পল্লীগ্রামের সব কৃষকের ঘরে ঘরে যে নবান্নের উৎসব হবে
সেরকম তো আশা করা যায়না। 
ফসল—ভরা মরাইয়ের পাশে আলপনা থাকবে
সেরকমও তো আশা করা যায় না। 
সেরকম কি আশা করা যায় যে,
তাদের ধানের গোলা থাকবে পরিপূর্ণ ?
স্বপ্নের নবান্ন উৎসব হবে তাদের ঘরে?
অনেকেই তো শরৎচন্দ্রের ‘ মহেশ’ গল্পের
গফুর জোলার মতো পড়ে আছে। 
পড়ে আছে— ধ্বংসস্তুপ হয়ে গ্রামের একপ্রান্তে। 
তাদের কাছে নবান্নের উৎসব ধূ ধূ মরুভূমির মরিচীকার মতো। 
অথচ কী আশ্চর্য ! ওরাই রোদে জলে বৃষ্টিতে মাঠে মাঠে বীজ বোনে,
পাকাধান কাটে স্বপ্নের নবান্ন উৎসবের আনন্দে। 
ও...

একটা বাক্য আমার মনকে বড় তোলপাড় করে
পাথর চাপা দিয়ে যা রেখেছি বুকে বহুদিন ধরে
আমি তোমাকে ভালবাসি কেন পারি না বলতে
বুক পুড়ে যায় তেল বিনা জ্বলে প্রদীপের সলতে।

বাক স্বাধীনতার অর্থ বোঝা আজও হল না যে
আমার কথা শুনে লোকে বলে আজেবাজে।
কথাগুলো হয় অবহেলিত আর করে হাহাকার
একটা মানুষও মিলল না সেই কথা শুনবার।

পাগলাগারদ এখন শুধুই পাগলের জন্য নয়
নেই জানা কার কখন কেন সেখানে ঠাঁই হয়।
উল্টো পালটা বাতাস বইছে দাঁড়ানো হচ্ছে দায়
উল্টো বাতাসে ডাক্তার এখন পড়ছে রুগির পায়।

মজে যাওয়া নদীর বুক জুড়ে হচ্ছে মহোৎসব
বর্ষার জল ঘরে ঢুক...

হাড় মাসের বদ্ধ খাঁচাটা বড়ই আমিষ গন্ধে ভরা …
পরাণ থাকে থাক ---মন যে থাকতেই চায় না!
কোন এক বিমথিত সায়াহ্নে
সন্ধ্যা আরতি পিদিম জ্বালা শাঁখের টানে ফুৃড়ুত্ করে মনটা গিয়ে জুড়ে বসলো তুলসী তলায় ---প্রসন্নতার খোঁজে মোহিনী মায়ায়……

কিন্তু হায়!
মোহিনী মায়া যে শকুনি মামার ভাগ্নী !
সংসার কুরুক্ষেত্রে প্রবল প্রতাপী !
ঠাকুর ঘরেই চোরের দাপাদাপি !
সেই থেকে আর তুলসী তলা নয়……

এ বাড়ি সে বাড়ি এ পথ সে পথ ঘুরে নাকাল --শেষ মেশ শূণ্যগর্ভ সাকার মসজিদের নিরাকার ঈশ্বরের সমাধিতে থিতু হলাম……
ভাবলাম একটা বসতির মত বসতি বটে !বেশ আ...

যাও, এইভাবে বেঁচে থাকো ।
এইসব পংক্তিভোজে , ডাস্টবিনে
অগণ্য কাম ও কামড় _
এইসব নিয়ে বাঁচো ।

রুফটপ বাগানের সূর্যমুখী তুমি
রোদে ডানা মেলে দেওয়া হলুদ উৎসব _
তবু অভিশাপ দিই
এইভাবে বাঁচো
কেননা আমার চোখ মরে গেছে
কুয়াশার বক্ষলগ্ন রহস্যটি দেখে ।

এখন কবিতা ছুঁলে হিম নেমে আসে
এখন তোমাকে ছুঁয়ে বুঝে যাই
একা নই , অন্ধ প্রত্যেকে ।।

20.12.2016

মৃত আধ পোড়ার সেই পারফিউমে
লেগে ছিলো সেই যন্ত্রণা,
গণগণে আগুনের চেয়েও মারাত্মক লোভী কুকুরের নোংড়া হাতের নখের আঁচড়ের সেই ক্ষত,
একে একে যখন ভোগ করেছিল সেই আমার আমিটাকে,,,
বুভূক্ষ পশু গুলো নিস্তার দেয়নি,
প্রমাণ লোপাটে আগুন,,,,
বধির সমাজ ঘুমে আচ্ছন্ন,
তারা জানে,সবাই ভালো আছে।
সবাই ভালো থাকার অভিনয়ে সেরা অভিনেতা,
জলন্ত চিতায় যখন তাদের কন্যা,বোন কিম্বা সহধর্মিনী,
শাসকের রাজদন্ডে একটা ইশারা
কবুল করে পিতা হবার,ভাই হবার,স্বামী হবার সমস্ত ভুল।
পুলিশ কর্তা ধর্ষিতাকে প্রশ্ন করে
কে বেশি দিয়েছিল সুখ,,,,
মোমবাত...

কি মসৃণ দুপুর মেলে দিয়েছ সেদিন রাজপথে,

কি পেলব সূর্যশিখা ছুঁয়ে গেল গোধূলি শরীর!

কি অনন্য আয়াসহীন শুষে নিলে প্রবল আগুন

আর অতলান্ত প্রেম ঢেলে দিলে।

আজকে হঠাৎ করে তোমার বুকের লাল তিল,

সংবৃত গতিময় কনুইয়ের ভঙ্গিল  ভাঁজ,

সামান্য ঝুঁকে থাকা পৌরুষগর্বিত পিঠ

দুচোখের সিঁড়ি বেয়ে ছুঁয়ে দিল মগ্ন দেউল।

ঈষৎ বাদামী ঠোঁট নানা রঙা শব্দে প্যালেট,

ভেজা মনে আঁকা হয়ে গেল এক অস্ফুট ছবি,

একটু ছোঁয়ালে হাতে এখনো তো রঙ উঠে আসে,

অজস্র কবিতায় ধরে রাখি তাই তার রূপ। 

তোমার চওড়া হাতে নীরব হারিয়ে যেতে যেতে

ফুটপাথও গুলবাগ,ধোঁয়াও মেঘের মত লাগ...

ঐ তিনজন ছায়ার মত নারী,

ঐ তিনজন চাঁদের মতই নিশীথিনী ছিল,

ঐ তিনজন আসলে ঈশ্বরী,

ঐ তিনজন সর্বনাশের চিত্র এঁকেছিল।

চিত্র জুড়ে নষ্ট গাছের অজস্র হাত মেলা,

চিত্র জুড়ে নিভন্ত চাঁদ জ্বলে,

চিত্র জুড়ে ঘোড়ার পায়ের ধাতব আগমনী,

চিত্র জুড়ে মৃত্যু কথা বলে।

মৃত্যু তখন ঐ মানুষের নিশ্বাসে প্রশ্বাসে,

মৃত্যু তখন মূর্তিমতী মায়া,

মৃত্যু তখন খিলখিলিয়ে রূপবতী নারী,

মৃত্যু তখন প্রলোভনের ছায়া।

ছায়ার মতো ঐ তিনজন ধাঁধা মেলেছিলো,

ছায়ার মতো অস্তায়মান সিঁড়ি,

ছায়ার মতো ধাঁধায় ভরা সিঁড়ির ধাপে ধাপে

ঐ মানুষ আর আমরা ঘুরি ফিরি।।

শব্দ নিহিত রাখো বুকে,

অনিসর্গ শব্দভার ঢেকে দেয় 

দৃষ্টি ও শ্রবণ, আবছায়া লাগে।

এত যে সৌন্দর্যময় পৃথিবীর রূপ....

সব অনুভব করে যেতে চাই,

ছুঁতে চাই মাটি আর গাছের স্পন্দন।

যতবার মন রাখি গোধূলির আলোর ভিতরে,

অথবা ঢেউএর বুক ছুঁতে চাওয়া সূর্যের হাতে,

ছুটে আসে শাব্দিক উল্কা আবেগ।

গোলার্ধে ভেঙে যায় অতৃপ্তি  আর মেদুরতা।

দুমুঠো কুড়িয়ে নিয়ে কোনক্রমে ঝাঁপি ভরে রাখি,

তোমায় শিখিয়ে যাব সমস্ত কুড়োনো সম্পদ,

জেনো তার অন্য মানে আছে।

আমি তোমাকে ভালোবেসে যাব..

যতক্ষণ না তুমি আমার অক্ষর থেকে

শব্দ, গল্প, কবিতা আর স্বপ্ন হয়ে

আমার সমাধি শিলালিপি থেকে

ঘিরে থাকা ঘাসে ফুটে ওঠো !!

অথবা প্রতিটি পাতা ছাপা অক্ষরে..

নতুবা, ভোরের  অমৃতাক্ষরে !!

এই কবিতার ঠিক দুই হাত দূরে

       নুয়ে পড়া দেহ আর ঘাড়,

       থমথমে বাড়ীটার পেটের ভিতরে

       ঝালাইওলার কারবার।

রোজরোজ রোদ ভেজে কবিতা উঠোন,

বুড়োটার ব্যস্ত শরীর, 

ছোট বড় প্রাণহীন যান্ত্রিক দেহে

আগুন ও আঙুলের ভীড়।

       ফাটা মোটা চশমার খুলে আসা কাঁচে

       পবিত্র আগুনের শ্বাস , 

       এই কবিতার ঠিক  চার হাত দূরে

       ধানক্ষেতে নাতনীর লাশ।...

Please reload

সাম্প্রতিক পোস্ট
Please reload

Archive
Please reload

A N  O N L I N E  M A G A Z I N E 

Copyright © 2016-2019 Bodh. All rights reserved.

For reprint rights contact: bodhmag@gmail.com

Designed, Developed & Maintained by: Debayan Mukherjee

Contact: +91 98046 04998  |  Mail: questforcreation@gmail.com