বিকল্প রাজনীতির চর্চা

বিকল্প রাজনীতি নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে এই কারণেই যে কংগ্রেসের দীর্ঘ শাসন মানুষ দেখেছে এবং মানুষ হতাশ
হয়েছে। সেই হতাশা থেকেই মানুষ দূর্ণীতিহীন সুশাসনের আশায় বিজেপিকে ক্ষমতায় এনেছিল। কিন্তু দুর্নীতিতো বন্ধ
হয়ইনি বরঞ্চ দেশের সামনে এখন ধর্মনিরপেক্ষতা, সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষাই প্রশ্নের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে।
ফলে কংগ্রেস-বিজেপি দুপক্ষই যে সাধারণ ও গরিব মানুষের আশা পূরনে ব্যর্থ, তা আজ এক প্রতিষ্ঠিত সত্য।
সেকারণেই বিকল্প পথের সন্ধান। কিন্তু এর সমাধান খুব সহজলভ্য নয়। দুটি প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক শক্তির
বিরুদ্ধে অন্যকোন বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলা এবং সেই শক্তির পক্ষে মানুষের আস্থা অর্জন, বেশ
কঠিন বিষয়। তবুও সমাজ পরিবর্তনের লক্ষ্যে যথাযোগ্য উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।
সমাধানের ভাবনা :
সংসদীয় গণতন্ত্রের হাজারো ব্যর্থতা সত্বেও এর কোন বিকল্প গ্রহণযোগ্য শাসন ব্যবস্থার হদিস কিন্তু নেই।
সশস্ত্র বিপ্লবের ভাবনা এখন এক অবাস্তব বালখিল্যতা মাত্র। অতএব আমাদের দেশের মানুষকে বিকল্প
রাজনীতির সন্ধান করতে হবে এই সংসদীয় গণতন্ত্রের পথেই। এই ব্যবস্থায় সব কিছুর মতো ভালো-মন্দ দুই
থাকলেও মন্দের প্রভাবই অধিক। সেই কারণেই স্বাধীনতার ৭০ বছর পরেও দারিদ্র, কর্মহীনতা ও অসাম্যের
কুৎসিত চিত্রটা এত প্রকট। কংগ্রেস, বিজেপি বা অন্যান্য বড় কিছু দল মিলে যে দলীয় প্রথা চালু করেছে, তার
বৃহৎ পাঁচিল টপকে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনের কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছানো বেশ কঠিন। এখনই আর একটি
নতুন দল গড়ে সেই কাজটি করা সম্ভব নয়। চাই সাধারণ, সচেতন মানুষের লড়াইয়ের একটি মঞ্চ। চাই নূন্যতম
দাবিকে সামনে রেখে ব্যাপক ঐক্যের এক মঞ্চে গড়ে তোলা। এই মঞ্চে প্রয়োজন যুবা নেতৃত্বের এবং দেশব্যাপী সব
সামাজিক সংগঠনের কর্মী ও নেতৃত্বের। প্রয়োজন গোপালকৃষ্ণ গান্ধী, মেধা পাটকর, এডমিরাল রামদাস সহ
জনমানসে সম্মানিত বহু মানুষের। সবাইকে নিয়ে মঞ্চের উদ্যোগে বহু লড়াই, আন্দোলনের মাধ্যমেই মানুষকে
সচেতন করার সাথে সাথে সংগঠিত করার কাজটিও চালাতে হবে। লড়াইয়ের সাথে সাথে সংসদীয় গনতন্ত্রে অংশ
গ্রহণের কাজটিও শুরু করতে হবে একেবারে নিচুতলা অর্থাৎ গ্রাম পঞ্চায়েত বা পৌর সভার নির্বাচন দিয়ে। এর
মধ্য দিয়েই পরীক্ষা শুরু করতে হবে, সাফল্য পেতে হবে। সবাইকে নিয়ে মঞ্চ গড়া বা ঐক্য রক্ষা করা বেশ কঠিন
এবং চ্যালেঞ্জের কাজ, তবে অসম্ভব নয়। সুষ্ঠভাবে এই কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া গেলেই জয় সম্ভব।
চাই নূন্যতম কর্মসূচি :
দুর্নীতি রুখতে জনলোকপাল বিল কে কার্যকরী করা। নির্বাচনী সংস্কারের লক্ষ্যে স্টেট ফান্ডিং এর মাধ্যমে
নূন্যতম প্রচার কার্য চালিয়েই নির্বাচন সাঙ্গ করা। অর্থ ও পেশি শক্তির আস্ফালনসহ প্রচার বন্ধ করা।
উন্নয়নের সাফল্য নির্ধারণে দারিদ্র দূরীকরণের বার্ষিক নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা স্থির করতে হবে, শুধুমাত্র
জিডিপি নির্ভর নয়। প্রতিরক্ষার ব্যয় কমিয়ে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্ধ বাড়িয়ে হিউম্যান ইনডেক্সের
উন্নতি ঘটাতে হবে। বহু আলোচিত এমনই বেশকিছু জনমুখী কর্মসূচিকে নির্দিষ্ট করেই লড়াই আন্দোলনকে
সংগঠিত করতে হবে।
বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও কর্তব্য:
আমাদের দেশে অশেষ ব্যর্থতা ও বঞ্চনার মধ্যেও যেটুকু ভাল অবশিষ্ট আছে তাও আজ চূড়ান্ত বিপদের সম্মুখীন।
সামনের নির্বাচনে মোদি পুনর্বার জিতলে মোদি তথা বিজেপির মার্গদর্শক আরএসএস এর মূল লক্ষ্য হিন্দু রাষ্ট্র
গঠনের জন্য সংবিধান সংশোধন করে হিন্দি-হিন্দু- হিন্দুস্থানের শ্রেষ্ঠত্ব কায়েম করা এবং ব্রাহ্মণ্যবাদী
উচ্চবর্ণের পুরুষতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে নারী নেহাতই সন্তান উৎপাদনের যন্ত্র মাত্র। অর্থাৎ

গোটা দেশকে এক চরম অন্ধকার বা পেছনের দিকে নিয়ে যাবার প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে পুরোদমে। এই পরিস্থিতির এক
অজানা আশঙ্কায় গোটা দেশ দিন গুনছে। সবমিলিয়ে এই পরিস্থিতি একদিকে যেমন চরম আতঙ্কের আবার তেমনি
এক সুযোগও বটে। অর্থাৎ এই লড়াইয়ে হারলে যেমন সমূহ বিপদ,তেমনই সুযোগের সদব্যবহার করতে পারলে
বর্তমান রাজনৈতিক কানাগলি থেকে মুক্তিলাভও সম্ভব। বিকল্প রাজনৈতিক মঞ্চ এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে
সুচারু রূপে সঠিক ভূমিকা পালনে সফল হলে অনেকটাই অগ্রগতি সম্ভব।
বর্তমান উদ্বেগজনক রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিচারে এখন প্রতিটি রাজনীতি সচেতন মানুষ বা সংগঠনের প্রথম ও
প্রধান কর্তব্য মোদির পরাজয়কে সুনিশ্চিত করা এবং সেই লক্ষ্যে ধর্মনিরপেক্ষতা, সংবিধান ও গনতন্ত্রে
বিশ্বাসী সমস্ত শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে মোদিকে নির্বাচনে মোকাবিলা করা। এবিষয়ে কোনরকম আত্মতুষ্টি
দেশকে সর্বনাশের মুখে ঠেলে দিতে পারে। মনে রাখতে হবে, চরম ধর্মান্ধ শক্তি আরএসএস তাদের দীর্ঘ কাঙ্খিত
লক্ষ্য হিন্দুরাষ্ট্র গঠনের এত কাছে এসে মরণ কামড় না দিয়ে সহজে ছেড়ে দেবে বলে মনে হয়না। ফলে নির্বাচনী
রণকৌশলে কোন রকম ফাঁক রাখা এক অসম্ভব ঝুঁকি হয়ে যেতে পারে। মোদির শাসন থেকে মুক্তিই নিশ্চিত করতে
পারে আগামী দিনের বিকল্প রাজনীতির চর্চা ও প্রসারের সুযোগ।

Share on Facebook
Share on Twitter
Please reload

জনপ্রিয় পোস্ট

I'm busy working on my blog posts. Watch this space!

Please reload

সাম্প্রতিক পোস্ট
Please reload

A N  O N L I N E  M A G A Z I N E 

Copyright © 2016-2019 Bodh. All rights reserved.

For reprint rights contact: bodhmag@gmail.com

Designed, Developed & Maintained by: Debayan Mukherjee

Contact: +91 98046 04998  |  Mail: questforcreation@gmail.com