতির লীলভূমি ফ্রান্স। কিন্তু সেই ভ্রমণযাত্রা আকাশপথে পথে হবে, নাকি আটলান্টিক মহাসাগরের ইংলিশ চ্যানেলের টানেল দিয়ে হবে, সেটা নিয়ে শেষ মুহূর্তে একটি অনাবশ্যক প্রসঙ্গ উঠে এলো লাঞ্চের টেবিলে। কণিষ্ক বিশেষ  উৎসাহ নিয়ে উদ্দীপ্ত হয়ে বললো- দিদিভাই, মেসোদের নিয়ে ইউরোস্টার প্যাসেঞ্জার ট্রেনে করে যাচ্ছো না কেন?একটা অন্য রকম এক্সপেরিয়েন্স হবে ওঁদের! তুমি তো এর আগে সেভাবেই একবার প্যারিসে গিয়েছিলে! সেটা এখন সম্ভব...

হোটেলের ডাইনিং রুমটি বেশ রাজকীয়। লম্বা চওড়া মিলিয়ে যেন একখানা বিরাট হলঘর। সবকিছু পরিষ্কার পরিচ্ছন্নভাবে গুছনো। ঝকঝকে। মাঝখানে এল প্যাটার্নের কাউন্টারের ওপর সাজিয়ে রাখা হয়েছে সারি সারি শেফিং ডিশ। ভেতরে খাবারের আইটেম। সকাল আটটা না বাজতেই টেবিলগুলো পূর্ণ হয়েছে হোটেলবাসীদের উপস্থিতিতে। বেশিরভাগই প্রবীন এবং প্রবীনা ককেশিয়ান মানুষজন। ফর্ম্যালিটির আবরণ যাদের আপাদমস্তকে ছড়ানো। মনে পড়লো-  দেশাচার, লোকাচারের ঐতিহ্য ধরে রাখতেই এই হোটেলের নামকরণ-‘ক্যাসল’।

খাদ্য তালিকায় নজর ফেললো সবাই। কন্টিনেন্টাল নয়, ফ...

ভোরের আলোয় ছজন আরোহী নিয়ে আমাদের গাড়ি ছুটছে ওয়েলসের দিকে। পাহাড়ি পথে চড়াই উৎরাইয়ের বাঁকে বাঁকে অনিন্দ্যসুন্দ দৃশ্যাবলী। গাড়িতে শুচির বদলে আজ তার বাবা ‘মিস্টার কে ঘোষ’। সঙ্গে বাবার বন্ধু এডগার ডাইফ্যান এবং তার স্ত্রী লোলো ডাইফ্যান। মিসেস ডাইফ্যান সেন্ট্রাল লণ্ডনের এক গার্লস স্কুলের ইতিহাসের শিক্ষিকা। একই সঙ্গে কনজারভেটিভ পার্টির এক সক্রিয় কর্মীও। ওরা দুজনেই শুচির বাবাকে শুরু থেকেই ‘মিস্টার কে ঘোষ’ বলে সম্বোধন করে কথা বলছে। বিশেষত বন্ধুত্বের সুবাদে তার সঙ্গে বিরামহীন কথা বলে চলেছে লোলো। মাঝে মাঝে...

লণ্ডনে ইউনেসকোর(দ্য ইউনাইটেড নেশনস এডুকেশন্যাল, সায়েন্টিফিক এণ্ড কালচারাল অর্গানাইজেশন) চারটি ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট রয়েছে।‘দ্য টাওয়ার অফ লণ্ডন, ‘দ্য প্যালেস অফ ওয়েস্টমিনস্টার’, ‘গ্রীনউইচ মিউজিয়াম’ এবং ‘দ্য রয়্যাল বোটানিক গার্ডেনস’। রয়্যাল বোটানিক গার্ডেনস অনেকগুলো বাগানের সমষ্টি। স্থানীয়ভাবে কিউতে অবস্থিত হওয়ায় এর নাম ‘কিউ গার্ডেনস’। ২০০৩ সালে দক্ষিণ পশ্চিম লণ্ডনের ৩২৬ একর জায়গার এই বোটানিক্যাল গার্ডেনটি ইউনেসকোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের তালিকাভুক্ত হয়েছে। অন্য তিনটির তুলনায় এখানে দর্শনার্থীর সংখ...

ছয়

আমরা এখন ইউনিভার্সিটি কলেজ লণ্ডনের(ইউ সি এল)ক্যাম্পাসের ভেতর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে চলেছি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি ১৮২৬ খ্রীষ্টাব্দে সেন্ট্রাল লণ্ডনে প্রতিষ্ঠিত হয় চার্চের রক্ষণশীল বলয়ের বাইরে অসাম্প্রদায়িক চেতনা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। এবং পুরুষের মতো মেয়েরা যাতে সহশিক্ষা লাভ করে সর্বক্ষেত্রে সম অধিকার প্রাপ্ত হয়, সেই উদ্দেশ্য সামনে রেখে সমানসংখ্যক ছাত্রছাত্রী ভর্তির ব্যবস্থাও এখানে রাখা হয়। ঠিকানা -‘গাউয়ার স্ট্রিট, ব্লুমসবারি, লণ্ডন’। বিশ্বের কুড়িটি খ্যাতিমান ইউনিভার্সিটির মধ্যে ‘ইউ সি এল’ অন্যতম। র‌্যাঙ...

পাঁচ

প্রায় এক ডজন সিঁড়ি ভেঙে উঠে এলাম ওপরে। অফিসের সময় না হলেও চারপাশে উপচে পড়ছে যাত্রীদের ভিড়। আধুনিক মানুষের ব্যস্তময় জীবনের একটি খণ্ডচিত্র তাতে মুহূর্তেই উদঘাটিত হলো চোখের সামনে। এরপর সিঁড়ি বেয়ে কয়েক ধাপ নিচে নেমে আসতে চোখে পড়লো, TVM(টিকেট ভেন্ডিং মেশিন) মেশিন থেকে যাত্রীরা টিকেট সংগ্রহ করছে। অনেকে মেট্রো পাস, সামনের চেকিং মেশিনে স্পর্শ করে ভেতরে প্রবেশের ছাড়পত্র পাচ্ছে। আশেপাশে কোনো ব্যক্তি টিকেট চেকারের অস্তিত্ব চোখে পড়ছে না। মেশিনই এখানে টিকেট সিস্টেম পরিচালনায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে কর্মরত। অর্থাৎ...

চার

ইউনাইটেড কিংডমের দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং ব্যস্ততম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর গ্যাটউইক। আয়তন ঊনিশ একর। রিকজাভিক এয়ারপোর্ট থেকে এর দূরত্ব ১৯২০ কিলোমিটার। ডিরেক্ট ফ্লাইটের পৌঁছুতে সময় লাগে দু’ ঘন্টা আটান্ন মিনিট। ৩রা জুনের মতো আজ মহাশূন্যে ভয়ংকর কোনো জার্কিং ছিল না। তারপরও রানওয়ে স্পর্শ করতে সময় লেগে গেলো তিন ঘন্টা দশ মিনিট। সাউথ টার্মিনাল থেকে বেরিয়ে কয়েকটি করিডোর পেরুতে সিঁড়ি ভাঙতে হলো বেশ কয়েকবার। হিথরো বিমানবন্দর দিয়ে আগে কয়েকবার যাতায়াত করলেও লণ্ডনের দ্বিতীয় বৃহত্তম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এবারই আম...

তিন                              

আজ রাতের মতো আমাদের আশ্রয়স্থল ‘হোটেল কেবিন’। হোটেলটি এয়ারপোর্টের অনেক কাছাকাছি। রাজধানী রিকজাভিকের পূর্বপ্রান্তে অবস্থিত। বিলাসিতাবর্জিত হোটেলটি চমৎকার ছিমছাম। সবকিছু পরিপাটি করে ছবির মতো সাজানো। ঠিকানা-Borgarton 32, 105 Reykjavik, Iceland. আট থেকে কুড়ি মিনিটের হাঁটা পথের মধ্যেই অনেকগুলো রেস্টুর‌্যান্ট। আমেরিকান, ইটালিয়ান, নেপালিস, জাপানিজ, ভারতীয়, পাকিস্তানী সব রকম খাদ্যের অনুসন্ধানই মিলব...

দুই

   সকালের নরম রোদের ঝলমলে পরশ কেটে আইসল্যাণ্ডের রিকজাভিক-কেফলাভিক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ন’টায় অবতরণ করলো ওয়াও এয়ারলাইনসের WW144 ফ্লাইট। আমাদের ঘড়িতে  তখন ভোর পাঁচটা বেজে ত্রিশ মিনিট। আবহাওয়ার কারণে সাত ঘন্টার বদলে সাড়ে সাত ঘন্টায় উড়ে এসে অবতরণ করেছে ww 144। উত্তর আমেরিকা থেকে ইউরোপের যে কোনো দেশে যাতায়াতের জন্য এই রুট ইউরোপীয় যাত্রীদের সবচাইতে পছন্দের, বলেছিল কালকের তরুণ ট্যাক্সি ড্রাইভার, ফ্রেডরিক ওরফে ফ্রেড। বাস্তবেও দেখতে পেলাম, ৯৮% যাত্রীরাই ককেশিয়ান জনমানব। বাদবাক...

ম্যালের ডান পাশে চৌমাথার ঘিঞ্জি গলিটার শুরুতে ফুটপাথ ঘেষে প্রথমেই দুটো মোমোর দোকান তারপর রাস্তার উপরেই তিন চারজন শব্জিবিক্রেতা মাটিতে তক্তা বিছিয়ে শব্জি বেচছে।  শব্জি গুলোর মধ্যে দুতিন রকম শব্জি আমার অচেনা, দার্জিলিংএ এসেই প্রথম দেখলাম এ সব্জিগুলো। গলির প্রথম মোমোর দোকানটা এ কদিনে আমার বেশ চেনা হয়ে গেছে। আসতে যেতে রোজ ই চোখে পড়ে ওই গোর্খা দম্পতি আর তাদের ওই এক চিলতে নীল প্লাস্টিক দিয়ে ঘেরা মোমোর দোকানটা। সন্ধ্যাবেলা ওদের বেচা কেনা শুরু। খুব সস্তায় ওরা যখন গরম গরম  মোমো বেচে,  ওদের দিকে তাকিয়ে তা...

গোল বাজারের দুর্গা বস্ত্রালয়। সামনে সোকেসে একটা নীল সাউথ ইন্ডিয়ান শাড়ি আর একটা মেরুন বেনারসী কাচের সোকেসের ভেতর কুচি করে পাখনার মতো মেলে রাখা। কুচির উপর দিয়ে দিব্যা ভারতীর হাসি মুখের কাটআউট। ভেতরে ডান পাশের র‍্যাকে দামী শাড়ি বাঁ দিকে ছাপা শাড়ি  আরো বাঁদিকের র‍্যাকে বাচ্চাদের জামাকাপড় তার পর গামছা লুঙ্গী আর স্যান্ডো গেঞ্জি।  আর দোকানের একেবারে বাঁ পাশটায় বড় বড় কাঠের লম্বা লম্বা মোটা লাঠিতে সার্টের থান কাপড় পেঁচিয়ে রাখা। ঢুকতেই ধুতি পরা  পুরুষ মালিকের হাসি হাসি গলার স্বরে শোনা যেত আসুন দিদি, কি দে...

ইসসস!! সাড়ে আটটা বেজে গেল। রাঁধুনি আসেনি। খবর না দিয়ে কেন যে এরা কামাই করে কে জানে!  দুদিন দিব্যি ছুটি নিয়ে তিন দিনের দিন এসে বলবে মেয়েটার জ্বর ছিল দিদি। এসব ছুতো, ছুতো, সব বুঝি। যত সব ভণ্ডামি। আরে জ্বর তো জ্বর,  তাই বলে কি এক ঘন্টা কাজটা করে যাওয়া যায় না? এখন কি করে চলে?  তার উপর কারেন্ট নেই, রাইস কুকার না চললে ভাতটা গ্যাসে হতেই কতো টাইম! আরে মোবাইলটাতেও তো চার্য নেই।অফফ! ট্রেন আজ রাইট টাইম কিনা জানতে ও পারবো না হোয়াটসএপে।সেই রাইট টাইমে ছুটতে ছুটতে গিয়ে বসে থাকো তারপর দেখব পাঁচ মিনিট লেট।এই ভ্য...

Please reload

সাম্প্রতিক পোস্ট
Please reload

Archive
Please reload

A N  O N L I N E  M A G A Z I N E 

Copyright © 2016-2019 Bodh. All rights reserved.

For reprint rights contact: bodhmag@gmail.com

Designed, Developed & Maintained by: Debayan Mukherjee

Contact: +91 98046 04998  |  Mail: questforcreation@gmail.com