ইদের ইফতার পালিত হল মন্দিরে

19.06.2018

 

গোরক্ষকদের তাণ্ডবে ঝরছে রক্ত।

 

কালবুর্গি, গৌরী লঙ্কেশের হত্যায় প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে সহিষ্ণুতার ঐতিহ্য

 

দেশে সহিষ্ণুতা ও বহুত্ববাদের সপক্ষে সওয়াল করছেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি।

 

আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন রোহিত ভেমুলারা।

 

   একের পর এক ঘটনায় প্রশ্নের মুখে দেশের ধর্মনিরপেক্ষতা। কিন্তু পরিস্থিতি কি একটুও বদলাচ্ছে? বলা কঠিন। কিন্তু এরকম এক সময়ে দাঁড়িয়ে এক বিরাট ব্যতিক্রমের সাক্ষী থাকল গোটা দেশ। মনে করিয়ে দিল পণ্ডিত নেহরুর সেই কথা, “সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করাটা দেশের সংখ্যাগুরুদেরই দায়িত্ব”। রবিবার সন্ধ্যে তারই সাক্ষী থাকল লখনউয়ের মনকামেশ্বর মন্দির। সন্ধ্যে নামতে গোমতী নদীর তীরে দালিগঞ্জ সেতুর পাশে প্রায় হাজার বছরের মন্দির সেজে উঠল আলোয়। মানুষের ভিড়ে তখন জমজমাট গোটা মনকামেশ্বর মন্দির চত্বর। প্রধান পুরোহিত থেকে শুরু করে মন্দিরের সাধারণ কর্মীদের মধ্যেও তখন চূড়ান্ত ব্যস্ততা। কিন্তু কেন? না কোনো দেবতার পুজো বা আরতি নয়, মন্দিরে আয়োজন করা হয়েছিল ইফতার পার্টির। আর সেই ইফতারে উদ্যোক্তা স্বয়ং মন্দিরের প্রধান পুরোহিত। এটাই ঘটল রবিবার লখনউয়ের মনকামেশ্বর মন্দিরে। গোটা আয়োজনের উদ্যোক্তা মন্দিরের প্রধান পুরোহিত মহন্ত দেব্যাগিরি। হাজার বছরের ইতিহাসে তিনিই হলেই এই মন্দিরের প্রথম মহিলা পুরোহিত। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই একের পর এক ব্যক্তিক্রমী সিদ্ধান্তে শিরোনামে এসেছেন তিনি। তবে রবিবার বোধহয় সবকিছুকে ছাড়িয়ে গেলেন। মজার কথা, এই কাণ্ডের পরও তিনি একেবারেই নির্লিপ্ত। বলেছেন, এর মধ্যে বিরাট কোনো ব্যাপারই নেই। একদল মানুষ যারা সারাদিন না খেয়ে আছে, দিনের শেষে তাদের মুখে একটু খাবার তুলে দেওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। এটা বিরাট কোনো কাজ নয়, সামান্য বিষয়।

 

   রমজান মাস পড়ার পরই এই ভাবনা তাঁর মাথাতে আসে। যেমন ভাবা তেমন কাজ। রবিবারের দিনটাকেই মন্দির চত্বরে ইফতারের জন্য বেছে নেন তিনি। সকাল থেকেই মন্দিরের তিন রাঁধুনিকে কাজে লাগিয়ে দেন। তারা খাবার দাবার যোগাড় ও রান্নাবান্নায় লেগে পড়ে। তাদের আশা ছিল মোটামুটি দু’চারশো লোক হবে। কিন্তু সব প্রত্যাশাকে ছাপিয়ে তাদের আমন্ত্রণে রোজা রাখা প্রায় পাঁচশো মুসলিম এই ইফতারে যোগ দিলেন। জমিয়ে খাওয়া দাওয়া সহ রোজা ভাঙেন তারা। এরপর মন্দিরের আরতি স্থলেই বসে নমাজ পাঠের পর্ব। সব মিলিয়ে গোটা ঘটনায় আপ্লুত আমন্ত্রিতরা। খুশি মন্দিরের পুরোহিত ও কর্মীরাও। তারাও সারাদিনের ক্লান্তি সরিয়ে রেখে আমন্ত্রিতদের সেবায় লেগে ছিলেন।

 

   এ এক নতুন ইতিহাস। মোহান্ত দেব্যাগিরি বলছেন, প্রত্যেক ধর্মেরই উচিত সবার মধ্যে ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগিয়ে তোলা। পুরোহিত, ইমাম, সন্ত, মহন্ত, যাজকদের দায়িত্ব আরও বেশি। তাদের উচিত সংহতির বাণী প্রচার করা। এটাই এদেশে ঐতিহ্য। আর তা মেনেই এই কাজ করেছেন তিনি।ল তবে মোহান্ত দেব্যাগিরি যতই যতই সামান্য কাজ বলে এড়িয়ে যান না কেন, তাঁর উদ্যোগ কিন্তু নজর কেড়েছে গোটা দেশের।  হিমালয় থেকে কন্যাকুমারী, আলোচনায় চলে এসেছে যোগী রাজ্যের এই হাজার বছরের পুরোনো মন্দির, আর সেই আলোচনার কেন্দ্রে এক অখ্যাত পুরোহিত, মোহান্ত দেব্যাগিরি।

 

   যোগীরাজ্যে বারবার আক্রান্ত হয়েছে দলিত থেকে সংখ্যালঘুরা। বারবার প্রশ্নের মুখে পড়েছে দেশের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র। সেই যোগী রাজ্যের একটা ছবিই কিন্তু আন্তর্জাতিক মঞ্চে ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের সেরা বিজ্ঞাপন হয়ে রইল, অন্তত এখনও পর্যন্ত। 

Share on Facebook
Share on Twitter
Please reload

জনপ্রিয় পোস্ট

I'm busy working on my blog posts. Watch this space!

Please reload

সাম্প্রতিক পোস্ট
Please reload

A N  O N L I N E  M A G A Z I N E 

Copyright © 2016-2019 Bodh. All rights reserved.

For reprint rights contact: bodhmag@gmail.com

Designed, Developed & Maintained by: Debayan Mukherjee

Contact: +91 98046 04998  |  Mail: questforcreation@gmail.com