যা হয় সব ভালোর জন্যই হয়

শুরুতেই বলি চুম্বন, আলিঙ্গন আর যৌনতা এক নয়। প্রকাশ্য চুম্বন বা আলিঙ্গন, কতটা ভুল তা দীর্ঘ বিচার্য বিষয় কিন্তু দুটো ছেলেমেয়েকে চুম্বন বা আলিঙ্গন করার জন্য গনপিটুনি খেতে হলে আওয়াজ ওঠা সময়ের অপেক্ষা। 

এখানে দ্বন্দ্ব দুই ভাবনার। একদিকে প্রাচীন ভারতীয় সামাজিক সংস্কৃতি, অপরদিকে পাশ্চাত্য ভাবনায় আধুনিক সংস্কৃতি। 

মেট্রোরেলে চুম্বনকান্ডকে একটা প্রতিনিধি ঘটনা বলতে পারি কারণ এরকম প্রকাশ্য জনবহুল স্থানে প্রেমিক-প্রেমিকার চুম্বন, আলিঙ্গন নতুন নয় এবং তা দেখে অনেকের বিরক্তিবাক্য ছোঁড়া অথবা অস্বস্তিবোধ করাটাও নতুন নয়। পাশাপাশি দুটো ভাবনা, সংস্কৃতি হাঁটছিল এতোদিন। এভাবেই হাঁটতো। হাঁটতে হাঁটতে পরিবর্তন আসতো ভাবনায়। পরিবর্তন'ই স্বাভাবিক। আর যে দেশের আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা, আইনব্যবস্থা, শাসনব্যবস্থা সবকিছুই পাশ্চাত্য থেকে আসা সেই দেশের মানুষের মধ্যে পাশ্চাত্য কালচার লক্ষ্য করা সময়ের অপেক্ষা ছাড়া আর কি!

  আমার ধারনায় আমাদের সকলের মনের ভেতর এইসময় প্রাচীন এবং আধুনিক দুই কালচারের মিশ্রন। আর তাই আমরা আজ প্রতিবাদ জানাচ্ছি যেমন গনপিটুনিতে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে তেমনই পাশাপাশি আজকেই যদি কোন অন্ধকার গলিতে দুই ছেলেমেয়েকে চুম্বন বা আলিঙ্গন করতে দেখতেই তেড়ে যাবো, ডিস্টার্ব করবো অথবা লুকিয়ে লুকিয়ে দেখবো, মজা নেব।

আমাদের সমাজ, দেশ আধুনিক হচ্ছে ধীরে ধীরে ঠিকই কিন্তু এখনও সেই অবস্থানে পৌছতে পারেনি যে অবস্থানে পৌছলে, প্রেমিক প্রেমিকাকে প্রকাশ্যে চুম্বন করতে দেখলে, তারা যাতে অস্বস্তিবোধ না করে সেইজন্য তৎক্ষণাৎ তা উপেক্ষা করে মুখ ঘুরিয়ে নিজ কাজে ব্যস্ত হতে পারি। 

এর মানে এমন নয় আমাদের দেশের মানুষদের নজরটা খুব নোংরা। আসলে যে স্থানে যা সহজলভ্য নয়, সচরাচর দেখতে পাওয়া যায়না তা সেই স্থানের মানুষদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেই। তাই স্বাভাবিক। পাশ্চাত্য দেশে শারীরিক মিলনকে শরীরের ক্ষিদে হিসেবে দেখা হয়, এবং তাই শারীরিক মিলনকে তারা খুব স্বাভাবিক ভাবেই দেখে থাকে এবং করেও থাকে। খুব সহজেই একজন ছেলে একটা মেয়েকে শারীরিক মিলনের প্রস্তাব দিতে পারে। সেক্ষেত্রে মেয়েটি ইচ্ছে প্রকাশ না করলে তা হেসে উপেক্ষা করে চলে যায়। কিন্তু এটাই আমাদের দেশে হলে তা খবরের কাগজে ছাপা অক্ষরে বেরোবে সকালে। 

পশ্চিমবাংলার ছোটো জেলাগুলোতে পাশ্চাত্য খোলামেলা পোশাক পড়ে কোন সুন্দরী নারী হেঁটে রাস্তা পার হলে, যুব-বৃদ্ধ দলমত নির্বিশেষে সকলে যৌন সুড়সুড়ি অনুভব করবেনা এমনটা এখনও ভাবতে পারিনা।

আসলে সূত্রটা খুব জটিল নয়, দেশের সমগ্র স্থানের সমস্ত রকম পরিকাঠামোটা আধুনিক হওয়ার আগে কিছু মানুষ আধুনিকমনস্ক হয়ে পড়ছে আর তাই যত গন্ডগোল। আমাদের দেশ, সকলকে সমানভাবে শিকিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থা দানে দারুণ ভাবে ব্যর্থ।

 

আবার বলি পরিবর্তন আসবে যুগের নিয়মেই। পরিবর্তনের আগে এরকম ঝড় ওঠে। তাই ভয় একদম পাচ্ছিনা। 

কথায় আছেনা 'যা হয় সব ভালোর জন্যই'।

 

প্রকাশ্যে চুম্বন নিয়ে বোধ ও বার্তা পত্রিকার আয়োজিত বিতর্কে সেরা মতামত বলে বিবেচিত হওয়ায় নিবন্ধ আকারে এখানে প্রকাশিত হল-সম্পাদক

 

Share on Facebook
Share on Twitter
Please reload

জনপ্রিয় পোস্ট

I'm busy working on my blog posts. Watch this space!

Please reload

সাম্প্রতিক পোস্ট
Please reload

A N  O N L I N E  M A G A Z I N E 

Copyright © 2016-2019 Bodh. All rights reserved.

For reprint rights contact: bodhmag@gmail.com

Designed, Developed & Maintained by: Debayan Mukherjee

Contact: +91 98046 04998  |  Mail: questforcreation@gmail.com