শঙ্খ ঘোষ, অনুব্রত এবং উন্নয়ন

সারা দেশ জানে কবি শঙ্খ ঘোষ কবিতা লিখতে জানেন।কিন্তু অনুব্রত জানেন না তিনি কেমন কবি। কিন্তু তিনি
উন্নয়নের মানেটা বোঝেন।উন্নয়ন যে রাস্তায় সেটা তিনি বারবার বলেন, কিন্তু বাংলার মানুষ কি উন্নয়ন চোখে
দেখেন না?
কে এই অনুব্রত? বাংলা চিনল ক্ষমতায় তৃণমূল আসার পর। মারধর, বোমাবাজি,খুন, বুথ লুঠ, সব রকমের
অভিযোগ নিয়ে তিনিই এমহন পঞ্চায়েতের শাসক দলের সেরা মুখ।বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তার জেলার সমস্ত
আসনে শাসক দল জয়ী।কোনো বিরোধী দলের প্রতিনিধি ভোটেই দাঁড়াতে পারে নি। উন্নয়নের মত গণতন্ত্রের
একটা নিজস্ব সংজ্ঞা আছে অনুব্রতর।সমস্যা সেইখানেই। বাংলার মানুষ তা বোঝে না।
এটা ত ঠিকই যে কেন্দ্রীয় যোজনায় সব চেয়ে বেশি একশ দিনের কাজ হয়েছে এই রাজ্যে।সব থেকে বেশি গ্রামীন
রাস্তা তৈরি হয়েছে।অনুব্রত জানেন,তার মানে উন্নয়ন হয়েছে রাস্তায়। কিন্তু এটা জানেন না যে রাস্তার
উন্নয়ন মানে রাজ্যের উন্নয়ন নয়। যেমন তিনি ভোটে জেতার জন্যে কি করে বিরোধীকে মেরে পিটিয়ে নিশ্চিহ্ন
করে ফেলতে হয় সেটা জানেন খুব ভালো,কিন্তু সেটা যে তাঁর প্রিয় দিদির রাজ্যে গণতন্ত্র নেই বলে দেশবাসীর
কাছে প্রতিপন্ন করে সেটা দিদি অনুগত প্রাণ অনুব্রত জানেন না। গায়ের জোরে এখানে অনুব্রতরা বাংলায়
গণতন্ত্রের খুন করছেন জেনে তার নেত্রী দিদি তাকে ত ধমক ও দেন নি,তাহলে কেষ্ট বেচারা কি কিরে বুঝবে
তাঁরাই গণতন্ত্রের মৃত্যুদূত।রাজনীতিতে গণতন্ত্র মানে তারা জানেন ভোট, ভোটে জেতা।তাই বিরোধীকে পিটিয়ে
ভোটে দাঁড়াতে না দিলে যে গণতন্ত্র থাকে না,,এটা বেচারা জানবেই বা কি করে!! এদেশের রাজনীতিকরা ত এর
থেকে বেশি জানেন না, যেমন জানেন না, সেরা পঞ্চায়েত কিংবা সেরা গ্রামোন্নয়ন র পুরস্কার এ রাজ্যের
ঝুলিতে এলেই তাতে সার্বিক উন্নয়ন হয় না। তাই উন্নয়ন হলেও রাজ্য কৃষিতে এগায় না। রাজ্যে শিল্প হয় না।
চাকরি জোটে না বঙ্গ সন্তানের।তাই ত অনুব্রত বলেছেন তো সত্যিই-- উন্নয়ন রাস্তায়।আসলে যে উন্নয়ন
থমকে দাঁড়িয়ে আছে,বেচারা জানবে কি করে?ভাবছে ,উন্নয়ন এবার রাস্তা ধরে কোন দিকে যাবে? বাম দিকে ত
ছিল ৩৪বছর।এবার কি রাস্তা না পেয়ে ডান দিকে হিঁদুর পথে এগোবে?
কেষ্টা জানে,যার যেমন নাম তাঁর তেমনি চলতে হয়।তাই তাঁর মনে হয়েছে, এমন বিশ্রী যে কবি তাঁর উন্নয়নকে
চোখে দেখতে পান না, তাঁর নাম শঙ্খ রাখা ঠিক হয় নি। কবি শঙ্খ নামের প্রতি অপমান করেছেন। কিন্তু নিজের
ক্ষেত্রে কেষ্টা কখনো এই ভুল করেন না। কেষ্টার ভালো নাম,অনুব্রত।মানে, ব্রত একটা আছে, থাকবেও।তবে
সেটা 'অনু'।সবেতেই ছোট।ছোট ব্রত তাঁর, তিনি শুভেন্দুর মতো জেলার বাইরে এসে রাজ্যের হাল ধরতে দিদির হাত
ধরবেন না।তিনি দিদিকে এমনিই জয় দেখাতে পারেন, কিন্তু সেটাকে ব্রত করে তুলতে গিয়ে একেবারে হনুমানের
ডেডিকেশান না দেখিয়ে ছাড়েন না। বিরোধী বংশ ধ্বংস না করে সে জয় তিনি করতে পারেন না।শেষে এই 'অনু'
বুদ্ধির জন্যেই দিদির ও দলের মুখে কালি।ভোটে দিদি হয়ত এমনিই জিতবেন।দল সব জায়গায় জেলা পরিষদ
এবারও হয়ত দখল করবেন।তার জন্যে কোন জেলার কোনো তৃণমূলীর এমন হনু ভক্তি দেখান,এটা দিদিও চান
নি।তার প্রয়োজন ও হয় না।কিন্তু বুদ্ধি যাঁর 'অনু', তার সবেতেই 'হনু' হওয়ার শখ। তিনি বিরোধীদেরএমন পেদান
পেদাইলেন যে পঞ্চায়েতে এবার ভোটটাই গেলো চটকে।এই কেষ্টার ব্রত পালনে তবু বিশ্রামের চিহ্ন নেই।এবার
তিনি একেবারে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। বলেই বসলেন,"শঙ্খ ঘোষ আবার কে? রবীন্দ্রনাথ,নজরুল ত নয়।তাহলে
আবার তিনি কবি হলেন কি করে? আর কবিই বা যদি হবেন, তাহলে তিনি উন্নয়নের মানে বোঝেন না ,এ কবি
কেমন কবি?
শঙ্খ বাবুর দুর্ভাগ্য,তিনি অনুব্রত'র গুড়- জল ত খান নি। তার জেলার বাসিন্দা হলে, অনুব্রত হয়তো লোক
পাঠিয়ে গুড় জলের সাথে বাতাসাও এত দিনে নিশ্চয়ই খাওয়ানোর চেষ্টা করতেন।কপাল ভাল শঙ্খ বাবুর এবং
বাঙালির,কেষ্টা এখনো তাঁর নিজের জেলার বাইরে এসে দাপিয়ে বেড়ানোর ব্রত নেয় নি।তিনি 'অনু' ব্রত নিয়েই
রয়েছেন।এখন হয়ত রাজ্যের বাঙালির গালি খেয়ে ভাবছেন, কি করতে তাঁর এমন 'অনু ' বুদ্ধি নিয়ে কবি মাপতে

এলেন। তাও আবার কবি টার নাম জানা ছিল না তাঁর, কি যেন -- -শঙ্খ।উন্নয়ন নিয়ে,গণতন্ত্র নিয়ে, মানুষের
অধিকার নিয়ে কে বাজায় শঙ্খ? কার এত সাহস?
দিদি নীরব।দেখেন ভক্ত জন। কী বিষম ভাষণ!!

Share on Facebook
Share on Twitter
Please reload

জনপ্রিয় পোস্ট

I'm busy working on my blog posts. Watch this space!

Please reload

সাম্প্রতিক পোস্ট
Please reload

A N  O N L I N E  M A G A Z I N E 

Copyright © 2016-2019 Bodh. All rights reserved.

For reprint rights contact: bodhmag@gmail.com

Designed, Developed & Maintained by: Debayan Mukherjee

Contact: +91 98046 04998  |  Mail: questforcreation@gmail.com