কর্পোরেট গণতন্ত্র ও ভাবী প্রধানমন্ত্রী প্রণব?

 

 

ভোট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভারতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। অনেকে বলেন, ভারতের কোটি কোটি মানুষের জীবনের সঙ্গে গণতন্ত্র অবিচ্ছেদ্য হয়ে গিয়েছে। ভারতের অধিকাংশ মানুষ আসলে প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের পদ্ধতিকেই তাদের আশা-আকাঙ্খার, ক্ষোভ ও প্রতিবাদের মাধ্যম হিসাবে বেছে নিয়েছে। এই গণতান্ত্রিক পরিসরে প্রাক্তণ রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের অধিকার রয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বংয়সেবক সঙ্ঘের অনুষ্ঠানে যোগদান করার। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, কংগ্রেসী হয়ে এই কাজ উচিত হয়নি। আবার আরেকপক্ষ যুক্তি দিচ্ছেন, তিনি এখন কোনও দলেই নেই। রাষ্ট্রপতি হওয়ার সময় তিনি কংগ্রেসের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন। কংগ্রেসের কোন অধিকার নেই আরএসএসের অনুষ্ঠানে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের যোগদান নিয়ে প্রশ্ন তোলার। ভারতের গণতন্ত্রের মেরিট ও ডিসমেরটই এখানে। ভারতীয় গণতন্ত্রের মজা এখানে। 

 

   ভারতীয় গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ খুবই শোনা যায়-- একটা পপুলিজম অন্যটা নৈতিকতা। পপুলিজম বিষয়টা স্পষ্ট করছি একটা উদাহরণ দিয়ে। দিল্লিতে বায়ুদূষণ মারাত্মক। এখনই কোন ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে বাস করা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠবে। বিশেষজ্ঞরা প্রস্তাব দিলেন--অন্তত তিন বছর নতুন কোন গাড়ির রেজিস্ট্রেশন বন্ধ থাকবে।  পাশাপাশি অন্য রাজ্যের গাড়িকে দিল্লির বাইরে আটকে দিতে হবে। এখন প্রশ্ন, কোন গণতান্ত্রিক সরকারের পক্ষে এই প্রস্তাব মেনে নেওয়া অসম্ভব। দ্বিতীয়ত সাধারণ মানুষও এই প্রস্তাবকে মেনে নেবে না। পপুলিজমের তাড়নায় কোনও রাজনৈতিক দলই এই প্রস্তাব মেনে নেবে না। এর পাশাপাশি রয়েছে কর্পোরেট লবির চাপ। এবার দ্বিতীয় বিষয়টায় আসি। অভিযোগ নৈতিকতা সংক্রান্ত। গুজরাতে ভয়ঙ্কর হত্যালীলার পরেও নরেন্দ্র মোদির দল ফের ক্ষমতা দখল করল। ভোটে জিতে অনৈতিক ঘটনা বৈধতা পেয়ে গেল। গণতন্ত্রই শেষ কথা। ফলে যারা বলেন, গণতন্ত্র অনৈতিকতাকে প্রশ্রয় দেয়। তাঁরা ভুল বলেন না। ফলে আলোকবৃত্তের মধ্যে যে গণতান্ত্রিক চেহারা দেখা যায়--তা সম্পূর্ণ চেহারা নয়। সকলের কাছে গণতন্ত্র একই অর্থ বহন করে না। নিন্মবর্গের কাছে গণতন্ত্র মানে জাত ও বর্ণের অধিকার। শ্রমিক শ্রেণির কাছে সাম্যের অধিকার। আর বুদ্ধিজীবীর কাছে গণতন্ত্রের অর্থ স্বাধীনতা। আসলে গণতন্ত্রকে সকলেই বিচার করে তার ''আউটকাম'' মানে সাময়িক ফলাফল দিয়ে। এর পাশাপাশি আছে কর্পোরেট জগত। যারা খুবই শক্তিশালী। যাদের আঙ্গুলিহেলনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা তৈরি হয়। এই পরিসরে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের নামটিও চলে আসছে। বিষয়টি স্পষ্ট করছি। 

 

     প্রণব মুখোপাধ্যায় আরএসএসের অনুষ্ঠানে যোগদানের পরে ভারতীয় রাজনীতিতে ঢেউ উঠেছে।

 

   আগামী লোকসভা নির্বাচনের পরে প্রণব মুখোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রীও হয়ে যেতে পারেন,এমন সম্ভাবনাও ব্যক্ত করেছেন কেউ কেউ। সম্ভাবনা যখন আছে তখন ঘটমান কিছু সূত্র অবশ্যই আছে। প্রণব মুখোপাধ্যায় মুখটি আপাত ধর্মনিরপেক্ষ,উচ্চবর্ণ ও আভিজাত্যের প্রতীক। আর একশ শতাংশ ভদ্রলোক। জন্মসূত্রে পাওয়া বর্ণ,আভিজাত্যে যারা বিশ্বাস করেন তাদের কাছে ভারতীয় গণতন্ত্রে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে প্রণব মুখোপাধ্যায় রাইট চয়েস এ বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। এর পাশাপাশি কর্পোরেটদেরও অটোমেটিক চয়েস তিনি। অনেকে বলবেন মোদিও তো কর্পোরেটদের খুব কাছের মানুষ। এক কথায় উত্তর, এখন আর মোদি কর্পোরেটদের কাছের মানুষ নন। কর্পোরেট জগত মোদির কাজে খুশি নয়। তাদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। কর্পোরেটদের আশা ছিল লাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বেচে দেবে সরকার। ভেবেছিল ব্যাঙ্ক বেসরকারিকরণের দিকে একধাপ এগিয়ে যাবে মোদি সরকার। চেয়েছিল প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর থেকে সরকারি নিয়ন্ত্রণ শিথিল করা হবে। এর কোনটাই মোদি সরকার করে উঠতে পারেনি। উলটে বেশ কিছু কর্পোরেট স্বার্থ বিরোধ কাজ করেছে মোদি সরকার। বিমুদ্রাকরণ থেকে জিএসটি। ভর্তুকিহীন রাষ্ট্রের কথা বললেও মোদির জামানায় ভর্তুকি রয়েই গেছে। সোজা কথায়, কর্পোরেটদের ভরসারস্থল থেকে অনেকটা সরে গেছেন মোদি। আর এই গ্যাপে ফিট হতে পারেন প্রণব মুখোপাধ্যায় এমনটাই অভিমত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

Share on Facebook
Share on Twitter
Please reload

জনপ্রিয় পোস্ট

I'm busy working on my blog posts. Watch this space!

Please reload

সাম্প্রতিক পোস্ট
Please reload

A N  O N L I N E  M A G A Z I N E 

Copyright © 2016-2019 Bodh. All rights reserved.

For reprint rights contact: bodhmag@gmail.com

Designed, Developed & Maintained by: Debayan Mukherjee

Contact: +91 98046 04998  |  Mail: questforcreation@gmail.com