দুর্নীতি কমাতে নির্বাচনে ‘স্টেট ফান্ডিং’ জরুরী

 

 

দুনীতিগ্রস্থ দেশের তালিকায় ১৭৪টি দেশের মধ্যে আমাদের দেশের স্থান ৮৫, অর্থাৎ অবস্থাটা বেশ ভয়াবহ। অতীতে সে কারণেই আন্না হাজারের নেতৃত্বে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জন লোকপাল বিল’ সংসদে পাস করে কার্যকরী করার দাবিতে লাগাতার আন্দোলন প্রবল জন সমর্থন লাভ করেছিল। তখন বিজেপি দল ক্ষমতায় ছিল না, ফলে অনেক বড় বড় কথা শোনা গিয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতায় এসে যে কে সেই। চার বছর অতিক্রান্ত, এখনো লোকপাল কমিটি গঠিত হয়নি আগ্রহের অভাবে ও নানা বাহানায়। অথচ বড় গলায় দাবি করে, গত চারবছরে সরকারের বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ নেই। ভাবখানা এমন যেন, আমরা দুর্নীতিগ্রস্থ নই, সুতরাং লোকপাল কমিটি গঠনের প্রয়োজনও নেই। জ্ঞানীরা বলেন, চুরিবিদ্যা মহাবিদ্যা যদি না পরে ধরা। বিগত চারবছরে চুরি কিছুমাত্র কম হচ্ছে না, কিন্তু আটঘাট বেঁধে হচ্ছে। ফলে ধরা পড়ছেনা, শোরগোল হচ্ছে না। কংগ্রেস, তৃণমূল ইত্যাদি দলগুলি হচ্ছে কাছা খোলা, দলের অনুশাসন ঢিলে। ফলে নেতা, মন্ত্রীরা একে অপরকে প্যাঁচে ফেলতে সদাই তৎপর। অর্থাৎ নিজের দলের ভেতরেই শত্রু একে অপরকে ঘায়েল করতে। এসব কারণেই এদের কেলেঙ্কারি প্রকাশ হয় বেশি। অপরদিকে বিজেপি, সিপিএমের মতো দলগুলির অভ্যন্তরীণ অনুশাসন বেশ কঠিন। সেকারণেই এদের গোটা ব্যাবস্থাটাই চলে সুচারুভাবে নিঃশব্দে। এদিক থেকে দেখতে গেলে সমাজের পক্ষে এরা অনেকবেশি ক্ষতিকর। কারণ এদের কুকর্মের সত্যিটা মানুষ জানতে না পারলেও বুঝতে পারে, কিন্তু কিছু করতে পারে না। ফলে এরা বুক বাজিয়ে দুর্নীতিহীনতার তকমা দাবি করে, কিন্তু দুর্নীতি দূর করার লক্ষ্যে কোন প্রকৃত পদক্ষেপ নিতে প্রচন্ড অনীহা এদের। এখন দুর্নীতি প্রকাশ্যে আসুক চাই না আসুক, দুর্নীতির প্রকোপ কিন্তু বিন্দুমাত্র কমছে না। ফলে কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করতেই হবে। 

 

   একটি বিষয় এখন সবাই মানে যে, আমাদের বর্তমান ব্যবস্থায় দুর্নীতির অন্যতম বড় কারণ হচ্ছে, নির্বাচনী প্রচারে বিশাল ব্যয়। এই বিশাল অঙ্কের অর্থ আসে কর্পোরেট জগৎ থেকেই। কর্পোরেট সমাজের এই অর্থদান একধরনের লগ্নী, যা তারা পরবর্তী সরকারের থেকে বহুগুণ বেশি হারে আদায় করে নেয়। এটাই এখন নির্বাচন ও সরকার পরিচালন ব্যবস্থার অঙ্গীভূত হয়ে গেছে। নির্বাচনী ব্যবস্থার এই ফাঁদ কেটে বেরোতে না পারলে আমাদের সংসদীয় ব্যবস্থা জনস্বার্থ রক্ষায় সম্পুর্ন ব্যর্থ হতে বাধ্য। সুতরাং এই নির্বাচনী ব্যায়বাহুল্যকে আটকাতেই হবে এবং এর একমাত্র দাওয়াই হচ্ছে ‘স্টেট ফান্ডিং’। অর্থাৎ নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত নূন্যতম প্রচার ও অর্থ ব্যায়েই নির্বাচন সাঙ্গ করতে হবে। ভোটারদের প্রলুব্ধ করতে অর্থপ্রদান ও বিবিধ উপঢৌকন বন্ধে কড়া নজরদারি ও কঠিন আইনের ব্যবস্থা করতে হবে। বর্তমানে নির্বাচনী খরচ সামলাতে সরকারকে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়। তবু দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার লক্ষ্যে এবং সঠিক জনমতের প্রতিফলনের জন্য  আরো বেশি খরচ হলেও এই পরিবর্তন জরুরী। বর্তমানে যে সব বড় দল কর্পোরেটের সাহায্য পায় তারাই অর্থবলে বলীয়ান হয়ে প্রচারের ঢক্কা নিনাদে আকাশ বাতাস মুখরিত করে। সারা দেশের সমস্ত টিভি চ্যানেলে প্রতি পাঁচ/দশ মিনিট অন্তর দলীয় প্রচারের একই ভাষ্য ক্রমান্বয়ে শুনতে শুনতে সাধারণ অরাজনৈতিক মানুষের অবচেতন মনে ও মস্তিষ্কে স্থায়ীভাবে গেঁথে যায়। এর প্রভাব কাটানো কঠিন। এ একধরনের কৌশলী যুদ্ধ, যার লক্ষ্য হচ্ছে সাধারণ অরাজনৈতিক মানুষ। মানুষের মনস্তত্বের উপর এর অন্যায় প্রভাবকে কিছুতেই বরদাস্ত করা যায় না। এর জন্য যে বিপুল অর্থরাশির প্রয়োজন তা একমাত্র কর্পোরেট বান্ধব দলের পক্ষেই জোগাড় করা সম্ভব এবং এরজন্য যে খরচের হিসাব দাখিল করা হয় সেখানেই লুকিয়ে আছে দুর্নীতির সূত্র। সঠিক নির্বাচনের জন্য চাই ‘লেভেল প্লেয়িং গ্রাউন্ড’ কিন্তু বর্তমান ব্যবস্থায় তা সম্পুর্ন অনুপস্থিত। এর বিহিত করা একান্ত প্রয়োজন এবং সেকারণেই ‘স্টেট ফান্ডিং’ ভিন্ন অন্য কোন উপায় নেই। এর জন্য প্রচুর আলোচনার অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু বেশি জরুরী আগে একে নীতিগত ভাবে গ্রহণ করা।       

 

Share on Facebook
Share on Twitter
Please reload

জনপ্রিয় পোস্ট

I'm busy working on my blog posts. Watch this space!

Please reload

সাম্প্রতিক পোস্ট
Please reload

A N  O N L I N E  M A G A Z I N E 

Copyright © 2016-2019 Bodh. All rights reserved.

For reprint rights contact: bodhmag@gmail.com

Designed, Developed & Maintained by: Debayan Mukherjee

Contact: +91 98046 04998  |  Mail: questforcreation@gmail.com