গণতন্ত্রের খোলা হাওয়ায়

 

 

অবশেষে ছাত্রদেরই জয় হল। হ্যাঁ, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা বিভাগের ছাত্রছাত্রীদের একবগ্গা সহসের জয়। বিস্তর চাপান উতরের পর উপাচার্য প্রবেশিকা পরীক্ষা ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হলেন। সরকারী সিদ্ধান্ত তথা শিক্ষামন্ত্রীর অপছন্দই যে একটি স্বাধিকার প্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যশালী ব্যবস্থাকে অঙ্গুলিলেহনে ভেঙে দিতে পারে না- সেই সত্যের জয়। প্রবেশিকা পরীক্ষা না বোর্ডের নম্বরের ভিত্তিতে ভর্তি, কোনটি বেশি বৈজ্ঞানিক পন্থা সেটি নিয়ে আলোচনা চলতেই পারে। এবং গণতন্ত্রে এই আলোচনার পরিসরটি তৈরি করাই সবচেয়ে বেশি জরুরী। আর ঠিক এই জায়গাটিতেই,  সদ্য তরুন হয়ে ওঠা ছাত্র ছাত্রীরা কিছুটা বুঝি দিশাহীন হয়ে পড়ল। সত্যিই কী অনশন ছাড়া তাদের সামনে আর কোন পথ খোলা ছিল না।? হয়ত ছাত্ররা বলবে প্রতিপক্ষ এতই শক্তিশালী কঠিন ও বেপোরোয়া যে আন্দোলনে তূণের শেষ তীরটি ব্যবহার করতে তারা বাধ্য হয়েছে। কাঁচা বয়স এবং অভিজ্ঞতার অভাবের জন্য তাদের এই অস্থির ও হটকারী  মনোভাব মেনে নেওয়া গেলেও, এটা তাদের মনে রাখতে হবে, রাষ্ট্রশক্তির বিরুদ্ধে তারা যখন কঠিন লড়াইয়ে নেমেছে তখন আন্দোলনের নেতৃত্বকারীদের আরো অনেক বেশি  সতর্ক ও সচেতন হতে হবে। আমাদের দেশের সুদৃঢ় গণতান্ত্রিক কাঠামোর কথা মনে রাখতে হবে প্রতি মুহূর্তে। ভুললে চলবে না, গণতন্ত্রকে বাঁচাতে হলে গণতান্ত্রিক পদ্ধতির মধ্য দিয়েই যেতে হবে আমাদের। অগণতান্ত্রিক পদ্ধতির মাধ্যমে যদি গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা হয় তাহলে সেই গণতন্ত্রেরও যে কোন মুহূর্তে পদস্খলন ঘটবে।

         

   গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বরে নবীন যুবা ছাত্রদের অসমসাহসী ব্যারিকেড আমরা দেখতে পেলাম। কিন্তু আন্দোলন সংগঠিত করবার পদ্ধতির ক্ষেত্রে দেখতে পেলাম না সেই গণতান্ত্রিক স্বচ্ছতা। গণতান্ত্রিক আলোচনার পরিসরকে চূড়ান্ত ভাবে ব্যবহার না করার আগেই অনশনে যাওয়া ও প্রতিপক্ষকে ব্ল্যাকমেল করা সমার্থক হয়ে দাঁড়ায়। তাই গণতন্ত্রের প্রহরী হিসেবে আমাদের নিবিড় ভাবে অনুশীলন করতে হবে গণতান্ত্রিক বোধ ও চেতনার। 
           

   কলাবিভাগের যে ছটি বিভাগের পরীক্ষা ব্যবস্থাকে তুলে দেওয়ার বিরুদ্ধে নিজেদের ক্যারিয়ারের কথা না ভেবে গর্জে উঠেছিল সিনিয়র ছাত্ররা  তার জন্য তাদের সাধুবাদ জানাতেই হয়। কারণ তারা বুঝেছে ওই বিভাগগুলিতে প্রবেশিকা পরীক্ষা নেওয়ার পিছনে সুনির্দিষ্ট কারণ রয়েছে। আর ঠিক সেইখানেই সরকারের ভয়। তাহলে কি সেই ভয়ের কারণ? বোর্ডের গতে বাধা প্রশ্নের, নোট মুখস্ত উত্তর উগরে দিয়ে নব্বই শতাংশ পাওয়া রোবট ছাত্ররা এখানে অগ্রাধিকার পায় না। প্রবেশিকা পরীক্ষার মাধ্যমে বিষয়বিত্তিক প্রশ্নের উত্তরের সাহায্যে ছাত্রদের  বাছাই করা হয়। ছেঁকে নেওয়া হয় তাদের নিজস্বতা, চেতনা ও বোধের মান। তারফলে নিজস্ব চেতনা ও বোধসম্পন্ন নাগরিকের জন্ম হয় বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে। যা কখনই কোন সরকার তথা রাষ্ট্রের কাছে অভিপ্রেত নয়। ঠিক সেই কারণেই একটি ছাত্র যখন দায়িত্বশীল  নাগরিকে পরিনত হচ্ছে তখনই তার নিজস্ব কন্ঠ রোধ করবার চেষ্টা হয়। সরকারের প্রবেশিকা পরীক্ষা তুলে দেওয়ার পিছনে , এই সেই গূঢ় কারণ। 
         

    তাই নিজস্ব চেতনা ও বোধসম্পন্ন একজন নাগরিক তথা ছাত্র যখন যেখানেই গণতন্ত্রকে বিপন্ন হতে দেখে,  কখনও কতৃপক্ষ, কখনও সরকার, কখনও রাষ্ট্রশক্তির বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের পক্ষে প্রাচীর হয়ে দাঁড়ায়।
             

   শুধু এটুকুই বলার, এই অসমসাহসী তরুণ ছাত্ররা যেন ভারতের গণতন্ত্রের পরিসরে আরো  খোলা হাওয়া বইয়ে দিতে পারে।

Share on Facebook
Share on Twitter
Please reload

জনপ্রিয় পোস্ট

I'm busy working on my blog posts. Watch this space!

Please reload

সাম্প্রতিক পোস্ট
Please reload

A N  O N L I N E  M A G A Z I N E 

Copyright © 2016-2019 Bodh. All rights reserved.

For reprint rights contact: bodhmag@gmail.com

Designed, Developed & Maintained by: Debayan Mukherjee

Contact: +91 98046 04998  |  Mail: questforcreation@gmail.com