রবীন্দ্র চেতনা...হীরা চুনি পান্না

‘‘আমারই চেতনার রঙে পান্না হল সবুজ, চুনি উঠল রাঙা হয়ে৷... জ্বলে উঠল আলো...’’

 

রবীন্দ্র চেতনা কথাটি উচ্চারিত হওয়া মাত্র চকিত চমকে---যেন বিদ্যুৎ বিভাসে রবি কবির ‘আমি’ কবিতার চরণ ভেসে ওঠে মনে ও স্মরণে৷ আমাদের জীবনে তার অবস্থান--- স্মরণে মননে, এমনকী জীবনময় অস্তিত্বে, শিক্ষিত জনের কাছে--- বিশেষ করে বাঙালী মানসে, বোধ হয় তার ব্যাখ্যা নিস্প্রয়োজন৷ আমরা জগতের যাবতীয় বস্তু প্রকৃতি সূর্যের আলোয় স্বচ্ছভাবে দেখতে পারি৷ আমাদের বেঁচে থাকার উৎস যেমন সূর্য, তাকে আবর্তন করেই আমাদের দিন রাত্রির আসা যাওয়া৷ যাবতীয় শক্তির উৎস, এমনকী পৃথিবী ও নক্ষত্রের থাকা না থাকা, অস্তিত্বের কারণ৷ বলাই বাহুল্য, যাবৎ এই বিশ্ব প্রকৃতির ধারক ও বাহক৷ তেমনি মানুষের জীবনেও---চিন্তা ও চেতনার জগতে, রবীন্দ্রনাথ এক সূর্য নক্ষত্রের আলো৷ তিনি আমাদের অন্তর জগৎটাকে আবিস্কার করে, আলোকিত করে দিয়েছেন৷ তিনি আমাদের আত্মপ্রত্যয় প্রতিষ্ঠার পথিকৃৎ, অনস্বীকার্য৷ গোলাপকে তিনি সুন্দর বলেছেন, আমরা দেখি গোলাপ সত্যি সুন্দর, শুধু দেখি না, তা অনুভবও করি৷ এই সত্য, সূর্যের আলো থেকে এবং রবীন্দ্রচেতনার আলো থেকে পাওয়া সত্য৷ তাই চুনি পান্নার সৌন্দর্য সম্পর্কে আমরা অবহিত৷ তার সৃজনশীলতায় আমরা হীরার দ্যুতি দেখতে সক্ষম হই৷ তত্ত্বজ্ঞানী যপ তপের আত্ম প্রত্যয়ে যখন বলেন,---

... ‘‘না, না, না---না পান্না, না চুনি, না আলো, না গোলাপ,/না আমি, না তুমি’’৷ তখন স্বয়ং বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের হোতা, সেই চেতন পুরুষ--- যার উত্তর পুরুষ,--- অর্থাৎ অমৃতপুরুষ পরম্পরা বহমান তেচনার বলে বলীয়ান মানুষ বলে ওঠে ‘আমি’--- সেই ‘আমি’র উত্তরাধিকারী৷ এই ক্ষণে না বদলে যায়-হ্যাঁ, চুনির অস্তিত্ব লাল প্রতিভাত হয়, পান্না হয় সবুজ, হীরার দ্যুতি ঠিকরে আলোর মুগ্দতা প্রকাশ করে৷ এই চেতনার আলো ব্যতিরেকে রঙ ও রূপের পরবর্তি স্তর রসেরও সন্ধান মেলে না৷ চেতনার প্রথম ও প্রধান উপাদান অনুভূতি---জন্ম নেয় মস্তিস্ক প্রসূত তরঙ্গ আর  হৃদয়ের কম্পন সংশ্লেষে, যখন রঙ রূপ ও রসের সঙ্গমে সফল হয় রসায়ন৷ মানব মন তখন তার অনুভূতি প্রকাশের জন্য তুলে নেয় কলম, কেউ তুলি, কেউ বা ছেনি হাতুরি যার বুকে তার সুখ দুঃখ আনন্দ ফুটে ওঠে, রঙে রূপে ও রসের বৈচিত্র্যে---পাতার পরতে পরতে, রেখায় চিত্রে পাথরের খাজে--- রূপের জন্ম হয় প্রতিমায়৷

এই মহাবিশ্বের সেই উৎস--- ‘শূন্য’ সমগ্র শক্তির সুসংহত আধার নিজেকে অখণ্ড একক-এ সুস্থির রাখতে না পেরে অনন্তে বিস্ফারিত হলেন---বিজ্ঞান সূত্রে যাকে ‘বিগ্-ব্যাং’ অভিহিত করা হয়৷ তার ফলস্বরূপ, এ যাবৎ বিশ্বের সৃষ্টি ও বিকাশ-বিরামহীন প্রসারণশীলতা৷ যার আগে---অর্থাৎ শূন্যের আগে কোনspace ছিল না, কোনো কিছুর অস্তিত্ব ছিল না৷ ছিল সেই উৎস---বা ঈশ্বর চেতনা বা ‘সো অহম’ রূপে অখণ্ড চেতনা৷ সৃষ্টির পর তার অংশত চেতনা মানব অবয়বে প্রস্থাপিত হয়৷ তার বলে বলীয়ান হয়ে জীব জগতের মধ্যে মানব হয়েছে শ্রেষ্ঠ৷ তার ‘আমি’ প্রাপ্তির গেড়রবে ঘোষিত হয়েছে... ‘সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই৷’

বৈদিক অভিজ্ঞানে ঈশ্বরকে ‘আবির’ বলে ব্যক্ত করা হয়েছে যার অর্থ প্রকাশ স্বরূপ৷ প্রকাশ হওয়া---কৃতি বা কীর্তি, যা একটি ঘটমান সত্য৷ অতএব, উপরোক্ত বিষয় থেকে অনুমেয়, ঈশ্বর তার সকল শক্তির ঘনিভূত রূপ অর্থাৎ অখণ্ড রূপকে সুসংহত করে রাখা পর্যন্ত একটি অপ্রকাশিত শূন্যে বিধৃত ছিল৷ প্রকাশিতব্য ‘শূন্য’ একদ্ধেক থাকার দরুণ আর কোন আকার বা কোন কিছুর অস্তিত্ব ছিল না৷ প্রকাশই ঈশ্বরের প্রকৃত স্বরূপ, তাই সমূহ শক্তির চাপ ও তাপে তার স্বরূপ প্রকাশ ঘটনাতেই অনিবার্য সত্য হল মুক্তি৷ অতএব, প্রকাশমানতার পরিনামেই ঘটল সেই মহা বিস্ফোরণ৷ প্রকাশের মধ্যেই নিহিত রয়েছে প্রসারমানতার পূর্ণরূপ যা অনন্তগামী---অনন্ত ঈশ্বর স্বরূপ৷ মানুষের মধ্যে উক্ত চেতনার অংশ অঙ্গীভূত হওয়ায়, পরিলক্ষিত হয় ঈশ্বরীয় সমস্বভাব, তাই সে নিজ অনুভূতিকে প্রকাশ করে তৃপ্ত হয়, তাই---কৃতি বা কীর্তিকে প্রকাশ করাই মানবের একান্ত

 

(২)

অভিলাষ৷ চেতনার স্বরূপ তাই শুধু আত্মপ্রকাশ নয়---তার দৃষ্টিতে সকল বস্তু বিশ্বকে জ্ঞাত হওয়া এবং অবহিত করা দুই-ই সত্য৷ যতদূর দৃষ্টি যায়, যতদূর জানা যায়, যতকিছু আত্মগত করা যায় চিন্তা ও চেতনায়, তাকেই প্রকাশ করার তাড়না মানুষ ব্যতিরেকে আর কোন প্রাণী, ক্ষুদ্র কী বৃহৎ---এমনকী বিশাল মহীরূহ বা সর্বোচ্চ পর্বত হিমালয়ের মধ্যেও পরিলক্ষিত হয় না৷ বটবৃক্ষের জীবনে কিছু অনুভভ থাকলেও তা মানুষই ব্যক্ত করার দায় বহন করে৷ বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসু তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ৷ তিনি প্রকাশ করলেন, বৃক্ষের জীবন সম্বন্ধীয় কথা৷ অনুরূপে, পোকা মাকড়, পিঁপড়ে থেকে অরণ্য বনানী---ফুল ফল, গ্রহ তারা নক্ষত্র থেকে---মহাবিশ্বের শত সহস্র গ্যালাক্সী পর্যন্ত, মনুষ্য চেতনায় ব্যক্ত করার অভিঐাষে অভীষ্ট সে৷ এই সত্য অনুধাবন করেই ঋষি বলেছেন,--- ‘সত্যম অনন্তম’... ‘জ্ঞানম ব্রহ্মম’ অনন্তকে জানার স্পৃহা তার সত্য উন্মোচনের সীমা রেখা৷ হাজার হাজার বছর আগে ঋষির উপলব্ধিতে উচ্চারিত হয়েছে...ঔঁ... সৃষ্টির উষালগ্ণে উৎপত্তি ওঙ্কার ধবনি ঔঁ---অ-উ-ম-.... রবীন্দ্রনাথ তাকে সহজীকরণ করে ব্যক্ত করলেন, ‘অহম’ ....‘অহম’কার...‘সো-অহম’ ...সেই আমির কথা...’’ এ আমার অহংকার,/অহংকার সমস্ত মানুষের হয়ে৷/মানুষের অহংকার পটেই/বিশ্বকর্মার বিশ্বশিল্প’’৷/ তত্ত্বজ্ঞানের চেয়ে প্রখর সত্যের দিশারী রবীন্দ্রনাথ উপলব্ধির সত্যকেই সূর্যালোকের ন্যায় প্রকাশ করলেন,--- ‘‘একে বোলো না তত্ত্ব/ আমার মন হয়েছে পুলকিত / বিশ্ব-আমি’র রচনার আসরে / হাতে নিয়ে তুলি, পাত্রে নিয়ে রঙ৷’’

 

আলবার্ট আইনস্টাইনের Theory of relativity (আপেক্ষিকবাদ) অনুসারে, Singularity (একত্ববাদ/শূন্যতাবাদ)-এ, দেশকাল যেখানে এমন একটি বিন্দুতে সংহত, যার দৈর্ঘ্য প্রস্থ বেধ-র মান একত্রে শূন্য, যেখানে আপেক্ষিকবাদের নিয়ম অচল---অর্থাৎ এই অবস্থানে আদি বা অন্ত অর্থহীন৷ সেই অনুসারে, প্রতিপাদ্য ‘বিগ ব্যাং’-এর পূর্বে কোন ঘটনা বা কালের কোনো অস্তিত্ব থাকার কোনো কল্পনাও থাকে না৷ মহাবিশ্ব প্রসারণশীলতা প্রমাণিত সত্য, মহাকালের সীমা পর্যন্ত যার গতি৷ অতঃপর, সেই চরম সীমা কালের দেওয়াল ছঁুয়ে বিপরীত গতি প্রাপ্ত হবে, সংঘটিত হবে Big Crunch (মহা সংকোচন)৷ পরিণতিতে, এই মূর্ত দিন রাত্রি---অর্থাৎ আলো অন্ধকার-এর গতি তার চরম সীমা ছঁুয়ে বিপরীত গতিতে বিবর্তিত হয়ে যাবে নিরেট অখণ্ড অন্ধকার৷

 

এই সম্ভাবনা তথা ভবিষ্য চেতনার নিশ্চিত দেওয়াল অবধি, রবীন্দ্র চেতনার সীমা পৌঁছে যায় তাঁর উপলব্ধি প্রকাশে---যেমন...’’ মর্ত্যলোকে মহাকালের নতুন খাতায়/পাতা জুড়ে নামবে একটা শূন্য,/ গিলে ফেলবে দিন রাতের জমা খরচ/ মানুষের কীর্তি হারাবে অমরতার ভান,/তার ইতিহাসে লেপে দেবে/ অনন্ত রাত্রির কালী৷...বিশ্ব থেকে নিকিয়ে নেবে রঙ,/...শক্তির কম্পন চলবে আকাশে,/ জ্বলবে না কোথাও আলো৷’’ এইভাবে, সাকুল্যে রবীন্দ্রনাথের সামগ্রিক চেতনায় তার কাব্যের অন্তর্গত মহিমায় বিধৃত হয়েছে অনাগত ভবিষ্যের চিত্রকল্প৷ এ পর্যন্ত, প্রমাণিত সত্য যে, মহাবিশ্ব প্রসারণশীল, মহাকালের সীমা পরিধি পর্যন্ত তার গতি৷ সেই পরিধির দেওয়াল ছঁুয়ে বিপরীত গতি প্রাপ্ত, অবশ্যম্ভাবি---Big Crunch (মহাসঙ্কোচন)-এর উপলব্ধিও নিশ্চিতভাবে পৌঁছে যায় তাঁর পূর্ণতার পরিণতি থেকে শূন্যে রূপান্তরের দুরুহতম চেতনা৷

পূর্বোক্ত কথনের সূত্র ধরে বলি, মনুষ্য স্বভাবের শ্রেষ্ঠতম প্রাপ্তি চেতনা---যা সারাবিশ্ব তথা মন-ই তার ভরকেন্দ্রস্থল৷ সেখানে সর্বোত্তম প্রাপ্তির কথা প্রাচীন ঋষির উপলব্ধিতে ব্যক্ত হয়েছে---‘‘সচ্চিদানন্দ’’ বলে --- সৎ (সত্তা), চিৎ (চেতনা), আনন্দ (আনন্দ পূর্ণতায় শান্তি) ঈশ্বরীয় পূর্ণ স্বরূপ৷ তাই মানুষের জীবনে আনন্দ লাভের অভিলাষ ঈশ্বর প্রাপ্তির সমতুল্য৷ আনন্দ লাভের জন্য মানুষ অসাধ্য সাধনে ব্রতী হয়, অসম্ভবকে বাস্তবে পরিণত করে৷ আনন্দ লাভের আশায় মানুষ াাদর্শ গড়ে, কর্ম কৃতির পরিচয় রেখে যায়৷ এই সুবাদে, জগতে যাবৎ সুন্দরের স্বরূপ উন্মোচন করে, সমাজ ও সভতার পত্তন করেছে, কল্যাণকামী---কবি, দার্শনিক, সাহিত্যিক, শিল্পী, বিজ্ঞানী প্রমুখ ব্যক্তিগণ৷ দেশ কাল জাতি বর্ণ সম্প্রদায় নির্বিশেষে, মানবজাতির মধ্যে ঐক্য ও শান্তির দিশা দিয়েছেন৷ এঁদের জ্ঞান বিজ্ঞান ও শিল্প প্রযুক্তির আবিস্কার অবদানে, সমগ্র বিশ্বমানব ক্রমন্নোতির সমন্বয়ে---আজ

 

(৩)

একবিংশ শতাব্দীর পাদপ্রদীপের আলোকে সমূহ সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের সম্ভাবনায় উপনীত৷ এই প্রেক্ষিতে, সর্বোপরি চেতনার মর্মে---বিশ্বমানবতার পথিকৃৎ রবীন্দ্রনাথ একমেবদ্বিতীয়ম, তিনি বললেন---‘‘মানুষের বাইরে আমার কোনো দেবতা নেই৷ মানুষের ধর্ম প্রকৃতপক্ষে কবিতার ধর্ম৷...ইতিহাসে দেখা যায়, মানুষের আত্মোপলব্ধি বাহির থেকে অন্তত্রন্রেন্র দিকে আপনিই গিয়েছে, যে অন্তরের দিকে তার বিশ্বজনীনতা, যেখানে বস্তুর বেড়া পেরিয়ে সে পৌঁছেছে বিশ্বমানস লোকে---যে লোকে তার বাণী, তার শ্রী, তার মুক্তি৷ ...মানুষ আছে তার দুই ভাবকে নিয়ে, একটা তার জীবভাব, আর একটা বিশ্বভাব৷... আদর্শ একটা আন্তরিক আহ্বান, এ আদর্শ একটা নিগূঢ় নির্দেশ৷ ---যে দিকে সে বিচিছন্ন নয়, যে দিকে তার পূর্ণতা, যে দিকে ব্যক্তিগত সীমাকে সে ছাড়িয়ে চলেছে, যে দিকে বিশ্বমানব৷ ঋগ বেদে সেই বিশ্বমানবের কথা বলেছেন,--- ‘‘পাদো হস্য বিশ্বাভূতানি ত্রিপাদস্ব্যমৃতং-দিবি’’---

 

এই একবিংশ শতকের পাদদেশে দাঁড়িয়ে রাজনৈতিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবনে সর্বত্রই দেখি প্রবাহমান দুর্নীতির ক্ষয়িষ্ণু ধারা৷ প্রতিনিয়ত সংঘটিত হয়ে চলেছে---মানুষে মানুষে হিংসা---হানাহানি, পাশবিকতা, ধর্ষণ হত্যা, চৌর্যবৃত্তি, শোষণ, অত্যাচার, অপরাধের অন্তহীন ঘটনাবলী৷ এর প্রভাবে সংবেদনশীল মানুষ মাত্র, চেতনার অনু পরমানুর উপর ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার তীব্র যন্ত্রণা অনুভূত হয়, কপোলে ভরে অশ্রুজল, সংগোপনে৷ এ তো কাউকে দেখাবার নয়৷ ব্যক্ত করবার উপায় নেই, এই পরিবেশে---তাই একান্তে গুমরে মরি৷ এই বিপন্ন পরিস্থিতিতে, নিজেকেই প্রশ্ণ করি,...তবে কি আমরা সেই অনাগত চরম Big Crunch-এর দেওয়াল ছঁুতেই এগিয়ে যাচ্ছি? ...উত্তর অজানা৷ এখানে, এই বিপন্ন সময়ে... শেষ সান্ত্বনা... বেঁচে থাকার অবলম্বন খঁুজে পাই... জীবন্ময় বেঁচে থাকার একমাত্র প্রেরণা... একসূর্য আলো রবীন্দ্রনাথ৷ ...সকালে লং প্লেরdisc -এ বেজে ওঠে তাঁর সঞ্জিবনী গানের মূর্চ্ছনা... ‘‘আনন্দ ধারা বহিছে ভুবনে/ দিনরজনী কত অমৃতরস উথলি যায় অনন্ত গগনে৷ ...বসিয়া আছ কেন আপন মনে,/ ...চারিদিকে দেখো৷ চাহি হৃদয় প্রসারি,/ ক্ষুদ্র দুঃখ সব তুচ্ছ মানি/ প্রেম ভরিয়া লহো শূন্য জীবনে’’৷

Share on Facebook
Share on Twitter
Please reload

জনপ্রিয় পোস্ট

I'm busy working on my blog posts. Watch this space!

Please reload

সাম্প্রতিক পোস্ট
Please reload

A N  O N L I N E  M A G A Z I N E 

Copyright © 2016-2019 Bodh. All rights reserved.

For reprint rights contact: bodhmag@gmail.com

Designed, Developed & Maintained by: Debayan Mukherjee

Contact: +91 98046 04998  |  Mail: questforcreation@gmail.com