পাথরেও ফোটে ফুল

কালো মসৃন হাইওয়ের ওপরে তখনো ওরা রক্তের স্রোতে ভেসে যাচ্ছিলো। ওরা মানে, এক জোড়া প্রেমিক প্রেমিকা। নিজেদের বহুকালের চেনা বাড়ি ছেড়ে যারা কাল গভীর রাতে নিরাপদ আশ্রয়ের অনুসন্ধানে যাচ্ছিলো। অন্তত এই গাঁয়ের বিন্দি হাড়ংকে জিজ্ঞেস করতে সেই রকমই জবাব দিয়েছিল সে বর্ষীয়ান সাংবাদিককে। ক্যামেরায় চোখ রেখে ছবি নিতে নিতে সাংবাদিক ফের অবাক হয়ে জানতে চেয়েছিলেন- ওরা দুজনে দুজনকে খুব ভালোবাসতো কিংবা অনেককাল ওদের মধ্যে প্রেম ছিল, সেটা তুমি জানলে কী করে বিন্দি?                                                                              

   ষোলো বছরের বিন্দি হাড়ং কোমরে ওড়না জড়াতে জড়াতে বিষাদদগ্ধ উদাস গলায় বলেছিল-  বাঃ এইটুকু আর জাইনতে পারবো নাই?আজ চাইর বচ্ছর ধরে উদের দেইখছি না আমি? উদের যতবার দেখেছি সব্বদাই এক সঙ্গে! বিজোড় কখুনও হয় নাই! দেইখেছেন না উর চোখের কষ্ট! বউটা মইরে যাওয়ায় পরান ফাইটে যাচ্ছে উর! 

 

  জবাবে মাঝ বয়েসী শিক্ষিত সাংবাদিক দু বার তাঁর ক্যামেরা ফ্ল্যাশ করেছিলেন দৃশ্যপটের ছবি তুলতে। প্রেসে পাঠানোর আগে পরিচ্ছন্ন একখানা ছবি রিপোর্টের সংগে তাঁকে পাঠাতে হবে দৈনিকের পাতায়। কিন্তু একখানা বিশ্বাসযোগ্য রিপোর্ট তৈরীর জন্য গ্রামবাসীদের কাছেও কিছু জানার ছিল তাঁর। সেই জন্যই বিন্দিকে এতসব প্রশ্ন করা। ছবি তোলা শেষ করে রিপোর্টার জানতে চেয়েছিলেন- কিন্তু গাঁয়ের আর কেউতো এদের কথা কিছু বলতে পারলো না। তুমি এতসব জানলে কোথা থেকে?                                           

   

   বিন্দি মুখ নামিয়ে কিছুক্ষণ থেমে থেকে বলেছিল -   আমি সব বুইঝতে পারি! বহু বচ্ছর কাছ থিকে উদের দেইখেছি কিনা, তাই সব জানি আমি। দু দিনের বিষ্টিতে এদিককার চাইরধার ডুবে গেলে উরা রাত্তিরে পাইলে যাচ্ছিলো আরেক গাঁয়ে। আর তক্ষুনি ওই টেরাকখানা... হঠাৎই গলার স্বর বুঁজে আসায় চুপ করে গিয়েছিল বিন্দি। 

মেয়ের কথা শুনে অযথাই একটুখানি হেসে উঠেছিল বিন্দির বাবা, সাঞ্চা হাড়ং। সবিনয়ে বলেছিল - উর কথায় কিছু মনে কইরবেন না সাব! আপনি নিজে দেইখে শুইনে যা বুঝেছেন তাইই লিখবেন। উর কথায় ইখানে কেউ কিছু মনে করে না। সবাই জানে উ এই রকমই! উ যা বলে তার কুনো মানে হয় না!                        

 

   বিন্দির চোখ থেকে জল গড়াচ্ছিল তখনও। প্রেমিক কংক্রীটের রাস্তায় পড়ে কাতরাচ্ছিল ভেতরের যন্ত্রনায়। তার গাঢ় বাদামী চোখ থেকে উপছে পড়ছিল অশ্রুর প্লাবন। সেদিকে তাকিয়ে বিন্দি এবার কাতরভাবে বলে উঠলো -  ক্যান তুই আন্ধার রাতে পথ ডিঙাইতে গেলি শাম্বা? ক্যান পথের পাশেই বইসে থাকলিনে? তুরে সেই কথা কি কাল বারবার আমি বলি নাই? কতবার সাবধান কইরেছি তুদের! ওর নাম বুঝি শাম্বা? রিপোর্টারের চোখে প্রশ্ন জেগেছিল ফের।                                                                                              

 

  উত্তরে এবারেও অর্থহীন হেসেছিল বিন্দির বাপ -  বিন্দি উই নামেই ডাইকতো উদের সাব। আমার মেয়েটা পথে ঘাটে ঘুইরে বেড়ায় সব সুময়! সবাই জানে উ এই রকমই। ইখানে উকে তাই কিছু বলে না কেউ। 

 

   বাবার কথায় কান না দিয়ে এবার মেয়েটার মুখে ক্যামেরা ফ্ল্যাশ করলেন প্রবীন সাংবাদিক। বিন্দি ক্রমেই তাঁর মনোযোগ আকর্ষণ করছিল। রিপোর্টার হিসেবে সব গলিঘিঞ্জির খবর জানতে প্রতিদিন বহু ধরনের জায়গায় তাঁকে  ছুটে যেতে হয়। কিন্তু একটি উপজাতি পাড়ার অশিক্ষিত মেয়ের হৃদয়ানুভূতির এমন খবর তাঁর কাছে বড় নতুন। বিন্দির অশ্রু বিসর্জন আন্তরিক। মুখের ওপর ছড়িয়ে থাকা বিষন্নব্যথার ছায়া স্পষ্ট। চোখ থেকে ক্যামেরা সরিয়ে মেয়েটির মুখের দিকে গভীর দৃষ্টিতে তাকালেন সাংবাদিক। মনে মনে উচ্চারণ করলেন-  প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সঙ্গে মানবিকতার সংযোগ থাকে কি?    

 

   পরশু ভোর রাত থেকেই শুরু হয়েছিল ঝমঝমে বৃষ্টিটা। একটানা তার বর্ষণ এমনভাবে চলছিল যেন সেটা শীত ঋতু নয়, শ্রাবণ মাসের ঢিলেঢালা প্রকৃতি। মাঘের শীতে এমন বৃষ্টি এখানে কখনোই হয় না। কেবল মাঘের শীতে নয়, বর্ষা মৌসুমেও অনিয়মিতভাবে ছিঁটেফোঁটা বৃষ্টিপাত হওয়ার কারণে ধনধান্যপুষ্পে ভরা জায়গা এটি নয়। দু’দিনের টানা বৃষ্টির অফুরন্ত জল শুকনো পাথুরে মাটি প্রবল তৃষ্ণায় শুষে না নিতেই তাই ভেসে গিয়েছিল চারপাশ। কিন্তু বৃষ্টির শরীর জুড়ে তখনো যেন তুমুল উত্তেজনা। একটানা এমনভাবে সে ঝরছিল, যেন পুরো আকাশটাকেই সর্ব শক্তিতে ছিঁড়ে আনবে পাথুরে মাটির হৃৎপিন্ডের ওপরে। প্লাবন বইয়ে বহু বছরের মরুতৃষ্ণা ভিজিয়ে দেবে সে।        

 

   জায়গাটা একেবারে প্রত্যন্ত পল্লী নয়। এখানকার শক্ত মাটির পাঁজর ঠেলে যে হাইওয়েটি চলে গেছে শহরের দিকে, তাকে কেন্দ্র করে বছর কয়েক ধরে ধীরে ধীরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে গড়ে উঠেছে একটি প্রাইমারি স্কুল। ছোট খাটো খুচরো বাজার। খুপরির মতো এক কামরার সিনেমা হল। তিন চারটে চায়ের দোকান। রুটি, ভাত আর মাংস রান্নার সস্তা হোটেল। সীমান্ত এলাকা থেকে মালামাল বোঝাই হয়ে হররোজ যে ট্রাকগুলো শহরের দিকে মাল খালাস দিতে চলে যায়, এসব আয়োজন তাদের মজুর আর ড্রাইভারদের জন্য।   

 

   জায়গাটা পাথুরে হবার জন্য সঙ্গত কারণেই অনুর্বর। গুল্মজাতীয় হালকা ছোট ছোট জঙ্গল ছাড়া গভীর বন নেই কোথাও। তারই একটা জঙ্গলের মধ্যে শাম্বা আশ্রয় নিয়েছিল বছর কয়েক আগে। সম্ভবত শিকার করতে গিয়ে কারুর পাতা ফাঁদে পড়ে দারুণ মারের চোটে পা ভেঙেছিল তার। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটতো সে। বিন্দি তাকে আপন করে নিয়েছিল। অনেককাল পরে একদিন হঠাৎ উৎফুল্ল চিত্তে সে আবিষ্কার করেছিল, শাম্বার সঙ্গিনী জুটেছে একজন। আনন্দিত ভঙ্গিতে জঙ্গলের আড়ালে ছুটোছুটি করে তার সঙ্গে মশগুল হয়ে খেলছে শাম্বা। দেখেই খিলখিলিয়ে হেসে উঠেছিল বিন্দি -  উ কে রে শাম্বা? কুথা থিকে এলো?                                                    

 

  প্রশ্ন শুনে কাঁধ ঘুরিয়ে প্রসন্ন মুখে তার দিকে তাকিয়েছিল শাম্বা। এ নামের সঙ্গে দীর্ঘকাল ধরে পরিচিত সে। বিন্দিই দিয়েছিল নামটা। সেই শুরুতেই। একদিন তার সঙ্গিনীর মতো শাম্বাও বিন্দির চোখের সামনে হঠাৎই এসে পড়েছিল। মেয়েটি তখন বারো বছরের কিশোরী। কিন্তু শাম্বার অসহায়ত্ব মুহূর্তেই তাকে মাতৃত্বের স্নেহে ছুঁয়েছিল। কিশোরীর স্নেহের স্পর্শ নিতে বেশি দেরি করেনি শাম্বা। বিন্দির সঙ্গে এক আদি অকৃত্রিম সম্পর্কে তার বন্ধন জন্মেছিল।

 

   এখন আর তার যখন তখন উপস্থিতি বিচলিত করে না শাম্বাকে। তাই বিন্দির মুখে ক্ষণিকের জন্য বাদামী চোখের পলক ছুঁড়েই সঙ্গিনীর সঙ্গে সে ফের প্রণয় খেলায় মেতে উঠছিল। বিন্দি হাসতে হাসতে বলেছিল - উকে যে জুটাইলি খাবার আইসবে কুথা থিকে? এমুন পাত্থর জমিনে কুথা থিকে শিকার মিলবে? কে উকে খাওয়াবে?তুই? আমি কিন্তুক রোজ হোটেলে যেতে পাইরবো নাই। বলতে বলতেই খুশীতে নরম মখমলি হাসি ফুটেছিল বিন্দির ঠোঁটের ফাঁকে।

 

   শাম্বার সঙ্গিনী জোটায় খুব খুশি হয়েছিল বিন্দি। এতে কেবল শাম্বার একাকীত্বের নিঃসঙ্গতা ঘুচে যাওয়া নয়। সময়ে অসময়ে সঙ্গিনী শিকারও জুটিয়ে আনতে পারবে তার জন্য। এখন বিন্দিকেই রোজ ড্রাইভার কুলিদের উচ্ছিষ্ট হোটেল থেকে কুড়িয়ে এনে দিতে হয়। খোঁড়া পায়ে মরু মাটিতে শিকার ধরা প্রায় দুঃসাধ্য শাম্বার পক্ষে। উপোস দিতে দিতে একদিন প্রায় মরতে বসেছিল সে। হঠাৎই বিন্দির চোখে ধরা পড়ায় কোনোমতে সে বেঁচে যায়। সেই থেকেই কিশোরীর ভালোবাসার সঙ্গে শাম্বার পরিচয়। বিন্দি কান্না থামিয়ে বললো -  কাল রাত্তিরে চাইরপাশ জলে ভাইসতে উরা ঘর ছেড়ে চইলে আসে! তারপর আন্ধার পথে উইঠে আসতেই ওই টেরাক্ শাম্বার পা দুইটা পিষে দিয়ে গেলো! উর পা দুইটা কমজোর হওয়ায় ঠিকমতো চইলতে পারতো না তো! তুমি কি এসব নিজের চোখে দেখেছিলে বিন্দি? রিপোর্টারের সন্ধিৎসু চোখে কৌতূহলের ছায়া ফোটে।                                                   

 

   জবাবে নিঃশব্দে মাথা নাড়ায় বিন্দি। নিজের চোখে কোনোকিছুই দেখেনি সে। কিন্তু কেবল চোখের দেখাতেই কি সবকিছু জানা যায়, অন্তরের ভালোবাসা অন্ধ হয়ে থাকলে? অন্তর দিয়ে দেখতে না পেলে সেই দেখা কি আর দেখা হয়? বিন্দি তো ভালোবাসার দৃষ্টি দিয়েই তার জগতটাকে দেখতে পায়। শাম্বার সঙ্গিনীর অসহায় আকুতি এখনো তাই নাড়া দিলো তাকে।                                                     

 

   কিছুসময় নীরব থেকে নিঃশ্বাস ফেলে বললো -  সারা রাত শাম্বাকে এইভাবে দেখে উ পাগল হইয়ে যাচ্ছিলো সাব! খুব ছুটাছুটি কইরছিল সারা রাস্তা ধরে! আর তক্ষুনি আরেকটা টেরাক এসে বউটারে পিষে দিয়ে গেলো!                                 

সাংবাদিক আর কিছু জিজ্ঞেস করলেন না তাকে। গাড়ী এ্যাক্সিডেন্টে রোজ কত শত মূল্যবান মানব প্রাণ ঝরে যাচ্ছে, আর এতো জঙ্গলের দুটো বন্য বনচর প্রাণী। শুধু আত্মতুষ্টির জন্য মানুষ লক্ষ লক্ষ অসহায় জীবকে হত্যা করে নিত্য দিন। হত্যা করে তাদের খাদ্য তালিকা বাড়াতে। হত্যা করে শিকারের নেশায় বীরত্বের গৌরবগাথা শোনাতে। সৃষ্টির সর্বসেরা জীব মানুষ, মানবেতর প্রানী হত্যাকে হত্যা বলেই মানে না।  

 

   শাম্বা সর্বস্ব খুইয়ে সর্বসেরা জীব মানুষের উপস্থিতিতেও আর্তনাদে ফেটে পড়ছিল সারাক্ষণ। তার শোকাতুর জীবনের অসহায় আর্তি, বুকের পাঁজর ঠেলে ফোঁটায় ফোঁটায় রক্ত হয়ে ঝরে পড়ছিল চারপাশে। ঝরে পড়ে মিশে যাচ্ছিলো প্রেমিকার তাজা রক্তের ধারায়! নিরন্তর শোকে অঝোরে কাঁদছিল সে। শাম্বার চোখের জলে ভাসতে ভাসতে ষোলো বছরের বিন্দি হাড়ং বিশ্বের কোমলতম আহত হৃদয়ের ভাষায়, অনর্গল সান্ত্বনার বাণী শোনাচ্ছিল তাকে - শাম্বা! মানিক আমার কান্দিস নাই বাপ! উ তো আর কখুনো মরণ থিকে ফিরে আইসবে নাই! তু ভালো হইয়ে যা! আমি আছি! আমি তুকে দেইখবো!                                                     

 

   এতবড় করুণ দৃশ্যপটেও উপস্থিত মানুষগুলো অন্ধ ছিল। বেদনার বদলে কৌতূহলের মুখরতা ফুটছিল তাদের কথায়। বিন্দির কথা শুনে কৌতুকে পরিহাসে থেকে থেকে তারা হাসছিল। কেনই বা হাসবে না মানুষগুলো? মানুষের হৃদয়ের ভাষা পশুদের বোধগম্য হয়, এমন অদ্ভুত কথা জগতে কে শুনেছে কোনকালে? পশুর মানসিকতায় কোথায় সেই চেতনা, যা দুঃখসুখের খেলা খেলে অনুভূতির স্তর ছুঁয়ে? এমন ভাবনার প্রতিধ্বনি এবার শোনা গেলো শিক্ষিত সাংবাদিকের জিজ্ঞাসায়। তিনি অবাক হয়ে জানতে চাইলেন -  আচ্ছা বিন্দি তোমার মনে হয়, শেয়ালটা তোমার কথা বুঝতে পারছে? কিংবা মরে যাওয়া অন্য শেয়ালটার জন্যই এভাবে চীৎকার করছে সে?                                              

 

   এমন জিজ্ঞাসায় সাংবাদিকের মুখে কিছুক্ষণ আহত দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো কিশোরী। পরে বিষন্ন গলায় বললো - মানুষ ভালোবাসার কথা সব্বদা বুইঝতে পারে না সাব! কিন্তুক উদের ভালোবাসা দিলে উরা কখুনও বুঝায় ভুল করে না! আর ইকে চীৎকার ক্যান বইলছেন? ইতো উর পরাণ ফাটা কান্না আছে! উর ভালোবাসার জনটা মইরে গেলো, আর উ কাইন্দবে নাই? উ কি পাত্থর আছে?         

 

   ঘরে ফিরে দৈনিকের জন্য রিপোর্ট লিখতে বসলেন সাংবাদিক। রোজই তাঁকে চাকরীর কমিন্টমেন্ট হিসেবে এই নির্দিষ্ট কাজটি করতে হয়। সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে মানবিকতা অনুশীলনের বিষয় অবশ্যই গ্রাহ্য। কিন্তু সেখানে কল্পনার জালসৃষ্টি বড় রকমের অপরাধ বলে গণ্য। তার দায়িত্ব আর অধিকার, সত্য প্রকাশের দুরন্ত সাহস আর সততার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু আজ তার ব্যত্যয় হলো সাংবাদিকের জীবনে। হঠাৎ ষোলো বছরের বিন্দি হাড়ং তার রুক্ষ চুলের বোঝা আর অযত্নে লালিত চেহারা নিয়ে বারবার ভেসে উঠতে লাগলো প্রবীন সাংবাদিকের অনুশীলিত মনের মধ্যে। পৃথিবীতে প্রতিনিয়ত জন্ম মৃত্যু ঘটে চলাই নিয়তি। কিন্তু মানবেতর প্রাণীদের জন্ম মৃত্যুর হিসেব রাখে কে? তাদের আকুতি নিয়ে সংবেদনশীল অনুভূতি অশিক্ষিত বিন্দির মতো তাঁর শিক্ষাগর্বী মনে তাই কোনোদিনও জাগেনি। বন্য জীবের মৃত্যুশোকে একবারও অশ্রুপ্লাবিত হয়নি তাঁর ভূয়োদর্শী চোখ দুটো। বিন্দি হাড়ং এর মতো একবারও প্রেমের আকুতিতে তাদের জীবনকাহিনী নিয়ে প্রেমকাব্য জন্ম নেয়নি তাঁর কল্পনায়।

 

   কিন্তু আজ সবই এলোমেলো হলো। সহসা অশিক্ষিত মেয়েটি সাংবাদিকের পাথর হয়ে যাওয়া হৃৎপিণ্ডের ওপরে কোমলতনু ফুলের মতোই যেন ফুটে উঠলো রূপে রসে। সভ্যতার বুক থেকে ভারী পাথরটা সরিয়ে ফেলতে কলম তুললেন রিপোর্টার। চশমার আড়ালে ঢাকা পড়ে থাকা চোখ দুটোও বুঝি বা ভিজে উঠলো একটুখানি। সাংবাদিকতা করতে গিয়েও শিক্ষিত সাংবাদিক লিখে ফেললেন এক ভালোবাসার গল্প। অজান্তেই পরম যত্নে যার শিরোনাম হলো- “পাথরেও ফোটে ফুল”।   

Share on Facebook
Share on Twitter
Please reload

জনপ্রিয় পোস্ট

I'm busy working on my blog posts. Watch this space!

Please reload

সাম্প্রতিক পোস্ট
Please reload

A N  O N L I N E  M A G A Z I N E 

Copyright © 2016-2019 Bodh. All rights reserved.

For reprint rights contact: bodhmag@gmail.com

Designed, Developed & Maintained by: Debayan Mukherjee

Contact: +91 98046 04998  |  Mail: questforcreation@gmail.com