লেখকদের খেয়াল

 

 

“জিনিয়াস” কথাটার ভাষান্তরে যদি বলি প্রতিভাধর, তাহলে মানতেই হয় প্রতিভা মাত্রেই খেয়ালী l পৃথিবীর বিখ্যাত সব প্রতিভাধর শিল্পী সাহিত্যিক, এমন কি বিজ্ঞানীরাও খেয়ালীপনার চূড়ান্ত পরিচয় দিয়েছেন l আপন আপন সৃষ্টির ক্ষেত্রে তাঁরা যত সিরিয়াস হন না কেন, বাস্তব জীবনচর্যায় ছিলেন একেবারে বেহিসেবি l হিসেব করে সমাজের আর পাঁচজন মানুষের মত বাস্তবানুগ কাজ করা তাঁদের স্বভাববিরুদ্ধ l তাই প্রতিভাধর ব্যক্তির শিরোপাই হল, হয় পাগল, না হলে ছেলেমানুষ l

যেমন ধরুন, একজন বিশ্ববিশ্রুত বিজ্ঞানী জলে ঘড়ি রেখে  হাতে ডিম নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন l আমরা তো ভাবব পাগল l  কিন্তু আমরা কি ভেবেছি, কী একাগ্র ধীমানতায় তিনি হয়তো কোন জটিল সমস্যার সমাধান খুঁজছিলেন যার প্রেক্ষিতে ওই মুহূর্তের বাস্তবতাকে সম্পূর্ণ বিস্মৃত হয়েছিলেন l

আর একটা উদাহারণ দিই l মনে করুন কোন চিত্রশিল্পী এক নির্জন ফসলহীন মাঠের মাঝে দাঁড়িয়ে নিজের কান নিজে কাটলেন l তারপর সেই রক্তাপ্লুত যন্ত্রণাবিকৃত আপন মুখচ্ছবি ক্যানভাসে চিত্রিত করলেন l আমরা তো ভাবব পাগলামির চূড়ান্ত l সেই সাথে সাথে এটাও ভুললে চলবে না, কী অসম্ভব মানসিক যন্ত্রণা আর প্রেমহীন হতাশা থেকে সেদিন শিল্পী ভ্যান গঁঘ ওই কাজটি করেছিলেন l

বিশ্বের সর্বত্র শিল্পী, সাহিত্যিক ও বিজ্ঞানীদের মধ্যে খেয়ালীপনা থাকলেও এ ব্যাপারে প্রবাদ হয়ে আছে প্যারিস l সারারাত ওখানকার কাফেগুলো বন্ধ হয় না, সর্বত্র আড্ডা আলোচনা l কোন না কোন আন্দোলনের ঢেউ প্যারিসের জনপথ প্রতিদিনই আলোড়িত করে l তাই অনেককেই বলতে শোনা যায়, প্যারি হল পাগল আর প্রতিভার জন্মস্থান l

কিন্তু আমরা আজ আলোচনা সীমাবদ্ধ রাখব কেবল মাত্র লেখকদের খামখেয়ালীপনায় l

 

বিশ্বের সমস্ত দেশে সর্বকালে লেখকদের খেয়ালীপনার পরিচয় আমরা পাই l বিশ্বখ্যাত নোবেলজয়ী লেখক থেকে শুরু করে স্বল্পখ্যাত, এমন কি অখ্যাতদেরও বোধ হয় খেয়ালের অন্ত নেই l কেমন সে খেয়াল?

 

মনে করুন একজন লেখক, তিনি পুরুষ l সারাদিন বসে লেখেন l কিন্তু যেই সন্ধ্যে হয়, মহিলাদের মত আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে পরিপাটি করে সাজেন l স্নো পাউডার কাজল রুজ—সবই ব্যবহার হয় l তারপর গায়ে দামি আতর ছড়িয়ে নৈশ বিহারে বেরিয়ে পড়েন l ইনি এক  জন পৃথিবীখ্যাত ঔপন্যাসিক ও ছোটগল্পকার l

আবার দেখুন একজন নোবেলজয়ী কবি, তিনি প্রতি মাসেই প্রায় ঘর পালটাচ্ছেন l এ মাসে পাকা দালানে থাকছেন তো পরের মাসে চলে গেলেন মাটির বাড়িতে l সে মাস কাটতে না কাটতে মনে হল, এখানে আলোর বড় অভাব l অতএব তৈরি হল কাঁচঘেরা এক বিশাল বাড়ি l কবি উঠে গেলেন সেখানে l আর শুধু উঠে গেলে  তো হবে না, এই সব বিচিত্র বাড়ির বিচিত্র নাম তো চাই l তাই হয়ে গেল উদিচি থেকে উদয়ন, শ্যামলী থেকে বিচিত্রা l

যে দু’জন লেখকের খেয়ালের  কথা বললাম, একজন গী দ্য মোপাসাঁ আর অন্যজন আমাদের রবীন্দ্রনাথ l

 

একজন বয়সে তরুণ ইংরেজ কবি, তাঁর প্রায়ই মনে হত পাখি যদি উড়তে পারে তিনি কেন পারবেন না ! যেমন ভাবা তেমন কাজ l দোতলার বারান্দা থেকে একদিন পাখি হয়ে গেলেন l  মানুষ-কবি কল্পনায় যত পাখি হন না কেন, বাস্তবে তো আর পারবেন না l তাই ঘাড়মুখ গুঁজে পড়লেন বাগানের ঝোপের মধ্যে l হাতের হাড় ভেঙে সে যাত্রায় প্রাণে বেঁচে গেলেন l এ রকমই খেয়ালী ছিলেন জন কীটস্ l

আর এক কবি ওয়ার্ডস ওয়ার্থ রোজ বিকেলে তাঁর পোষা কুকুরগুলোকে নিয়ে বেড়াতে বের হতেন l একটু ফাঁকা কোন জায়গা পেলে দাঁড়িয়ে পড়তেন l নিজের সেদিনের লেখা কবিতা জোরে জোরে আবৃত্তি করতেন l কুকুরগুলো চুপচাপ কানখাড়া করে শুনলে, উনি বুঝে যেতেন কবিতা ঠিক আছে l আর যখন কুকুরগুলো ঘেউ ঘেউ করে আওয়াজ দিত, তখন উনি বুঝতেন এ কবিতাটা  ঠিক হয় নি l ছন্দ বা শব্দচয়নে গোলমাল হয়েছে কোথাও l বাড়ি ফিরে আবার সংশোধন করতেন l তারপর বন্ধুদের সামনে পড়তেন বা পত্রিকায় ছাপতে দিতেন l কিন্তু, আপনারা কেউ শুনেছেন এমন সব সাহিত্যরসিক সারমেয়দের কথা?

 

ছোটবেলায় যাঁর অ্যাডভেঞ্চার পড়ে আমাদের বুক কাঁপত l আর একটুৃ বড় হয়ে যাঁর “টয়লার্স অব দ্য সী” পড়েছি, সেই লেখক ভিক্টর হুগোর এক বিচিত্র খেয়াল ছিল l সমুদ্রে যখন ঝড় উঠত, বাতাস অস্থির, অবিরল ধারায় বৃষ্টি ঝরত, সেই ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে একা নৌকো নিয়ে উত্তাল সমুদ্রে অদৃশ্য হয়ে যেতেন l তাঁর লেখার মত তাঁর খেয়াল ছিল এমনই বুক কাঁপানো ! যা স্বাভাবিক মানুষের কাছে মনে হত পাগলামি l নিছক মৃত্যুকে ডেকে আনা l সত্যি সত্যি সেই পাগল লেখক খেয়ালের বশে ওই রকম এক দুর্যোগপূর্ণ রাতে অস্থির সমুদ্রের বুকে নৌকাবিহারে বেরিয়েছিলেন, আর কোনদিন ফিরে আসেন নি l

“ওল্ড ম্যান এন্ড দ্য সী” বইটির নাম তো আপনারা সবাই জানেন l তার লেখক আর্নেস্ট হেমিংওয়ের শখ ছিল শিকার করা l আর শুধু শিকার করলেই তো হবে না, তার স্মৃতি-চিহ্ন তো রাখতে হবে l তাই শিকার করা পশুর দেহাংশ শোভা পেত তাঁর ড্রয়িং রুমে, লেখার ঘরে, দোতলায় ওঠার সিঁড়িতে, এমন কি বেডরুম পর্যন্ত l তাঁর এই বিচিত্র খেয়ালের জন্য বন্ধু প্রতিবেশি, এমন কি আত্মজনেরা পর্যন্ত বাড়ি আসা বন্ধ করে দিয়েছিল মৃত পশুর চামড়ার পচা দুর্গন্ধের ঠেলায় l

 

মৃত্যু সম্পর্কে তাঁর এক অদ্ভুত মিস্টিক অনুভূতি ছিল l সব সময় ভাবতেন মরতে কেমন লাগে ? যদিও বহুবার মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছিলেন সৈন্যবাহিনীতে কাজ করার সুবাদে l অনেক গুলির দাগ তাঁর শরীর জুড়ে ছিল l কিন্তু শেষ জীবনে মৃত্যুকে নিয়ে তাঁর কৌতূহল এতটাই  বৃদ্ধি পেয়েছিল যে, শেষে একদিন নিজেই নিজের মাথায় গুলি করে বসলেন l মৃত্যু কেমন তা কিন্তু আর বলে যেতে পারলেন না l

 

আপনারা সকলে বোধহয় চিনবেন না l ওমর খৈয়ামের প্রথম বাংলা অনুবাদক কার্তিক ঘোষকে l অমর খৈয়াম অনুবাদ করতে গেলে তো খৈয়ামী মেজাজ চাই l চাই সুরা আর সাকী lসচ্ছল গৃহস্ত জীবন ছেড়ে বেছে নিলেন এক অস্বাভাবিক খেয়ালী জীবন l গঙ্গার পাড়ে এক ভগ্ন প্রাসাদতুল্য অট্টালিকায় গিয়ে উঠলেন l সারারাত ধরে মদ্যপান, বাঈজী নাচ আর অনুবাদের কাজ একসাথে চলল l  আমরা পেলাম অমর সাহিত্যের অবিস্মরণীয় এক অনুবাদ l কিন্তু তার পেছনে অনুবাদকের খেয়ালটা দেখুন !

 

এমনই উদ্দাম প্রতিভাধর আর এক দামাল কবি হলেন কাজী নজরুল ইসলাম l তাঁর খেয়ালের অন্ত ছিল না l নজরুলের একটা বিশেষ খেয়াল ছিল, ওঁনার মনে কোন আনন্দ বা উল্লাস জাগলে তিনি চিৎকার করে উঠতেন, “দে গরুর গা ধুইয়ে” l ধূমকেতুর কবিকে দেখতে চেয়েছেন রবীন্দ্রনাথ l একদিন সকালে নজরুল গেলেন ঠাকুর বাড়িতে l আঙিনায় ঢুকতে ঢুকতে ডাকলেন, কবি কবি ! কবি বারান্দায় বেরিয়ে এলেন l আর নজরুল রবীন্দ্রনাথকে দেখেই চিৎকার শুরু করলেন— দে গরুর গা ধুইয়ে ! কবি মুহূর্তে বুঝে গেলেন এ সেই ধূমকেতুর দামাল কবি l সস্নেহে দু’হাত বাড়িয়ে দিলেন l নজরুল ধরা দিলেন কবির বাহুবন্ধনে l

একবার কল্লোল পত্রিকার অফিসে গেছেন নজরুল l সেখানে আড্ডা দিতে দিতে  অনেক রাত হয়ে গেল l এক সময় অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত বললেন, চলুন, বাসায় পৌঁছে দিয়ে আসি আপনাকে l কথা মত দু’জন গল্প করতে করতে নজরুলের বাসার কাছে চলে এলেন l  সেখানে এলে নজরুল বললেন, চল অচিন্ত্য, তোমাকে একটু এগিয়ে দিয়ে আসি l

আবার হাঁটতে হাঁটতে কথা বলতে বলতে অচিন্ত্যর বাসার কাছে l এবার অচিন্ত্য সেনগুপ্ত বললেন, এত রাত হয়ে গেল, আপনি একা যাবেন কবি? আপনাকে শেষ বারের মত এগিয়ে দিই l যথারীতি নজরুলও ছাড়লেন না, অচিন্ত্য, তুমিও বা একা কিভাবে যাবে? পরস্পরকে একটু এগিয়ে দিতে দিতে সেদিন আর কারও বাড়ি ফেরা হল না l বলুন তো কী পাগলামি ! আমাদের সাধারণ বুদ্ধিতে এর কী ব্যাখ্যা মেলে?

 

বাংলার দরদী কথাকার শরৎচন্দ্রের দরদী মনের পরিচয় তো সবাই জানে l কিন্তু তাঁর এই দরদ শুধু অসহায় নারীদের প্রতি ছিল না, রাস্তার কুকুরদের প্রতিও ছিল l রাস্তার যত নেড়ি কুকুর পেতেন সব এনে বাড়িতে আশ্রয় দিতেন l ঠিক যেমন পিঁপড়ে ফড়িং আর শালিক পাখি পোষার খেয়াল ছিল শৈশবে শিবনাথ শাস্ত্রীর l

শরৎচন্দ্রের আর এক অদ্ভুত খেয়াল ছিল l বাড়িতে তো বটেই বাইরে কোথাও সভা সমিতিতে গেলে সব সময় সঙ্গে একটা মোটা মুগুর জাতীয় জিনিস নিতেন l গাড়িতে বা সভাতে যেখানে বসতেন হাতের নাগালের মধ্যেই রাখতেন l একবার এক লেখক সাহস করে জানতে চেয়েছিলেন, সঙ্গে মুগুর কেন?

সহাস্য শরৎচন্দ্র যা উত্তর দিয়েছিলেন, তার সারমর্ম হল : ওঁনার মধ্যে সব সময় একটা অজানা ভয় কাজ করত l ভাবতেন, কেউ বোধহয় অকস্মাৎ আক্রমণ করবে l তাই আত্মরক্ষার জন্য ওই মুগুর রাখা l

 

পৃথিবীতে অনেক ভালো ভালো খাবার আছে l তাছাড়া চায়ের সঙ্গে নোনতা বিস্কুট, চানাচুর বা ওই জাতীয় খাবার তো খাওয়া যায় l  কিন্তু শুনেছেন কি জিলিপি সহযোগে চা? হ্যাঁ, রোজ সকালে জিলিপি সহযোগে চা খাওয়ার অদ্ভুত খেয়াল ছিল হাসির রাজা শিবরাম চক্রবর্তীর l সচ্ছল জীবনের স্বপ্ন অনেকেই দেখেন l নিজের বাড়ি গাড়ি, একটু ভালো থাকা খাওয়া, স্ত্রী-পুত্র পরিজন নিয়ে জমজমাট সংসার l শিবরাম চক্রবর্তীর এমনই খেয়াল, পারেন নি তিনি ওই জীবনকে আঁকড়ে ধরতে lখ্যাতির উত্তুঙ্গ চূড়ায় উঠেও তাঁকে কেউ মুক্তারাম বাবু স্ট্রিটের মেসবাড়ির সেই পুরনো তক্তপোষ থেকে নামাতে পারে নি l আমৃত্যু তিনি সেখানেই কাটিয়ে গেছেন l

 

রুশ সাহিত্যের এক কিংবদন্তী কবি স্বপ্নের পুরুষ  মায়াকোভস্কির ( ভ্লাদিমির মায়াকোভস্কি ) খেয়াল ছিল লাল কালিতে লেখা l তাই তাঁর কবিতাকে বলা হত লাল কবিতা l প্রেমের কবিতার জন্য তিনি পৃথিবী বিখ্যাত l কবি আত্মহত্যা করেছিলেন l আর আত্মহননের ঠিক আগে যে শেষ কবিতাটা লিখেছিলেন, সে কালির রঙও ছিল লাল l তবে তা নিজের রক্তের রঙ l হাতের শিরা কেটে সেই রক্তে কলম ডুবিয়ে লিখেছিলেন শেষতম স্বগতোক্তি !

 

আলোচনার শুরুতে রবীন্দ্রনাথের এক বিচিত্র খেয়ালের কথা বলেছি l শুধু বাড়ি বদল নয়, আরও কত বিচিত্র খেয়াল ছিল তাঁর সেকথা জানলে অবাক হতে হয় l

এক বার এক কবিরাজ শান্তিনিকেতন এলেন l পরামর্শ দিলেন, রোজ সকালে নিমের রস খাবেন একগ্লাস করে l পরামর্শ মত চলল বড় বড় গ্লাসে নিমের রস খাওয়া l কিছুদিন পর এক ডাক্তার কবির কাছে এলেন l কবি শরীরে বল পাচ্ছেন না শুনে পরামর্শ দিলেন, রোজ ডিম খান অনেকগুলো করে l শুরু হল সব ছেড়ে শুধু ডিম খাওয়া l এই না শুনে আর এক বিখ্যাত মানুষ বললেন, ওসব ছাড়ুন l আমিষে শরীর মন দুই-ই ক্ষতি হয়, শরীরে সঠিক পুষ্টি জোগায় নিরামিষ l এতে বায়ু কূপিত হয় না, শরীরে আনে এক নির্মল প্রশান্তি l

কবিও তা শুনে সব ছেড়ে অবার নিরামিষ খেতে শুরু করলেন l

একবার ভাবলেন, ভেষজ তেল, নারকেল তেল, সরিষা তেল সবেতেই যখন লুচি ভাজা যায় তাহলে কেরোসিন তেলে ভাজা যাবে না কেন? যেমন খেয়াল তেমনই কাজ l এল কেরোসিন তেলের টিন l ভাজা শুরু হল লুচি l খেতে যাই হোক, পুরো বাড়ি যে গন্ধে ভরে যাচ্ছে, টেকা দায় l তাড়াতাড়ি বন্ধ করা হল কেরোসিনে লুচি ভাজা !

 

এবার এক বিমগ্ন কবির কিছু আন্তরিক খেয়ালের কথা বলে এ লেখার ইতি টানব l তিনি হলেন রবীন্দ্র পরবর্তী যুগের সবচাইতে বেশি পঠিত, সব চাইতে জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী কবি জীবনানন্দ দাশ l “যূথচারী আঁধারের গাঢ় নিরুদ্দেশে” সে কবি একা একা হেঁটেছেন, কখনও ঘুমের মধ্যে, কখনও বা স্বপ্নে l তাঁর কবিতার মত কবিও এক বিচিত্র খেয়ালে শিশিরে ভেজা ঘাসে পা ডুবিয়েছেন বার বার l সরীসৃপ শীতল অন্ধকারে হেঁটে গেছেন পার্কে ঘাসে, ট্রাম লাইনের বুকে l কবিজায়া লাবণ্যদেবী রাতে মাঝে মাঝে ঘুম ভেঙে গেলে দেখতেন, কবি পাশে নেই l কী করতেন তখন কবি? কোথায় যেতেন?  কবি বন্ধুদের লেখায় জানতে পারি, কবি ঘর ছেড়ে অন্ধকারে একা পার্কের বেঞ্চে গিয়ে বসে থাকতেন l কখনও বা ঘাসে পড়ে থাকা শুকনো ডাল তুলে নিয়ে অন্ধকারে গাছের দিকে ছুঁড়ে দিতেন l বন্ধুরা জিজ্ঞেস করলে বলতেন, গাছের ডাল দিয়ে গাছকে মারি কেন জানো? যেমন নিজের হাত নিজের গায়ে লাগলে আমাদের ঘুম ভাঙে না, তেমনই গাছের ডাল দিয়ে গাছকে মারলে গাছের ঘুম ভাঙে না l অথচ গাছে আশ্রয়কারী যে পাখিগুলো তারা জেগে উঠবে ! আর সেই এক সমুদ্র অন্ধকারের বুকে তাদের কিচির মিচির শব্দ আমাকে আরও এক গভীরতর অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাবে l “অনন্ত নক্ষত্র-বীথি তুমি অন্ধকারে !” বলুন তো, এ খেয়ালের কোন অনুভব কি আমাদের চেতনায় জাগাতে পারব? আর এই খেয়ালই তাঁকে চিনিয়ে দেয়, তিনি জীবনানন্দ দাশ l

Share on Facebook
Share on Twitter
Please reload

জনপ্রিয় পোস্ট

I'm busy working on my blog posts. Watch this space!

Please reload

সাম্প্রতিক পোস্ট
Please reload

A N  O N L I N E  M A G A Z I N E 

Copyright © 2016-2019 Bodh. All rights reserved.

For reprint rights contact: bodhmag@gmail.com

Designed, Developed & Maintained by: Debayan Mukherjee

Contact: +91 98046 04998  |  Mail: questforcreation@gmail.com