বিরলতম কিছুই নয়...!!!! এগোলাম তবু কতোটা??

 

 

একেকটা ঘটনা ঘটে যায়, আর তোলপাড় হয়ে যায় ভেতর বাইরে! এটিও এমন একটি ঘটনা! গর্ভবতী ছাগলকে আট জন পুরুষ মিলে হরিয়ানায় ধর্ষন আর তারজন্য মেয়ে ছাগলটির মৃত্যু! ভীষণ ঘেন্না লাগছে নিজেকে এইসব মানুষদের স্বজাতি বা স্বগোত্র ভাবতে!!!

 

    আমরা এবং আমিও ভাবি এটা "আজকের যুগের অবক্ষয় "! রসাতলে যাচ্ছে সময়। 

 

     কিন্তু পুরীর কোনারকের পাথরের গায়ে দেখেছি গরু, কুকুর, ছাগলের সাথে সঙ্গমরত পুরুষ ও মহিলা!! অবাক হয়েছিলাম খুব! কিন্তু চোখ তখন ভাস্কর্য পেরিয়ে প্রশ্ন বা ঘেন্না তৈরি করেনি!

 

এখন প্রায়শই শুনি মা তার একাকীত্ব কাটাতে ছেলেকে বেছে নিচ্ছেন শয্যাসঙ্গী হিসেবে!! বাবা তার মেয়ের শরীরের প্রতি আকৃষ্ট! চরমতম ঘেন্না গলা পর্যন্ত উঠে আসে। যেকোনো সম্পর্কের প্রতি অবিশ্বাসে ডুবে যাই তখন! 

 

   আমরা এবং আমিও ভাবি এটা "আজকের যুগের অবক্ষয় "! রসাতলে যাচ্ছে সময়!

 

   কিন্তু গ্রীক পুরাণে ওয়েদিপাউজ বা অডিপাস,  থিবসের সেই অভিশপ্ত রাজা যিনি তাঁর মা রানী জোকাস্টাকে বিয়ে করেছিলেন। তাদের সহবাস থেকে জন্ম নেয় সন্তানও! এর থেকেই জন্ম ফ্রয়েডের বিখ্যাত মনস্তত্ব "অডিপাস কমপ্লেক্স " বা "ইডিপাস সিনড্রোমের জন্ম ! যা সারা পৃথিবীতে মনোজগতের এই অদ্ভুত চেহারায় বিতর্কের ঝড় তুলেছিল! এই মতবাদ অনুসারে বলা যায় বাবার প্রতি মেয়ে শিশুর ভালোবাসা এবং মায়ের প্রতি ছেলে শিশুর ভালোবাসা থাকবেই। ইডিপাস কমপ্লেক্সের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে মায়ের প্রতি ছেলে শিশুর দৈহিক আসক্তি, বাবার প্রতি শিশু পুত্রের ঈর্ষাবোধ এই আসক্তির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এই জন্যই বরাবর আমরা শুনি, "পিতৃমুখী কন্যা সুখী; মাতৃমুখী পুত্র। "

 

   ভারতের পরিসংখ্যান খতিয়ে দেখা যাচ্ছে, কিশোরী মেয়েরা বেশি প্রেগন্যান্ট হচ্ছে। ক্রমশ বাড়ছে ভ্রূণ হত্যা তারসাথে আত্মহত্যাও! 

 

   আমরা এবং আমিও ভাবছি এটা "আজকের যুগের অবক্ষয় "! রসাতলে যাচ্ছে সময়!

 

   কিন্তু হাজার হাজার বছর আগের বেদ, মনুসংহিতা এমনকি আজকের থেকে দুশো বছর পিছিয়ে গেলেও এসব ছিল! বরং বেদ, মনুসংহিতায় নারীর স্বাধীনতা ছিল পুরুষ শয্যাসঙ্গী বাছার!! সুনীল গাঙ্গুলীর "সেই সময় ", "প্রথম আলো" পড়লে জানা যায় পনের ষোলো বছরের ছোট ছোট বিধবাদের সাদা থানা, মাথা কামিয়ে সমাজের সবটুকু থেকে বঞ্চিত, নিষিদ্ধ  করলেও কখনও জাঠতুতো দাদা, কখনও জামাইবাবু কখনও প্রভুভক্ত চাকরের সাথে সম্পর্ক এবং গর্ভধারণের পর কলঙ্ক কুড়িয়ে আত্মহত্যা!! এমনকি বাড়ির মহিলা ঝিরাও মালিকের জন্য গর্ভবতী হলে ঢেঁকির তলায় পেট রেখে শুইয়ে বা শেকড় বাটা খাইয়ে গর্ভস্থ বাচ্চার মৃত্যু নিশ্চিত করা হত। এতে সেই মাও মারা যেত অনেক সময়!!!

 

   হ্যাঁ, এটাই পুরনো ও বর্তমানের সত্যি। একটাই পার্থক্য তখন মিডিয়া আর সোস্যাল সাইট ছিলনা! এখন তবু সোচ্চার হওয়া যায়। এমনকি বাড়ির কাকা, ভাই বা যেকোনো আত্মীয়ের দ্বারা যৌন হেনস্থা হলেও স্ট্যাটাসে "Me too" লিখে রাখাই যথেষ্ট! সেটা দেখে পৌঁছে যায় আইন ও মানবাধিকারের লোকজন। বিদেশের বহু নামীদামি মেয়েরা এমনকি ভারতীয় অভিনেত্রী কাল্কিও সরব হয়েছেন স্ট্যাটাসে "Me too" লিখে। মুখোশ খুলেছেন সেই ঘৃণ্য পারিবারিক অপরাধীর!

 

   তাই বারবার "আজকের যুগের অবক্ষয় "! "রসাতলে যাচ্ছে সময়" এসব না বলে মনের ভেতর জমা অন্ধকার আগে দূর হওয়া দরকার আমার মনে হয়! বই পড়া শিক্ষায় নয়, চারপাশের আলোয় ছ্যুৎমার্গ বিহীন মন তৈরি হওয়ার দরকার। শরীর, চুমু, সহবাস, সঙ্গম এই শব্দগুলো শুনলে কানে আঙুল না দিয়ে সমাধানের পথ খুঁজি খারাপের। যা আজ আছে, আগেও ছিল। কিন্তু এগোলাম কতোটা অতীতের থেকে! শপিং মল, উইন্ডো শপিং, প্যান্টালুনে পুজো বাজার, উইকেন্ডে মন্দারমণি এটাই তো এগোনোর উদাহরণ নয়! সে যুগে মানুষ এতো শিক্ষিত ছিলনা, সারা পৃথিবী খবরের কাগজ আর টিভিতে সামনে আসত না। তাই দুটো সময়ের কোথাউ তো পার্থক্য থাকা উচিত???  বিদ্যাসাগরের জন্মদিন, মৃত্যুদিনে উৎসব,অনুষ্ঠান,ছুটিতে  তাঁকে স্মরণ না করে  হাঁটুর ওপর ধুতি, মাথার সামনে জুড়ে টাক, টিকি সত্ত্বেও তাঁর মতো  আদ্যোপান্ত আধুনিক মানুষ হওয়ার চেষ্টা করি। 

 

Share on Facebook
Share on Twitter
Please reload

জনপ্রিয় পোস্ট

I'm busy working on my blog posts. Watch this space!

Please reload

সাম্প্রতিক পোস্ট
Please reload

A N  O N L I N E  M A G A Z I N E 

Copyright © 2016-2019 Bodh. All rights reserved.

For reprint rights contact: bodhmag@gmail.com

Designed, Developed & Maintained by: Debayan Mukherjee

Contact: +91 98046 04998  |  Mail: questforcreation@gmail.com