নিউক্লিওপ্রোটিন দ্বারা গঠিত, অ-কোশীয়, রোগ সৃষ্টিকারী, সূক্ষাতিসূক্ষ(কেবলমাত্র ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রে দেখা যায়), জীব ও জড়ের মধ্যবর্তী পর্যায়ের একপ্রকার বস্তুকে ভাইরাস বলে। 

মাধ্যমিকের জীবন বিজ্ঞানের খাতাতে ভাইরাসের সংজ্ঞা কাকে বলে'র উত্তরে এটুকু লিখে দিয়ে আসলে মাস্টারমশাইরা ভালোবেসে আমাদের কে ২ নম্বর দিতেন। 

১৭৯৬ খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞানী জেনার'-এর সর্বপ্রথম ভাইরাস আক্রান্ত বসন্ত রোগের উল্লেখের কথা হোক বা বিজ্ঞানী 'আইভানওস্কি'- এর তামাক গাছের ভাইরাস সংক্রান্ত সংক্রমণকারী তরলকে বা বিষকে সনাক্তকরণ হোক কিম্বা জাপানের বিজ্ঞানী টাকাহাসি-মার্কিন বিজ্ঞানী স্ট্যানলি -ইংল্যান্ডের বিজ্ঞানী ব্যডেন ও পিরী ভাইরাস নিয়ে এনাদের গবেষণার কথা একটা সময় জীবন বিজ্ঞান বইয়ে ছেলে-মেয়েরা পড়তো।

এরপর ২০১৪- এ দেশে পালাবদল হলো, আচ্ছে দিনের বৈজ্ঞানিক চিন্তা-ভাবনা যুক্ত সরকার এলো, মানুষ বুক ছেড়ে ফেস-বুকে'র তথ্যে বেশি বিশ্বাস করতে শুরু করলো, দেশ জুড়ে সব ইউনিভার্সিটি'তে কম সময় দিয়ে মানুষজন হোয়াটস্যাপ ইউনিভার্সিটি-তে বেশি পড়াশোনা করতে শুরু করে দিলেন। 

চিকিৎসক-বিজ্ঞানী-ডাক্তার সকলের গবেষণা পেপার, তথ্য সব হারিয়ে যেতে বসলো আর...

যমের বোন যমী চেয়েছিল ভাই তার গর্ভে সন্তান দিক। যম তা প্রত্যাখ্যান করে প্রথম মরণশীল মানুষ থেকে দেবতা হলেন, যমী রইলেন উপেক্ষিতা। সমাজে শ্লীলতার এক নতুন চেতনা এল। বোনেরা তাই পালন করেন ভাইফোটায়…

ঋকবেদের যম-যমী সংবাদ-এ বলা হয়েছে, যমী বার বার নানা ভাবে যমকে বোঝাতে চাইছেন তার কামার্ত শরীরের কথা, তার অভিলাষের কথা। তিনি এক পুরুষ ও এক নারীর স্বাভাবিক সম্পর্কের উদাহরণ দিচ্ছেন। কখনও মনে করিয়েছেন যে, যম বীর, যমী এক নারী হিসাবে তার কাছে আর্তি নিয়ে এসেছেন। বীর এর ধর্ম তা রক্ষা করা। এ-কথাও বলছেন, “সে কিসের ভ্রাতা, যদি সে থাকতেও ভগিনী অনাথা? সে কিসের ভগিনী যদি সেই ভগিনী সত্ত্বেও ভ্রাতার দুঃখ দূর না হয়? আমি আভিলাষে মূর্চ্ছিতা হয়ে এত করে বলছি, তোমার শরীরের সঙ্গে আমার শরীর মিলতে দাও।“ কিন্তু শেষ পর্যন্ত যম নিজের অবস্থানেই রইলেন। অন্য কাউকে পতি হিসাবে নির্বাচন করে নিতে বলেন। এই কারণেই যমের এই নিজেকে ধরে রাখার গুঙ্কে বলা হল ‘সংযম’। পুরান মতে, এই সংযমের কারণেই যমকে দেবত্ব দেওয়া হল। কিন্তু, দেবী হলেন না কামার্ত যমুনা, বলরামের হলের টানে নদী হয়ে গেলেন। ঋকবেদের মত নৃসিংহপুরাণেও যম-যমীর কাহিনী আছে। ব্যসদেব এই কাহি...

দীপাবলী বা দেওয়ালি যে নামেই ডাক না কেন, বাঙালির কাছে সেটি কালীপুজো। মহাকালের শক্তিরূপিনী কালী বা মহাকালীর আরাধনার উৎসব। সেদিন দীপের আলোয় উদ্ভাসিত হয় ঘরগেরস্তি। বাঙালি বলে দীপাবলি, হিন্দীভাষীরা বলেন দেওয়ালি। সেই রাতে নাকি জুয়া খেলে ফতুর হয়ে যেতে হয়। ‘দিওয়ালা হো যাতা হ্যায়’ বলেই নাকি দেওয়ালি। বাঙালি মনন জুয়া খেলে না, কালীকে নিয়ে গান বাঁধে, কার্তিকের অমানিশায় আলোর সন্ধান দেয়। বাঙালি একদিন আগে থেকেই সন্ধ্যায় আলোকমালায় সাজায় ঘরদুয়ার। এটি তাদের কাছে আলোর উৎসব। দীপালিকা। “ঘরে ঘরে ডাক পাঠালো, দীপালিকায় জ্বালাও আলো, জ্বালাও আলো, আপন আলো, সাজাও আলোয় ধরিত্রীরে।”

দীপাবলিই হোক আর দেওয়ালি, যে নামেই ডাকুন, আজ কালীপুজো। কারও কারও মতে অবশ্য লক্ষ্মীপুজো। ভুত চতুর্দশীর দিন অলক্ষ্মীকে বিদায় করে লক্ষ্মীর পুজো। যাই বলুন, ওই মা লক্ষ্মীই মা কালী, আর মা কালীই মা লক্ষ্মী। প্লিজ, এই নিয়ে আপত্তি করবেন না। বরং, যদি না জেনে থাকেন, তবে জেনে নিন, এই কার্তিকের অমাবস্যায় কালীঘাটের মন্দিরে কালীর পুজো হয় না, হয় মহালক্ষ্মীর পুজো। তারাপীঠেও লক্ষ্মীরই পুজো হয়। আরও জানুন, অকালীপুরে মহারাজ নন্দকুমার প্রতিষ্ঠিত গুহ্যকালীর মন্...

গাড়ির বনেটের সঙ্গে হাত পা বেঁধে প্রকৃত সত্যকে ঘোরান হচ্ছে গাটা গ্রাম। আর 'পাথর ছোঁড়া হাত' নামক নির্বাচিত সত্যের ফাঁদে ক্রমশ তলিয়ে যাচ্ছে একটা ভূখণ্ড...। হ্যাঁ, আমার, আপনার, আমাদের সকলের ভারতবর্ষ।  
চলুন, প্রকৃত সত্য আর নির্বাচিত সত্যের সমান্তরাল রাজপথে বিকেলের মৃদুমন্দ হাওয়ায় কিছুক্ষণ পায়চারি করে আসি।

              মানুষ তার জন্মের পর থেকেই মিথ্যাকে বিশ্বাস করতে ভালোবাসে।  আর এই বিশ্বাস  কল্পনার ডানায় ভর করে গোটা পৃথিবীর নানা দেশে নানা জাতীয় পুরাণের বহু আজগুবি গপ্পোকে যুগে যুগে মানুষ সত্য বলে স্বীকার করেছে। তেমনই চীন বা সোভেয়েত রাশিয়ার রঙিন বিজ্ঞাপনে ভুলে  তাকে স্বপ্নের দেশে পরিনত করে। এভাবেই একবিংশ শতাব্দীতে সামাজিক রূপান্তরের এক নতুন স্তর এসে উপস্থিত হয়েছে। তার নাম নির্বাচিত সত্য।

                    প্রকৃত সত্যের চেয়েও ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে উঠছে এই নির্বাচিত সত্য। যেন সিনেমার মধ্যে সিনেমা চলছে। যেমন আমাদের দেশ মানে এই ভারতবর্ষের  গরীব মানুষ গ্রামে লেখাপড়া শিখছে। কম্পিউটার শিখছে। ওয়াই- ফাই আওতায় বেকাররা চাকরীর প্রস্তুতি নিচ্ছে। সকলেরই রয়েছে ব্...

২০১৮ এর ১১ই সেপ্টেম্বর, শিকাগো ধর্ম মহাসভার ১২৫ বছর পূর্ণ হতে চলেছে। মানব সভ্যতায় বিশ্বের সর্বপ্রথম আলোড়ন সৃষ্টিকারী আন্তঃধর্মীয় সংলাপের(interfaith Dialogue)ইতিহাস হিসেবে সমস্ত বিশ্বের কাছেই বছরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কথা সত্যি, প্রত্যেক ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য স্থাপনের ক্ষেত্রে Interfaith Seminar যাতে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়, তার জন্য ১৮৯৩ সালের পর থেকে প্রতি বছরই নানা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে, নানা সেমিনারের নামে, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে, বিভিন্ন সময়ে আন্তঃধর্ম সংলাপের আয়োজন দুই শতাব্দী ধরেই বিরামহীনভাবে চলছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ আরম্ভ হওয়ার পরে অনুষ্ঠিত হয়েছে ক্যামব্রিজে ১৯২৪ সালে। ১৯৩৬ খ্রীষ্টাব্দে লণ্ডনে অধিবেশন হয়েছে The World congress of Faiths অর্গাইজেশনের অধীনে। ১৯৪৯ সালে ব্যাপক আকারে মুসলিম, ইহুদী, খ্রীষ্টান আর বিভিন্ন আদীবাসী ধর্মসম্প্রদায়ের ধর্মসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। যাতে নিজের ধর্ম এবং অন্যের ধর্মবিশ্বাসের প্রতি সহনশীলতা আর শ্রদ্ধাপূর্ণ মানসিকতা সৃষ্টি হয়। ১৯৫২য় আমস্টারডামে ‘The International Humanist and Ethical Union' শিরোনামে মুক্ত আলোচনা আহ্বান করা হয়েছে না...

আজকের একবিংশ শতাব্দীর পাদদেশে দাঁড়িয়ে আমরা অনুমান করতে পারি যে, প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে শুরু করে হাজার হাজার বছরের অভিজ্ঞতায় এবং অধ্যাবসায়ে অসংখ্য্

   পরীক্ষা নিরীক্ষা ও প্রক্রিয়ার ফলে মরা আজ এই আধুনিক সভ্যতায় পৌঁছতে পেরেছি।আত্মরক্ষার তাগিদেই মানুষ প্রথম ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল।ফলে সৃষ্টি সৃষ্টি হয়েছিল দল বা গোষ্ঠীর। ক্রমশ অভিজ্ঞতা লব্ধ জ্ঞান ও রীতি নীতিকে সুসংহত করবার প্রয়োজন বোধ থেকে আসে সমাজ চিন্তা।সমাজ বন্ধনে

   মানুষ ক্রমাগত দায়িত্বশীল হয়ে ওঠে।সেই থেকে আমাদের উন্নতি বা অগ্রগতির যাত্রা শুরু।আর জাতীয় জীবনের পরিনত রূপকেই বলা চলে সভ্যতা।এই সভ্যতাকে ধারণ ও বহন করবার জন্য মানুষ গড়েছে শিল্পকৃষ্টি;রচনা করেছে সাহিত্য।সাহচার্য্য বাসহিতত্ব কথাটি সহিত তত্ত্বের অপভ্রংশ হিসাবে এসেছে বলে মনে করা হয়।আর এই উৎস হল ‘স-হিত’ অর্থাৎ কল্যাণের সঙ্গে সাহিত্যের তাৎপর্য্য নিহিত।সাহিত্য কেবল মানুষের মানুষের সমাজ ও সভ্যতাকে ধারণ ও বহনই করে না;

   নতুনের দিকে ও বিকাশের পথে এগিয়ে দেয়।সেই কারণে,বিবর্তন ও বিকাশের ধারাবাহিকতা বিশ্বময় অব্যাহত রয়েছে। প্রসঙ্গত মনে রাখা দরকার যে, মানুষের জন্যই সাহিত্য সৃষ্টি হয়েছে।এই সা...

রবীন্দ্রনাথের মত এত গভীর মানবমুখী ও প্রগাঢ় সৃজনবোধ নিয়ে সেই সময় কোন লেখক বা সাহিত্য সমালোচকই প্রাচীন লোক ঐতিহ্যের মধ্যে অবগাহন করতে পারেননি।চিৎ শক্তিকে দুর্বলতার অবসাদ থেকে রক্ষার যে কথা তিনি তুলে ধরে ছিলেন তার তাৎপর্য ছিল সুদূরপ্রসারী।সম্প্রতি ভারতীয় সংস্কৃতির বহু মুখীনতাকে সচেতনভাবে উপেক্ষা করে ধর্মীয় ও মৌলবাদী মানসিকতাকে প্রশ্রয় দেবার হীন রাজনৈতিক প্রচেষ্টা সূচিত হয়েছে।রবীন্দ্রনাথ বারংবার সেই ভাবনার মর্মমূলে আঘাত হেনেছেন।তিনি তাঁর কালজয়ী 'ভারতবর্ষের ইতিহাসের ধারা' শীর্ষক প্রবন্ধে লিখেছিলেন যে,''...ভারতবর্ষ চিরদিনই একমাত্র চেষ্টা দেখিতেছি,প্রভেদের মধ্যে ঐক্য স্থাপন করা,নানাপথকে একই লক্ষ্যের অভিমুখীন করিয়া দেওয়া,এবং বহুর মধ্যে এককে নিঃসংশয়রূপে অন্তরতররূপে উপলব্ধি করা,বাহিরের যে সকল পার্থক্য প্রতীয়মান হয়,তাহাকে নষ্ট না করিয়া তাহার ভিতরকার নিগূঢ় যোগকে অধিকার করা।..." আমাদের জাতীয় জীবনের ঐকতান খুঁজে পাওয়া যাবে এই বহু স্বরের মধ্যেই।মৌখিক ঐতিহ্যের পাশাপাশি যে বিপুল লিখিত ঐতিহ্য আছে ,যেখানে শিল্প-সাহিত্য-সভ্যতা ও সংস্কৃতির প্রকৃষ্ট ছাপটি পাওয়া যায় তা চর্চার কেন্দ্রে আনতে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলে...

গল্পের রাজপুত্র ছিলেন রবীন্দ্রনাথ l সুখী রাজপুত্র l সুখ জিনিসটা যদি কাউকে পরিপূর্ণ ভরিয়ে তোলে তো সে রবীন্দ্রনাথ l ঐশ্বর্য প্রতিপত্তি আর সৌভাগ্য-খ্যাতি  তাঁর গলার হার l ছোটবেলা থেকে এ ধারণা অন্তত আমাদের মনে বদ্ধমূল l তাঁকেই আমরা একমাত্র সুখী মানুষ বলে ভাবতে শিখেছি l “সোনার চামচ” হাতে নিয়ে যাঁর জন্ম আমাদের রূপকথার সেই সুখী রাজপুত্রের গল্প আজ আমি বলব না, বলব দুঃখী এক রাজপুত্রের কাহিনী, ওই সুখী মানুষটার আর এক দুঃখময় সত্তার কথা l

   আপাতদৃষ্টিতে সুখ আর খ্যাতি যাঁকে মণিমালার মত বেষ্টন করে ছিল বলে আমাদের ধারণা, আসলে সেই রবীন্দ্রনাথ অত্যন্ত অসহায় দুঃখী এক মানুষ l বাস্তবের নিষ্করুণ কলঙ্ক বার বার জর্জরিত করেছে তাঁর সুন্দর কবিমনকে l ব্যক্তিজীবনের নানান বেদনাময় আঘাত তাঁকে বিমূঢ় করেছে, করেছে বিভ্রান্ত l একটার পর একটা দুঃখের অগ্নিশলাকায় তাঁকে বিদ্ধ হতে হয়েছে ক্রমাগত l বিশ্বকবিকে বহন করতে হয়েছে অনেক গ্লানি অপবাদ আর মিথ্যা কলঙ্কের চাপানো বোঝা l সে বোঝা এমনই দুঃসহ হয়েছে যে, কবি বহন করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন l এক সময় আত্মহত্যার কথাও ভেবেছিলেন l সখেদে বলেছেন, আমার দেশ আমাকে  যত ছোট করেছে, অপরে তা করতে...

রবীন্দ্র প্রতিভার ব্যাপ্তি নিয়ে তুলনামূলক আলোচনায় রবীন্দ্র গবেষকেরা বলেছেন - বিশ্বকবির রচনায় রবার্ট ব্রাউনিং-এর দার্শনিকতা,  কোলরিজ, বাইরনের জীবনমুখী বাস্তবতা, জন কীটসের অনিঃশেষ সৌন্দর্যচেতনা, ওয়ার্ডসোয়ার্থের পরিশুদ্ধ প্রকৃতি প্রেম এবং পার্সি বিশি শেলীর অতীন্দ্রিয় রহস্যময়তার অপূর্ব সমন্বয় ঘটেছে।  তাঁর রচনা শুধু বাংলা সাহিত্যে নয়,  বিশ্বসাহিত্যেরও অনন্য সম্পদ। বাংলা সাহিত্যে রোমান্টিসিজমের অতুল্য প্রতিনিধিত্ব রবীন্দ্রনাথই করেছেন।  প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের সংযোগ তাঁর রচনায় এমন একটি রোমান্টিকতার আবহ নির্মাণ করেছে, যার ভিত্তি প্রস্তুত হয়েছে জীবন সম্বন্ধে কবির সুগভীর ধারণা এবং বিশ্বপ্রকৃতি সম্পর্কে তাঁর উপলব্ধির প্রগাঢ়তা থেকে।

  কবির মৃত্যু ভাবনা প্রসঙ্গেও এই মন্তব্য সত্য। মরণকেও তিনি উদঘাটিত করেছেন বিচিত্র রূপে-রসে। উপলব্ধির নতুন নতুন পর্যায় অতিক্রম করে। যখন ব্যক্তিগত জীবনে স্বজন হারানোর ব্যথা শোকের আবর্তে তাঁকে মথিত করেছে, তখন কোলরিজ, বাইরনের জীবনমুখী বাস্তবতা প্রত্যক্ষ হয়ে উঠেছে তাঁর চেতনায়।  জীবনের সুধাপাত্র নিঃশেষ করে রিক্ততার অপার বেদনায় মৃত্যু তখন ধরা দিয়েছে নিষ্ঠুর নির্লিপ্...

সময়টা সম্ভবত ১৯৮০। দিল্লিতে আফ্রো-এশিয়ান ইয়ং প্রোগ্রেসিভ রাইটার্স অ্যাসোশিয়েসনের একটা সম্মেলন হচ্ছে। কলকাতা থেকে পাঁচজনকে প্রতিনিধি করে পাঠিয়েছিলেন কথসাহিত্যিক সৌরী ঘটক। কবি অপূর্ব কর, আফসার আহমেদ, কেশব দাস, আমি আর একজন (মনে পড়ছে না নামটা) গিয়েছি। আফসারের 'ঘরগেরস্তি' উপন্যাস সেবারই 'শারদীয় কালান্তর'এ প্রকাশিত হয়েছে। চমকে দিয়েছে আমাদের। উদ্যোক্তা ভীষম সাহানি। বিজ্ঞান ভবনে উদ্বোধনে রাষ্ট্রপতি আসবেন। আমরা ঢুকতে যাব, বডি সার্চিং হচ্ছে। চারজন পাস করলাম, আটকে গেলেন অপূর্ব কর। তার কোমরে যন্ত্র ছোঁয়ালেই ট্যাক ট্যাক প্যাক প্যাক আওয়াজ করছে। একে একে বস্ত্র উন্মোচন। এক বিতিকিচ্ছিরি ব্যাপার। আমরাও উদ্বিগ্ন। না জানি কোমরে লুকিয়ে ছোরা টোরা এনেছে কিনা! শেষে দেখা গেল,  একটি মাদুলি। তাই দেখে হো হো করে হেসে উঠেছিল অত্যন্ত মৃদুহাসির সাহিত্যিক আফসার। তার পর দু দিন অপূর্ব দার শান্তি ছিলনা রসিক আফসারের চিমটিতে। 

   সেই আফসার চলে গেল! অবিশ্বাস্য! ফেস বুকে জালালদার পোস্টে জানলাম, বিকেলে চলে গেছে, এস এস কে এমে, একা অভিমানে। লিভারের সমস্যাই নাকি কারণ। 'ঘরগেরস্তি' ছেড়ে সত্যিই নিখোঁজ হল মানুষটা।

   গ্রাম থ...

Please reload

প্রবন্ধ :
প্রস্তাবিত তালিকা
Please reload

সাম্প্রতিক পোস্ট
Please reload

A N  O N L I N E  M A G A Z I N E 

Copyright © 2016-2019 Bodh. All rights reserved.

For reprint rights contact: bodhmag@gmail.com

Designed, Developed & Maintained by: Debayan Mukherjee

Contact: +91 98046 04998  |  Mail: questforcreation@gmail.com