প্রসঙ্গ পঞ্চায়েত নির্বাচন

   

 

   ভোটের সময় কারুর ইচ্ছেটা যদি এমন হয় যে দেশটা জোর করে বিরোধীশূন্য হবে, তাহলে আর গণতন্ত্র বলে কিছু থাকে না। কথাটা বলতে হচ্ছে এখানে এইকারণে যে পশ্চিমবঙ্গে এই প্রথম ৩৪% আসনে বিরোধীরা মনোনয়ন জমা দিতে পারেনি। ফলে ভোটের আগেই জিতে বসে আছে শাসকপক্ষ। জনগণের মধ্যে থেকে এমনই প্রশ্ন উঠেছে আদৌ কি এটা ভোট? কারণ, মূল বিবেচ্য এইটাই --  নির্বাচনটা হচ্ছে জোর করে, না সকল পক্ষের সমানভাবে অংশগ্রহণের মধ্যে দিয়ে। 
  পঞ্চায়েত নির্বাচন যেভাবে হল, তাতে একে আদৌ নির্বাচন বলা যাবে কিনা, প্রশ্নটা সেখানেই। এরকম আরও অনেক প্রশ্ন নিয়ে শেষ হল ‘এই গণতান্ত্রিক নির্ঘণ্ট’। তবে অনেকগুলো প্রশ্ন যোগ করলে জনমানসে একটা প্রচ্ছন্ন উত্তর উঠে আসে। মানুষ  সব দেখতে দেখতে, শুনতে শুনতেই বুঝে নেয়। কিসে কী হচ্ছে, কেন হচ্ছে, আর কী হতে চলেছে।  শেষ কথা মানুষই বলে। গণতন্ত্রে এটাই ঐতিহাসিক সত্য। 
   ভোট হলেই পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক খুন, হানাহানি, অগ্নিসংযোগ, লুঠ হবে এটাও পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাঙালিও মেনে নিয়ে এভাবেই তাদের রাজনৈতিক  অতীত বর্তমান ভবিষ্যৎকে সংস্কৃতি বলে ভেবে নিয়েছে। ১৮-র পঞ্চায়েতে তাই কম মরেছে, এরকম একটা বিবৃতি দিয়ে সরকারপক্ষ একটা নিশ্চিন্ত প্রশাসনিক কৃতিত্ব দাবি করতে পারে। তারপর, কিছু  টাকাপয়সা মৃতদের উদ্দেশ্যে দান খয়রাতি করে পরিবারদের সান্ত্বনা দেবার মতো   পদক্ষেপ নিয়ে আত্মপ্রসাদ লাভ করতে পারে। জনগণের করের টাকায় জনগণ খুন হবার পর জনগণকেই দান খয়রাত করে আবার জনগণের কাছে আবার ভোট চাইতে যাবার দৃষ্টান্ত এভাবে এমন গণতন্ত্রেই সম্ভব! একে সরকারপক্ষের সমর্থকরা   সরকারের মহানুভবতা বলে প্রচার করে আগামী নির্বাচনে   এগিয়ে থাকার চেষ্টা করতে পারে। এই বাংলার  এহেন রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন কবে হবে কে জানে? 
    ব্যাপারটা যেন এমন ধরেই নেওয়া হচ্ছে যে ভোট হলে দু’দশটা লাশ পড়বেই। এমনকি সেটা শাসক দলের হোক কিংবা বিরোধী দলের। তা নিয়ে হাহুতাশ করার করার যেন কিছু নেই। ভাবতে ইচ্ছে করে, কারুর ইচ্ছেটা যদি লাশ ফেলার হয় তাহলে ক্ষমতায় থেকে ছেলেগুলোর মৃত্যু দেখাটা কি প্রশাসনের কাজ? তাহলে প্রতিরোধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হলো না, মরার পরেও নেতারা ও কেউ তাদের বাড়ি গিয়ে পৌঁছচ্ছেন না, কেন? 
   রাজনীতিতে কল্পনা চলে না, তাই একটা ছোটলোক বড়লোকের রাজনীতি  বা গেরুয়া সন্ত্রাস কিংবা  উন্নয়নের তত্ব খাঁড়া করে বাস্তবকে দেখলে  সত্যকে আড়াল করা হয়।।সমস্যা হলো,এখন আর এলাকা দখলের জন্যে কোনো বিরোধীকে ফাঁসাবার দরকার হয় না।কারণ,বিরোধী মনোনয়ন পর্বেই মার খেয়ে মুখ লুকিয়েছে।দেখুন,রাজ্যে তৃতীয় বৃহত্তম আসন জয় করেছে নির্দলরা।কারা এরা?এরাই মেরেছে অফিসিয়াল তৃন দের।কারণ এরাই এখন টিকিট না পেয়ে বিরোধী কিন্তু আসলে তৃন। কল্কে না পেয়ে নির্দল হয়ে লড়াই করছে নিজেরই দলের সঙ্গে।দিদি জানে, গেরুয়া রুখতে আগামী বছরেই এদের সবাইকে লাগবে লোকসভা ভোটে।তাই মার খাচ্ছে যারা তাদের হয়েও কোনো কথা নেই, মারছে যারা তাদের ধরার জন্যেও কোনো নির্দেশ নেই।যা চলছে চলুক।বিরোধী শূণ্য গণতন্ত্রে এটাই হয়। সেখানে, যা কিছু লড়াই সবটাই ক্ষমতার জন্য-উন্নয়নের নামে রাজনৈতিক বাঁটোয়ারার জন্য। তাতে লড়াইটা যদি  দলের মধ্যেই করতে হয়, সেটাতেও স্বাগত। বিরোধী না থাকলেও যে সেটাই হয়, তা এবারের নির্বাচনে দেখা গেল। কোনো দরবারি তত্ত্বে  বাস্তবের এই রাজনীতি বোঝা  যাবে না। এতে উন্নয়ন-কল্যাণ কোনোটাই হয় না, আসলে রাজনীতিটাই ভুল পথে চলছে।

 

 


 

Share on Facebook
Share on Twitter
Please reload

জনপ্রিয় পোস্ট

I'm busy working on my blog posts. Watch this space!

Please reload

সাম্প্রতিক পোস্ট
Please reload

A N  O N L I N E  M A G A Z I N E 

Copyright © 2016-2019 Bodh. All rights reserved.

For reprint rights contact: bodhmag@gmail.com

Designed, Developed & Maintained by: Debayan Mukherjee

Contact: +91 98046 04998  |  Mail: questforcreation@gmail.com