নগর পরিচালনা চ্যালেঞ্জ: প্রেক্ষিত ঢাকা (দ্বিতীয় পর্ব)

 

 

 

বিভক্ত সিটি করপোরেশন ও সেবা ব্যবস্থাপনা:

 

পূর্বতন ঢাকা সিটি করপোরেশনের ১০টি প্রশাসনিক জোনের ৯২টি ওয়ার্ডকে দুটি গুচ্ছে ভাগ করে দিয়ে ঢাকা সিটি করপোরেশন (দক্ষিণ) ও ঢাকা সিটি করপোরেশন (উত্তর) সৃষ্টি করা হয়েছে। এ বিভক্তির ফলে সৃষ্ট প্রশাসনিক জটিলতাগুলো বিভক্তির প্রথম সাত বছরেও পুরোপুরি নিরসন হয়নি। জটিলতার স্বরূপ ও প্রকাশের কিছু নমুনা নি¤œরূপ:

  • সিটি করপোরেশনের জনবল নতুন দুটি সিটি করপোরেশনে পদায়ন এবং নতুন পদ সৃষ্টি ও ঐ পদে নিয়োগ বিষয়ক জটিলতার কারণে সেবার পরিমাপ ও মানে প্রভাব পড়েছে;

  • সিটি করপোরেশনের মধ্যে সম্পদ বণ্টনে বৈষম্য ও জটিলতা, কারণ মূল নগর ভবনটি দক্ষিণের ভাগে পড়ে যাওয়ায় উত্তরের জন্য নতুন ভবন নির্মাণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে;

  • সিটি করপোরেশনেই উন্নয়ন ও সেবা ব্যয়কে ছাড়িয়ে প্রশাসনিক বা অনুন্নয়ন ব্যয় আগামীতে আরও বৃদ্ধির আশংকা এবং তা নাগরিকদের উপর করের বোঝা বাড়ালেও সেবাদানের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে দুই করপোরেশনের কেউই সক্ষমতা দেখাতে পারেনি;

  • দুই সিটি করপোরেশন এলাকার অন্যান্য সেবা প্রতিষ্ঠান যেমন: ওয়াসা, ডেসা, পুলিশ, রাজউকসহ প্রায় সকলই একক প্রতিষ্ঠান হিসেবে থেকে যাচ্ছে। তাই সেবা সমন্বয়ের ক্ষেত্রে জটিলতায় নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে।

 

   বিভক্তির পর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নামে দুটি পৃথক সিটি করপোরেশন কার্যত শুরু হলেও ঢাকার নাগরিক জীবনে এদের সেবা ব্যবস্থার উন্নয়নে কোন দৃশ্যমান পরিবর্তন আসেনি। বরঞ্চ নানা জটিলতার কারণে একীভূত সিটি করপোরেশনে নিয়োজিত ঠিকাদারগণ কিছুদিন কাজ বন্ধ রেখেছিল। স্কুল ভর্তির মওসুমে জন্মনিবন্ধন সনদপ্রাপ্তি, রাস্তাঘাট মেরামত ইত্যাদি কাজে বিঘœ ঘটছে। তবে পরিচ্ছন্নতার রুটিন কাজ চলছে।

 

   অপর কিছু সমীক্ষায় দেখা গেছে, ঢাকা দক্ষিণের এলাকা ও জনসংখ্যা বেশি হলেও উত্তরে সম্পদ সংগ্রহের সম্ভাবনা অধিক। অপরদিকে দক্ষিণে পূর্বতন ডিসিসির প্রধান স্থাপনা মূল ভবনসহ অন্যান্য সেবা কেন্দ্রগুলোর আধিক্য। উত্তরে ঢাকার বিস্তৃতি গাজীপুর ও সাভারের সীমায় আবদ্ধ হয়ে পড়লেও দক্ষিণের ক্ষেত্রে তা বুড়িগঙ্গা নদীর অপরপাড় কেরানীগঞ্জে সম্প্রসারিত হতে পারে। তবে ঢাকার সেবাদানকারী সরকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ যথা ওয়াসা, ডেসা, পুলিশ ইত্যাদি অবিভাজ্য ও একক সংস্থা হওয়ায় সেবা সমন্বয়ে দ্বিকেন্দ্রিক এ ব্যবস্থায় নতুন কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। তাছাড়াও একটি একক নগরীতে দ্বৈত শাসনও নগর পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নে নতুন নতুন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে সেটাই স্বাভাবিক। 

 

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন:

 

   ২০১১ সনে ঢাকা সিটি করপোরেশনকে উত্তর ও দক্ষিণ দুটি পৃথক সিটি করপোরেশনে বিভক্তির পর, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় বিভক্তির চার বছর পর ২০১৫ সনের ২৮ এপ্রিল। এ নির্বাচনের দর্পনে সিটি করপোরেশনকে ঘিরে যে রাজনীতি ও নেতৃত্ব তার একটি প্রতিবিম্ব পাওয়া যাবে। রাজনীতি ও নেতৃত্বকে বিশ্লেষণ করলে সিটি করপোরেশনের সক্ষমতা এবং আধুনিক নগর সেবাকাঠামো বুঝতে কিছুটা সহায়তা হবে।

 

   একটি বিষয় এক্ষেত্রে তথ্য বিশ্লেষণের পূর্বে বলে রাখা প্রয়োজন ঢাকা শহরে শহরের সমস্যাকে পৃথকভাবে দেখে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা নিয়ে কোন দৃশ্যমান রাজনৈতিক অন্দোলন বা তার সাথে সম্পৃক্ত রাজনৈতিক নেতৃত্ব দেখা যায়নি। তাই এ নগরে মেয়র পদে দলের মধ্যে প্রার্থীতার কোন কার্যকর প্রতিযোগিতা নেই। দলসমূহ রাজনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায় নগরের মেয়র প্রার্থী মনোনয়ন দান করে। অতি সাম্প্রতিক সময় থেকে (২০১৫) স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করার বিধান করা হয়েছে। দলীয় প্রতীকের ব্যবহারের পর মেয়র পদটি একটি দলে নেতৃত্বের স্বীকৃতি বা পুরস্কার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

   ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণের ভোটদান ও ভোট প্রাপ্তির ২০১৫ সনের তথ্যসমূহ বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে দেশের প্রধান দুই দলের মধ্যে কীভাবে মেয়র পদের মেরুকরণ হয়। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ভোটার সংখ্যা ছিল ২৩,৪৪,৭৭৮ এবং মেয়র পদের প্রার্থী ছিলেন সর্বমোট ১৬ জন। নির্বাচন শেষে প্রাপ্ত ভোটের হিসাবে দেখা যায় ২০১৫ সনের সিটি নির্বাচনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ভোটে অংশগ্রহণ স্মরণাতীত কালের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ছিল নি¤œতম। প্রায় একই রকমের চিত্র বা প্রবণতা ঢাকা দক্ষিণের ব্যালট বিশ্লেষণেও দেখা যায়। তবে উত্তরের তুলনায় দক্ষিণে ভোটদানের হার বেশি ছিল।

 

   ভোট আচরণের বস্তুনিষ্ঠ ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের জন্য প্রয়োজন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা। ২০১৫ সালের নির্বাচনী ফলাফলকে বস্তুনিষ্ঠভাবে বিশ্লেষণের অবকাশ সীমাবদ্ধ। কারণ এখানে প্রদত্ত ভোট বা ব্যালটের সীল বিশ্বাসযোগ্য নয়। তাই দিন শেষে ব্যালট গণনা করে ফলাফলের যে সংখ্যা তা ভোটের বিশ্লেষণে বা মানুষের সমর্থন-অসমর্থনের সত্যিকারের প্রতিফলন নয়। তবুও একটি সরল বিশ্লেষণ এখানে উল্লেখযোগ্য। তা হচ্ছে ভোটের রাজনীতিতে মূলত বাংলাদেশে একটি দ্বি-দলীয় ব্যবস্থা দৃঢ়ভাবে ভিত্তি তৈরি করেছে। এ দুদল হচ্ছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। দেশে কার্যশীল এবং ঐতিহ্যবাহী অন্যান্য দলগুলো পৃথকভাবে ভোটের রাজনীতিতে কোন প্রভাব ফেলতে পারছে না। অনেক ব্যবধানেও কিছু সমর্থন এখনও ধরে রাখতে সক্ষম হচ্ছে ইসলামিক ধর্মীয় ভাবাদর্শে বিশ্বাসী কিছু দল। তারা এক্ষেত্রে তৃতীয় শক্তি কি-না তা সন্দেহাতীতভাবে বলা না গেলেও ভোটে তারাই তৃতীয় স্থানের অধিকারী।

 

   ভোটের সংখ্যা ও হার এবং দলীয় সমর্থন-অসমর্থনের পর যে বিষয়টির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা প্রয়োজন মনে করছি তা হচ্ছে, মনোনয়নপত্রের সাথে যুক্ত করা মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের হলফনামার কয়েকটি তথ্য, যা মূলত নেতৃত্বের ধরণ ও সক্ষমতার একটি প্রতিফলন হিসেবে দেখা যেতে পারে। এক্ষেত্রে শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক শিক্ষা এবং পেশাগত পরিচয় এ দুটি তথ্য তুলে ধরা যায়। এক্ষেত্রে ২০১৫ সালের নির্বাচনের প্রার্থী এবং নির্বাচিত দুটি গুচ্ছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র, সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত আসনের নারী কাউন্সিলরদের হলফনামার শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ও পেশার বিশ্লেষণটি তুলে ধরলে তাতে দেখা যায় যে: ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৬ জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে নির্বাচিত জনের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতোকোত্তর। ঢাকা দক্ষিণের ২০ প্রার্থীর মধ্যে নির্বাচিত মেয়রের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক। ঢাকা উত্তরের ৩৬টি কাউন্সিলর পদের বিপরীতে ২৭৫ জন প্রার্থী দেখা যায়। নির্বাচিত ৩৬ জনের মধ্যে ৩৫ জনের তথ্যে দেখা যায় যে, ২৩ জন (৬৬%) এসএসসির নীচে, ৩ জন এসএসসি, ৪ জন এইচএসসি, ২ জন স্নাতক এবং ২ জন স্নাতোকোত্তর এবং ১ জনের শিক্ষার কোন তথ্য নেই। একইভাবে উত্তরের ১২টি সংরক্ষিত আসনের নারী কাউন্সিলর পদের প্রার্থী ছিলেন ৮১ জন। নির্বাচিতদের শিক্ষার তথ্য নি¤œরূপ: ৩ জন (২৫%) এসএসসির নীচে, ২ জন এসএসসি, ১ জন এইচএসসি ২ জন করে মোট ৪ জন যথাক্রমে স্নাতক ও স্নাতোকোত্তর। দুই জনের শিক্ষার কোন তথ্য নেই। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২০১৫ সনের নির্বাচনে ৫৭ ওয়ার্ডের জন্য ৩৭৩ প্রার্থী কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচিত ৫৭ জনের মধ্যে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ ২২ জন (৩৮%) এসএসসির নীচে শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ঢাকা শহরের ওয়ার্ডের প্রতিনিধিত্ব করছেন। ২৩ জন (৪০%) এসএসসি ও এইচএসসি পাশ। ৫৭ জনের মধ্যে ১২ জন (২১%) স্নাতক ও স্নাতোকোত্তর।

 

   এভাবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে নির্বাচিত নারী এবং পুরুষ ৩৬+১২=৪৮ জন ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের মধ্যে স্নাতক ও স্নাতোকোত্তর আনুষ্ঠানিক শিক্ষা সম্পন্ন হচ্ছেন সর্বমোট ৮ জন (১৭%) এবং ঢাকা দক্ষিণে ৫৭+১৮ = ৭৫ জনের মধ্যে সংখ্যা ও হার ১৫ (২০%)। আনুষ্ঠানিক শিক্ষা যদিও নেতৃত্বের একমাত্র যোগ্যতা নয় বা এ বিষয়ে কোন আইনি বাধ্যবাধকতাও নেই। কিন্তু একটি আধুনিক মহানগরের নেতা বা নেতৃত্বে এ জাতীয় কম শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রার্থীতা কতটুকু সঙ্গতিপূর্ণ বা আধুনিক নাগরিকদের প্রত্যাশার সাথে যায় কি-না সেটা ভাবার বিষয়। শিক্ষার তথ্যের সাথে প্রার্থী ও নির্বাচিত নেতৃত্বের পেশার তথ্য এবং পরবর্তীতে তাদের কিছু কিছু কাজকর্মের রেকর্ড মিলিয়ে দেখলে ভয়াবহ একটি প্রবণতা দেখা যায়। তার কিছু ইঙ্গিতের জন্য নিম্নে পেশার তথ্যসমূহ সংক্ষেপে উল্লেখ করা হলো।

 

   ঢাকা উত্তরের মেয়র (১৬), সাধারণ কাউন্সিলর (২৭৫) এবং নারী কাউন্সিলর প্রার্থী ৮১ জনসহ সর্বমোট প্রার্থী দাঁড়ায় ৩৭২ জন। তাদের মধ্যে ব্যবসা এককভাবে ২৫০ (৬৭%) জনের পেশা এবং ৮১ জন নারী প্রার্থীর মধ্যে ৩৩ জন গৃহিনী। নির্বাচনের পর নির্বাচিতদের তথ্যে দেখা যায় মেয়র নিজে একজন ব্যবসায়ী এবং শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতা। পূর্বে রাজনীতিতে ছিলেন না কখনও। সাধারণ কাউন্সিলরদের ৩৬ জনের মধ্যে ৩১ জনই ব্যবসায়ী (৮৩%)। নারী কাউন্সিলর পেশার বিচার কিছুটা অপ্রাসঙ্গিক। স্বামী বা পরিবারের প্রধান পেশাটাই এখানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রেও একজন চাকুরিজীবী ছাড়া ১২ জনের মধ্যে ১১ জনের পরিবারেই ব্যবসা আয়ের প্রধান উৎস।

 

   দক্ষিণের মেয়র (২০), সাধারণ কাউন্সিলর (৩৭৩) এবং নারী কাউন্সিলর (৯১) সহ সর্বমোট ৪৮৪ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩৪৫ জন (৭১.২৮%)) ছিলেন ব্যবসায়ী। এ সংখ্যা সাধারণ কাউন্সিলরদের মধ্যে ২৯৯ (৮০%)। নারী কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে ৯১ জনের মধ্যে ৭৮ জনের (৮৫%) পরিবার ব্যবসার সাথে যুক্ত ছিলেন। মেয়রসহ ৭৬ জন নির্বাচিত প্রতিনিধির মধ্যে (মেয়র: ১, সাধারণ কাউন্সিলর: ৫৭ ও নারী: ১৮) ৬১ জন (৮০.২৬%) ই ব্যবসাকে প্রধান পেশা উল্লেখ করেছেন।৪

 

   উপরোক্ত তথ্যসমূহের বিশ্লেষণের সার-সংক্ষেপ করলে দাঁড়ায় অতি স্বল্প শিক্ষিত (এসএসসির নীচে) এবং প্রায় ৭০-৮০% ব্যবসায়ীর হাতে ঢাকা শহরের দুই সিটি করপোরেশনের নেতৃত্ব। তারা কী ব্যবসা করেন সে সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য জানার অবকাশ নেই। তাদের দৃশ্য-অদৃশ্য বহু রকমের ব্যবসা। নেতৃত্বের জোরে ব্যবসা এবং সিটির আনুষ্ঠানিক নেতৃত্ব তাদের বিত্ত-বেসাতের স্ফীতিতে বিরাট অবদান রাখে। ব্যবসাই তাদের পেশা। রাজনীতি ও ব্যবসার একটি অংশ বা উপাদান দিন দিন বাড়লেও কর প্রদানে উন্নতি হলেও কিন্তু অপরাধ জগতে বিচরণ বাড়ে। মোটকথা স্বল্প শিক্ষিত বিত্তবানদের হাতে ঢাকা নগরের সকল উন্নয়ন ও সেবার চাবিকাঠি। (চলবে)

 

   ওপরের আলোচনা থেকে এ বিষয়টিও সুস্পষ্ট যে, পরিবারকে যদি একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে ধরা হয় Ñ তাহলে সে প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে যেমন প্রতিটি সদস্যের পাশাপাশি মূখ্যভূমিকায় অবতীর্ণ যিনি তিনি বিশেষভাবে এবং নিরলস ও নিরবিচ্ছিন্নভাবে যতœ নিয়ে ভাবেন। মনে শক্তি ও সাহস রেখে সকল বিপদের মোকাবেলা করেন। আবার সকলকে সাথে নিয়ে স্বপ্ন সাজান এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থেকে এগিয়ে যেতে থাকেন। তবেই ধরা দেয় সংসারে সুখ, শান্তি ও ক্রমশ সমৃদ্ধি। দুর্ভাগ্যজনক যে, আমাদের নগরগুলোর পরিচালনের ক্ষেত্রে কিছু কিছু সময়ে স্বপ্ন সাজানো হলেও সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য তেমন কোন পদক্ষেপ আমরা লক্ষ্য করি নি। ঢাকার চেহারার দিকে তাকালেই সে চিত্র সহজেই অনুমেয় হয়। এ অবস্থার পরিবর্তন প্রয়োজন যাতে আগামী ২০-৩০ বছরের মধ্যে পুরো দেশ ও সমাজ যখন নগরায়িত হবে এক ভিন্ন মাত্রা, গভীরতা ও উচ্চতায়। সেই সময়ে ঢাকা যেন সবার সামনে নেতিবাচক দৃষ্টান্ত না হয়ে, ইতিবাচক উদাহরণে পরিণত হয়। ফলে এর জন্য করণীয় আমাদের এখনই ভাবতে হবে এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে সেদিকে এগিয়ে যেতে হবে। তা না হলে এসডিজির বাস্তবায়নও (প্রাসঙ্গিকভাবে গোল: ১১) সদূর পরাহতই থেকে যাবে।  

Share on Facebook
Share on Twitter
Please reload

জনপ্রিয় পোস্ট

I'm busy working on my blog posts. Watch this space!

Please reload

সাম্প্রতিক পোস্ট
Please reload

A N  O N L I N E  M A G A Z I N E 

Copyright © 2016-2019 Bodh. All rights reserved.

For reprint rights contact: bodhmag@gmail.com

Designed, Developed & Maintained by: Debayan Mukherjee

Contact: +91 98046 04998  |  Mail: questforcreation@gmail.com