বিস্মৃত এক বাঙালি মণীষী ফজলুল হকঃ শের-ই-বঙাল

 

 

ব্রিটিশ শাসনাধীন অবিভক্ত বাংলায় তাঁর আগে কারও নাম মনে পড়ছে না, যিনি বাংলার গরিব চাষীদের দুর্ভাগ্য মোচনের সংগ্রামে ‘শের-ই-বঙাল’ আবুল কাশেম ফজলুল হকের সমকক্ষ অন্তত হতে পারেন। মনে রাখা দরকার, হক সাহেব কোনও ভূমিহীন চাষী পরিবারের সন্তান ছিলেন না। তাঁর বাবা কাজী মহম্মদ ওয়াজেদ একজন বিশিষ্ট আইনজীবী ছিলেন। তার মানে, সুশিক্ষিত সচ্ছল পরিবারেই তিনি জন্মেছিলেন। তবুও সেই সময়, যখন কার্ল মার্কস কিংবা লেনিনের কথা বাংলার গড়পড়তা শিক্ষিত মানুষই জানত না। হক সাহেব তখনই গরিব চাষীদের দুঃখ-কষ্ট হৃদয় দিয়ে অনুভব করেছিলেন। পরবর্তী জীবনে সেই দুঃখ-কষ্ট-বেদনা বোধই তাঁর মহাজীবনের চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছিল। আর ওই অন্তর্নিহিত শক্তিপুঞ্জই জাত-ধর্ম নির্বিশেষে সকল চাষীদের কাছেই তাঁকে প্রতিষ্ঠিত করেছিল হৃদয়ের রাজা হিসেবে।

 

   প্রসঙ্গত, একথাও মনে রাখা দরকার যে, গরিব চাষীদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশই ছিল ধর্মের পরিচয়ে মুসলমান, আর বাকি অংশ অন্ত্যজ হিন্দু। এই একটি বিষয়ে অন্তত এই সময় থেকে আলাদা কিছু ছিল না।

 

   তবুও আলাদা যা ছিল তা হল, আড়াআড়ি দু’টি ভাগ। শিক্ষিত উচ্চবর্গীয়রা, তা তিনি হিন্দু হোন বা মুসলমান হোন, তাঁরা সচ্ছল কৃষক, জমিদার, জোতদার অথবা তালুকদার, যে কোনও একটা ছিলেন। বাদবাকি নিরক্ষর মুসলমান আর নিরক্ষর অন্ত্যজ হিন্দু – তারা প্রজা। সেই প্রজাদেরই ছিলেন তিনি হৃদয়ের রাজা। তাদের জাগরণের প্রতিভূ। আক্ষরিক অর্থেই ছিলেন বাংলার কৃষক প্রজাদের অপ্রতিদ্বন্দ্বী নেতা। ভালোবাসার ধন। দুঃখের দুঃখী। হৃদয়ের সাথী।

 

   সে কি আজকের কথা নাকি? আবুল কাশেম ফজলুল হল জন্মেছিলেন ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর বরিশাল জেলায়। এবং ১৮৯৫ সালে তিনি কৃতিত্বের সাথে গণিত শাস্ত্রে এম.এ. পাস করেছিলেন। তারপর ১৮৯৭ সালে আইন পাস করে আর এক ‘বাংলার বাঘ’ স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের অধীনে আইন ব্যবসায়ের শিক্ষানবিশি করে  ১৯০১ সালে যখন বরিসাল কোর্টে ওকালতি শুরু করেন, তখন থেকেই শুরু হয় তাঁর প্রিয় বাংলা আর তার সংখ্যাগরিষ্ঠ কৃষকদের কল্যাণে আত্মোৎসর্গের ব্রত পালন। সেই হল শুরু। তারপর ১৯১৩ সালে বেঙ্গল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হন। ভাবা যায়? যে সময় একলাখ লোকের মধ্যে গোয়েন্দা দিয়ে খুঁজলেও একজন ম্যাট্রিক পাশ পাওয়া যেত না, সেই সময় তাঁর এই পরিচয়। ১৯০১ সাল থেকে রাজনীতিতে এলেও প্রকৃতপক্ষে তিনি তাঁর আসল রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছিলেন রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অধীনে, ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। 

 

   ১৯৩৭ সালে ইংরেজ সরকার ভারতীয়দের প্রশাসন পরিচালনার জন্য প্রাদেশিক স্বায়ত্বশাসন প্রবর্তন করেছিল। হক সাহেবই বাংলার সেই প্রাদেশিক সরকারের নির্বাচিত প্রথম প্রিমিয়ার ছিলেন। তখনকার বাঙালির জীবনে, বিশেষ করে গ্রাম বাংলার বাঙালি কৃষকের কাছে ‘ফজলুক হোক’ এই নামটির তাৎপর্যই ছিল অনেকখানি। এক জীবন্ত প্রেরণা, স্বসম্মানে মানুষের অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকার মন্ত্রের মতো।

 

   বঙ্গীয় প্রাদেশিক আইনসভায় তাঁর বিরুদ্ধে একবার স্বজনপোষণের অভিযোগে সোচ্চার হয়েছিলেন কংগ্রেস সদস্য ড. নলিনাক্ষ সান্যাল। ড. সান্যালের অভিযোগ ছিল, হকসাহেব তাঁর এক ভাগ্নেকে শিবপুর বোটানিক্যাল গার্ডেনের একটি উচ্চপদে বসিয়েছেন। কিন্তু সেই পদের যোগ্যতা তাঁর আছে কিনা, এটাই ছিল বিতর্কের মূল বিষয়। ড. সান্যাল তাঁর অভিযোগ পেশ করার সময় বলেছিলেন, হক সাহেব বাঙালির মধ্যে এক বিরল প্রতিভা। হক সাহেব একথা শুনে হাসতে হাসতে জবাব দিয়েছিলেন, “নলিনাক্ষ আমাকে প্রতিভাবান বলে তো মর্যাদা দিয়েছেন, সুতরাং কেন মেনে নিচ্ছেন না যে নরানাং মাতুলক্রম?” মাতুল যদি প্রতিভাবান হন, তাহলে ভাগ্নেও নিশ্চয়ই তা হতে পারে। প্রবল হাস্যরোলের মধ্যে ড. সান্যাল তাঁর অভিযোগ ফিরিয়ে নেন।

 

   ১৯৩৭ সালের নির্বাচনে মুসলিম লিগের পরেই হক সাহেবের কৃষক প্রজা পার্টিই সবচেয়ে বেশি মুসলমান আসনে জয়ী হয়েছিল। কৃষক প্রজা পার্টি আর কংগ্রেসের সম্মিলিত আসন সংখ্যা এবং বহু সংখ্যক নির্দল হিন্দু আসন মিলিয়ে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আসন হয়েছিল। হোক সাহেব চেয়েছিলেন কংগ্রেসের সঙ্গে কোয়ালিশন সরকার গড়বেন। সেই লক্ষ্য সফল করার জন্য তিনি তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে সৈয়দ বদরুদ্দজা সাহেবকে কংগ্রেস নেতা শরৎচন্দ্র বসুর কাছে পাঠিয়েছিলেন। তখন বঙ্গীয় প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি ছিল বসু ভাইদের নিয়ন্ত্রণে। সুভাষচন্দ্র ও শরৎচন্দ্র বসু। কিন্তু যে কারণেই হোক, শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁর কোয়ালিশন সরকার গড়া হল না। সত্যের খাতিরে বলা দরকার, অন্যতম প্রধান কংগ্রেস নেতা কিরণশঙ্কর রায় আর শরৎচন্দ্র বসু দু’জনেই হক সাহেবের কোয়ালিশনের প্রস্তাবে রাজি ছিলেন। তাঁরা ওই প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির কাছে পাঠিয়েছিলেন। স্বয়ং গান্ধীজীর কাছেও অনুরোধ করেছিলেন, তিনি যেন কংগ্রেস নেতাদের বলেন। কিন্তু ওয়ার্কিং কমিটি রাজি না হওয়ায় সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়ে গেল। সুতরাং বাধ্য হয়ে মুসলিম লিগের সঙ্গে হক সাহেব কোয়ালিশন সরকার গড়লেন। অন্যদিকে, মুসলিম লিগের প্রধান শত্রু হক সাহেব। তবুও কৌশলগত কারণেই তাঁরাও হক সাহেবের সঙ্গেই কোয়ালিশন সরকার তৈরি করলেন। হকসাহেব হলেন বাঙালির প্রথম নির্বাচিত প্রিমিয়ার বা মুখ্যমন্ত্রী।

 

   যে সব কারণে বাংলার আমজনতার কাছে তিনি নমস্য ছিলেন, তার মধ্যে সবচেয়ে বড় কারণ, কোনো কমিউনিস্ট পার্টি নয়, তিনিই অবিভক্ত বাংলায় সর্বপ্রথম ১৯২৬ সালে কৃষক আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। এবং ঢাকায় প্রজা সম্মেলন করেন। তিনিই প্রথম “লাঙ্গল যার, জমি তার” স্লোগান দেন। ফজলুল হক সাহেবই কৃষকদের অবস্থা অনুসন্ধানের জন্য ‘ফ্লাউড কমিশন’ গঠন করেছিলেন। এবং ওই কমিশনের রিপোর্টেই সুপারিশ করা হয়েছিল, ফসলের তিন ভাগের দু’ভাগ বর্গাদার এবং এক ভাগ পাবে জমির মালিক। আর ওই রিপোর্টের ভিত্তিতেই বাংলার ঐতিহাসিক কৃষক আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, ‘তেভাগা আন্দোলন’। এবং তারও রূপকার ছিলেন হক সাহেবই, কোনো মার্কসবাদী-লেনিনবাদী বা স্তালিনবাদী বা মাওবাদীরা নন।

 

   ১৯২৯-৩১ সালের ওই সময়কালে কৃষকদের উৎপন্ন শস্যের দাম দারুণ কমে যায়। বহু চাষীই ঋণে জড়িয়ে পড়েন। চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ বাড়তে থাকে। ঋণ শোধ করা তাদের পক্ষে অসাধ্য হয়ে পড়ে। কৃষকদের মধ্যে নেমে আসে নিদারুণ হতাশা। এই সময় হক সাহেব কৃষকদের স্বার্থে যে সব কাজ করেছিলেন তা ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে। কী করলেন তখন তিনি? ঋণ সালিশি বোর্ড গঠন করে ঋণ ছাড় দেওয়ার ব্যবস্থা করলেন। তাতে ঋণগ্রস্থ কৃষকরা বেঁচে গেলেন। আইন করে চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ নেওয়া বন্ধ করলেন। আইন পাশ করলেন, আসল যা ঋণ তার শতকরা ৫০ ভাগের ওপরে যা জমেছে কৃষকরা তা ছাড় পাবেন। এবং সুদের হার কোনও মতেই শতকরা দশ টাকার বেশি নেওয়া যাবে না। সুতবাং গরিব কৃষকরা তাঁর নামে জয়ধ্বনি দেবেন না তো কার নামে দেবেন? এছাড়া হক সাহেব চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত আইনের বা বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইনের সংশোধন করে কোর্ফা প্রজাকে জমির স্বত্ব দিলেন। এ যদি বিপ্লব না হয় তো বিপ্লব বলব কাকে?

 

 

 

 

   ১৯৩৬ সালে হক সাহেব তাঁর কৃষক প্রজা পার্টির ইস্তেহারে ঘোষণা করেছিলেন, “ভারতের মুসলমান জনগোষ্ঠীর শতকরা ৯০ জনেরও বেশি কৃষক। সুতরাং মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষার্থে যে কোনো পরিকল্পনাতেই সবার আগে কৃষকদের স্বার্থকেই দেখতে হবে। তা না করে কেবল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মুসলিম ঐক্য ও সংহতির কথা বলা অত্যন্ত ক্ষতিকারক। যাদের হাড়ভাঙা খাটুনির সুফল অপরে ভোগ করে, সেইসব কৃষক প্রজাদের স্বার্থ সম্পর্কে হিন্দু-মুসলমান পার্থক্য করার কথা উঠতেই পারে না। কারণ তাদের স্বার্থ সমসূত্রে গ্রথিত। কাজেই মুসলমান ও হিন্দু কৃষক প্রজাদের মধ্যে গাঢ় বন্ধুত্ব নিবিড় করতে হবে। তাতে গরিব মুসলমানরাও লাভবান হবে। আইনানুগ ও শাসনতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সাধারণ মানুষের স্বার্থের বিরোধী জমিদারি প্রথার (চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত) অবসান করা হবে। কুটির শিল্প সহ অন্যান্য শিল্প গঠনের প্রচেষ্ঠায় উৎসাহ দেওয়া হবে। এবং তার জন্য কয়েকটি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  

    “(ক) অবিলম্বে পাটের সর্বনিম্ন ক্রয়-বিক্রয় মূল্য বেঁধে দিতে হবে। (খ) প্রদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উৎপন্নজাতদ্রব্য গোটা বঙ্গপ্রদেশেই কেনা বেচার জন্য একটি উপযুক্ত সংস্থা গঠন করতে হবে। (গ) প্রয়োজন হলেই অর্থ সংগ্রহ করে ঋণে জর্জরিত কৃষকদের দুরবস্থা লাঘব করতে হবে। (ঘ) কৃষকদের ওপর নতুন কর বা সেস না বসিয়ে প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক করতে হবে। (ঙ) কৃষিজীবী মানুষের স্বার্থেই জমিতে কৃষকদের অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য ‘বেঙ্গল টেনান্সি অ্যাক্ট’ সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তন করতে হবে। এবং নিম্নোক্ত বিষয়গুলি নিয়ে একটি আইনে যুক্ত করতে হবে।

 

   “(এক) সেলামি বা নজরানা আদায়ের যে অধিকার জমিদাররা ভোগ করেন, তা তুলে দিতে হবে। (দুই) অতিরিক্ত খরচ না করেই কৃষকদের নাম পরিবর্তনের অধিকার মেনে নিতে হবে। (তিন) খাজনার পরিমাণ কমাতে হবে। (চার) জমিদার, মহাজন ও তাদের প্রতিনিধিদের বেআইনি আদায়ের বিরুদ্ধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। (পাঁচ) পাটের ওপর শুল্ক বাবদ আদায়ীকৃত টাকার সবটাই ভারত সরকারে কাছ থেকে নেবার ব্যবস্থা করতে হবে। (ছয়) কৃষি ও গ্রামীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতির জন্য খরচ নির্ধারণ করতে হবে” ইত্যাদি।  

 

   আশা করি বাস্তব বুদ্ধি সম্পন্ন সচেতন পাঠকরা নিশ্চয়ই বুঝতে পারবেন যে, হক সাহেব কোনো ইজমের বই পড়া তত্ত্ব আওড়াননি। তিনি আসল সমস্যার মূলে হাত দিতে চেয়েছিলেন এবং সেই সময়েই। গ্রামময় ভারতের এবং বঙ্গ প্রদেশের কৃষি আর কৃষকের সমস্যার সমাধান হলে, কৃষকের কল্যাণেই যে দেশের কল্যাণ, সেই সার কথাটিই তিনি হৃদয় দিয়ে বুঝেছিলেন। তাঁর মতে, “অর্থনৈতিক উন্নতি, শিক্ষা আর স্বাস্থ্য পরিসেবার জন্য জনসাধারণকে ঐক্যবদ্ধ করা এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষকে এরজন্য একসাথে উদ্যোগী হতে হবে। দুর্ভিক্ষ, বন্যা, কলেরা-বসন্ত রোগ এবং একই রকম দুঃখ-বেদনা হিন্দু-মুসলমান কৃষকদের মধ্যে কোনো পার্থক্য রাখে না।

 

   হকসাহেব ১৯৩৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর বরিশাল শহরের অশ্বিনী কুমার হলে অনুষ্ঠিত জনসমাবেশে ঘোষণা করলেন, “আমাদের বিরোধিতা করছে একমাত্র তারাই, যারা কায়েমি স্বার্থের ধারক ও বাহক, জমিদার, জোতদার শ্রেণী ও ব্রিটিশ আমলারা”। তাঁর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত কুৎসা প্রচারের জন্য মুসলিম লিগের নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি ওই সমাবেশে বলেছিলেন, “মুসলমান জনসমষ্টির শতকরা নব্বই জনেরও বেশি হলেন কৃষক। সুতরাং মুসলমানদের স্বার্থরক্ষা করতে হলে কৃষকদের কল্যাণের জন্য লড়াইয়ে নামতে হবে। সেসব কিছুই না করে শুধুমাত্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মুসলিম ঐক্য ও সংহতির কথা যারা বলে, তারা মুসলমানদের জন্য ক্ষতিকারক। আপনারা খোঁজ নিয়ে দেখুন, লিগ নেতারা প্রত্যেকেই নবাব-জমিদারের ব্যাটা”।

 

   ব্রিটিশ সরকার ছাড়াও মুসলিম লিগ, স্বরাজপন্থীরা, কংগ্রেসের এক অংশ সহ জমিদাররা এককাট্টা হয়ে তীব্র বিরোধিতা করার জন্য অবিভক্ত বাংলার প্রথম নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে হকসাহেব কিন্তু তাঁরই দেওয়া স্লোগান “লাঙল  যার, জমি তার” অনুযায়ী ভূমি সংস্কার এবং জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ করে যেতে পারেননি। কিন্তু দেশ বিভাগের পরে পূর্ব বাংলা (তখন এটাই ছিল সরকারি নাম) সরকারের নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী হয়ে জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ করলেও, ভূমি সংস্কার করে যেতে পারেননি। তাঁকে দেশদ্রোহী ও শত্রু আখ্যা দিয়ে জেলে ঢোকানো হয়। তাঁর মন্ত্রীসভাও ভেঙে দেওয়া হয় কেন্দ্রীয় পাকিস্তানি সরকারের নির্দেশে।

 

   এই দূরদ্রষ্টা মণীষী মহানায়কের শেষ জীবন কেটেছে মুসলিম লিগের মাতব্বরদের হাতে অবর্ণনীয় হেনস্থা, অসম্মান আর অবহেলার মধ্য দিয়ে। কারণ, আমাদের এমন আপনজনকে বোধহয় আমরা ঠিকমতো চিনে উঠতে পারিনি। তাই জোর করে পর করে রেখেছি। এর থেকে বড় দুঃখের আর কী হতে পারে।     

Share on Facebook
Share on Twitter
Please reload

জনপ্রিয় পোস্ট

I'm busy working on my blog posts. Watch this space!

Please reload

সাম্প্রতিক পোস্ট
Please reload

A N  O N L I N E  M A G A Z I N E 

Copyright © 2016-2019 Bodh. All rights reserved.

For reprint rights contact: bodhmag@gmail.com

Designed, Developed & Maintained by: Debayan Mukherjee

Contact: +91 98046 04998  |  Mail: questforcreation@gmail.com