'

তপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতা

'শৈশব আক্রান্ত'

শৈশব এক দিকভোলা মাঠ,

বাধাহীন চরাচর,

শৈশবে থাকে মনের ভিতর

অনন্ত পরিসর,

শিশুকাল এক স্বতঃস্ফূর্ত

নিজের খুশিতে বাঁচা,

হারিয়ে যাওয়া, উধাও হওয়া,

কত কিছু উচ্চাশা,

শিশুদের থাকে খেলবার কথা

উচ্ছ্বাসে আহ্লাদে,

পরিবর্তে তার পাঠ্যপুস্তক

আস্টেপৃষ্ঠে বাঁধে,

তাও মেনে নিয়ে সোনাহেন মুখ

ভারী স্কুলব্যাগ পিঠে,

দেখায় না ভয়ে দুই কাঁধে তার

দগদগে কালসিটে,

আজ সেই শিশু আরও কোনঠাসা

দুই চোখ বিভ্রান্ত,

ছোটো মুঠি তুলে , না-বলেও বলে,

'শৈশব আক্রান্ত'।

শ্বেতা চক্রবর্তীর কবিতা

'বাবার মত নয়'

আজ দু দিন চকল...

13.11.2017

কালচে তামাক পোড়া ঠোঁটে যখন স্যাকসোফোনে সুর তুলে আমায় ডাকো,
সমস্ত কাজ ফেলে আমি সোজা পথ না বেছে অলিন্দের অলি গলি পাড় হয়ে লোহার ল্যাডারের এক একটা ধাপ ভাঙি এক রাশ ভালোবাসায়...!
সোজা পৌঁছে যাই সেই খানে,যেখানে শুধু একটাই নাম লেখা,যেখানে কবিতার খাতায় ভর্তি শুধুই আমার জন্য কবিতা লেখা,যেখানে নিঃস্ব হওয়া একটা বুকে
থরে থরে সাজানো শুধু আমারই জন্য সুখ...!
আমি তলিয়ে যাই,হারিয়ে যাই সেই সুখে,ভরে ওঠে জলে ভরা চোখ,ভরে ওঠে সুখে এই বুক,একবার যখন জিঞ্জেস করো...ভালো আছো মন!

10.11.2017

সহজ ছিল তার হঠাৎ আসা
সহজ ছিল সেই ঝড় তুলে
হাজার রঙে রাঙিয়ে দেওয়া
সহজ ছিল তার ভেসে যাওয়া
সহজ ছিল শত কথায় হাজার রকম স্বপ বোনা
সহজ ছিল তার হঠাৎ করে একদিন সব ভুলে যাওয়া 
সহজ ছিল সব মুছে ফেলা
কঠিন তো ছিল আবার বাঁচা
কঠিন ছিল কুল হারানো
কঠিন ছিল মান খোয়ানো
কঠিন ছিল ছোট্ট ডিঙি র মাঝ সাগরে ভাসতে যাওয়া
বড়ো সে জাহাজ সাথ ছাড়লে ওই তুফানে বাঁচতে চাওয়া
কঠিন ছিল মন কে ভেঙে গুরে আবার মরতে দেওয়া
কঠিন ছিল সেই স্বপ ভাঙার শব্দ শোনা
সহজ ছিল মরা মানুষ মারতে পারা
সহজ ছিল তার দায় এড়ানো
কঠিন ছিল সব দায় কে নি...

হয়তো না, হয়তো হাঁ
কোনটা যে ঠিক বুঝছি না,
স্বীকার করি, দেখছি শুধু,
তলিয়ে কারণ খুঁজছি না

বলেন রাজা লাইন দিন
পাঁচশো হাজার বদলে নিন,
কালোর এবার দিন খতম
ভবিষ্যতও খুব রঙিন

আমরা যে যাই কোনদিকে,
কুল রাখি না শ্যামটিকে,
বেরিয়ে পড়ে ভাঁড় ভেঙে
ব্যাঙের যত পাঁচসিকে

বাড়িতে চাল বাড়ন্ত
ক্রেডিট কার্ডে ধারন্ত
এ টি এমও নোটবিহীন
মাথাব্যথার কারণ তো

আমরা তবু যাই সয়ে
গরুর জোয়াল যাই বয়ে
বলেন রাজা দিন এলে
সবই যাবে ঠিক হয়ে

কাগজ জুড়ে জল্পনা,
রূপকথাদের গল্প না
নেতার হলো মেয়ের বিয়ে
খরচা নেহাত অল্প না

আমরা তবু রই চুপে
এড়িয়ে গিয়ে বিদ...

দিনান্তের হিসেব পড়ে আছে ফুটপাথে
যোগ বিয়োগ গুণ ভাগের সমীকরণ শেষ করে
দলা পাকানো দিন ফেলে রেখে গেছে
সব জটিল অঙ্ক
সদ‍্যজাত সন্ধ‍্যা জানেনা সংখ‍্যাতত্ত্বের খুঁটিনাটি
নিভু নিভু মনখারাপি আলোয় জড়িয়ে রেখেছে
ঝগড়া শেষের পূর্বরাগ
গোধূলি কখনও মাপেনা অভিমান
যেমন মাপেনা রামধনু তার রঙের জৌলুস
শেকড়ের গভীরতা মাপেনা মহীরুহ
তবুও তো মাইলের পর মাইল অসন্তোষ
মেপে রাখে সমস্ত অসহনীয়তা
অন্ধকার ঢুকে পড়ে স্নায়ুতন্ত্রের গভীরে

কিশোরী সন্ধ‍্যার কাছ থেকে আমি চেয়ে রাখি 
হিসেবশাস্ত্রে অপ্রয়োজনীয় কিছুটা কুসুম রঙ
চেয়ে...

09.11.2017

ও নামে আর ডেকোনা তুমি আমায়,
যে নামে আমি পুড়ে মরি বারংবার,ওই মণিকর্ণিকার ঘাটের চিরো দাউ দাউ আগুনে ছাই হওয়া শব দেহের মত,তাই
ও নামে আর ডেকোনা আমায়।
একদিন কত যত্নে বুকে আমার ঝুলিয়ে দিয়েছিলে একটা সাইনবোর্ড,
নতুন নামে নতুন হয়ে উঠেছিলাম আমি তোমার সেই নামে,
অনেক কটা বছরের ছেঁড়া ক্যালেন্ডারের ছেঁড়া পৃষ্ঠার মতো আমিও অচল আজ,
তাই ও নামে ডেকোনা আর।

অনেক কাঁদিয়েছো,অনেক কেঁদেছি,পুড়তে পুড়তে ছাই হয়েছি,
ভষ্ম হাতে এগিয়ে গেছি সামনের গঙ্গা ঘাটে,
পবিত্র গঙ্গায় ভাসিয়ে দিয়েছি নাম সহ নিজেকে....!
তাই...ও নামে ডেকোনা গো আর...

06.11.2017

তুমি তো কখনই পাখি হয়ে উড়তে চাওনি নীল আকাশটায়,
তুমি তো চেয়েছিলে একটা সোনার খাঁচা যা তুমি পেয়েছো...!
এক ঝাঁক পাখির উড়ন্ত ডানার ঝাপটার শব্দে নিরবে চেয়ে থেকেছো, তুমি তো উড়তে চাওনি!
কতবার তোমার খাঁচার সামনে বসে আমি তোমাকে ডেকেছি,লাল ঠোঁটে বয়ে এনেছি মিঠে ফল,
তুমি মুখ ফিরিয়ে নিয়েছো,বলোনি এ তোমার কিসের অভিমান।
অথচ যখন আমার খুব জ্বর,
গায়ের সমস্ত পালক উত্তপ্ত বালুকণা,
তোমার দুচোখে অপেক্ষার প্রহর গোনা,
মনে মনে ডেকেছো,সেই ডাকে আমি ডানা ঝাপটে উড়তে চেয়েছি,মাথা তুলতে চেয়েছি , কিন্তু পারিনি ছুটে যেতে,
অভিমানের...

পথ হাঁটি দু'জনে।
এই হেমন্তের বিকেল আমন্ত্রন জানায়
একটু জিরিয়ে নিতে,
কাছাকাছি বসে আর একটু কাছাকাছি হতে।
লম্বা ইউক্যালিপটাস আর খাটো শিশুগাছের
সবুজ শামিয়ানার নীচে,
ঘাসের নরম গালিচায়
কথারা হারিয়ে যায়।
পশ্চিম দিগন্তে লাল-হলুদ সমুদ্রে ভাসে সূর্য।
শৃঙ্খলাহীন কথাবার্তায় লাগে
ভালোবাসার সোনা রং।
কোন্ অতলে ডুব দিয়ে যায় বিশ্বাস।
ফসল কাটার সুরে, ভেসে বেড়ানো বাতাস
এঁকে চলেছে রিক্ততার ছবি।
দূরের হস্টেল মাঠে ছেলেদের হৈ-হুল্লোড়,
ভরিয়ে তুলছে 
নিজেকে উজাড় করে দেবার গল্পগাথা।
শুক্তির ভিতর মুক্তার জন্ম ইতিহাস, 
...

চারিদিকে বিষাদ নিনাদ-
তবু বেঁচে থাকুক জীবনের পরিপত্র ।
যত্রতত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বর্তমানের রঙিন বর্জ্য।

এখানে স্বর্পগন্ধা ছড়াতে আসে শুভাশিস।
নাগিনীরা পুষে রাখে মন্ত্রমুগ্ধ বিষ!

একবার জীবন কোলাহল ছেড়ে যেতে চেয়েছিলো 
নির্জন জঙ্গলে-
বিষাদ বেহালায় সুর তুলে তাকে ভরাতে চেয়েছিলো মঙ্গলে মঙ্গলে!
ওহে প্রিয়ংবদা ওহে প্রিয়তমা আমার
এসো আমরা মধ্যরাতে একই পানপাত্রে বিষাদ নিনাদ পান করি!

সীমান্তের কিনারে আগুয়ান জীবনের স্রোত
বেসুরো বাঁশির মতো

স্রোতের বিপরীতে আছে যেন অমোঘ ইচ্ছা
ধূল্যবলুণ্ঠিত তবু অনুভবী স্পর্শসুখ

ধীরে হলেও নিশ্চিত পতন
অসহায় নির্বাক ও নিথর

ম্রিয়মাণ সময়ের কাছে করুণ মিনতি

ফিরে যদি যেতে দাও আবার
সীমান্তের সবুজ অরণ্যে
হৃদয়ে তবে লাগে দোল

খেলাশেষের বাঁশি এবার বাজে সুরে সুরে
চিরন্তনী স্বপ্নের ছায়ায় ছায়ায়

বাতাসে শীতের টান এসেছে ফিরে, 
অভিমান থাকবে তবু তোমাকে ঘিরে? 
কথারা মুক্তি খোঁজে ছন্দে সুরে,
তবু কি রাখবে তুমি আমাকে দূরে?

শূন্যের পাশে যদি এক এসে বসে,
শূন্য তবে তার মান পায় শেষে -
তারপর,
এক যদি পাশ থেকে সরে যায় দূরে,
শূন্য তবে অর্থহীন হয়ে, খসে পড়ে।

তুমি কি জান না, কি ভাবে গন্ধ এসে,
অভিমান ভুলে, ফুলে জুড়ে বসে
গন্ধ যদি ঝরে যায় তবে
ফুল পড়ে খসে।

বাতাসে হীমের স্বাদ এসেছে ফিরে,
তুমি কি রাখবে শুধু নিজেকে দূরে
আমাকে তুচ্ছ আর
একেবারে অর্থহীন করে ?

তারপর? মাথা ই কুটি
রহস্যের ঘেরাটোপে বাচক
অবগাহনে রথী-মহারথী
নৈশালোক..দীপালোক.. -- আবার পুনঃ মুষিকো ভবঃ... সূর্য্যালোক!!

ধায়। কিছুতো তাগিদেই ধায় -
কিছু লোকলজ্জায়
অন্তহীন, বিরামহীন পদচারন
ধারনা সমস্ত অস্পষ্ট - মন মানে না বারন
'তারপরে'-ই বিধৃত তোমার জারিজুরি
অসম্পূর্ণ গা-জোয়ারী।

দিতে পারি কোথায়, আমার সবটা আমি?
মুখে বললেই হয়,ত্বমেব সমর্পয়ামি?
বিশ্বাস স্বর্ণলতিকা,প্রভু--
ভরসা না পেলে,সে ও নিভু নিভু
না হয় অঙ্কুরোদ্গম 
আজ আবার কিছুর দামামা,
তারপর? 
কে বলতে পারে, ছাগলে খাবে না?

অষ্টপ্রহর আশা
যদ্যপি নিরাশাই...

চোখগুলো অ-জীবনানন্দ
এক রাজা ও রানীর গল্প 
পাতার ওপর ছলাকলা করে 
কথার করতাল

মাথা খেয়ে ছোটে রথ
রাজা বদলের গান 
চোখ তার কবেকার নতমস্তক অধিরথ

সময়-স্বদেশ ঠোঁট উল্টিয়ে গালি দেয়, ঝরে অশ্রুজল
জিভ চেটে নেয়, চোখ চেটে খায় সমকাল

স্মৃতিবিহীন ধারাপাত নুতন করে পড়ে
রি-প্রিন্ট বা নুতন সংস্করণ 
বড় দীন মানব জীবন

মূক মোমবাতি রাজপথে হাঁটে 
সারথির হাত পা
চোখগুলো ক্যামেরা মুখো 
রাজপথ ভাঙে সন্ধ্যা

চোখগুলো অ-জীবনানন্দ
এক রাজা ও রানীর গল্প 
পাতার ওপর ছলাকলা করে 
কথার করতাল

আর কত ভালোবাসা যায়
কে পারে এতো ভালোবাসতে,
কার বুকে সুনামির ঢেউ
কে পারে এতো হাসি হাসতে।

কার বুকে আছে ডাকনাম 
কার এতো আছি কাছাকাছি,
আর কত ভালোবাসা যায়
ভুল চিঠি শুধু মিছামিছি।

রোদ গায়ে ছাদে কবিতারা
নেলপালিশ আর তোকে চাই,
আর কত ভালোবাসা যায়
ঘুমগুলি বড়ো নিরুপায়।

বেশ গেলে চলে- অতীতকে পথে ফেলে;
সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম অনুভূতিগুলোকে দ'লে। 
আমিত্ব বিলীন করেছিলাম- আসলে
চেয়েছিলাম বাঁধি, সময়কে আঁচলে।

সময়ের তাগিদায়- সব ভুলে গেলে;
চুপচাপ, চলে গেলে কাউকে না বলে। 
ব্যর্থ চেষ্টা- বাঁধতে পারিনি যে শিকলে! 
অস্থিসন্ধি, পাঁজর পড়ছে দেখো গ'লে!

শূন্যতা ও ভিড়ের চলছে - সহবাস, 
বিরহ, যন্ত্রণার রাগ ছোঁয়া বাতাস! 
ঘর ভর্তি, বাসি দিনের দীর্ঘনিশ্বাস-
আছে , 'একদিন দেখবো'- সেই বিশ্বাস !

পারি নি বাঁধতে- নিষ্ফলা এখন সব-
ধুলো শুষে - হয়েছি নিশ্চুপ, নিরব।
শিউলি,পলাশ- হেমন্তে হয় যে শব!
বুকে আছে...

Please reload

সাম্প্রতিক পোস্ট
Please reload

Archive
Please reload

A N  O N L I N E  M A G A Z I N E 

Copyright © 2016-2019 Bodh. All rights reserved.

For reprint rights contact: bodhmag@gmail.com

Designed, Developed & Maintained by: Debayan Mukherjee

Contact: +91 98046 04998  |  Mail: questforcreation@gmail.com