আধুনিকতার প্রজ্জ্বলন এখানে মৃত

 

   আসলে যুগটাই হলো উত্তর-আধুনিক যুগ। আধুনিকতার প্রজ্জ্বলন এখানে মৃত।  এ এমন আধুনিকতা যেখানে মানব সমাজই থ্রেটেনড। তাহলে বিজ্ঞান আর প্রযুক্তি দিয়ে তো আধুনিকতাকে ব্যাখ্যা করা যাচ্ছে না। তারমানে আধুনিকতা নেই। আধুনিকতার মৃত্যু হয়ে গেছে। তারমানে মধ্যযুগে ফিরে এসেছি তাও নয়। এটি আধুনিকতা বা রেনেসাঁ যুগের সমাপ্তি হলো। প্রযুক্তির বিপ্লব সমগ্র মানব সমাজের জন্য নয়।  একেবারে উঁচুতলার ধনীদের স্বার্থে। শূ্ন্য দশমিকের পরে কিছু অঙ্কের শতাংশের মানুষ। কিন্তু তার  ঠাট টা থাকবে এমন ঘোলাটে যে মনে হবে সাধারণ মানুষ তো involved হচ্ছে। যেকোন বিষয় নিয়ে ভাবতে গেলে বা আপনি যতোই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকুন না কেন , আপনি দেখবেন কিছুতেই আপনার স্বস্তি নেই, নিরাপত্তাও নেই।

  ধরুন রাস্তা ঘাট , ফ্লাইওভার , সৌন্দর্যায়ন এগুলো যতো ঘটবে ততোই গরীব মানুষদের উচ্ছেদ হবে।  ধরুন,আপনি দেখবেন দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা থেকে প্রচুর বাড়ীর কাজের মহিলা গড়িয়া , যাদবপুরের দিকে এসে কাজ করে ও রাত্রে বাড়ী ফিরে যায় অথবা গড়িয়ায় খালপাড়ে ঝুপড়িতে বসবাস করে। এটা অতি ছোট্ট একটা উদাহরণ। তারা শহরে বাবুদের বাড়ীতে এসে কাজ পাচ্ছে মানে এটা উন্নয়ন বললে কিন্তু হবে না। তাদের গ্রামে স্বনির্ভরতা নেই তার মানে। সেখানে তার মানে (গান্ধীর স্বপ্ন যে ছিল - স্বরাজ , ভারতবর্ষের ১৯৪৭ সালের এতো বছর পরেও স্বনির্ভরতা নিয়ে একটি গ্রাম থাকা কিন্তু হলোই না) । 

   সমগ্র মানব সমাজের উন্নতি কোথায় হলো ! 

 

   সকলে কাজ পাচ্ছে , বাসস্থান পাচ্ছে , ন্যুনতম শিক্ষা পাচ্ছে, সুষম খাদ্য পাচ্ছে, বিশুদ্ধ পানীয় জল পাচ্ছে , একটা ন্যুনতম চিকিৎসার গ্যারান্টি পাচ্ছে - এগুলো কি পাচ্ছে ভারতবর্ষের সব মানুষ বা সমাজের সব মানুষ?  তাই , political drive টা কি হওয়া উচিত এখন? গণতান্ত্রিকতা , মানবতা , মানবিকতা , নিরাপত্তা অর্জন করার যে লড়াই তার ছোট ছোট ক্ষেত্র থেকে ভাবা উচিত। ধরুন যদি বলি , বেশ্যাবৃত্তি একটি সামাজিক অবক্ষয় , এর নিরসন দরকার। তার মানে কি নিরসন করবো এভাবে যে আগে বিপ্লব হোক এসব নিরসন হয়ে যাবে এই ভ্রান্তি মূলক ধারণায়? নাকি তাদের ন্যুনতম চাহিদার লড়াইকে সমর্থন করা ? 

 

   তাই , সবার আগে উচিত মেটান্যারেটিভ (সার্বজনীন সত্যের মতবাদ, যেমন, বুর্জোয়া উন্নয়নের মডেল, মার্কসীয় শ্রেণীতত্ত্ব অথবা বেদান্ত দর্শন) কনসেপ্টের দখলদারি নিয়ে সমাজ পাল্টানোর স্বপ্নের বিরোধীতা করা। যদিও মানুষ এমনই জীব যে সে একটি নিটোল গল্প চায়। একটি অবিয়োগান্তিক পরিণতি চায়। তার জন্যই সে বাধ্য হয় শাসনকর্তা বর্ণিত দর্শনকে ঘিরে তার আইন , তার কানুন , তার ধাঁচায় qualified হতে। আর সেই সমাজে আপনি প্রতিবাদ করলেই মারা যাবেন। শুধু তাই নয় সেই প্রতিবাদ তারা ইতিহাস থেকেও মুছে দেবে। উদাহরণ - তিয়ান ইয়ান মেন স্কোয়ার। আর বামপন্থী নেতা সমর্থকরাই এখন এখানে মানবাধিকারের হোতা। এটাই হাস্যকর। যে কোনও বাম শাসিত দেশ দেখান যেখানে মানবাধিকার আছে।

Share on Facebook
Share on Twitter
Please reload

জনপ্রিয় পোস্ট

I'm busy working on my blog posts. Watch this space!

Please reload

সাম্প্রতিক পোস্ট
Please reload

A N  O N L I N E  M A G A Z I N E 

Copyright © 2016-2019 Bodh. All rights reserved.

For reprint rights contact: bodhmag@gmail.com

Designed, Developed & Maintained by: Debayan Mukherjee

Contact: +91 98046 04998  |  Mail: questforcreation@gmail.com