কৃষক আন্দোলনকে অবহেলা করলে ভুগতে হবে সরকারকে

 

 

কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী রাধামোহন সিংহের একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করে লেখাটি শুরু করছি। তিনি বলেছেন, খবরে আসার জন্য কৃষকরা আত্মহত্যা করেন। কৃষক সমাজ নিয়ে এই ধরণের মন্তব্য এই প্রথম নয়। এর আগে কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী, কৃষকদের আত্মহত্যার প্রতিষেধক হিসাবে যোগাসনের পরামর্শ দিয়েছিলেন। তিনি রামদেবকে নিয়ে নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র বিহারের মোতিহারিতে যোগশিবিরও করেন। নিজেদের পরিশ্রমের ফসল রাস্তায় ফেলে কৃষকরা প্রতিবাদ করছেন। এই ঘটনাকে কৃষকদের মিডিয়ার নজরে আনার ফন্দি বলে মনে করছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

 

   এখন প্রশ্ন কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য গ্রামের বাইরে নিয়ে যাচ্ছেন না-- বিক্রির জন্য। শুধুমাত্র মিডিয়ার নজর কাড়ার জন্য? 172 টি কৃষক সংগঠন এই আন্দোলন করছেন--ঋণ মুকুব,উৎপাদন ব্যয়ের 50 শতাংশ বেশি সহায়ক মূল্য, আয়ের নিশ্চয়তা ও বিনামূল্যের বিদ্যুৎতের দাবিতে।

 

   বিশেষ করে নূন্যতম সহায়ক মূল্যের অনেক কম দামে উৎপাদিত পণ্য বেচতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা। সরকারের ভূমিকাও যে কৃষকদের অনুকূলে নয় তাও পষ্ট হয়েছে মন্ত্রীর কথায়। বছর তিনেক আগে শীর্ষ আদালতে সরকার হলফনামা দিয়ে জানিয়েছিল, সরকার যদি স্বামীনাথন কমিশনের সুপারিশ খরচের ওপর পঞ্চাশ শতাংশ যোগ করে সহায়ক মূল্য ঠিক করে,তা হলে বাজারের অবস্থা খারাপ হবে। দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধি লাগাম ছাড়া হবে। যা সামগ্রিকভাবে অর্থনৈতিক বিকাশকে আটকে দেবে। কৃষকদের বক্তব্য, সরকার দালালদের কথা ভেবে সহায়ক মূল্য বাড়াচ্ছে না।  গোটা ভারতের যা পরিস্থিতি তাতে কৃষকরা বরাবরই বঞ্চিত থেকে গেছে।  বেশিদিন হয়নি গোটা ভারত প্রত্যক্ষ করেছিল কৃষকদের লং মার্চ। 180 কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে পার করেছিলেন কৃষকরা। সোশ্যাল মিডিয়া ও সংবাদপত্রে কৃষকদের ক্ষত-বিক্ষত পায়ের ছবি প্রকাশিত হয়েছিল। অনেকেই চমকে উঠে ছিলেন। কেন কৃষকদের পথে নামতে হয়েছিল? ভারতের কৃষক, মহারাষ্ট্রের কৃষক, বহু বছর ধরে অত্যাচারিত। অবহেলিত। ফসলের সঠিক দাম তাঁরা পান না। ব্যাঙ্কের ঋণ শোধ করতে পারেন না। আদিবাসী পরিবার যারা যুগ যুগ ধরে অরণ্য সংলগ্ন জমিতে চাষ করে চলেছেন। তাঁরা জমির পাট্টার থেকে বঞ্চিত। এই বঞ্চনার অবসান চেয়ে কৃষকরা নাসিক থেকে মুম্বই এসেছিলেন পায়ে হেঁটে। আর এবার উত্তরপ্রদেশ-পঞ্জাব-রাজস্থান-হরিয়ানা সহ বিভিন্ন রাজ্যের কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য গ্রামের বাইরে নিয়ে যাচ্ছেন না। আনাজ-দুধ রাস্তায় ফেলে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। এর থেকে বোঝা যাচ্ছে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে কৃষকদের। তবে এই সব সমস্যা নতুন নয়। আমাদের দেশে কৃষি অর্থনীতিতে কৃষকদের ধারদেনার প্রশ্নটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত ঋণের ফাঁদে পড়েন অভাবক্লিষ্ট কৃষক ও খেতমজুর। যারাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। তাঁরা বেঁচে থাকার জন্য ঋণ করেন। কিন্তু সঠিক মূল্য থেকে তাঁরা বঞ্চিত হন। ফলে ঋণ বাড়ে। তখন চূড়ান্ত হতাশায় আত্মহননের পথ বেছে নেওয়া ছাড়া অন্য কোনও উপায় থাকে না। কেন তাঁরা উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য পান না? এর এক কথায় উত্তর ভারতে মধ্যসত্তাভোগীরা অসম্ভব শক্তিশালী। এরাই পুরো ব্যবস্থাটা নিয়ন্ত্রন করে। যারা আগে থেকে অসহায় কৃষকদের নিজেদের মুঠোয় নিয়ে আসে। এর পাশাপাশি রয়েছে কর্পোরেটদের দাপট। ধনী কৃষকদের অবশ্য এই অসুবিধায় পড়তে হয় না।

 

   এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই সমস্যা থেকে অসহায় কৃষকরা কী ভাবে মুক্তি পাবে। আর এখানেই খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে সরকার অনুসৃত নীতি। ব্যাঙ্ক ঋণ ও কৃষি পণ্যের সঠিক মূল্য নির্ভর করছে সরকারি নীতির ওপর। বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের ঝোঁকটা মূলত এই সব অসহায় কৃষকদের বিরুদ্ধে। স্পষ্ট করে বললে, সমাজ কল্যাণের এই দিকটাকে বর্তমান সরকার অগ্রাহ্য করছে। ফলে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে। বিজেপি অবশ্য এর মধ্যে রাজনীতি খুঁজছে। এই অশনি সংকেত না পড়তে পারলে আখেরে ক্ষতি হবে রাষ্ট্রের। কেননা এই ক্ষোভ উত্তরোত্তর বাড়তে থাকলে তা উগ্র আকার ধারণ করতে পারে। ফের প্রাণহানির সম্ভবনা থাকে। কেন্দ্রীয় সরকারকে এখনই  পদক্ষেপ নেওয়া জরুরী।

Share on Facebook
Share on Twitter
Please reload

জনপ্রিয় পোস্ট

I'm busy working on my blog posts. Watch this space!

Please reload

সাম্প্রতিক পোস্ট
Please reload

A N  O N L I N E  M A G A Z I N E 

Copyright © 2016-2019 Bodh. All rights reserved.

For reprint rights contact: bodhmag@gmail.com

Designed, Developed & Maintained by: Debayan Mukherjee

Contact: +91 98046 04998  |  Mail: questforcreation@gmail.com