বিশ্ব বই দিবসে কি বলছেন বুদ্ধিজীবীরা

23.04.2018

সুমন সেনগুপ্ত

 

 ২৩ এপ্রিল বিশ্ব বই দিবস। ইউনেস্কোর উদ্যোগে ১৯৯৫ সাল থেকে প্রতিবছর এই দিবসটি পালন করা হয় ' ওয়র্ল্ড বুক অ্যান্ড কপিরাইট ডে' হিসাবে। বই দিবসের মূল উদ্দেশ্য, সাধারণ মানুষকে বইমুখী করা, বই ছাপানো, বইয়ের কপিরাইট সংরক্ষণ করা এই সব বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো।

বিশ্ব বই দিবসের মূল ভাবনাটি আসে স্পেনের লেখক ভিসেন্ত ক্লাভেল আন্দ্রেসের কাছ থেকে। ১৬১৬ সালের ২৩ এপ্রিল মারা যান স্পেনের আরেক বিখ্যাত লেখক মিগেল দে থের্ভান্তেস। আন্দ্রেস ছিলেন তাঁর ভাবশিষ্য। নিজের প্রিয় লেখককে স্মরণীয় করে রাখতেই ১৯২৩ সালের ২৩ এপ্রিল থেকে আন্দ্রেস স্পেনে পালন করা শুরু করেন বিশ্ব বই দিবস। এরপর দাবি ওঠে প্রতিবছরই দিবসটি পালন করার। অবশ্য তখন সে দাবি বিশেষ গুরুত্ব পায়নি।

অবশেষে ১৯৯৫ সালে ইউনেস্কো এই দিনটিকে বিশ্ব বই দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

 ২৩ এপ্রিল শুধুমাত্র বিশ্ব বই দিবসই নয়, শেক্সপিয়রের জন্ম ও মৃত্যু দিবসও। আর এ কারণেও ২৩ এপ্রিলকে বিশ্ব বই দিবস হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে মনে করেন অনেকেই। 

বিশ্ব বই দিবস নিয়ে কি বলছেন ভাষাবিদ ও সাহিত্যিক পবিত্র সরকার। তাঁর অভিমত, বিশ্ব বই দিবস আসলে কতগুলি প্রশ্ন তুলে ধরে। প্রথমত মানুষ কতটা বই পড়ছে? সব মানুষ কি বই পড়ার উপযুক্ত হয়ে উঠেছে? আমদের ভারতবর্ষেই কুড়ি শতাংশ মানুষ নিরক্ষর। আর যারা সাক্ষর তারাও কি বই পড়ার উপযুক্ত হয়ে উঠছে? বই পড়ার অধিকার যাতে সকলে অর্জন করতে পারে সেই দিকে রাষ্ট্রের দৃষ্টি দেওয়া দরকার। পৃথিবীর সভ্যতা ও সংস্কৃতিতে যে সব বইয়ের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে, সে সব বই যেন সকলে পড়তে পারে তার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। বর্তমানে বিশেষ করে মধ্যবিত্তরা ই-বুকের দিকে ঝুঁকছেন। সে পেপার বুকই হোক কিংবা ই-বুক, যে কোন বই কাম্য। এটা ঠিক পেপার বইয়ের জন্য গাছ কাটা পড়ে। এর ফলে দূষণ বাড়ে। সেক্ষেত্রে ই-বুক ইকো ফ্রেন্ডলি। আর ই-বুক অনেকাংশে পেপার বইয়ের থেকে জীবন্ত। কেননা সেখানে জীবন্ত ছবি দেখা যায়। পৃথিবীর পক্ষে যা ভাল সেই বইয়েরই প্রসার ঘটুক। সবচেয়ে বড় কথা পৃথিবীর সকলের হাতেই বই তুলে দিতে হবে। বই পড়ার অধিকার সকলের। পবিত্র সরকার আরও বলেন, যেদিন পৃথিবীর সকলে বই পড়তে পারবে সেদিনই সার্থক হবে বিশ্ব বই দিবস। সম্প্রতি তিনি কাজি নজরুলের ওপর বাংলাদেশের সাহিত্যিক গোলাম মুরশিদের লেখা বইটি পড়ছেন। 

নবীন সাহিত্যিক বিনোদ ঘোষালের বক্তব্য--কেউ যদি একা হন,তাঁর একমাত্র বন্ধু হতে পারে বই। আর কারও যদি একাধিক বন্ধু থাকে,সেক্ষেত্রে তাঁর শ্রেষ্ট বন্ধু বই। অমৃত্যু তাঁর বন্ধু থাকে বই। দুঃখ-কষ্ট-যন্ত্রণায় ভেঙে পড়লে বই এসে কাঁধে হাত রাখে। অভিমানে বইকে সরিয়ে দিলেও,বই কখনও অভিমান করে না। কাছে এসে দাঁড়ায়। মানুষ দিনকে দিন অসহিষ্ণু হয়ে উঠছে। তার প্রধান কারণ,মানুষ প্রকৃতি ও বই থেকে মুখ সরিয়ে নিচ্ছে। বইকে প্রকৃত বন্ধু করে নিলে,মানুষ বাঁচার রসদ পাবে পাশাপাশি শুভ চেতনার বিকাশ ঘটবে। বিনোদ ঘোষাল আরও জানিয়েছেন,তিনি কাজি নজরুলের ওপর কাজ করছেন। যে কারণে বাংলাদেশের সাহিত্যিক গোলাম মুরশিদের লেখা নজরুলের ওপর বইটি পড়ছেন।

গিল্ডের সম্পাদক ও সাহিত্যিক ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায় বিশ্ব বই দিবস নিয়ে বলেন, এই রাজ্যে গিল্ডের পক্ষ থেকে বিশ্ব বই দিবস উদযাপন করা হয় 1996 সাল থেকে। সে বছর অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ছিলেন সাহিত্যিক অন্নদাশঙ্কর রায়। ত্রিদিববাবু জানান, বিশ্ব বই দিবস আসলে সকলে আরও বেশি বেশি বই পড়বে। বইয়ের প্রতি আগ্রহ আরও বাড়বে। গিল্ড এনিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

Share on Facebook
Share on Twitter
Please reload

জনপ্রিয় পোস্ট

I'm busy working on my blog posts. Watch this space!

Please reload

সাম্প্রতিক পোস্ট
Please reload

A N  O N L I N E  M A G A Z I N E 

Copyright © 2016-2019 Bodh. All rights reserved.

For reprint rights contact: bodhmag@gmail.com

Designed, Developed & Maintained by: Debayan Mukherjee

Contact: +91 98046 04998  |  Mail: questforcreation@gmail.com