ঊনিশের অ্যাজেন্ডা: ধর্মনিরপেক্ষ ও দুর্নীতিমুক্ত স্থায়ী সরকার

 

 

আগামী কয়েক মাসে বিরাট অঘটন কিছু না ঘটলে মোদি বিদায় একপ্রকার নিশ্চিত। কিন্ত পরবর্তী সরকার কি হতে পারে, সে সম্বন্ধে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। সম্ভাবনা অনেক, কিন্তু সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সরকারের স্থায়িত্ব। আগামী নির্বাচনী প্রচারে মোদি ও তাঁর বাহিনীর প্রচারের মূল লক্ষ্যই হবে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন খিচুড়ি সরকারের দুর্নীতি ও তার অন্তর্বিরোধ এবং এর অবধারিত স্বল্পস্থায়িত্বের বিরুদ্ধে। সুতরাং  ‘স্থায়িত্ব’ও কিন্তু পরবর্তী সরকারের ক্ষেত্রে একটি বড় ও জরুরি বিষয়। কারণ বিজেপি বিরোধী সরকার গড়ার ক্ষেত্রে কংগ্রেস বা কোন একটি দলের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভের কোন সম্ভাবনা আপাততঃ দৃশ্যমান নয়। ফলে বিভিন্ন দল বা ফ্রন্টের বোঝাপড়ার বিষয়টি অতীব গুরুত্বপূর্ন। ইউপিএর বর্তমান ছবিটা ঠিক স্পষ্ট নয়। তৃণমূল নেত্রী দীর্ঘদিন ফেডারেল ফ্রন্টের গল্প শোনাচ্ছেন, কিন্তু শেষপর্যন্ত কতটা সফল হচ্ছেন, এখনো বোঝা যাচ্ছেনা। ফলে বিরোধী ঐক্যের চিত্রটি এখনও ভবিষ্যতের গর্ভে।

 

   ২০০৪ এবং ২০০৯এ কংগ্রেস যত আসন পেয়েছিল, এবার তেমনটার আশা বেশ কম। ফলে সত্যি যদি শেষপর্যন্ত ফেডারেল ফ্রন্ট গোছের কিছু গড়ে ওঠে এবং যদি তার আসন সংখ্যা কংগ্রেস বা তার শরিকদের মিলিত আসনের চেয়ে বেশি হয় তবে রাহুল গান্ধীর পিএম পদ নাও মিলতে পারে। সেক্ষেত্রে অন্য কেউ বা প্রণব মুখার্জিও পিএম পদে বসতে পারেন। তবে প্রণব বাবু ঐ পদে বসলে সরকারের স্থায়িত্ব পাকা হবারই সম্ভাবনা ষোল আনা। কিন্তু তাহলে আবার রাহুলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। ফলে একটা টানাপোড়েনের সম্ভাবনা থাকছেই। অবশ্য এটিকে প্রতিহত করতে হলে চাই নিয়মিত বৈঠক, জনমুখী কর্মসূচির রূপায়ণ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে নানাবিধ সংস্কারের পক্ষে কার্যকরী পদক্ষেপ। এরই সঙ্গে চালাতে হবে বিজেপি সরকার কৃত অতীতের সব দাঙ্গা, হত্যা, দুর্নীতি ও সবরকম অন্যায় ইত্যাদির বিরুদ্ধে সঠিক তদন্ত এবং প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষ ভাবনার পক্ষে লাগাতার প্রচার আন্দোলন।

 

   আর একটি সম্ভাবনা হচ্ছে সব আঞ্চলিক শক্তিসহ বিরোধীশক্তির ব্যাপক ঐক্য গড়ার মাধ্যমে একের বিরুদ্ধে একের লড়াইকে যথাসম্ভব প্রসারিত করে বিজেপির মোকাবিলা করা। এমনটা হলে রাহুলের পিএম পদে বসার সম্ভাবনাই বেশি। তবে তাঁর আশাব্যঞ্জক সাফল্যের বিষয়টি বেশ অনিশ্চিত। রাহুলের লিডারশিপ কোয়ালিটি যথেষ্ট পরীক্ষিত নয়। তবে এমন হলে সবচেয়ে বেশি খুশি হবেন মোদি। কারণ তিনি তাঁর পরিচিত প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে রাহুলের সঙ্গে অনেক বেশি স্বচ্ছন্দ। তবে নির্বাচনী ফলে যদি শেষপর্যন্ত কংগ্রেস থেকেই কেউ পিএম পদে বসেন এবং অন্যান্য শরিকরা রাহুলকে মানতে তীব্র আপত্তি জানান সেক্ষেত্রে অবশ্য আবার মনমোহন সিংয়ের ভাগ্যেই  শিকে ছিঁড়তে পারে এবং সেই সরকারের স্থায়িত্ব অনেক বেশি পাকা হতে পারে। কারণ, কর্পোরেট লবির বেশ পছন্দ তাঁকে। 

 

   তবে এবার সরকার যেই গড়ুক, দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত হাতে হাল না ধরতে পারলে সেই সরকারের কিন্তু টিকে থাকা কঠিন হবে। কারণ আঞ্চলিক দলগুলি কেন্দ্রিয় সরকারের ব্যর্থতা বা অভিযোগের দায় নিয়ে নিজেদের কলঙ্কিত করতে চাইবে না। বিজেপির বিরুদ্ধে একসাথে সরকার চালাতে হলেও প্রত্যেকেরই নিজ দলের স্বার্থরক্ষাই প্রধান কর্তব্য। কংগ্রেস যেমন চাইবে তাদের একক ক্ষমতার স্বর্ণযুগ আবার ফিরে আসুক, তেমনই প্রত্যেকটি আঞ্চলিক দলের নেতা বা নেত্রীরও নিজস্ব উচ্চাশা আছে যে, তাঁর নাম যেন ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকে, প্রজন্মের পর প্রজন্ম যেন তাঁর দেশপ্রেম আর সফলতার কাহিনী নিজের সন্তানকে গল্প করে শোনায়। সুতরাং এই টানাপোড়েন বা  স্বার্থের সংঘাত তো দূর হবার নয়। আগে দলের বকলমে আপন স্বার্থ, তারপর তো দেশ। দলভিত্তিক সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার এই কুফল ভোগ না করার কোন উপায় এখনো সমাজ বিজ্ঞানীরা বের করে যে উঠতে পারেন নি, একথাও তো সত্য।

Share on Facebook
Share on Twitter
Please reload

জনপ্রিয় পোস্ট

I'm busy working on my blog posts. Watch this space!

Please reload

সাম্প্রতিক পোস্ট
Please reload

A N  O N L I N E  M A G A Z I N E 

Copyright © 2016-2019 Bodh. All rights reserved.

For reprint rights contact: bodhmag@gmail.com

Designed, Developed & Maintained by: Debayan Mukherjee

Contact: +91 98046 04998  |  Mail: questforcreation@gmail.com