মৃত্যুর মিছিলের পেছনে টাকার হাতছানি

হিংসা। হিংসা। হিংসা। পঞ্চায়েত ভোটে হিংসার দাপট। ভোট যে শান্তিপূর্ণভাবে হবে না সেই আশংকাই প্রকাশ করেছিল বিরোধীদলগুলি।  এ নিয়ে তাঁরা আদালতে দরবার করেছিল বিরোধীদলগুলি। আদালত শান্তিতে  ভোট করার দায়িত্ব পালনের কথা রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে মনে করিয়ে দিয়েছিল। ভোটে হিংসাত্মক ঘটনা ঘটলে এরজন্য দায়ী আধিকারিকে অর্থদণ্ডের নির্দেশও দিয়েছে আদালত। কিন্তু কাকস্য পরিবেদনা। আদালতের নির্দেশ সত্ত্বে নির্বাচন ঘিরে হিংসা অব্যাহত। এখনও পর্যন্ত হিংসার বলি 6। গোটা রাজ্য জুড়েই দেখা গেল হিংসার ছবি। ব্যালট ছিনতাই, মুড়ি মুড়কির মতো বোমা বাজি। অস্ত্র নিয়ে দাপাদাপি । বিরোধীদলের কর্মীকে চড় রাজ্যের শাসকদলের মন্ত্রীর। সবই চলছে অবাধে। প্রকৃত অর্থেই ভোটযুদ্ধ। এখন প্রশ্ন এই রাজ্যে ভোট কি নিয়ন্ত্রিত হবে দুষ্কৃতী দ্বারা। এবার ভোটে অন্য ধরণের একটি ঘটনা ঘটেছে। বুথ দখল করতে এসে গ্রামবাসীদের প্রতিরোধের মুখে পড়ে পালাতে গিয়ে গণপিটুনিতে মৃত্যু হলো এক এমএ পড়ুয়ার। তরতাজা ওই যুবক এমএ প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিল। শান্তিপুরের এই মৃত যুবক তৃণমূল কর্মী। তাঁর নাম সঞ্জিত প্রামাণিক(৩0)। চাকরির লোভে একজন ছাত্র ভোটকালীন অরাজকতায় যেভাবে প্রাণ হারাল তা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং লজ্জার। এবার ভোটে আরও একটি নতুন ছবি দেখা গেল। নির্দলরাও আক্রমণ করেছে শাসকদলের কর্মীদের। নির্দলরাও আক্রান্ত হচ্ছেন। যেখানে যার ক্ষমতা তা প্রয়োগে কেউ পিছিয়ে আসছে না। নির্দলের অনেকেই শাসকদলের ছত্রছায়ায় রয়েছে। কোন দলের হয়ে না দাঁড়িয়েও নির্দলরা সন্ত্রাস করার সাহস ও জোর পাচ্ছে কোথা থেকে। শাসকদলের যে সমস্ত বিক্ষুব্ধ ভোটে দাঁড়িয়েছেন তাঁরা জানেন জিততে পারলেই কেল্লা ফতে। শাসকদল তাঁদের জামাই আদর করবে। তাঁরা ক্ষমতায় চলে আসবেন। হিংসার চাবিকাঠি এখানেই। ফলে জিততে মরিয়া সকলেই। বর্তমানে এক একটা পঞ্চায়েতে বছরে প্রায় সাত কোটি টাকা আসে। এর থেকে কুড়ি শতাংশ যদি কাটমানি হয়। তা হলে সেই পরিমাণও কম নয়। তা প্রায় দেড় কোটি টাকার মতো। এই টাকা পকেটস্থ করার জন্য পঞ্চায়েতের সদস্য হওয়া দরকার। টাকার দখল রাখার জন্য মরিয়া সকলে। তার জন্য বোমাবাজি ও খুন করতে তাঁরা পিছপা হচ্ছেন না।

প্রায় সাড়ে ন'কোটি মানুষের বাস এই রাজ্যে। যার প্রায় এক কোটি প্রান্তিক মানুষ। অর্দ্ধাহার ও অনাহার যাদের নিত্যসঙ্গী। এরমাঝে আছেন যারা কোন রকমে বেঁচে আছেন। আর এককোটির মতো মানুষ যারা আর্থিকভাবে সচ্ছল। আর এরাই নিয়ন্ত্রণ করে বাকিদের। যে কারণে বেকার সঞ্জিত প্রামাণিকের প্রাণ যায় বেঘরে। তিনি শাসকদলের কর্মী হয়েছেন চাকরির আশায়। উন্নয়ন মানে শুধু ঝকঝকে রাস্তা, চকচকে আলো, দুটাকার চাল আর বিনা পয়সায় সাইকেল নয়। চাকরি না পাও শাসকদলের নেতাদের তাবেদার হও। চুইয়ে পড়া বেআইনি টাকার কিছু ভাগ তো পাবে। আসলে সবদলই এই মৃত্যু খেলায় যুক্ত।

Share on Facebook
Share on Twitter
Please reload

জনপ্রিয় পোস্ট

I'm busy working on my blog posts. Watch this space!

Please reload

সাম্প্রতিক পোস্ট
Please reload

A N  O N L I N E  M A G A Z I N E 

Copyright © 2016-2019 Bodh. All rights reserved.

For reprint rights contact: bodhmag@gmail.com

Designed, Developed & Maintained by: Debayan Mukherjee

Contact: +91 98046 04998  |  Mail: questforcreation@gmail.com