প্রসঙ্গঃ আজকের জীবন ও সাহিত্যের বিকাশ..

আজকের একবিংশ শতাব্দীর পাদদেশে দাঁড়িয়ে আমরা অনুমান করতে পারি যে, প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে শুরু করে হাজার হাজার বছরের অভিজ্ঞতায় এবং অধ্যাবসায়ে অসংখ্য্

 

   পরীক্ষা নিরীক্ষা ও প্রক্রিয়ার ফলে মরা আজ এই আধুনিক সভ্যতায় পৌঁছতে পেরেছি।আত্মরক্ষার তাগিদেই মানুষ প্রথম ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল।ফলে সৃষ্টি সৃষ্টি হয়েছিল দল বা গোষ্ঠীর। ক্রমশ অভিজ্ঞতা লব্ধ জ্ঞান ও রীতি নীতিকে সুসংহত করবার প্রয়োজন বোধ থেকে আসে সমাজ চিন্তা।সমাজ বন্ধনে

 

   মানুষ ক্রমাগত দায়িত্বশীল হয়ে ওঠে।সেই থেকে আমাদের উন্নতি বা অগ্রগতির যাত্রা শুরু।আর জাতীয় জীবনের পরিনত রূপকেই বলা চলে সভ্যতা।এই সভ্যতাকে ধারণ ও বহন করবার জন্য মানুষ গড়েছে শিল্পকৃষ্টি;রচনা করেছে সাহিত্য।সাহচার্য্য বাসহিতত্ব কথাটি সহিত তত্ত্বের অপভ্রংশ হিসাবে এসেছে বলে মনে করা হয়।আর এই উৎস হল ‘স-হিত’ অর্থাৎ কল্যাণের সঙ্গে সাহিত্যের তাৎপর্য্য নিহিত।সাহিত্য কেবল মানুষের মানুষের সমাজ ও সভ্যতাকে ধারণ ও বহনই করে না;

 

   নতুনের দিকে ও বিকাশের পথে এগিয়ে দেয়।সেই কারণে,বিবর্তন ও বিকাশের ধারাবাহিকতা বিশ্বময় অব্যাহত রয়েছে। প্রসঙ্গত মনে রাখা দরকার যে, মানুষের জন্যই সাহিত্য সৃষ্টি হয়েছে।এই সাহিত্য সম্বন্ধে বিদগ্ধজনের বিভিন্ন মতামত ব্যক্ত হয়েছে। কারো মতে,সাহিত্যে রূপ ও রস সৃষ্টি হয়,কেবল রসস্বাদনের জন্য।অন্য মতে,সাহিত্য সমাজের দর্পন স্বরূপ—অর্থাৎ সমাজে যা কিছু ঘটে,মানুষের ভাল মন্দ,সুন্দর অসুন্দর তা হুবহু সাহিত্যে প্রতিফলিত হয়।কেউ আবার সাহিত্যকে নিয়ে বেশি চিন্তা ভাবনা করতে চান না।এঁদের ধারণা ‘Art for Art sake’।এ অবস্থায় প্রশ্ন জাগে,তবে সাহিত্য কি শুধুই শিল্পকলা—চিত্ত বিনোদনের উপাদান মাত্র;ঘটমান ঘটনার বিবরণ মাত্র?তার চেয়ে অতিরিক্ত কিছু নয়?তবে আজন্ম এই যে,শিক্ষা দীক্ষা ও জ্ঞানার্জনের ধারা,সত্য সন্ধানের প্রয়াস মনুষ্য সমাজে

 

   তা এল কোথ্থেকে?যে কোন দেশের বিদ্যালয়,বিশ্ববিদ্যালয়র যে কোন বিষয় নিয়ে বিবেচনা করে দেখুন তো—সাহিত্যই সব কিছুর নির্যাস গ্রহণ করে মানুষকে সৎ শিক্ষিত ও সচেতন করে তোলার দায়িত্ব বহন করে চলেছে কিনা!

 

   মানুষের জন্ম থেকে জীবনবসান পর্য্যন্ত সকল কর্মকান্ডই দায়িত্বের অন্তর্ভূক্ত।তুচ্ছ থেকে তুচ্ছতম কাজেও তার দায়িত্বে ছাড় নেই।বন্য পশুদের প্রাণ আছে এবং প্রাণধারণের প্রয়োজনও আছে।কিন্তু শিক্ষা নেই;তার দায়িত্বও নেই।প্রয়োজনে রা যুথবদ্ধ হতে পারে;কিন্তু সমাজবদ্ধ কখনো নয়।আর মানুষের ক্ষেত্রে জীবন আছে অথচ দায় দায়িত্ব নেই;লক্ষ্য নেই;পূর্ণতা প্রাপ্তীর জন্য আকুলতা নেই—একথা ভাবা যায় কি?এসব এড়িয়ে যে জীবন ধারণ;যে প্রয়োজন চরিতার্থতা—সে তো বন্যতা বা যান্ত্রিকতার তুল্য।যন্ত্র বাজন্তু ভুল করে মানুষ তাকে শুধরে দেয়।মানুষ ভুল করলে কে শোধরাবে,যন্ত্র নাকি জন্তু!জীব জগতে মানুষের চেয়ে বড় বোদ্ধা ও দায়িত্ববান আর কেউ নেই।জড় জগতের যা কিছু প্রয়োজনীয় ও গ্রহনীয় হয়ছে তা মানুষেরই আবিস্কার।অতএব মানুষই মানূষকে শোধরাবে তার লব্ধ জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার দ্বারা;সত্যকে সার্থকভাবেঅনুধাবনের দ্বারা।

 

   আমরা আজ নির্দ্বিধায় স্বীকার করে নিতে পারি যে,পৃথিবীতে অগুণতি কর্মকান্ডে মানুষের ভূমিকাই মূখ্য ও মহান।তাই সর্ব যুগে লিলপিবদ্ধ হয়েছে মানুষেরই জয়গাঁথা।

                          
 

(2)

 

   সেই বৈদিক যুগে কোন কোন সত্যদ্রষ্টা ৠষি মানুষকে ‘অমৃতস্য পুত্রঃ’বলে চিরকালীন সবচেয়ে শুদ্ধ সত্য মূল্যের শিরোপাটি পরিয়ে দিয়েছেন।আদিকাল থেকে মানুষ অমৃতের স্বাদ পেতে চেয়েছে।গুহায় পাথরে পাহাড়ে চিত্র ও শিলালিপি খোদাই করে তার চিন্তা ভাবনার স্বাক্ষর রাখার প্রয়াস পেয়েছে।সে অমরত্ব বোধ অর্জন করেছিল এই ভাবনায় যে,মৃত্যুতেই সে যেন মুছে না যায়।মরণকে অতিক্রম করা মানুষের স্বভাবগত প্রবৃত্তি;এর স্বাদ  বাস্তবে কোন মিষ্টতম,স্বাদুতম খাদ্য পানীয়ের মধ্যেও লভ্য নয়।

 

   অনাস্বাদিত বলেই সে অমৃত।চিরকাঙ্খিত সেই দূর্লভ বস্তুকে পাওয়ার প্ররণাতেই—মআনউষেরকোন মহাজন মন্ত্রোচ্চারণ করেছিলেন—চরৈবেতি চরৈবেতি….সেই থেকে মানুষের এগিয়ে চলার সাধনা শুরু।সচেতন হওয়াই মানুষের ধর্ম।প্রকৃতির সকল সত্য সৌন্দর্য্য,অনুভব আয়ত্তে আনাই তার আরাধনা।সুখ শান্তি ও প্রেমের প্রস্থাপনাই তার কর্ম।এই সমগ্রতা প্রাপ্তির জন্য চাই সহাবস্থান,সাহচার্য্য ও সাম্যবোধঃ।সেই অনুসারে,জীবনের সমগ্র ক্ষেত্রে চাই সুনির্দিস্ট পদ্ধতি প্রয়োগ ব্যবস্থা।অন্যথায় বৈষম্য মনুষ্যত্বকে খর্ব করে চলে।মআনুষকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়।এই চলমান ছন্দের মাঝেই যখন দ্বিধা-দ্বন্দ্বে মানুষের গতি ব্যহত হওয়ার উপক্রম হয়েছে,তখনই কোন মহাজন এসে মানুষের আচ্ছন্ন চেতনাকে সচকিত করে দিয়েছেন,’উত্তিষ্ঠিতঃ জাগ্রতঃ’চলা থামেনি কখনো।অন্বেষার ক্রমাগত প্রেরণা মানুষকে সাহিত্য রচনায় উদ্বুদ্ধ করেছে;জগতের তাবৎ বস্তু ক্রিয়াকান্ড সাহিত্যে ক্যানভাসে আনার সম্ভাবনা উপলব্ধি করেছে।এই সম্ভাবনার দ্বার খুলে গেছে মানুষের ভাষালিপির মহত্তম আবিস্কারে। হাজার হাজার বছর ধরে মানুষের নিরলস নিষ্ঠা ও শ্রমে গড়ে উঠেছে এক একটি লিপি,শব্দ ও বাক্য।যার সুষ্ঠ বিন্ন্যাস বন্ধনে গড়ে উঠেছে সাহিত্য।সাহিত্যের সার্থক সৃষ্টিতে মানুষের কাব্যগাঁথাই কালজয়ী মহাকাব্য হয়ে উঠেছে। বাল্মীকির ‘রামায়ণ’,ব্যাসদেবের ‘মহাভারত’,হোমারের ‘ইলিয়ড ওডিসি’ মানুষের সাধ্য সাধনার সার্থক ফল। উত্তরাধিকার সূত্রে আমরা অনায়সে লাভ করেছি।। প্রাণী জগতে একমাত্র মানুষের আবির্ভাব থেকেই অগ্রগতির ইতিহাস সূচিত হয়েছে।সেই পাথরে পাথর ঠুকে আগুন আবিস্কার থেকে শুরু করে চন্দ্রে পদার্পন পর্য্যন্ত মানুষের অগ্রগতির ইতিহাস এবং তার তাৎপর্য্য বড় কম নয়।সেই পরিপ্রেক্ষিতে,সাহিত্যের বিকাশ ধারাটি বিশেষ গতিশীল হয়নি।তবে সাহিত্য স্রোত মানুষের জীবনে কতদূর এসে পৌঁছুল সে প্রসঙ্গটি আলোচনা করা জরুরী।

 

   গোড়ার দিকে আমাদের দেশে সম্ভবত সমস্ত দেশেই সাহিত্যের প্রধান উপজীব্য ছিল ধর্ম,দেব দেবী,দানব,অতি প্রাকৃত বিষয়বস্তু ইত্যাদি।ধর্মনেতা বা তখনকার সমাজপতির পৃষ্ঠপোষকতায় সাহিত্যের প্রথম পদচারণা ঘটেছিল।পরবর্ত্তী পর্য্যায়ে সাহিত্য এগিয়েছে রাজা উজীরদের কৃপাপুষ্ট হয়ে।সেই কারণে,রাজ মহিমাই ছিল তখন সাহিত্যের মূখ্য উপাদান।এরপর সাহিত্য রাজ প্রাসাদ থেকে জমিদার সামন্তদের দরবারে এসে অনেক কাল আবদ্ধ ছিল।এ পর্য্যন্ত সাহিত্যকে বহু ক্ষমতা সম্পন্ন প্রভূ গোষ্ঠির তোষণ করে চলতে হয়েছে। তারপর অষ্টাদশ শতাব্দীতে ইউরোপে শিল্প বিপ্লব ঘটবার পর থেকে মানুষের চিত্ত জগতে এক অভাবনীয় অগ্রগতির ইতিহাস রচিত হয়।সেই রেণেসাঁসের ঢেউ বাংলা সাহিত্যে এসে পৌঁছেছি উনবিংশ শতাব্দীতে।সেই সময় থেকে সাহিত্য খানিকটা স্বাধীনতা পেয়েছে,মুক্তির স্বাদ পেয়েছে।এবার আর দেব দেবীর বন্দনা নয়;রাজা উজীরের স্তাবকতা নয়;এমনকী জমিদার সামন্তদের গুণকীর্তনও নয়;বরং মধ্যম শ্রেনী মানুষের সুখ দুঃখ ও বিচিত্র সমস্যা নিয়ে সাহিত্য নতুন ধারার পথ চলতে শুরু করে।মধ্যবিত্ত সাধারণ মানুষের জীবন আলেখ্য সাহিত্যে উপজীব্য হওয়ায় মানুষ প্রথম জীবন সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠল।

 

                           (3)

প্রাচীন যুগ তথা মধ্যযুগের সাহিত্য ধারণা বদলে গিয়ে মানুষ দেখবার প্রয়াস পেল যে,তার জীবন শিকড় বস্ত্তগত জগতেই প্রোথিত।এই সাহিত্য সাফল্যের স্পষ্টতর ভূমিকায় বাংলা সাহিত্য পেল বঙ্কিমচন্দ্র,রবীন্দ্রনাথ,নজরুল,শরৎচন্দ্র প্রমুখ প্রতিভাকে।সাহিত্যকে অনন্য মর্য্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করলেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ—বিশ্ব সাহিত্যের দরবারে সর্বোচ্চ সম্মানীয় আসন অধিকার করল বাংলা সাহিত্য।সেই থেকে আমরা ভারতীয়রা সাহিত্য সংস্কৃতিতে গৌরব বোধ করে আসছি।এ গৌরবের একটা সুদূরপ্রসারী মূল্য থাকে যার সুফল এখনও আমরা উপভোগ করছি।তার চেয়ে বড় কথা সাহিত্যের সততার,অসাধারণ প্রত্যয় শক্তিতে জাতীয়তাবাদের ভৌগোলিক সীমা অতিক্রম করে আন্তর্জাতিক জীবনে সহিতত্ববোধ স্পন্দিত হতে পারে; বিশ্বস্বীকৃতির মাধ্যমে সে প্রমাণ আমরা পেয়েছি।সাহিত্যের এরকম একটা গৌরবময় স্তরে পৌঁছানোর জন্য সকল স্রষ্টাদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সাহিত্যের একটি মল আদর্শের কথা উথ্থাপন করতে চাই। কথাটি সাহিত্যের সমগ্রতা ও সর্বজনীনতা নিয়ে।সাহিত্য বলতে সাহচার্য্য বোঝায় তা আগেই উল্লেখ করেছি।তবে এই সাহচার্য্যের সীমা কতটুকু?তেমনি সর্বজনীনতা জনগণের কতটা বোঝালে যথার্থ হবে?এ প্রশ্নের মীমাংসা হওয়া দরকার।সাহচার্য্য বা সহিতত্ব আবার একতার পরিপূরক।মানুষের ঐক্যবোধের তাপর্য্য রবীন্দ্রনাথ ব্যাখ্যা করেছিলেন এইভাবে—“মানুষের পরিচয় তখনই সম্পূর্ণ হয় ঈতযখন সে যথার্থভাবে আপনাকে প্রকাশ করতে পারে।প্রকাশ হচ্ছে নিজের সঙ্গে অন্য সকলের সত্য সম্বন্ধের ঐক্যই ঐক্য।সেই ঐক্যের ব্যাপ্তী ও সততা নিয়েই কি ব্যাক্তি বিশেষের,কি সমষ্টি বিশেষের যথার্থ পরিচয়।এই ঐক্যকে ব্যাপক করে পেলেই আমাদের সার্থকতা”।

 

          আমাদের সাহিত্যে সাহচার্য্য কিংবা ঐক্য কি এখনও সর্বজনীন স্তরে পৌঁছেছে?এই আধুনিক কালের সাহিত্য পর্য্যন্তও আমরা তার প্রকৃষ্ট পরিচয় পাই না।সাহিত্যের ধারাটি এখনও মধ্যবিত্ত শ্রেনীর সুখ দুঃখও সমস্যা নিয়েই আবর্তিত।প্রধানতঃ সে ধারা নগর কেন্দ্রিক।লেখক শিল্পী সমালোচক,পাঠক প্রভৃতি অধিকাংশই মধ্যবিত্ত শ্রেনী থেকে জন্ম নেয়।সেই কারণে,মধ্যবিত্ত মানসিকতার মাপেই সৃষ্টি হচ্ছে আধুনিক সাহিত্য শিল্প ও সংস্কৃতি।মধ্যবিত্ত শ্রেনীকে বাদ দিলে প্রকৃতপক্ষে,আপামর জনজীবন এখনও সাহিত্যে সম্যক ঠাঁই পায়নি।প্রসঙ্গত উল্লেখনীয়,সর্বজনীন ঐক্য গড়ার জন্য রবীন্দ্রনাথ উদার কন্ঠে ডাক দিয়েছিলেন,-“সবার করি আহ্বান”।নির্বিশেষে,সকল মানুষকে তিনি”মহামানবের সাগর তীরে”এসে মিলিত করার আশা ব্যক্ত করেছিলেন।এই সামাজিক মিলন ও সাহচার্য্যই সাহিত্যের মর্মবাণী।তথাকথিত নিন্ম শ্রেনীর গরীব দুঃখী দিন মজুরের জন্যও কবির বেদনা পরিস্ফুট,”ওরা কাজ করে”কবিতায় তার সাক্ষ্য মেলে।তবু সে আহ্বান সর্বস্তরে গিয়ে পৌঁছায়নি তা উপলব্ধি করে তার অপারগতার কথা ব্যক্ত করলেন “ঐকতান”কবিতায়।তাতে তিনি স্পষ্ট স্বীকার করেছেন যে,তার সাহিত্য সৃষ্টি বিচিত্র পথে গেলেও তাহষনি সর্বত্রগামী।সে অকৃত কাজ সমাধার জন্য মাটি থেকে অর্থাৎ গরীব দূঃখী অবহেলিত মানুষের মধ্য থেকে লেখক কবিকে তিনি আহ্বান জানিয়েছিলেন।কারণ,যাদের কথা বলা হবে তাদের সুখ দুঃখ ও সমস্যা সত্য করে জানা চাই,না হলে জীবনবেদ রচিত হতে পারে না।এ কথা তিনি নিজে বুঝেছিলেন ও অন্যদেরও বোঝাবার চেষ্টা করেছিলেন।সেই প্রার্থিত লেখকের মধ্যে শরৎচন্দ্র অন্যতম।শরৎচন্দ্র মহেশের সঙ্গে শোষিতের প্রতিভূ “গফুরকে সাহিত্যে স্থান দিলেন।কিন্তু,মানুষের জটিল ব্যবস্থার পরিণতি স্বরূপ সেই গফুরেরা কি তাদের বঞ্চনার কথা,শোষণের কথা আজো জানতে পারলো?যে দেশে ষাট সত্তর ভাগ মানুষ দরিদ্র অশিক্ষিত গ্রামবাসী।

 

                            (4)

 

   উদর নিবৃত্ত করে বেঁচে থাকার সমস্যাতেই যাদের উদয়-অস্ত জীবন অতিবাহিত করতে হয়।সাহিত্য তাদের কাছে অবান্তর ও কল্পনাতীত।অতএব এই জীবনের সঙ্গে সাহিত্যের যোগ সম্পর্কটা কোথায়?আর জনগণের বিরাট অংশকে জীবনে কি সাহিত্যে সামিল না করতে পারলে সর্বজনীন সাহচার্য্য বা ঐক্য গড়ে উঠবে কেমন করে?!এমতাবস্থায় কি তাহলে সাহিত্যের শক্তিতে সন্দেহ করব?সাহিত্য কি প্রভাবিত করতে পারেনি মানুষকে বা মানষের সমাজ ও রাষ্ট্রকে—সর্বজনীন ঐক্যে বা বিকাশ লাভের মর্মে!এও কি গ্রহনীয় সত্য হবে,যখন এদেশে বঙ্কিমচন্দ্র রবীন্দ্রনাথ নজরুল শরৎচন্দ্র প্রমুখ শক্তিশালী প্রতিভার জন্ম হয়েছে!প্রাকস্বাধীনতার যুগে বঙ্কিমচন্দ্র’র ‘বন্দেমাতরম’ধ্বনি তথা আনন্দমঠের মর্মবাণী শুধু বাঙালীকে নয়…সমগ্র ভারতবাসীকে জাগরণের প্রেরণা জুগিয়েছিল।এই হাল আমলে সত্তর দশকে রবীন্দ্র সাহিত্য থেকে দেশপ্রেম শক্তি ও সাহস সঞ্চয় করে পরাক্রম অধীনতাপাশ থেকে মুক্তি অর্জন করেছে বাংলাদেশের মুক্তি স্বাধীনতাকামী জনগণ।‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি’ এই সঙ্গীতটি ছিল ঐ সংগ্রামী জনতার আত্মশক্তি অর্জনের প্রধান মন্ত্র।শরৎচন্দ্রের ‘পথের দাবি’ স্বাধীনতার জন্য সংগ্রামী চেতনা জুগিয়েছিল ভারতবাসীকে অপ্রতিরোধ্য ক্ষমতায়।সেই পুস্ত্কের থেকে ত্রান পেতে বাজেয়াপ্ত করে তখনকার বৃটিশ কায়েমী শক্তি।নজরুলের ‘কান্ডারী হুঁসিয়ার’,’বিদ্রোহী’প্রভৃতি গান ও কবিতাকে কন্ঠে ধারণ করে অন্যায় অত্যাচার ও পরাধীনতার বিরূদ্ধে জেগে উঠেছিল সেযুগের লক্ষ কোটি যুবমানস।উক্ত ঊদাহরণ থেকেই বাংলা সাহিত্যের শক্তি সম্বন্ধে নিঃসন্দেহ হওয়া যায়।তবে সাহিত্য সমগ্র মানব জীবনে প্রভাবিত হওয়ার অন্তরায়টা কোথায় নিহিত?এর উত্তরে বলা যায় অন্তরায় রয়েছে জনজীবন সমা ও রাষ্ট্রের সম্পর্ক হীনতায়;যাবতীয় ব্যবস্থাপনার অসম প্রক্রিয়ায়!মানুষে মানুষের মাঝে জাতি ধর্ম ও শ্রেনী-বৈষম্যের ব্যাপকতায়;শ্রেনীস্বার্থ বুদ্ধির  জোটগত ক্ষমতায়।এইসব কারণে,জনজীবন যেমন শ্রেনীস্বার্থের যূপকাষ্ঠে বাঁধা পড়েছে,তেমনি সাহিত্য গতি প্রগতির বন্দিদশায় গণসাহিত্যে পৌঁছতে না পারার বাস্বতা। প্রতিকূল সংখ্যাগরিষ্ঠের মাঝে কতিপয় মহাজনের সাহিত্য শক্তি ও হীতবাণী প্রতিহত হয়ে যায়।সেইজন্য,রবীন্দ্রনাথের বিশ্বজনীন আবেদন-‘সবারে করি আহ্বান’ আজও সর্বস্তরে গিয়ে পৌঁছায়নি।

 

   বঙ্কিমচন্দ্রের-‘বিড়াল’-এর অধিকারগত প্রশ্নটি যেমন—‘আমাদের কালো চামড়া দেখিয়া ঘৃণা করিও না।এ পৃথিবীতে মৎস মাংসে  আমাদেরও কিছু অধিকার আছে।খাইতে দাও নহিলে চুরি করিব’… এখনও পুস্তখ পরিসরে সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে।নজরুলের-’আমি সেই দিন হব শান্ত।/যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না’।এই আকাঙ্খার বিদ্রোহী আত্মা আজও অতৃপ্তির হাহাকারে মাথা মরে নাকি?শরৎচন্দ্রের ‘গফুরের’ সংখ্যা আজ কত কোটি হয়েছে তার হিসাব মেলএ না।এ সমাজে ‘অরক্ষণীয়ার’ জ্ঞানদারই বাঅভাব কোথায়!পণপ্রথার নির্মম নির্যাতনে কত নারী প্রাণ বিসরন দেয় সে খবর আমরা নিয়ত অংশতই দৈনিকে দেখি।দারিদ্রের কষাঘাতে মানুষের দুর্দশায়,নিজ অভিজ্ঞতায় সুকান্তর জীবনবোধ হাহাকার নৈরাশ্যে বিলীন হতে দেখা যায় ‘মহাজীবনর’ উপসংহারেঃ-

‘প্রয়োজন নেই কবিতার স্নিগ্ধতা/কবিতা তোমায় দিলাম আজকে ছুটি,/ক্ষুধার রাজ্যে কাব্য গদ্যময়/

পূর্ণিমা চাঁদ যেন ঝলসানো রূটি।‘

            

   এইভাবে আজকের মানুষের জীবন যাপন ও বহমান ইতিহাস উল্টে পাল্টে দেখি,ক্রমাগত কেবল যান্ত্রিক প্রগতি ও বৈজ্ঞানিক ঊন্নতি যা মুষ্টিমেয় মানুষের ঘরে পৌঁছেছে।আর সমাজ-জীবনে জাত্যাভিমান,ধর্ম-বিভেদ শোষণ-সাশন অন্যায়-অবিচার আজও বহাল তবিয়তে বিরাজ করছে!সাহিত্যেও অল্পবিস্তর প্রতিফলিত হচ্ছে জীবনের সেইসব কলঙ্ক,অপুর্ণতা ও বৈসম্য।

                         

(5)

         

 

   এহেন ঐতিহ্য আমাদের স্মরণ করেয়ে দেয় সাহিত্যিক ওয়াসজেদ আলী-র সেই বাস্তবিক উক্তি—‘সেঈ ট্র্যাডিশন সমানে চলেছে’…এই প্রেক্ষিতে সর্বসাকুল্যে এখনও বলা যায়,সাহিত্যের মূলধারা মধ্যবিত্ত জীবনেই বহমান।শ্রেনীস্বা্র্থ অতিক্রম করে সাহিত্য যখন আপামর জীবনে অঙ্গীভূত হতে পারে না।সমাজের বৃহত্তর জনজীবন থেকে যায় বিচ্ছিন্ন অজ্ঞতার আঁধারে!এমনকী স্মরণীয় বরনীয় সাহিত্যিক কবি দার্শনিক বিজ্ঞানীর পরিচয় এরা জানেনা।নোবেল পুরস্কার,খেতাব,শিরোপা ইত্যাদির কী যে মূল্য এবং জীবনের কোন কাজে লাগে,তা সঠিক বুঝে উঠতে পারেনা।এই প্রেক্ষিতে,মানবজাতির সবচেয়ে ঘৃণ্য কলঙ্ক যথা- চৌর্যবৃত্তি,ভিক্ষাবৃত্তি ও বেশ্যাবৃত্তি আমাদের সমাজ থেকে যদি সাহিত্যের প্রত্যক্ষ কীপরোক্ষ কোনো ভূমিকা থাকত,তাহলে কি আমরা একটা মহান জাতি বলে বিবেচিত হতাম না!সাহিত্য বা কাব্য কখনোই মানুষ কে বাদ দিয়ে,তার বৃহত্তর স্বার্থ উপেক্ষা করে সার্থক হতে পারেনা।অনুরূপে,একটি দেশ ও জাতি তার সমষ্টিগত গৌরবেই গৌরবন্বিত হতে পারে,কোন ব্যক্তির বিরাট সাফল্যে নয়,যদি না তার প্রভাব জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোত সম্পর্কিত হয়।রবীন্দ্রনাথের বক্তব্যে প্রোজ্বল হয়ে রয়েছে—

 

   “দেশ মানুষের সৃষ্টি।দেশ মৃন্ময় নয়,সে চিন্ময়।মানুষ যদি প্রকাশমান হয় তবেই দেশ প্রকাশিত।সুজলা সুফলা মলয়জ শীতলা ভূমির কথা যতই উচ্চ কন্ঠে রটাব ততই জবাবদিহির দায় বাড়বে।প্রশ্ন উঠবে প্রাকৃতিক উপাদান মাত্র,তা নিয়ে মানবিক সম্পদ কতটা গড়ে তোলা হল।মানুষের হাতে দেশের জল যদি যায় শুকিয়ে,ফল যদি ষায় মরে,মলয়জ যদি বিষিয়ে ওঠে মারীবীজে,শস্যের জমি যদি হয় বন্ধ্যা,তবে কথায় দেশের লজ্জা ঢাকা পড়বে না।দেশ মাটিতে তৈরি নয়,দেশ মানুষে তৈরি।“

 

   এই মানুষ ও সমাজের ক্রমবিবর্তনের পরিণতিস্বরূপ আজ এমন একটি জীবন অধ্যায় রচিত হয়েছে,যার ফলে মানুষ আজ বিচ্ছিন্ন অসহায় ও একা।অনেকের মধ্যে থেকেও সে সংঘবদ্ধ নয়,   নিঃসঙ্গ।সমাজের অস্তিত্ব বলা যায় বিলুপ্ত প্রায়।।তার স্থান দখল করেছে বোবা কালা রাষ্ট্র নামক নিয়ামক!ব্যক্তির সঙ্গে যার সম্পর্ক অতি ক্ষীণ।তার ভাল মন্দ সুরক্ষার জন্য রাষ্ট্র আগ্রহী নয়।তার দুঃখ কষ্ট সমস্যা নিজেকেই বহন করতে হয়।রাষ্ট্র তার শরিক হতে আসে না,সহায়তা করতে আসে না।গোষ্ঠির কাছে কিছু দায় আছে বটে,সংখ্যাগরিষ্ঠের স্বার্থ দায়িত্বও থাকার কথা।এইভাবে,ব্যক্তি রাষ্ট্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে,নিজ দায় ঝক্কি বহনের আশঙ্কায় ও নিরাশায় মানুষের মানসিক বিকৃতি ঘটেছে।সে যে কোন কৌশলে,যে কোন মূল্যে নিজের স্বার্থ রক্ষার জন্য তৎপর,স্বার্থপর ও এককেন্দ্রিক হয়ে উঠেছে। অন্যের ভাল মন্দের প্রতি সে ততোধিক উদাসীন ও নিষ্ঠুর!লব্ধ সকল মূল্যবোধ হারিয়ে

 

   যেখানে যতটুকু সুবিধা ও ক্ষমতার অধিকারী তাকেই সে কায়েম করবার জন্য মনপ্রাণ নিয়োগ করে চলেছে।এই অবস্থাই অবক্ষয়।এই জীবনের চালচিত্র ফুটে উঠছে একালের সাহিত্য দর্পনে,শিল্পকলা সঙ্গীতে।মানুষের সবচেয়ে স্পর্শকাতর যৌনতা নিয়ে সারাদেশব্যপী নির্লজ্জ বেসাতি,চলছ ছিনিমিনি খেলা,কী জীবনে,কী সাহিত্যে!ব্যবসা ক্ষেত্রে এই লোভনীয় উপাদানের বুঝি বিকল্প নেই।অধিকাংশ ক্ষেত্রে আইনত সকল ন্যায্য কাজের জন্যেও এখন অলিখিত উৎকোচ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। নচেৎ আজকাল কোন কাজই আর স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন করা দুরূহ ব্যাপার!জীবনের চতুর্দিকে নেমে আসছে অন্ধকার।আলো জ্বালাবে কে,কোথায় সেই বাতিওয়ালা!সাহিত্যের ক্ষীনালোকে জীবন পথের কোন দিশা জ স্পষ্ট নয়।জীবনের অতি সুন্দর সুখের ভালবাসার যৌনতাকে-ব্যাভিচারে ভ্রষ্টাচারে সাহিত্যের প্রধান উপজীব্য করে তোলা হচ্ছে।যুগ যন্ত্রনা ও জীবনের হাজারো জটিল সমস্যা মানুষ নিয়ত সাহিত্যে প্রত্যক্ষ করে সে বিভ্রান্ত ও পর্যুদস্ত।কারণ,এই বিপুল সংকট থেকে উত্তরণের দিশা নেই তার এই একবারর স্বল্প জীবনে।

 

   

                          (6)

  

   সাহিত্যের মূল আদর্শে, মানুষ যাতে মনুষ্যত্ব বুঝে পায়,সমাজ গড়ে ওঠে,সভ্যতার পত্তন অটুট বন্ধনে প্রতিষ্ঠা পায়।এতকাল এই ধারণায়,এই দিশায় অরণ্যের বন্য জীবন থেকে সমাজ সভ্যতার আলোকে অবতীর্ণ হয়েছিল, বুদ্ধিজিবী মানুষের কল্যাণ অভীপ্সায়,কোথায় বিলীন হয়ে যাবার পথে সেই সৃজনশীল মানুষের commitment?আজকের সাহিত্য কি আধুনিকতার দোহাই দিয়ে আরাধ্য দায় দায়িত্ব থেকে মুখ ঘুরিয়ে নেবে?সাহিত্য কি নিষ্ঠুর বাস্তবের শুধুই ধারা বিবরণী,বস্ত্তগত জীবনের ফটোগ্রাফী?তবে বাস্তবের দেখা আর সাহিত্যের দেখা এক ও অভিন্ন দৃশ্যে সামিল হবে?নাকি সাহিত্য বাস্তবের চেয়ে কিছু অতিরিক্ত আরও অর্থময় ও সদর্থ ইঙ্গিতময়-সততার পক্ষে,উত্তরণের অনুকূলে!সাহিত্যের এই সংকটকে অনুধাবন করে বলেছিলেন,-“সংসারে যা কিছু ঘটে-এবং অনেক নোংরা জিনিষই ঘটে,তা কিছুতেই সাহিত্যের উপাদান নয়।প্রকৃতির বা স্বভাবের হুবহু নকল করা photography হতে পারে;কিন্তু সে কি ছবি হবে?দৈনিক কাগজে অনেক কিছু রোমহর্ষক ভয়ানক ঘটনা ছাপা থাকে,সে কি সাহিত্য?শরৎচন্দ্রকে যাঁরা সেকলে বলে উড়িয়ে দিতে চান তাদর জন্য একালের শক্তিমান লেখক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের সাহিত্য ধারণাটি উল্লখনীয়,-“যার সাহচার্যেমনুষ্য সমাজ মঙ্গলে অধিষ্ঠিত হয়,তাই সাহিত্য।সাহিত্যের এই সঙ্গার মধ্যে একটু ঊcommiyment-এর গন্ধ আছে।এই কমিটমেন্ট ছাড়া সাহিত্য অনেকটাই উদ্দেশ্যহীন ও নিরর্থক।“…

 

   অতীতে সাহিত্য সাধনায় উত্তরণের অন্বেষা ছিল।সাহিত্যের লক্ষ্য ছিল,ক্রমশঃ ব্যাপক জীবনের সাহচর্যে পৌঁছানোর।সেই লক্ষ্যের দরুণ অতি কল্পনীয় জগতের দেবতা দানব থেকে,রজা জমিদার সামন্ত,এরপর সামন্ত থেকে সাধারণ মধ্যবিত্ত মানুষর জীবনে সাহিত্যস্রোত এসে মিশেছিল।

 

   মানুষ এই সাহিত্য প্রয়াস থেকে শক্তি ও প্রেরণা দু-ই পেয়েছিল মহান স্রষ্টাদের সৃষ্টিতে।সেদিন সাহিত্যের মর্মবাণীকে সঠিক উপলব্ধি করে বাঙালী নিজে জেগেছিল;অপরকেও জাগাবার মহান ব্রত নিয়েছিল।সাহিত্যের সেই আলোকে কেউ উপেক্ষা করতে পারেনি।বাংলা সাহিত্যকে বাঙালীকে সবা শ্রদ্ধায় বরণ করে নিয়েছিল।সেই স্রোতধারা কি ক্রমশঃই ক্ষীণ হবে,ক্ষয়িষ্ণু কালের স্রোতে ভেসে?সে কি মধ্যবিত্ত মানুষকে নিয়েই এক বিচ্ছিন্ন দ্বীপবাসী হবে?জ্ঞান বিজ্ঞান প্রযৃক্তি তথা যান্ত্রিক উন্নতির প্রায় সকল সুখের দুয়ার আজ খলে গেছে।তবে এই সাহিত্যে কেন বন্ধ্যাত্ব-নৈরাশ্য রাজ্যেই এত দিশাহীন পদচারণা?সামগ্রিক ঐক্য কি তবে অধরাই রয়ে যাবে?এখনকার গোষ্টিবদ্ধ ক্ষমতার কাছে, কায়েমী স্বার্থের কাছে সাহিত্য তার গতি প্রকৃতি ও প্রগতির শীর উন্নত না করে অবনত রাখবে শোক পালনের মত!নাকি সাহিত্য সত্যি শক্তিহীন হয়ে পড়েছে অন্যান্য সকল উন্নতির চাপে? সাহিত্যের বিকাশ রুদ্ধ হলে মানুষের জীবনের বিকাশ ঘটাবে কে,বিবেক জাগ্রত রাখবে কে?গোষ্টিবদ্ধ সমাজের লেখা সাহিত্য নয়,রচয়িতাও সাহিত্যিক নয়,শুধুই লেখক!সর্বজনীন সাহচর্যে উন্নত হলে সাহিত্য রচয়িতা একদিন প্রকৃত সাহিত্যিক হয়ে উঠবে-এই আশায় বুক বেধে রইল আপামর মানুষের চিরন্তন—কাঙ্খিত ভালবাসা!

Share on Facebook
Share on Twitter
Please reload

জনপ্রিয় পোস্ট

I'm busy working on my blog posts. Watch this space!

Please reload

সাম্প্রতিক পোস্ট
Please reload

A N  O N L I N E  M A G A Z I N E 

Copyright © 2016-2019 Bodh. All rights reserved.

For reprint rights contact: bodhmag@gmail.com

Designed, Developed & Maintained by: Debayan Mukherjee

Contact: +91 98046 04998  |  Mail: questforcreation@gmail.com