তাজমহলঃ প্রেমের তর্পণ নয় এক দাম্ভিকতার বহিঃপ্রকাশ

ইতিহাস, যা আমরা পড়ি বা যাকে অতীতের প্রামাণ্য দলিল হিসেবে ধরে নিয়ে যুক্তি বা ভাবনার মেল্বন্ধন

ঘটাই আসলে ইতিহাস কি তাই? প্রাচীন কাল থেকে আজ অবধি শাসক তার ভাবনার রঙে বার বার ইতিহাসকে রক্তাক্ত করে চলেছে । ঠিক যে কারনে প্রাচীন ভারত থেকে হারিয়ে গেছে অনার্য সভ্যতার ইতিহাস ।ইতিহাস বলে

স্ত্রী মমতাজ মহলের অকাল মৃত্যুতে মুঘল সম্রাট শাহজাহান মর্মাহত হন । সেই  ভগ্নহৃদয় নিয়ে  তিনি স্ত্রীর কবরের উপর একটা সমাধিসৌধ নির্মাণ করেন। এটাই তাজমহল।
১৪ বছরের ইরানী কিশোরী মমতাজের দৈহিক সৌন্দর্য শাহজাহানকে এতটাই বিমোহিত করে ফেলেছিল যে তিনি এ কিশোরীর সাথে বাগদান সম্পন্ন করেন, কিন্তু তাকে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে ঘরে তুলে নেননি , বরং মমতাজকে  বিবাহ করার পরও  শাহজাহান আরও এক  নারীকে বিবাহ করেন ।বাগদানের ৫ বছর পর ১৬১২ সালে মমতাজকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে প্রাসাদে নিয়ে আসেন শাহজাহান। আবার ১৬১৭ সালে তিনি আরো এক নারীকে বিয়ে করেন মমতাজ সহ দুই স্ত্রী ঘরে থাকা সত্ত্বেও।বিয়ের ১৯ বছরের মধ্যে মমতাজ শাহজাহানের ১৪ টি সন্তানের মা হন এবং মাত্র ৩৮ বছর বয়সে ১৪তম সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে মমতাজ মারা যান । বলা যায়, শাহজাহান নিজে মমতাজের মৃত্যুকে ডেকে এনেছিলেন, বোধহীনের মতো এক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। গর্ভবতী মমতাজকে সঙ্গে নিয়ে তিনি যুদ্ধযাত্রা করেন দুর্গম রাস্তা দিয়ে হাতির পিঠে বসে দীর্ঘক্ষণ চলার দরুন সময়ের আগেই মমতাজের প্রসববেদনা শুরু হয়। সুদীর্ঘ পথের সেই প্রসবব্যথা শেষে সন্তান জন্ম দিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন মমতাজ, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে।

তাজমহলের নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১৬৩২ সালে এবং পুরোপুরি শেষ হয় ১৬৫৩ সালে। এ সময়কালে ২০,০০০ শ্রমিক ও কারিগর তাজমহল নির্মাণে দাসদের মতো ব্যবহৃত হয়েছিল। এবং প্রচুর অর্থ ব্যয় করা হয়েছিল । ব্যয়িত অর্থের পুরো টাকাটাই ছিল সাধারণ মানুষের রক্ত চুষে আদায় করা খাজনা। শাহ্জাহান এ টাকাই ব্যয় করেছেন নিজের মৃত স্ত্রীর কবরের উপর স্মৃতিসৌধ নির্মাণের মতো ব্যক্তিগত অভিলাষ পূরণে। কোনো সত্যিকারের প্রেমিক মন কি কখনো এমন একটা জঘন্য অন্যায় করতে চাইবে?
ইতিহাস বলছে  অনুৎপাদনশীল খাতে এ বিশাল পরিমান অর্থ খরচ করা আর সেই অর্থ আদায় করতে গিয়ে জনগণের উপর চালানো অত্যাচারের কুফল হিসেবে তাজমহল নির্মাণের কিছুদিনের মধ্যে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। 

এই ইতিহাস থেকেই জানতে পারা যায় মুঘল পরিবারের মেয়েদেরকে বিয়ে করতে দেয়া হতো না। প্রেমের সম্রাট শাহজাহান নিজের মেয়ে জাহানারার প্রেমকে জঘন্য দমন করেছিলেন ,  জাহানারা যার প্রেমে পড়েছিলেন শাহজাহান তাকে একেবারেই পছন্দ করেন নি। কিন্তু বিদূষী জাহানারা প্রেমে অটল ছিলেন।
তাঁর প্রেমিক লুকিয়ে তাঁর সাথে দেখা করতে আসতো। শাহজাহান একদিন মেয়ের প্রেমিককে আটক করতে সক্ষম হন। তারপর মেয়ের চোখের সামনেই মেয়ের সেই প্রেমিককে তক্তা দিয়ে দেয়ালের সাথে আটকে পেরেক গেঁথে গেঁথে খুন করেন ‘প্রেমের’ তাজমহলের নির্মাতা শাহজাহান সেই সময় যমুনার অপর তীরে তখন তাজমহলের নির্মাণ কাজ চলছিল।

তাজমহল নির্মাণের ৫ বছরের মাথায় শাহজাহান তাঁর পুত্র আওরঙ্গজেবের কাছে সিংহাসন হারান। আওরঙ্গজেব শাহজাহানকে জোর করে বন্দি করে নিজেকে সম্রাট ঘোষনা করেন, একে একে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেন ক্ষমতার দাবিদার নিজের অন্য ভাইদের।
শাহজাহানকে তাঁর জীবনের শেষ ৮টি বছর আগ্রার দুর্গে গৃহবন্দি থেকেই কাটাতে হয়, নীরবে দেখে যেতে হয় ক্ষমতার দখল নিয়ে পুত্রদের কাড়াকাড়ি।ঠিক যে ভাবে তিনিও তার ভাইদের রক্তে স্নান করে ক্ষমতা দখল করেছিলেন । আগ্রার দুর্গে গৃহবন্দি  অবস্থায়ই তিনি মারা যান।
এই বন্দি জীবনে সেই জাহানারা যার প্রেমিককে শাহজাহান নৃশংসভাবে খুন করেছিলেন তিনি ছিলেন পিতার একমাত্র সঙ্গী । জাহানারা স্বেচ্ছায় পিতার সাথে বন্দি হয়ে দুঃসময়ে পিতাকে সঙ্গ দিয়ে গেছেন। তাহলে প্রেমিক হিসেবে কে মহান? শাহজাহানকে কি আদৌ প্রেমিক বলা যায়? মমতাজের প্রতি তাঁর যে অনুভূতি ছিল সেটাকে শুধুমাত্র মোহ ছাড়া আর অন্য কিছু বলা যায় না , মমতাজের তাজমহল কোনও ভাবেই  ভালোবাসার নিদর্শন হতে পারে না , তাজমহল ছিল শাহজাহানের দাম্ভিকতার বহিঃপ্রকাশ

তাজমহলের অপূর্ব সৌন্দর্য্য ও কারুকার্যময়তায় অভিভূত হওয়া স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। কিন্তু তাজমহল নির্মাণের সাথে জড়িয়ে থাকা নির্মমতার ইতিহাসকে ভুলে যাওয়া মোটেই স্বাভাবিক কাজ নয়।

Share on Facebook
Share on Twitter
Please reload

জনপ্রিয় পোস্ট

I'm busy working on my blog posts. Watch this space!

Please reload

সাম্প্রতিক পোস্ট
Please reload

A N  O N L I N E  M A G A Z I N E 

Copyright © 2016-2019 Bodh. All rights reserved.

For reprint rights contact: bodhmag@gmail.com

Designed, Developed & Maintained by: Debayan Mukherjee

Contact: +91 98046 04998  |  Mail: questforcreation@gmail.com