জন্মগত প্রতিভার সঙ্গে পরিশ্রমের মিলন দরকারঃ শ্বেতা আগরবাল

 

 

 

 

শ্বেতা আগরবাল  ভদ্রেশ্বরের মেয়ে, ২৯ বছর বয়সে ২০১৬ Bengal cadre আই.এ.এস ১৯তম স্থান অধিকার করেছেন। আগে আই.পি.এস ছিলেন। তারও আগে আই.আর.এস ছিলেন। দারিদ্রতা– বিবাহ– সামাজিক রীতি নীতির বাধা উপেক্ষা করে কিভাবে সফল লক্ষ্যে পৌঁছান যায় তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ শ্বেতা আগরবাল  পরিবার – জীবন সংগ্রাম - বইপড়া ও স্বপ্ন নিয়ে খোলাখুলি কথা বললেন ।    

 

প্রশ্নঃ আপনার সাফল্যে পিতা - মাতার আবদান এবং সঙ্গে সততার মূল্য কতখানি ?

 

প্রথম কথাতো মা - বাবার যে সহযোগিতা আছে যতই আমি বলি ততই কম বলা হয়। ছোটোবেলা থেকে ওনারা আমাকে স্বাধীন ভাবে বেড়ে উঠতে দিয়েছেন। এটা অনেকের পক্ষে বিশ্বাস করতে কঠিন হবে, আমি যখন ৬-৭ বছর বয়সে ছিলাম বাড়ির গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আমাকে যুক্ত করতেন। আমাকে জানিয়ে সব কিছু করতেন, সেই সময় থেকে ওইটুকু বুদ্ধিতে আমার যা আসত তাই বলে দিতাম, তারপর ওনাদের যা সিদ্ধান্ত হত নিতেন। কোনদিন এ জিনিসটা ভাবতেন না বাচ্চামেয়ে বাড়ির এত বড় সিদ্ধান্তে কি হবে এইসব, এভাবেই আমার বেড়ে ওঠা। আমাদের বর্ধিষ্ণু পরিবারের আমি প্রথম স্নাতক। আমাদের পরিবারে দশকের বেশি সংখ্যক কাকা - জ্যাঠা আছে কেউ তখন পর্যন্ত স্নাতক হয়নি। ভাল মনে আছে আমি স্নাতকের ১ম বর্ষে ভর্তি হতে যাচ্ছি আমার একজন জ্যেঠু আমাকে বলেছিলেন মহিলাদের লেখাপড়া করে কি লাভ ? শেষেতো রান্না- বান্নাই করতে হবে। তখন চন্দননগরে একটাই ইংরাজি মাধ্যমের কনভেন্ট স্কুল ছিল। বাবার খুব ইচ্ছা ছিল ওখানে পড়াবেন। কিন্ত সমস্যা ছিল সেই সময় প্রথম কথা স্কুলের ফি ১৬৫ টাকা প্রতি মাসে, বাবা সেটা বহন করতে পারতেন না। দ্বিতীয় কথা আমার মা-বাবা খুবই অল্প পড়াশোনা করেছেন, তার জন্য তাদের মধ্যে একটা ভীতি অনেক আগে থেকেই ছিল। সেই বাধা পেরিয়ে সিদ্ধান্ত নেন আমাকে পড়াবেন, কারন ওনারা পড়তে পারেন নি। কিন্তু সেটা ঐ সময়ে স্কুলে ভর্তি করার পক্ষে খুব বড় একটা কঠিন ব্যপার ছিল কারন, মা-বাবর যখন পড়াশুনো কম, বাচ্চার কনভেন্টে ভর্তি হওয়া একটু কঠিন হয়। কিন্ত ভগবানের আশীর্বাদ আমি ভর্তি হই। আমি পড়াশোনায় ছোটোবেলা থেকেই খুব ভালোছিলাম।ওনারা আমাকে জাতি বা বর্ণ বিদ্বেষী করেন নি।  জাতি,ধর্ম, বর্ণ এসব নিয়ে আমার মাথায় কোনোদিন বিভ্রান্তি তৈরি হতে দেননি। কারন আমার বাবার প্রিয় বন্ধু ছিল মুসলিম।৩৫ বছরের বন্ধুত্ব। আমার সারা দেশের সমস্ত ধর্ম বা বর্ণের মানুষের সঙ্গে পরিচয় আছে। এভাবেই আমার স্বাধীন ভাবে বেড়ে ওঠা। আমি আমার মা-বাবার কাছ থেকে এত বড় সহযোগিতা পেয়েছি যে আমি যা পড়তে চেয়েছি তারা কখনই বলেননি যে কলাবিভাগ নিয়ে পড়তে হবে না বিজ্ঞানবিভাগ নিয়ে পড়তে হবে। যা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল তা শুধুমাত্র আমি নিয়েছি ওনারা এটাকে সহযোগিতা করেছেন, এবং আমি যখন খুব ভালো একটি বেসরকারী কোম্পানিতে উচ্চ বেতনে চাকরি করছিলাম তখন সিদ্ধান্ত নিলাম যে আমি আমার ছোটোবেলার স্বপ্নকে পূরণ করবো তার জন্য এই চাকরিটাকে ছেড়ে দিয়ে পরীক্ষার জন্য পড়াশোনা করবো ওনারা কিন্ত একবার ও আমাকে বারণ করেনি নতুন পথে পা বারবার সময় ওনারা আমাকে পুরো সহযোগিতা করেছেন। প্রথমবার পাশ না করার পরেও ওনারা আমাকে যতটা সম্ভব সহযোগিতা করেছেন। পরে যখন ফল প্রকাশিত হল এবং আমি পাশ করলাম এটা এমন একটা সময় যেটা সততা না থাকলে হয় না। সততা, রুচি, লক্ষ্য এই ৩ টে জিনিস না থাকলে কিছু বড় স্বপ্নপূরণ করা যায় না। এই ৩টে জিনিস মা-বাবার মধ্যে ছিল আমার মধ্যেও ছিল তাই হয়ত আমি আজ এখানে বসে আছি।

 

প্রশ্নঃ আপনার মা খুবই সাধারণ মহিলা এই কঠিন বাস্তবে কিভাবে তা ধরে রাখলেন ?

 

আমার মা-বাবার খুব বড় অস্ত্র আছে। আমি চেষ্টা করেছি ঐটাকে নিজের মধ্যে আয়ত্ত করার। আমার মা এবং বাবা দুজনই খুব সাধারণ এবং তারা সেই অতি সাধারন ধারাটাকে খুব সহজে বহন করে যাচ্ছেন। একটা সময় ছিল যখন আমরা ৩জন দিনে দুবার কি খাব সেটাও আমাদের কাছে স্থায়ী ছিল না। মানে টাকা ছিল না। বাবা এটা জানতেন না যে উনি রাত্রিতে খাবার টাকা দিতে পারবেন কি না ফলে তখন ছিল খুবই জটিল পরিস্থিতি। এখন টাকা -পয়সা নিয়ে কোন সামস্যা নেই, আমিও নিজের পায়ের উপর দাঁড়িয়ে আছি। আমার বাবাও আয় করেন, এই এতটা সময় ওনাকে খুবই শক্ত করেছে কিন্তু সেই গর্বটা আসেনি। আর ওনারা ওনাদের এই সহজ- সাধারণ ব্যপারটাকে নষ্ট হতে দেননি। আর আমাকেও বারবার এটাই শিক্ষা দিয়েছেন যে সহজ সাধারণ হলে জীবনে অনেক বড় হওয়া যায়।

 

প্রশ্নঃ আপনি খুবই প্রতিভাবান মহিলা, এই প্রতিভা নিয়ে আপনার কি মতামত ?

 

আমি প্রতিভাবান কিনা সেটাতো আমি ভালো করে বলতে পারব না। কিন্ত আমি যা ভাবি এই ব্যপারে তা কিছুটা জন্মগত। কিন্ত গুরুত্বপূর্ণ হল কর্ম। আমি এটাই জানি যে সবাই কিছু না কিছু নিয়ে জন্ম নেয় সেটা তার ভিত। আর এই ভিতটার উপর যতক্ষণ না পরিশ্রম করবে ততক্ষণ তার থেকে কিছু মূল্যবান জিনিস হাসিল করতে পারবো না। শুধু জন্মগত প্রতিভা নিয়ে কিছু হয় না। তোমার কর্মর প্রতি একটা বৃত্ত স্থায়ী করতে হবে আর ঐ বৃত্তর পিছনে লেগে থাকতে হয় যতক্ষণ জন্মগত প্রতিভার সাথে পরিশ্রমের মিলন না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত আমার মতে কোন ভালো জিনিস করা সম্ভব হয় না।

 

প্রশ্নঃ আপনি একজন আই এ এস হয়েছেন ভারত সরকারের সর্বচ্চ পদ, আই.এ.এস হওয়া কি মানুষের সেবার জন্য না ক্ষমতার শীষে থাকার জন্য, না অন্য কিছু ?

 

এটা খুবই সুন্দর প্রশ্ন এটা আমাদের আই.এ.এস পরীক্ষাতেও জিজ্ঞাসা করা হয়। আমি যখন পাঁচ বছর বয়সে ছিলাম,ঐ বয়সে মেয়েরা অনেক রকমের খেলনা নিয়ে খেলা করে আমার কাছে কোন খেলনা ছিলনা কারন আমার বাবার কাছে কোন টাকা ছিল না। উনি একটা খেলনা আমার জন্য নিয়ে এসেছিলেন সেটা ছিল একটা প্লাস্টিক-এর বন্দুক আমার সেটাই খেলনা ছিল। সেই বন্দুকটাকে নিয়ে আমি সারা বাড়ি ঘুরতাম আর সবাইকে অভিনয় করে দেখাতাম,তোমাকা গুলি করে দেবো, তোমাকে গ্রেফতার করে নেব - এই সমস্ত। আর আমার বাড়ির একেবারে সামনে ছিল থানা! আমি খাকি পোশাক পরা পুলিশ দের দেখতাম। আর ঐ খাকি পোশাকটা আমাকে খুব ছোটো থেকেই আকর্ষণ করেছে। তখন থেকেই এই জিনিসটা আমার মাথায় ছিল যে আমি কিছু না কিছু এই ধরনের জিনিস করব। এটা বলা ভুল হবে না যে সিভিল সার্ভিস আমার ছোটোবেলার স্বপ্ন। তখন আমি জানতাম না যে আই.এ.এস – আই.পি.এস – আই.আর.এস কি। শুধু এটা জানতাম এটা খাকি পোশাক, এটা আমার বন্দুক এই ধরনের কিছু একটা করব। একটু বড় হওয়ার পড় স্কুল এ আই এ এস – আই.পি.এস – আই.আর.এস এই পরীক্ষার ব্যাপারে জানলাম তখন থেকে ঠিক করে ফেলেছিলাম আমি এটাই করব, কিন্তু বড় হওয়ার সাথে সাথে আমি বুঝলাম এই ধরনের একটা চাকরি যেখানে ক্ষমতা আছে, উচ্চ পদ আছে, সন্মান আছে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস মানুষের জন্য, সমাজের জন্য কিছু করার আছে। এটা মিথ্যা নয় আমরা মানুষের সেবা করার জন্যই বেতন পাই।

 

প্রশ্নঃ আই এস হওয়ার আগে আপনি ‘আই পি এস’ ছিলেন তার আগে ‘আই আর এস’ সমস্ত জায়গায় সহকর্মী আছে তাদের মধ্যে পুরুষই বেশি, আপনার কি কখনো মনে হয়েছে যে আপনি মহিলা বলে কোনরকম হেনসথার শিকার হচ্ছেন ?

 

অনেকবারই মনে হয়েছে কিন্তু যা আমি বললাম আমার বড় হয়ে ওঠা খুব মজবুত, আমি কোনদিন এই ব্যপারটা ভেবে নিজের মাথাটা খারাপ করিনি বা নিজের সময় নষ্ট করিনি। আমি নারী হয়ে মনে করি নারীরা খুব বড় শক্তিশালী। ছোটবেলা থেকেই এই ব্যাপারটা আমার মাথায় ছিল।

 

প্রশ্নঃ সরকারি কর্মচারীদের কি মানসিকতার উন্নতি করার প্রয়োজন আছে? আপনার কি মত ?

 

আমার যতদূর মনে হয় উচ্চস্তরে এর কিছু পরিকল্পনা হয় তখন ঐ পরিকল্পনা নিম্নস্তরে ছড়িয়ে যায় না তখন লক্ষ্যহীন মনে হয়। আমরা নিয়ম অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি কিন্তু তাতে কার কি লাভ হবে সেটা যে কোনভাবে তাদের অবগত  করা হয় না। এটা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব বা কর্তব্য যে নিম্নস্তরে যে সমস্ত কর্মচারী আছে তাদের কে বিরূপ না হতে দেওয়া। আর একটা পথ তোমার  কাজ ভালো হচ্ছে সেটা আমি দেখছি বা বুঝতে পারছি এটা সরকারি ব্যবস্থায় নেই। এই যে বাহবা দেওয়া এটা নেই।তাই নিম্নস্তরে যে কর্মচারী আছে তারা নিজেদেরও বুঝতে পারে না নিজেদের কাজকেও বুঝতে পারে না। তারা জানেন, আমি যাই করি না তার কোন লাভ হবে না। আমি কিছু বাহবা পাব না। আর সেখান  থেকে একটা ব্যবধান শুরু হয় যে কাজ করছে বা করছে না। আমরা সবাই নম্বরকে লক্ষ্য করে চলেছি। নম্বর ঠিক আছে তো সব কিছুই ঠিক আছে! তাই আমার মনে হয় এই কারনেই সরকারি কর্মীরা মানসিক ভাবে দুষিত হচ্ছে।

 

প্রশ্নঃ পুরুষতন্ত্র বা বিবাহ সম্পর্কে আপনার মত ?

 

এটা তো সমাজবিদ্যার পরীক্ষা হয়ে যাচ্ছে, (হাসলেন)। আমি সত্যি বলতে এ সব নিয়ে ভাবনা চিন্তা করিনি। যে জিনিসটা আমার ক্ষমতার বাইরে আমি সেই জিনিসটা নিয়ে মাথা ঘামাই না।

       

প্রশ্নঃ কি ধরণের বই পড়তে আপনি ভালোবাসেন ?


আমি যেকোন ধরণের বই পড়তে ভালোবাসি নির্দিষ্ট কিছু নেই। যখন থেকে বই পড়া শুরু করেছি তখন থেকে সমস্ত ধরণের বই পড়ি। এখন পড়ছি ‘মহাসমর’ - লেখক নরেন্দ্র কহেলী। পুরোপুরি মহাভারতের উপর। আমার নির্দিষ্ট কিছু বই নেই। যখন যে বইটা আমায় কেউ দেয়, বলে এটা ভালো বই আছে পড়ে নাও, তখন আমি সেটাই পড়ে নিই।

 

প্রশ্নঃ আপনার কি মনে হয় বই পড়া এখন কমে যাচ্ছে ?

 

মানুষ এখন কাগজের বই না পড়ে ইন্টারনেট –এ পড়েছে, পড়ার কোন ঘাটতি হচ্ছে না। শুধু যা হচ্ছে - আগে আমরা একটা কাগজে কালি দিয়ে ছাপানো বই পড়তাম। এখন ঐ জিনিসটাই পর্দায় পড়ছি কমপিউটারে পড়ছি। সোশ্যাল মিডিয়াতে বর্তমান ছেলে-মেয়েরা ব্যস্ত হয়ে পড়ছে ঠিকই কিন্তু সেটা বই পড়াতে কোন আঘাত করেছে কিনা আমার জানা নেই। আমি সোশ্যাল মিডিয়াতে নেই। এটা আসার পর মানুষের নিজেদের মধ্যে যে আন্তরিক যোগাযোগ সেটা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আগে আমরা বন্ধুদের জন্মদিনে ফোনে শুভেচ্ছা জানাতাম, এখন ফেসবুক কিংবা হোয়াটসঅ্যাপ এ লিখে পাঠিয়ে দিচ্ছি। এতে নিজেদের মধ্যে যে আন্তরিকতা সেটা চলে গেছে। আমি আমার কথাই বলি ৬ জন বন্ধু মিলে রেস্টুরেন্টে গেছি। প্রত্যেকের ফোন ব্যাগ এ থাকবে এটাই নিয়ম যে নিজের ফোন নির্দিষ্ট কারণ ছাড়া বের করবে তাকেই সকলের টাকা দিতে হবে, এভাবেই আমরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করি। এটা না করলে ৬ জন বন্ধু এক জায়গায় থাকলেও নিজেদের মধ্যে কোন আলোচনা হয় না। যে যার ফোন এ ব্যস্ত হয়ে পড়ি। কিন্ত আগেও যে সবাই বই পড়তো এমন নয় ,আগে যারা বই পড়তো তারা এখনও পড়ে। মানুষ এখন কাগজের বই না পড়ে ইন্টারনেটে - কমপিউটার,ট্যাব,মোবাইল এই সব এ পড়ছে। আমার মনে হয় না বই পড়া তুলনায় এখন কমে গেছে।

 

প্রশ্নঃ বর্তমান প্রজন্মর কাছে আপনার প্রত্যাশা কি ?

 

আমি চাই যে সকলে ভালো পড়াশুনো করুক। আমি মনে করি শিক্ষাই জীবনের মূল লক্ষ্য। গুণগত শিক্ষাই নিম্নমধ্যবিত্ত এবং গরীব মানুষের অস্ত্র হওয়া উচিত। উচ্চবিত্ত শ্রেণীর কাছে এমনিতেও টাকা আছে। ঐ টাকা দিয়ে কিছু না কিছু করে নেবে। আমার মত নিম্নমধ্যবিত্ত ও গরীব পরিবারের থেকে উঠে জীবন যারা শুরু করতে চাইছে তাদের প্রচুর সংগ্রাম করতে হচ্ছে। এখনও হয়তো সঠিক পরিচালনা হচ্ছে না কিন্ত সবাই বুঝতে পেরেছে পড়াশুনোর মহত্বটা কি? আমাদের বাড়িতে যে কাজ করে সে আমাকে ছোটবেলা থেকে পড়াশুনো করতে দেখেছে, উনি কিন্ত এতো দিনে পড়ার মহত্বটা বুঝে গিয়েছে। সে এত পরিশ্রম করে শুধু মাএ তার ছেলে ও মেয়েকে পড়ানোর জন্য। আর আমাকে একটাই জিনিস বলে, ম্যাডাম ওরা পড়াশুনোতে আপনার মত হতে পারবে কি জানি না তবে কোথাও একটা দাঁড়িয়ে যাবে। পড়াশুনোর মহত্বটা সবাই বুঝছে। হ্যাঁ এটা হয় পরিচালনার অভাব বা অন্যান্য কারনের জন্য লক্ষ্য চলে যায়। কিন্ত মানুষ পড়াশুনোর মহত্বটা বুঝতে পারছে। আমি ভদ্রেশ্বরের যে পাড়ায় থাকি আমি প্রথম কনভেন্ট এ ভর্তি হয়েছি। তার আগে আমাদের মাড়োয়াড়ী সমাজে কেউ জানতোও না, সবাই ওটাই ভাবত কি মেয়ে আছে তো পড়িয়ে কি লাভ! আমার থেকে বড় যে কাকা বা জ্যাঠার ছেলে বা মেয়েরা, ছেলেরা উচ্চমাধ্যমিকের বেশী আর মেয়েরা মাধ্যমিকের বেশী লেখাপড়া করতো না। তাদের এটাই লক্ষ্য ছিল রান্নাবান্না করবো আর বিয়ে করবো। আমি কনভেন্টে ভর্তি হওয়ার পর এখন আমাদের সম্প্রদায়ের অনেক ছেলে মেয়ে ওখানে যাচ্ছে।

      

 

Share on Facebook
Share on Twitter
Please reload

জনপ্রিয় পোস্ট

I'm busy working on my blog posts. Watch this space!

Please reload

সাম্প্রতিক পোস্ট
Please reload

A N  O N L I N E  M A G A Z I N E 

Copyright © 2016-2019 Bodh. All rights reserved.

For reprint rights contact: bodhmag@gmail.com

Designed, Developed & Maintained by: Debayan Mukherjee

Contact: +91 98046 04998  |  Mail: questforcreation@gmail.com