লক্ষ্য ২২!

22.06.2018

বিশেষ প্রতিনিধি: টার্গেট ২২!‌ ২০১৯–‌এ আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ থেকে মোট ৪২টি আসনের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি— প্রায় ২২টি আসন তুলে নেওয়াই তাঁদের লক্ষ্য বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন বি জে পি–‌র সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। এর পর অবশ্য গঙ্গা দিয়ে অনেক জল গড়িয়ে গেছে। গোটা দেশের বেশ কিছু লোকসভা ও বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর বি জে পি–‌র পায়ের নীচের মাটি যে ক্রমেই বেশ আলগা হতে শুরু করেছে, তার নজির মিলেছে। মোদি–‌ম্যাজিক যে অস্তমিত প্রায় এবং তাঁর বহুচর্চিত ও বহুনিনাদিত ‘‌অচ্ছে দিন’‌ এসে যাওয়ার স্বপ্নও যে ভেঙে গেছে ইতিমধ্যে— সে প্রমাণও একের পর এক উঠে এসেছে। আমআদমি যে এবার আস্তে আস্তে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে, বি জে পি এবং নরেন্দ্র মোদি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে— এমন বহু ঘটনাই সামনে এসে যাচ্ছে। পাশাপাশি আসন্ন লোকসভা নির্বাচনকে ঘিরে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির জাতীয় স্তরে বি জে পি–‌বিরোধী ফেডারেল ফ্রন্ট গড়ার উদ্যোগও ক্রমশ দানা বাঁধছে। জাতীয় স্তরে বি জে পি–‌র প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বা নির্বাচনী শত্রু কংগ্রেস এবং তাদের সেনাপতি রাহুল গান্ধীর সঙ্গে মমতা এবং অন্য বিরোধী দলের নেতাদের কথা চালাচালি শুরু হয়ে গেছে। অন্যদিকে বি জে পি–‌র বেশ কিছু পুরনো বন্ধু ও শরিক দল তাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। সব মিলিয়ে বি জে পি–‌র কাছে কিন্তু এটা বড় সুসময় নয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও নিজের বলা কথা থেকে কিন্তু কখনোই পিছু হটছেন না দলের দু’‌নম্বর অমিত শাহ। বরং সেই লক্ষ্যে অচিরেই যে পশ্চিমবঙ্গে তাঁদের টার্গেট ফুলফিল করতে নির্বাচনী কৌশলকে আরও সুদৃঢ় করে সাজিয়ে তুলতে চলেছেন তিনি এবং তাঁর দলের হাইকম্যান্ড— সেটা জানা যাচ্ছে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনাবলি থেকে। যেমন সম্প্রতি কেন্দ্র থেকে তিন নেতাকে এ রাজ্যে পাঠানো হয়েছিল কর্মী ও নেতাদের চাঙ্গা করে তুলতে। লক্ষ্য হল, রাজ্য নেতাদের এখন থেকেই আসন্ন লোকসভা ভোটের নিরিখে সুকৌশলী করে তোলা। প্রসঙ্গত, গত মাসের শেষে দিল্লির এক পাঁচতারা হোটেলে সাংবাদিক সম্মেলন করার সময় পশ্চিমবঙ্গের মোট ৪২টি লোকসভা আসনের মধ্যে ২২টি দখল করে নেওয়ার ব্যাপারে ফের জোর দিয়ে তাঁর আগের বলা কথাতেই অনড় থাকেন অমিত। সাংবাদিকরা সেদিন তাঁর এই বক্তব্যের পিছনে যুক্তির বিষয়টি জানতে চাইলে অমিতের স্পষ্ট জবাব ছিল, দলের কৌশল তিনি সাংবাদিকদের কাছে খোলসা করতে চান না!‌ আসলে, এই রাজ্যে সাম্প্রতিক পঞ্চায়েত নির্বাচনের শেষে ফলাফল অনুযায়ী প্রাপ্ত আসনের ভিত্তিতে বি জে পি–‌র দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসাটাই যে অমিতের এই জোরের কারণ, সেটাই মনে করছে রাজনৈতিক তথ্যাভিজ্ঞ মহল। এই নির্বাচনে বি জে পি–‌র মূল সেনাপতি ছিলেন তৃণমূলের প্রাক্তন দ্বিতীয় মুকুল রায়। পঞ্চায়েত ভোটে মুকুল ও তাঁর দলবলের ভূমিকায় খুশি বি জে পি সভাপতি অমিত শাহ যে আসন্ন লোকসভা ভোটে তাঁর ওপরেই ফের আস্থা রাখতে চান, সেটা ইতিমধ্যে পরিষ্কার হয়ে গেছে। দিলীপ ঘোষরা দিল্লির কথা শুনে চলতে বাধ্য, মনে তাঁদের যা–‌ই থাকুক না কেন!‌ বি জে পি হাইকম্যান্ডের তরফে মুকুলকে তাই আগামী লোকসভা ভোটের নিরিখে বেশ বড়সড় ভূমিকা বা দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেই জানা গেছে। পঞ্চায়েতে প্রাপ্ত ভোটের নিরিখে তৃণমূলের থেকে যে ৯ শতাংশ পিছিয়ে রয়েছে বি জে পি, সেটা মাথায় রেখেই ব্যবধান ঘোচানোর জন্য প্রয়োজনীয় সাড়ে ৪ শতাংশ ভোট কেটে নেওয়ার ছক কষা শুরু করে দিয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। আর এই ভোট কাটার ক্ষেত্রে আসল কারিগর যে হয়ে উঠতে পারেন মুকুল রায়, সেটাও মনে করছেন তাঁরা। এ ক্ষেত্রে মুকুলের সক্রিয় ভূমিকা যে আদতে দলের পক্ষে কার্যকরী হয়ে উঠতে পারে, সেটাও বি জে পি হাইকম্যান্ডের ভালোই জানা আছে। সেই লক্ষ্যেই জুনের প্রথম দিকেই দিল্লি থেকে দলের তিন কেন্দ্রীয় নেতা ঘুরে গেলেন বাংলায়। তাঁদের লক্ষ্য ছিল, ২০১৯–‌এর সাধারণ নির্বাচনের প্রেক্ষিতে বি জে পি–‌র রাজ্য নেতাদের করণীয় কী হবে তা স্পষ্ট করে দিয়ে যাওয়া। এই দলে বাংলায় বি জে পি–‌র পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয় ছাড়াও ছিলেন দলের অন্যতম সাধারণ সম্পাদক শিব প্রকাশ ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (‌সংগঠন)‌ সৌদান সিং। ভোটের কথা মাথায় রেখেই রাজ্য নেতাদের নিয়ে বেশ কিছু কমিটি গড়ে দিয়ে যাওয়ার কথাও আছে এই কেন্দ্রীয় নেতাদের। কমিটিগুলির মাথায় কারা কারা থাকবেন, সেটাও তাঁরাই সিদ্ধান্ত নেবেন। গত পাঁচ বছরে দেশের স্বার্থে কেন্দ্র সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে মানুষকে বোঝানোর ওপর জোর দিতে বলা হয়েছে রাজ্য নেতাদের। মোদির আমলে জ্বালানির দামবৃদ্ধি–‌সহ ব্যাঙ্কের টাকা লোপাট ইত্যাদি বিষয়ে মানুষের মনে যে ক্ষোভ বা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে, সেগুলি কীভাবে মোকাবিলা করতে হবে, সেই পথও বাতলে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা বলে জানা গেছে। সব মিলিয়ে লোকসভা ভোটে লড়াইয়ের প্রস্তুতি জোরকদমে শুরু করে দিয়েছে বি জে পি। এমনকি এ রাজ্যে আসন্ন লোকসভা ভোটে ভালো ফল করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ দলের মাথারা নতুন কার্যালয় খোলা এবং জেলায় জেলায় প্রায় ৩৫০টি মোটরবাইকও দিতে চলেছেন কর্মীদের কাজ ও প্রচারের সুবিধার্থে— এটাও জানা গেছে বিশ্বস্ত সূত্রে। লোকসভা ও বিধানসভা আসন–‌পিছু আগে থেকেই বাছাই করে রাখা সংগঠকদের এই মোটরবাইক দেওয়া হবে অচিরেই। গোটা দেশের পরিস্থিতি যা–‌ই হোক না কেন, এ রাজ্যে কিন্তু প্রাপ্ত ভোটের হার বা সমর্থন বেড়েছে বি জে পি–‌র, এটা ঘটনা। সেই কারণে ইতিমধ্যে মূল সংগঠন–‌সহ শাখা ও সহযোগী সংগঠনগুলির প্রসার ও আধিপত্য বেড়েছে বিভিন্ন এলাকায়। তাই পুরনো রাজ্য কার্যালয় কাজের পক্ষে অকুলান হওয়ায় অন্য কার্যালয় ভাড়া নেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে। আসলে পঞ্চায়েত ভোটে কিছুটা সাফল্যের মুখ দেখায় নড়েচড়ে বসেছে দল। আসনভিত্তিক প্রস্তুতি শুরু করে দেওয়া ছাড়াও সম্ভাবনাময় এবং ভালো হিসাবে ২২টি লোকসভা কেন্দ্রকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর পর চলতি মাসেই সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করে লোকসভায় লড়ার প্রস্তুতি জোরকদমে শুরু করে দিতে চান দলের রাজ্য নেতৃত্ব।
‌‌

Share on Facebook
Share on Twitter
Please reload

জনপ্রিয় পোস্ট

I'm busy working on my blog posts. Watch this space!

Please reload

সাম্প্রতিক পোস্ট
Please reload

A N  O N L I N E  M A G A Z I N E 

Copyright © 2016-2019 Bodh. All rights reserved.

For reprint rights contact: bodhmag@gmail.com

Designed, Developed & Maintained by: Debayan Mukherjee

Contact: +91 98046 04998  |  Mail: questforcreation@gmail.com