নারীদিবস— উদযাপন ও তার জীবনায়ন

”যদি  পার্শ্বে  রাখ  মোরে  সংকটে  সম্পদে, সম্মতি  দাও  যদি  কঠিন  ব্রতে  সহায়  হতে

                         পাবে তবে তুমি চিনিতে মোরে।“....

                   সদ্য নারী দিবস উদযাপন হয়ে গেল দারুণ উৎসব মেজাজে।যেমন বাঙালী তার তের পার্বনে কিবা ২৬ পার্বনে সোচ্চার ভঙ্গীমায় পালন করেন।এই কর্ত্তব্য পালনকে যে,গৌরব বলে মানে তাতে

কোন সন্দেহ নেই।এই মর্মে,কত পার্বন জন্ম নিয়েছে—শিশু দিবস,নারী দিবস,শিক্ষক দিবস,ভালবাসা দিবস,

গোলাপ দিবস,প্রতিদিন এক একটি দিবস উন্মোচিত না হওয়া অবধি ক্ষান্তি বা শান্তি নেই। আমরা যে

মস্তিস্কবান বাঙালী! অল্পে বা সীমিত সামর্থ্যে সন্তুষ্ট হই কেমন করে!আচ্ছা,এইসব উদযাপনে আনন্দ উত্তেজনা  হাতে নাতে দিন প্রতিদিন হয়ত কিছু পাওয়া যায়,তবে এর দ্বারা কি সত্যই কোন উদ্দেশ্য সাধন হয়, বা নিদেন পক্ষে কিছু ইতি-বাচক লাভ!এ প্রশ্ন হয়ত অনেকের মনে ওঠে অহরহ!শিশু দিবসের জন্য কী কোন অন্যায় অবিচার অপসৃত হয়েছে?শিক্ষক দিবসের নিটফল,কোন উন্নতি?আর ভালবাসা দিবসে—জীবনে কোন সদর্থক,সুফল পাওয়া গেছে কি?গোলাপ দিবসের—কত গোলাপ যে পথে লুটায়,তার হিসাব কে রাখে?এইভাবে সকল পালিত দিবসগুলি—সমাজের পরিবেশ ও পরিস্থিতির ফাঁদে পড়ে—রজনীর কোলে কাঁদে,ব্যর্থতায়, করুণ কামনায় আর অপার হতাশায়!



           নারী দিবসের উদযাপনে,উৎসাহ ব্যঞ্জক—কী পাওয়া গেল এবার,তা দেখা যাক।সর্বজনীন ফেসবুকে, কারো মতে একটি সুন্দর করুণ কথার উল্লেখ দেখা গেল,..নারী দিবস একটি ‘মাইল স্টোন’। কারণ,এযুগে—নারী ঘরে বাইরে কর্ম ব্যস্ত জীবনের দায় দায়িত্ব তুলে নিয়েছে পুরুষের সহযোগী স্বরূপ। এই উপলক্ষ্যে,একঘেয়ে দৈনন্দিন কাজের ভীড়ে থেকেও একটা দিন নিজের দিকে ফিরে তাকাবার সচেতন অবকাশ পাওয়া যায়।একরকম চেতাবনী দেয়—আজও নারী তুমি পুরুষের সমান অধিকার লাভ কর নি।অথচ তুমি অর্দ্ধাঙ্গিনী।পুরুষের প্রয়োজন মেটানোই তোমার কর্ম।এর চেয়ে বেশী কিছু নয়!...



           নারী দিবসের গোড়ার উদ্দেশ্য ছিল ভিন্নরকম।শ্রমজীবী নারীর কাজে সময়, ছুটি ও পুরুষের সমান বেতন আদায়—আন্দোলনে হয় নারী দিবসের সূচনা।এরপর পর্যায়ক্রমে,যুক্ত হয় মহিলাদের ভোট অধিকারের দাবি।এই উদ্দেশ্যে,1910 সালে 8 মার্চ কোপেনহাগেনে অনুষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক মহিলা সম্মেলন, এখানেই প্রথম নারী দিবস পালনের ডাক দিয়ে—1911 সালে পালনের পত্তন হয়।ভারতে, মেয়েদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকারে—নারী দিবস পালন শুরু হয় পঞ্চাশ দশকের মধ্যভাগে।শিক্ষা,স্বাস্থ্য,গার্হস্থ্য হিংসা,বিবাহ পণ,ধর্ষণ ইত্যাদির দাবিও সঙ্গে যুক্ত হয়। আন্দোলনের ফলে অর্থনৈতিক বিষয়ে কিছু আইনের সংস্থান হলেও বাস্তবে, নারী নির্যাতন তথা ধর্ষণের সুরাহা কিছুমাত্র লক্ষিত হয় না!বরং বর্ধিষ্ণুর অভিজ্ঞতা দিন প্রতিদিন ঘটনার ঘনঘটাই দৃশ্যমান!আইন প্রবর্তন তো একটি সান্ত্বনার মলমের মত। আইন,সংবিধান,প্রশাসণ, বিচার ব্যবস্থা সবই আছে স্থির স্তম্ভস্বরূপ!এর গতিশীল কার্য্যকারিতার আশা বুঝিবা এদেশে দুরাশার সামিল1 1975 সালে,জাতিপুঞ্জ(UNESCO)8 মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসাবে ঘোষনা করে।বিগত 2018 সালের মূল ভাবনা ছিল বিভিন্ন আন্দোলনের সঙ্গে একাত্ম হয়ে লিঙ্গ বৈষম্য দূর করা।তবে বাস্তবে কেবল নীতি ঘোষণা করেই জেন্ডার ভিত্তিক বৈষম্য বা অসমতা বদল হওয়া সম্ভব নয়। নারী ও পুরুষ উভয়ের মানসিকতা  যতদিন না সচেতনভাবে বদলাচ্ছে!নারী যে অন্তত নিজের অধিকার সম্বন্ধে, শিক্ষার আলোতে সচেতন হয়ে উঠছে এটাই একটা সমতার দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সদর্থ দিক,নিঃসন্দেহে। শুধু নিজের জন্য নয়,বন্ধুর জন্য,নারী সম্প্রদায়ের জন্য—অধিকার সচেতন হওয়ার আগ্রহ ও অনুপ্রেরণা দেওয়ার দায় নিচ্ছেন।এই প্রেক্ষিতে, আন্তর্জতিক নারী দিবসের গুরুত্ব অনস্বীকার্য্য।

                             (2)

           উপরন্তু,নারী আন্দোলন আজ বিশ্বায়ণে বিস্তারিত বললেও অত্যুক্তি হয় না।নারীর প্রতিবাদে পুরষতন্ত্রের দুর্ভেদ্য দেওয়াল কেঁপে উঠছে।মার্কিন সেনেটর,ব্রিটেনের ক্যাবিনেট মন্ত্রী,হলিউডের তারকা কিংবা বেজিংয়ের অধ্যাপক,কানাডার পার্লামেন্ট সদস্য থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রতিনিধি—মহিলাদের দুর্ব্যবহার তথা নির্যাতনের অভিযোগে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন।ক্ষমতায়ণের শীর্ষে অবস্থান করেও পরাহত হতে হয়েছে! প্রতিপত্তির ঢালে নারীর এই সম্মীলিত সাহসকে পারেনি প্রতিহত করতে।বৃহত্তর সমাজও এই নারী সমস্যার

সমাধানে সাহস ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে, নির্দ্বিধায়।হলিউডের মহিলা চিত্রতারকারা তাদের পুরস্কার অনুষ্ঠানের মঞ্চে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে বার্তা ও নারী ঐক্যের উদাহরণ রেখেছেন।নারী দিবসের পক্ষে এই প্রাপ্তী যদিও বিদেশের ভুখন্ডে ঘটেছে,তবু এর প্রেরণা দেশ হতে দেশান্তরে তরঙ্গায়িত হচ্ছে, তাতে সন্দহ নেই। যৌন নির্যাতন তথা ধর্শনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ যে বিফলে যায়না তার পরিচয় রেখেছে এই বহুমাত্রিক ভারতবর্ষও নানা বিচ্ছিন্নতার ব্যাধিকে উপেক্ষা করে।জাতপাত,ধর্ম,সম্প্রদায়, রাজীনীতির নানা কুহেলিকা অগ্রাহ্য করে, নির্ভয়ার ধর্শন কান্ডের পৈশাচিক নির্মমতার বিরুদ্ধে, নির্বিশেষে, নারী পুরুষ আবাল বৃদ্ধ বনিতা খোলা আকাশের নীচে,রাতের নিদ্রা ত্যাগের মহিমায়—লক্ষ মোমবাতির গলনের সাথে নীরবে কপোলে ভরেছে কত হৃদয় উৎসারিত সম-বেদনার জল!এই সারা দেশব্যাপী নীরব প্রতিবাদ,ক্ষোভ,উষ্মা ব্যর্থ যায় নি।অন্তত কিঞ্চিৎ টনক নড়েছে রথী মহারথীদের ও প্রতিপত্তিশালীদের ধুসর চেতনায়।আইনের ধারায় চটজলদি পরিবর্তনের প্রয়াসে তার একটি হদিস লক্ষনীয়!

            প্রসঙ্গত,বলার কথা—নারী দিবসের উদযাপনে ফি-বছর উৎসাহ ব্যঞ্জক সফলতা যদি কিছু

না ঘটে,তবে বুঝতে হবে,আত্মসমীক্ষার প্রয়োজন আছে।আইনের ঢালে তো জীবনে স্বাচ্ছন্দ্য ফিরে আসেনা। সুখ-স্বস্তি-শান্তি রয়ে যায় সুদূর পরাহত!এর কারণ,নারীর জীবনে,সংসারে,সমাজে,এমনকী বিশ্বপটে,কেবল নারীর সংকট একটা বিচ্ছিন্ন বাস্তবতা নয়। অন্য সমূহ সংকটের মধ্যে সম্পর্কিত,অন্যতম সংকট।অন্য সকল সমস্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাবে।আর নারীর সংকট নির্বিঘ্নে,অনায়াসে,অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে যাবে,তা বাস্তব সন্মত বা সত্যের ঘনিষ্ট নয়।যে দেশ,’মহান ভারতবর্ষ’বলে প্রচারিত,যার ’সনাতন ধর্ম’-এর গর্বিত ধ্বজা ওড়ে সতত! যেভাবে ‘গণতন্ত্র’-পূজারীর ঢাক ঢোল বাজে অমিত বিক্রমে—সেই দেশেই,মুক্তমনা—লেখক সাংবাদিক—গৌরী লঙ্কেশ,পানেসর-দাভোলকর-কালবুর্গীকে বেমালুম খুন হতে হয়।এখানে সত্যভাষী,মেধাবী মুক্তমনাদের ঠাঁই নাই,তাই জে এন ইউনিভার্সিটির মেধাবী ছাত্র রোহিত ভেমুলাকে আত্মহত্মা করতে হয়।ধর্মীয় জিগির তুলে,গোরক্ষার নামে-মহম্মদ আখলাখ,জুনেইদ খান,অনায়াসে নিহত হন!যাদের অবদানে নিরলস সাধনায়, আত্মত্যাগের ফলশ্রুতিতে সমাজ ও সভ্যতা গড়ে ওঠে,মানব জগৎ পায় উদ্ভাবনের সুখ আরাম উন্নতি ও সমৃদ্ধি!ঋদ্ধ হয় নিত্য নতুন আলোর দিশায়।তাদের সংকট মোচন হয়নি কোনকালে!এই সংকটে,শুধু কিছু স্বার্থত্যাগ নয়,অমূল্য জীবন ত্যাগ করতে হয়েছে—সক্রেটিস থেকে স্পীনোজা,ব্রুনো,লোরকা,জোয়ান-অব-আর্ক প্রমুখ সমাজ কল্যাণকারী মেধাবী মানব সন্তানদের! যুগ থেকে যুগান্তরে বহমান এই মুক্তমনা সত্যসন্ধানী দার্শনিক কবি সাহিত্যিক তথা সমাজ বিজ্ঞানীদের বেঁচে থাকার সংকট!এঁদের সংকট মোচনের জন্য কোন আইনের রক্ষাকবচ নেই,কোন সংবিধানে এমন সংস্থানের কথা কেউ কোন কালে ভাবেন নাই1এমনকী, জাগ্রত বিবেক-নাগরিক সমাজ লজ্বা বাঁচানোর মোহে হয়ত একটি মিছিলে হেঁটে বা অনায়াস লব্ধ উপায়—একটা সভায় এক’মিনিট মৌনতায় আত্মার শান্তি কামনার ঔদার্য্য পালন করেন!নিরলস ব্যক্তি-স্বার্থ ত্যাগ ও আদর্শ তিতিক্ষায় জীবন উৎসর্গের বিনিময়ে,এই তার পরম প্রাপ্তী!

             এ জগতে নারী পুরুষ সম্মীলিত,সহযোগী ও সম্পর্কিত।একের জীবন অপরের উপর পারস্পারিক নির্ভরশীল এ কথার বিপরীতে, অবস্থান নেওয়ার মত কোন যুক্তি বা তর্ক-বিতর্ক থাকতে পারে, তাতে কখনো সমস্যার সমাধান হবে না।জাগতিক নিয়মে নারী পুরুষের সম্পর্ক-বন্ধন এক অনির্বচনীয় সত্যের আধার!যখন মানুষের কথার জন্য লিপি ভাষা বা সম্যক অঙ্গ ভঙ্গির বোধ,চেতনা কিছুই আয়ত্তে আসেনি।সেই আদি ও অনাদিকাল হতে নারী পুরুষের সহযাত্রা শুরু। সেই গতি পরম্পরায় উন্নতি ও প্রগতির পথে আগুয়ান—এই একবিংশ শতকে এসে, মানুষ মাত্র বুঝতে পারা জরুরী,মানুষের অগুনতি ভেদ বিভেদ

                            (3)

সরিয়ে রেখে।এখনও কেন নারী পুরুষের মাঝে,-এত বৈপরিত্য,বিচ্ছিন্নতা কেন?বিদ্বেষ মনোভাবে আক্রান্ত কেন?এই—‘অমৃতস্য পুত্রঃ পুত্রীঃ’র মন ও জীবন!আজকের কেবল বিজ্ঞান প্রযুক্তির শুদ্ধ সাধনার ফলশ্রুতি তথা অবদানের জন্য নির্বিশেষ,গরীব দুঃখী বিত্তবান—নারী পুরুষের মুঠোয় এসে গেছে জগতের যাবৎ ঘটনা কর্মকান্ড’র চাক্ষুষ ও মনন করার অভাবনীয় সুযোগ!তার সদ-ব্যবহারের জন্য কজন নারী বা পুরুষ মানুষের সম্যক মানসিকতা গড়ে উঠেছে?ফেসবুক এখন প্রায় আবাল বৃদ্ধ বনিতা নারীর কাছে পরম ঈপ্সীত ধন,যেন এ ছাড়া হবে না জীবনযাপন!শুধু হাতের মুঠোয় নয়,কানের ভিতর দিয়ে পশিল মনে প্রাণে!রাস্তা ঘাটে পথের বাঁকে মশগুল, মনের গভীর মগ্নতায় কত যে প্রাণ যায়, সংখ্যাটা কে জানে?বাসে ট্রামে যানে আঙুলের দ্রুত কারুকাজ দেখে চোখের আরাম হয়,তা হয়ত কিছু কম নয়!কানে রয় সদা যেন—কে ডাকে আমায়,জীবনের সুখ দুঃখ আনন্দ মেলায়!এমনও দেখা যায়,অতি উৎসাহী আন্তর্জাতিক নারী দিবসে অধিকার আদায়ের অদম্য নেশায়,…’নারী হাতে তুলে নিয়েছে তরবারি’!কার বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ ঘোষণা?এ তো নারীর রূপসজ্বার চর্চায় কাজে আসে না! ফেসবুকের কল্যাণে অনায়াসে পাওয়া শক্তিশালী মিডিয়ার মোহে হয়ত অবচেতন মনের রাগ ও ক্ষোভ প্রকাশ হয়ে পড়ে এভাবেই।এর প্রতিক্রিয়া যে,কত নেতিমূলক তার প্রতি নেই কোন ভ্রুক্ষেপ।সমান অধিকারে—পুরুষ মননে, চর্চায় যতটুকু সম-মানসিকতায় সংবেদনশীল হয়ে ওঠে,কিন্তু এই মারমুখী মুর্তি অবলোকন করে,ততই দূরে সরে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।তবে আর প্রকৃত শিক্ষার আলো আসবে কবে?হিংসা কি কখনো সমস্যার সমাধান করতে পারে? ইতিহাস কী সাক্ষ্য দেয়?বাস্তব অভিজ্ঞতাই বা কী বলে?কোনও যুদ্ধই,কী মানুষের জীবনে সুখ স্বস্তি ও শান্তি এনে দিতে সক্ষম হয়েছে?এসব সুস্থ চিন্তার অনুশীলন ব্যতিরেকে নারী সমাজের সংকট মোচন,কবে সম্ভব হবে!পৌরানিক কালে মা দুর্গা তরবারি তুলেছিল অসূর নিধনের জন্য।তবে এ যুগের সমুদয় পুরুষ কী অসূর বলে গণ্য হবে!

আবার এই ফেস বুকে সদর্থ চিন্তারও প্রকাশ দেখা যায়, বাস্তব অভিজ্ঞতার নিরীক্ষে,সম্ভবত,

আত্ম সমালোচনার সত্য উন্মোচন, হয়ত সার্বিক পরিবেশ পরিস্থিতির জন্য ঐক্য মিলনের ঈপ্সীত আবেদন। নারী সমাজের এক হিতৈষী বন্ধুর বক্তব্যে—

                          …নারী দিবসের পটভূমিতে…একটা দেশব্যাপী জিগির,ভাষণ,প্রায় উৎসব পালনের মত সব চলবে,তারপর আবার ট্রেন বাসে উঠে লেডিস সিটের খোঁজ করবো,..টিকিট কাটা লাইনে দাঁড়িয়ে মেয়ে হওয়ার সুবিধে নেবো,মিষ্টি হাসিতে অফিসে মেয়ে হওয়ার সুযোগ নিতে ছাড়বো না,দিনের বেলা নারী পুরুষের সমান অধিকার নিয়ে ভাষণ দেবো,অথচ রাতের অন্ধকারে পেজ থ্রী’র আসরে গ্লাসে গ্লাসে হিল্লোল তুলবো।আবার মোটা পণ দিয়ে একটা মোটা বেতনের স্বামীকে করায়ত্ত করবো।তার চেয়ে বরং মানুষের মত বাঁচি!সুবিধা মত কখনো মেয়েদের সুযোগ আদায়,আবার কখনো সমান অধিকার—এই দুই নৌকায় পা দিয়ে চলে না নিশ্চয়ই…..

             এবার ভাবা যাক সমান অধিকার কেমন হওয়ার কথা!আমাদের কতকালের মুণি ঋষি মহাকবির সাধনার ফলে,কাব্য সাহিত্য দর্শন চর্চার পরম্পরায় প্রাপ্তী..অনতিক্রম্য প্রতিভার প্রতিভু রবীন্দ্রনাথকে বিশ্বের সর্বোচ্য বিবেক বলে মানি।তাই মুক্ত মানসের দুয়ার খুলে দেখে নিতে পারি…সর্বকালের সেরা ব্যক্তিত্বময়ী চিত্রাঙ্গদার ঘোষিত উক্তির মধ্যে চির সত্য মঙ্গলময় সম্মাণীয় নিবেদন—

              …”যদি  পার্শ্বে  রাখ  মোরে  সংকটে  সম্পদে, সম্মতি  দাও  যদি  কঠিন  ব্রতে  সহায়  হতে

                               পাবে তবে তুমি চিনিতে মোরে।“....

              শুধুই কী সমান অধিকার অর্জন করাই নারীর পূর্ণতা,প্রাপ্তীর লক্ষ্য সীমা রেখা!তবে এ পর্য্যন্ত এত বিদুষী মহিয়ষীর জন্ম সম্ভব হল কি করে?মৈত্রেয়ী,গার্গী,ক্ষণা,ম্যাদাম ক্যুরী,কল্পনা চাওলা—এঁরা কি পুরুষের মুখাপেক্ষী হয়ে কখনো যাচ্ঞা করেছিলেন,যুগপৎ বাধা নিষেধ মান্য করে?যাজ্ঞবল্ক ঋষি যখন অন্যতর সাধনায় যাত্রার প্রাক্কালে বিদুষী স্ত্রী মৈত্রেয়ীকে সব স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি বুঝে নিতে বললেন,--তার উত্তরে, চিরকালীন স্মরণীয় উক্তিটি আজ এই একবিংশ শতকের দু,দশকপাদে দাঁড়িয়ে—ঐকান্তিক সচেতন উন্নতিকামী



                           (4)

একজন পুরুষ হয়ে বিনম্র শ্রদ্ধাবনত চিত্তে স্মরণ করি…

             “যেনাহং নামৃতা স্যাম কিমহং তেন কুর্যাম”—অর্থাৎ,যা দিয়ে আমার অমৃতত্ব লাভ হবেনা তা দিয়ে আমি কি ক’রব?”

             এখন এই সভ্য সমাজে উন্নতিশীল সভ্যতায় শিক্ষা সংস্কৃতির অপরিমেয় সুযোগ সুবিধার বাতাবরণে থেকেও কারো—মুখাপপেক্ষী মনোভাবে থাকাই কী নারী জীবনের লক্ষ্য,না সম্মানীয়?সেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হোক না যতই বিত্তবান,প্রতিপত্তিশালী!সাকুল্যে,কোন যুগেই শক্তিশ্লাঘা,ক্ষমতার দাপট,রক্ত চক্ষুর শাসানি মনুষ্যত্ব বিকাশের অন্তরায় হতে পারেনি।নারীর ক্ষেত্রে হোক,বা পুরুষের ক্ষেত্রে।বিচ্ছিন্ন করে বিচার বিবেচনা করলেই সমস্যা হয় অকূল অপার!এভাবেই আছে অগুনতি সংকট,জাত-পাত,শ্রেণীভেদ,দারিদ্র-প্রান্তিকতা,এমনকী ক্ষমতায়ণের সংকটও! সর্বাত্মক পটে বলা যায়—সভ্যতার সংকট।নারী—এ বিশ্বে ধরিত্রী রূপে স্বীকৃতা, মনুষ্য জীবনকে ধারণ করার শক্তি নারী ছাড়া আর কারো নেই।তার মূল্য অমূল্য।পঞ্চভূতে মৃত্তিকা যেমন ধারণ করে আছে-আবিশ্ব বস্তু প্রকৃতি ও সমূহ জীবন। জীবন জগতে নারী ধারণ করে মনুষ্য জীবন—বর্তমান থেকে ভবিষ্যত কালের অস্তিত্ব অবধি তার অনিবার্য্য দায় ও দায়িত্ব।পুরুষও তার নির্বিকল্প সহচর—সখা,তার শক্তি সাহস ও কর্মকান্ডের দায়ভার নিয়ে।আইন,সংবিধান,প্রশাসন,এসব নারী-পুরুষের জীবনে অনভিপ্রেত, ব্রাত্য। শুধু পুরুষেও জীবন জগৎ অচল!স্তব্ধ হয়ে যাবে জীবন ও সব।অতএব, তরবারী নয়,যুদ্ধ নয়।ঈপ্সীত কেবল সহমর্মিতা,সখ্যতা ও পারস্পরিক সদর্থ আচরণ।বন্ধুত্ব ও ভালবাসাই জীবনের আসল মূলধন।



           বোধ বুদ্ধি বিদ্যার সম্মিলনে জারিত হয় চেতনার আলো,জীবনের মূর্ত আলো।সূর্যের আলোতে

জাগতিক বস্তুকে দেখ যায়।কিন্তু,বস্তু বিশ্বের অন্তর্গত রূপ ও গুণ দেখার জন্য চাই অর্জিত ঐ মুর্ত আলো।এই আলো আসে শিক্ষার আলোবহ চেতনায়।এই অনন্ত বিশ্বে,মুখাপেক্ষি থাকা ও রাখার মধ্যেই যাবৎ যন্ত্রনা ও সংকটের উৎপত্তি।জাগতিক সত্য চাক্ষুস অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান থেকে জীবনের প্রকৃত পাঠ নেওয়া যায় অনায়াসে। বস্তু বিশ্বে—কীট পতঙ্গ পাখী,এমনকী ক্ষুদ্র পিঁপড়াও কারো উপর নির্ভরশীল নয়, নিজ বুদ্ধি ও ক্ষমতার দ্বারা জীবন ধারণ করে থাকে।নিজেদের সকল কর্মকান্ড সম্পাদন করে,ঐক্য গড়ে,প্রয়োজনে সভা সম্মেলনে ওদের প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। বুদ্ধিজীবী মানুষের নেই কেন এমন নিশ্চিৎ নির্বিরোধী জীবনবোধ! ঐ কীট পতঙ্গ পাখীর মত মুক্ত মানসে,সার্বিক ঐক্য নিয়ে কেন আমরা বাঁচতে পারব না। হিংসা,বিদ্বেষ ও যুদ্ধ ছাড়া!কাঁটাতারের বেড়া ছাড়া!যুদ্ধাস্ত্র গোলা বারুদ এটম বোমা ছাড়া!এক আকাশের নীচে মনুষ্যত্ব বন্ধুত্ব ও ভালবাসার অনিন্দ্য মুক্ত মানসিকতার আত্মিক বন্ধনে!প্রকৃতির মত।মানুষও তো প্রকৃতি হতে উৎসারিত!
 

Share on Facebook
Share on Twitter
Please reload

জনপ্রিয় পোস্ট

I'm busy working on my blog posts. Watch this space!

Please reload

সাম্প্রতিক পোস্ট
Please reload

A N  O N L I N E  M A G A Z I N E 

Copyright © 2016-2019 Bodh. All rights reserved.

For reprint rights contact: bodhmag@gmail.com

Designed, Developed & Maintained by: Debayan Mukherjee

Contact: +91 98046 04998  |  Mail: questforcreation@gmail.com