পরিযায়ী উপকথা তোমাকে ঘিরে

 

 

ঘ্যাঁচ  করে ব্রেক কষল  ঋষি।মেয়েটা একেবারে সামনে এসে গেছে।খুব জার্কিং হ'ল,কিন্তু শেষমেশ লাগে নি কোথাও।ভীষণ  ভয় হয়ে গিয়েছিল।আর একটুর জন্যে।খুব সামলেছে আজ।কি মেয়ে রে বাবা।রাস্তাটা দেখেও পাড় হয় না,আশ্চর্য  তো।এর পরেও কোনো কেয়ার নেই।যেন  কিছুই হয় নি,এমনি ভাব।ক্রসিং এর সিগনাল পয়েন্ট থেকে তখন গান ভেসে আসছে।যদি তারে নাই চিনি গো। 

 

   গড়িয়াহাটের ক্রসিং।তায় পুজোর মরশুম।ভিড়ে মাথা খারাপ হয়ে যাবার  জোগাড়। আর এ মেয়েকে দেখো।গায়ে হাওয়া লাগিয়ে হাঁটছে।

 

   সুমনা তখন সত্যি অন্য জগতের বাসিন্দা।রবি ঠাকুরের গান শুনলে পাগল পাগল লাগে।সে এখন সুর সাগরে অনাবিল সাঁতার  কাটছে।বুকের মধ্যে তার দ্রিদিম দ্রিদিম স্বপ্ন।কেন স্বপ্ন,কিংবা কিসের স্বপ্ন তা সে জানে না।এই সময় সে বাস্তবের পৃথিবী  থেকে অনেক দূরে বিচরণ  করে।নীল সফেন সমুদ্রের মধ্যে ভাসতে থাকে মন।নিশি পাওয়া মানুষের মত,একটা  ঘোরের মধ্যে ঘুরপাক খেতে থাকে সুমনা।

 

    ঠিক  এই মুহূর্তে অসংখ্য মানুষের মধ্যে,দিনেমানে একটা বড় সর এক্সিডেন্ট  থেকে  সে বেঁচে গেল। মানে তাকে বাঁচিয়ে দিল আর কি।এর ফল কি হতে পারত তা তার ভাল করেই জানা আছে।তবু নির্বিকার  সুমনা।বুকের মধ্যে কাগজপত্রের ফাইলটা চেপে ধরে রেখে,একবার নেহাত চাইতে হয়, তাই চেয়ে দেখলে মাত্র।কিছুই যেন  হয় নি তেমন।

 

   নীল টি শার্ট,সাদা জিন্স পরা শ্যামলা, দোহারা চেহারার,মধ্য ত্রিশের সুপুরুষ।চোখে পুরু লেন্সের চশমা। মুখে কেমন যেন  একটা বোধ।রাগের না বিরক্তির ঠিক  বোঝা গেল না।বেশ গম্ভীর গলায় বলল,রাস্তা পাড়  হবার সময় একটু দেখে পাড় হবেন তো।এখুনি কি হত বলুন তো।খুব বাঁচা বেঁচে গেছেন।যান বাড়ি যান।এত অন্যমনস্ক হয়ে কেউ রাস্তা হাঁটে?

 

   সুমনা নিতান্ত পরিচিতের মত মিষ্টি  হেসে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবেই বলল, কি করব।ঐ যে গান।ও গান শুনলেই বুকের মধ্যে কি যে হতে থাকে।কখন কি করে যে উবে যায়  মনটা, বুঝতে পারি নি।তখন আর কোনোদিকে খেয়াল ই থাকেনা।

 

   মেয়েটির কথা বলার ভঙ্গিমাটা এত সুইট। ভারী অবাক লাগে ঋষির।সে দিব্যি ভুলে বসে রইল,সে কে, কি,কোথায় যাচ্ছে ইত্যাদি সব বিষয়।মেয়েটি হাঁটছে।সুরের খেলা যেন  ওর প্রতি পদক্ষেপে।ঋষি  বাইক নিয়ে ধীরেধীরে  ওর পিছনে পিছনে হাঁটতে শুরু করল।অদ্ভূত একটা আচ্ছনা তাকে যেন  গ্রাস করতে থাকে।কিছুটা গিয়ে বাইক টা  রাখল সে।হাওয়ায় তখনো সুর ভাসছে,যদি তারে নাই চিনি গো- - - -গুন গুন করে গাইতে থাকে ঋষি।পরের লাইন টা হাঁতরায়।হ্যাঁ মনে পড়েছে। সে কি আমায় নেবে চিনে।

 

   ঋষি ভাবতে শুরু করে।এই ঠা ঠা  রোদ্দুরে কি প্রত্যাশায়,কিসের অন্বেষণে যে এভাবে সোনার হরিণ ধরার ফাঁদে পা দিল ঋষি কে জানে।ফিরে যেতেও মন চাইছে না।মেয়েটির সঙ্গে পরিচয় করতেই হবে।ঠিক  সেই মুহূর্তে মেয়েটি পিছন ফিরল।অবাক হয়ে বলল,কি ব্যাপার আপনি? না মানে আপনি আমার পিছন পিছন আসছেন,তাই বললাম।

 

   ইয়ে মানে আপনার নাম টা  তো জানা ই হ'ল না।

 

   কেন, আমার নাম জেনে কি লাভ আপনার?

 

   আসলে আপনার কথা শুনে বেশ অন্য রকম লেগেছে আপনাকে।তাই নাম জানতে চাই।

 

   তাতে কি? আর তা ছাড়া ভাল লাগার মত কি হ'ল।আমি তো সুন্দরীও নই।যে রাস্তা ঘাটে আমার জন্যে গোলাপ নিয়ে লোক দাঁড়িয়ে থাকবে আমার জন্যে।আপনার যে ভাল লেগে গেল হঠাৎ করে।কি ব্যাপার বলুন তো।কোনো ধান্দা নেই তো।

 

   আমাকে দেখে কি আপনার ধান্দাবাজ মনে হয়?

 

   আপনি তো অবাক করলেন মশাই।যান  যান  নিজের কাজে যান। আমার মধ্যে ভাল লাগার মত কিচ্ছু নেই।

 

   সে আপনি কি করে বুঝবেন? যার ভাল লাগে,সেই জানে।

 

   পাগলের পাল্লায় পড়লুম  রে।বলেই গট গট করে হাঁটা দিল।

 

   ঋষিও নাছোড় বান্দা।বলল, কি হল,চলে যাচ্ছেন  কেন।আরে শুনুন না। চলতে শুরু করলেন যে।চলুন না একটু চা খাই বসে।

 

   ধুস!এই দুপুরে চা? আমি চা খাই না।

 

   ও আচ্ছা,তবে আইস্ক্রিম খাই চলুন।

 

আইস্ক্রিম শুনেই চোখ দুটো চক চক করে উঠল। একেবারে শিশুর মত স্নিগ্ধ হাসি মুখে বলল,আপনি কি করে জানলেন,আমি আইস্ক্রিম খুব পছন্দ করি।ইনফ্যাক্ট  আমি এই রাস্তা ধরেছি আইস ক্রিম খাব বলেই।চলুন এখানে দারুণ  আইস্ক্রিম আছে।গোলপার্কের মড়ে।আমি আপনাকে খাওয়াব চলুন।বড়  ঝামেলা থেকে বাঁচালেন, আমাকে।

 

   না না,  তা কেন।আমি ই খাওয়াব আজ।

 

   কেন? আমি মেয়ে বলে?

 

   আরে না না।তা হবে কেন? আসলে আমিই তো ইচ্ছা প্রকাশ করেছি।এখন আপনার ঘাড় ভেঙে খাই কোন লজ্জায়।আমার ঘাড় ভেঙে নয়, বাবার ঘাড়।আমি চাকরি করি না।বা ব্যবসা।

আপনি কি স্টুডেন্ট?

 

   না না,  সে পাট চুকে বুকে গেছে কবেই।যাদব পুর থেকে বি ই করার পর, দুএকটা চাকরি করেছি।বাট ভাল লাগল না।এখন ভাবছি আবার পড়া শোনাটা শুরু  করব।

 

   এম টেক করবেন?

 

   না না, লিটারেচার পড়ব।

 

   চাকরি বাকরি ছেড়ে  লিটারেচার? ভারী অদ্ভূত তো।তাতে লাভ।

 

   লাভ লোকসান নয়।আসলে ভাল লাগছে তাই।একটা মানুষের বাঁচবার  জন্যে যা  লাগে, তার চেয়ে উদ্বৃত্ত রেছেখেছে আমার জন্যে।বাড়ি, গাড়ি  টাকা পয়সা কিচ্ছু বাকি নেই।প্রচুর আছে।তাই আমি আমার ভাললাগা নিয়েই থাকি।

 

   দারুণ আইডিয়া তো।কিন্তু এই ভাবনা কি আগে ছিল না।

 

   না না।আগে একটা অস্থিরতা ছিল।এই পড়া শোনা ভাল লাগছিল না।বাট  কি ভাল লাগবে সেটা আবিস্কার করতে পারি নি।হঠাৎ একদিন এই রবিঠাকুরের গান আমাকে ঝাঁকিয়ে দিল।আমার বাড়িতে  ছোটোর থেকে ওয়েস্টার্ন  মিউজিক ছাড়া কিছু বাজতে শুনি নি।আমার একজন খুব ভাল বন্ধু খুব গান শোনে।রবিঠাকুরের গান।ওই জোর করে ক'দিন গান শোনায়।অদ্ভূত একটা,অনুভূতি ছড়িয়ে  পড়তে  থাকে সারা শরীর ময়।পায়ে পাতা থেকে মাথার মনি স্পর্শ করে করে বুকের গভীরে ঘুরপাক খেতে থাকে সেই মিহি বিষণ্ণ  মধুর বুদবুদ।আমাকে আচ্ছন্ন করে  রাখে একেবারে আগাপস্তা।

 

   ঋষি অবাক হয়ে শোনে এই সব কথা।আর দেখতে থাকে সুমনা কে।কেন জানি সুরঞ্জনা ওইখানে যেও  না, অনুরণিত  হতে থাকে রক্তের ঢেউয়ে।আশ্চর্য  এক ভাল লাগায় সিক্ত হতে থাকে মন।আইস্ক্রিম দিয়েছে,ছেলেটি।চকলেট  গলে গলে কনুই স্পর্শ করে।ক্রসিং এর মাইকে তখন আমি চিনি গো চিনি তোমারে।ওগো বিদেশিনী। ঋষির এই মুহূর্তে মায়ের কথা মনে হ'ল, মায়ের কথা।অদ্ভূত সুর ছিল মায়ের গলায়।তেমনি কন্ঠ্যস্বর।মা যখন গাইত,একি লাবণ্যে পুণ্য প্রাণে এসো হে।সারা বাড়ি  ভরে উঠত,সুরমূর্ছনায়।কি খুশি খুশি ছিল সব দিনগুলো।তারপর হঠাৎ যখন বাবার ক্যান্সার ধরা  পড়ল,সব কিছু পালটে  গেল।বাড়ি  মানুষ মন সব।বাবা কিন্তু বাবা কিন্তু বেশ শক্ত ছিলেন।বাবা যেইদিন মারা গেলেন, সেইদিনও মাকে গান শোনাতে বলেছিলেন।একি লাবণ্যে পুণ্যপ্রাণে হে।মা শেষ পর্যন্ত  গানটা শোনাতে পারে নি।হু হু করে চোখে জল চলে এসেছিল।কান্নায় বুজে গেসল গলা।বাবা সেই অবস্থাতেও মাকে শান্তনা দিয়েছিল।কেঁদো না সুকন্যা।মানুষ কি চিরকাল বাঁচে?সবাইকেই ছেড়ে  রেখে চলে যেতে হবে সব কিছু। দুদিন আগে আর দুদিন পরে।মন খারাপ করো না সু।চুপ করো।চোখের জল মুছে ফেল।শান্ত হও।

 

   এদানিং মা বড় পালটে  গেছে।দিন রাত কেবল ঠাকুর ঘরে বসে বসে কি যে করে জানি না।প্রতিদিন অফিস থেকে ফিরতে বেশ রাত্রি হয়ে যায়। মায়ের একাকীত্ব  বেড়েই চলেছে।একটা  ভাল পাত্রি খুঁজে আলা হয়ে যাচ্ছে। ছেলের বিয়ে দেবার জন্যে।কিন্তু কিছুতেই মেয়ে পাচ্ছে না।ঋষিরও কাউকে মনে ধরছে না।

 

   কি হল,চুপ কেন? এদিকে আইস্ক্রিম তো গলে জল হয়ে গেল।হাত ময় লেগেছে দেখুন।বেঞ্চে গিয়ে বসি চলুন।ওকে।আসুন।ঋষি মনে মনে ভাবল, বলল,আচ্ছা তাহলে আপনি  ঠিক করবেন টা কি?

কেন সব ই করি।করব।

 

   না না এই যে আপনি বলছেন অর্থের দরকার নেই চাকরি করব না।বিয়ে করে সংসার করবেন না।তাহলে আপানার উদ্দেশ্য টা কি?

 

   কেন,আপনাকে বললাম যে।লিটারেচার  পড়ব।

 

   হ্যাঁ সে তো বুঝলাম,  কিন্তু শুধু পড়লেই তো হবে না।তার প্রোডাক্টিভিট ভ্যালুটা তো বার করতে হবে।না হলে আপনি শুধু পড়ে  যাবেন, আর পড়ে  যাবেন। জ্ঞান,উপলব্ধি, প্তজ্ঞা বৃদ্ধি পাবে তাই দিয়ে কি হবে।

সে সব আমি এখন কিচ্ছু জানি না।এখন আমি খুব ভাল করে মন দিয়ে রবি ঠাকুর কে স্পর্শ করার চেষ্টা  করব।গান শুনব।কবিতা পড়ব।

 

   ঋষির ভারী অদ্ভূত লাগে।সত্যি পাগল।একেবারে অন্য রকম। যত  কথা বলছি, তত কথা বলার খিদে বেড়ে  যাচ্ছে। বাজিয়ে দেখতে ইচ্ছা করছে।এবার জিজ্ঞেস করল,আসলে জীবনে তো নানান কাজকর্ম আছে।নিজের পরিবারের প্রতি কমিটমেন্ট আছে।সে সব তো আপনাকে পালন করতে হবে।

 

   কেন করি তো।আমি এক সন্তান।বাবা মার বয়েস হয়েছে।তাদের যাবতীয়  প্রয়োজন  তো আমিই মেটাই।

 

   এসবের বাইরে তো আপনার ও একটা পার্সোনাল  লাইফ হবে।বিয়ে থা সংসার।

 

   দেখুন আমি তো বললাম ই বিয়ে আমি করব না।স্বামী, সংসার,শ্বশুরবাড়ি  পুরো ব্যাপার টাই কেমন জংলি টাইপের।

 

   জংলি টাইপের?অদ্ভূত অদ্ভূত সব টার্মস ব্যবহার করেন তো আপনি।কি জন্যে এমন মনে হয় আপনার শুনি।

 

   কেন আবার ওই জগাখিচুড়ীর সামাজিক সম্পর্ক।দাম্পত্য  কলহ।নারী নির্যাতন, রেজিস্টারি, ডিভোর্স। সত্যি বিশ্বাস করুন, এসব আমার একদম ভাল লাগে না।

 

   ঋষি  ভেতরে ভেতরে ভীষণ  চমকে উঠছে।কিন্তু বাইরে তার প্রকাশ করল না।তবে এটা নিশ্চিত বুঝতে পারছে,  মেয়েটা হয় পাগল,নয় তো ওর লেবেল টা এতটাই হাই,যে ধরতেই পারছি না।কোনো মানুষ বিশেষ করে কলকাতার মানুষ ওকে ফিল করতেই পারবে না।যা  গোঁড়া সব।

 

   আইসক্রিম খাওয়া শেষ হ'ল যেই, স্যাট করে উঠে পড়ল মেয়েটি। ঋষিও উঠে পড়ছিল।হঠাৎ খেয়াল হ'ল,নাম টাই তো জানা হ'ল না।কনট্যাক্ট নাম্বার নেয়া হ'ল না।তখন ই বলল, আপনার নাম টাই তো জানা হয় নি।আমি ঋষি। ঋষি দত্তগুপ্ত।

 

   আমি সুমনা।

 

   সুমনা সেন।

 

   বা!সুন্দর নাম আপনার।

 

   এবার বলুন তো সুমনা,আপনি তাহলে লাইফটা নিয়ে ঠিক  কি করতে চান।

 

   কেন, আপনারা সবাই যা  চান।একটু সুখে, শান্তিতে,ভাললাগায় কাটাতে চাই জীবন টা।আমি আর বেশি কি চাইলাম বলুন।

 

   কিন্তু আপনার এই চাওয়াটা তো সবাই ঠিক  ভাবে নিতেই পারবে না।মানে ঠিক ঠাক বুঝে উঠ তেই পারবে না।কাউকে ঢাক পিটিয়ে বুঝিয়ে কাজ নেই আমার।আপনি জানতে চাইলেন।আর কেন জানি আপনাকে কথা বলে মনে বলা যায়। কাজেই সবাইকে বোঝানোর দায় আমার নয়।আপনি বুঝেছেন কি? তাহলেই হবে।

 

   আমার তো খুব ভাল লাগছে।একটা  মেয়ে বাঁধাগতে পড়ে  না থেকে, নতুন কিছু একটা করতে চাইছে,এটা সত্যিই আমার খুব ভাল লাগছে।

 

   সুমনা এবার কবজি উলটে ঘড়ি দেখল, বলল,এবার আমাকে যেতেই হবে।এক টার সময় মায়ের সঙ্গে খাব বলেছি।

 

   আশ্চর্য!  এই বললেন, সামাজিক সম্পর্ক গুলো খুব বোরিং।আপনার ভাললাগে না।আবার এখন বলছেন, দুপুরে মাকে বলা আছে একসঙ্গে ভাত খাব।এটা কেমন শুনতে লাগছে লাগছে না?

 

   মায়ের সঙ্গে আমার সামাজিক সম্পর্ক?কোন দুক্ষে হতে যাবে।মায়ের সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব।রেন্ডশিপ।বোঝা গেছে?পৃথিবীতে এই এক টা জায়গাতেই আমার যাবতীয়  কমিটমেন্ট।মা ই আমার বেষ্ট  ফ্রেন্ড।তাছাড়া  হাতে  গোনা দুচারজন বন্ধু আছে, যাদের  সঙ্গে আমি A to Z সব রকমের পুঙ্খানুপুঙ্খতা মেনে চলি।কেন না এই একটি মাত্র সম্পর্ক বৃত্তে মানুষ একাকার  হয়ে যেতে  পারে।ছেলে  বুড়ো সবাই।

 

   ঋষি  গভীর  তন্ময়তায় উপলব্ধি  করার চেষ্টা  করে,বোঝার চেষ্টা  করে,জীবন কি বিচিত্রতায় ভরপুর। অদ্ভূত একটা  স্নিগ্ধ হাওয়া বুকের ভেতর থেকে উঠে,মস্তিস্কের কোষে কোষে ছড়িয়ে  পড়ে খুব দ্রুত।এলো মেলো করে দিল সেই হাওয়া,তার ভাবনা চিন্তার জগত কেমন তোলপাড় হতে থাকল।নেহাৎ মধ্যবিত্ত মোড়কে বাঁধা অস্তিত্ব কেমন নড় বড়ে হয়ে উঠল।ভাললাগায় মুগ্ধতায় বুঁদ হয়ে ডাকল, সুমনা।তুমি ঐখানে যেও  না।

 

   মানুষের ভিড়ে।সবুজ দ্বীপের পাশে চরা।যত কথা সব ওরা বুঝে নিতে পারে।পরিযায়ী  উপকথা তোমাকে ঘিরে।

ও বাবা,এ যে দেখি অমিত রয়।সত্যি কি আপনি কবি নাকি?

 

   আরে ধুস।হঠাৎ কি মন হল।তোমাকে দেখে মনে হ'ল।আপনা থেকেই বেরিয়ে এলো।আসলে তোমাকে দেখে সুমনা,কি জানি বুকের গভীর  থেকে কি সুর যেন  চল্কে পড়ছে।তুমি কি কিছু ফিল করছো?

 

   না তো।বলেই সুমনা বলল বাই।বলেই সাঁ সাঁ করে হাঁটতে শুরু করল।ঋষি  বলল তোমার নাম্বার টা।

 

   ফেস বুকে চলে আসুন কথা হবে।

 

   ওকে।বাই।

 

   ঋষি কিছুক্ষণ  দাঁড়িয়ে থাকল,নীরব।সুমনা বাঁকের মুখে গিয়ে, হাত নেড়ে দিল।টা টা। ঋষি  বাইকে উঠে স্টার্ট দিল,।ক্রসিং এর মাইক্রোফোনে তখন গান বাজছে, যদি তারে নাই চিনি গো- - - -

Share on Facebook
Share on Twitter
Please reload

জনপ্রিয় পোস্ট

I'm busy working on my blog posts. Watch this space!

Please reload

সাম্প্রতিক পোস্ট
Please reload

A N  O N L I N E  M A G A Z I N E 

Copyright © 2016-2019 Bodh. All rights reserved.

For reprint rights contact: bodhmag@gmail.com

Designed, Developed & Maintained by: Debayan Mukherjee

Contact: +91 98046 04998  |  Mail: questforcreation@gmail.com