ইদের নমাজের জন্য কেরলে খুলে গেল মন্দির

24.08.2018

 

 

বিশ্ব জুড়ে পালিত হচ্ছে ইদ আল-আধা। সব মুসলিম সেই উৎসব পালন করছেন। সকালেই নমাজ পড়েছেন মসজিদে গিয়ে। কিন্তু ভারতের দক্ষিনের রাজ্য কেরলে ছবিটা একটু অন্যরকম। বানের জলে ভেসে গিয়েছে ঘর-বাড়ি। উৎসব তো দূরের কথা, নমাজ পড়ার জায়গাটুকু নেই। আর প্রকৃতির রোষের মুখে মুছে গিয়েছে সব ভেদাভেদ। হিন্দু, ক্রিশ্চান, প্রকৃতি তো কাউকে আলাদ করে দেখেনি। তাই হয়ত বোঝার সময় এসেছে যে, আদতে সবাই ভগবানের সন্তান। তাই মুসলিমদের নমাজের জন্য জায়গা করে দিলেন হিন্দুরাই।

 

   ভয়াবহ বন্যায় কেরলের ত্রিসুর যে জলের তলায়, সেকথা অনেকেই জানেন। বৃষ্টি থামলেও অবস্থার উন্নতি হয়নি খুব একটা। স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে এখনও অনেক দেরি। ডুবে আছে মসজিদগুলো। কোথায় প্রার্থনা করবেন সেটাই বুঝতে পারছিলেন না মুসলিমরা। তাই তাঁদের জন্য খুলে দেওয়া হল মন্দির। মুসলিমদের কোরবানির উত্‍সবে সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত তৈরি হল সেই ভারতেই, যেখানে নাকি বছরভর হিংসার গল্প উঠে আসে খবরের কাগজের পাতায়। সেই ভারতেই ইদের নমাজের জন্য মুসলিমদের নিয়ে যাওয়া হল মালার পুরাপ্পিল্লিকাভু রক্তেশ্বরী মন্দিরে।

 

   স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, সেখানকার সব মসজিদই এখনও জলের তলায়। তাই এই মন্দিরে নমাজের সুযোগ দেওয়ায় ধন্যবাদ জানিয়েছেন মুসলিমরা।মন্দির কর্তৃপক্ষের গলাতেই সম্প্রীতির সুর। এক সদস্য বলেন, "আমরা প্রথমে মানুষ। শুধু এই দুর্যোগের পরিস্থিতিতে নয়, আমাদের সবসময় মনে রাকা দরকার যে আমরা সবাই ভগবানের সন্তান। আগামিদিনে এই বার্তা যেন ছড়িয়ে পড়ে, সেটাই চাই। যারা একনও বিপদে রয়েছে, তাদের আমরা একসঙ্গে সাহায্য করতে চাই।"এরাভাথুরের পুরাপ্পাল্লিক্কাব রক্তেশ্বরী মন্দিরের কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত করেন, কাছাকাছি কচুকাদাব মহল মসজিদটি বন্যার জলে ডুবে যাওয়ায় বুধবার ইদ-উল-আধার নমাজের জন্য তাঁরা তাঁদের মন্দির সংলগ্ন হলঘরটি খুলে দেবেন। সেই সিদ্ধান্তমতো এই হলঘরেই ইদের নমাজ পড়েন মুসলিম সম্প্রদায়ের অসংখ্য মানুষ।

 

   শ্রীনারায়ণ ধর্ম পরিপালন যজ্ঞম (এসএনডিপি) পরিচালিত এই মন্দিরে ইতিমধ্যেই বন্যার্তদের জন্য ত্রাণশিবির খোলা হয়েছে। এলাকায় ত্রাণকাজে দেখাশোনা করছেন অভিনব নামে এক যুবক। তিনি বলেন, “মন্দিরের হলঘরে ইতিমধ্যেই ত্রাণশিবির খোলা হয়েছে। আমরা বুঝতে পেরেছিলাম কাছাকাছি কোনো শুকনো জায়গা নেই যেখানে জড়ো হয়ে ইদের নমাজ পড়া যায়। তাই এখানকার যুবকরা নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে হলঘরটিকে অস্থায়ী ইদগা (প্রার্থনাকক্ষ) বানিয়ে দেন।” অভিনব আরও জানান, “নিজেদের ধর্ম ভুলে এখানকার মানুষজন আশেপাশের বাড়ি থেকে মাদুর ইত্যাদি জোগাড় করে হলঘরটিকে অস্থায়ী প্রার্থনাকক্ষ করে তোলেন। ইদে এখানে ৩০০-এরও বেশি মানুষ নমাজ পড়েছেন। তার পর সভা হয়েছে। বন্যাদুর্গতদের জন্য বিশেষ প্রার্থনার ব্যবস্থা করা হয়।”

Share on Facebook
Share on Twitter
Please reload

জনপ্রিয় পোস্ট

I'm busy working on my blog posts. Watch this space!

Please reload

সাম্প্রতিক পোস্ট
Please reload

A N  O N L I N E  M A G A Z I N E 

Copyright © 2016-2019 Bodh. All rights reserved.

For reprint rights contact: bodhmag@gmail.com

Designed, Developed & Maintained by: Debayan Mukherjee

Contact: +91 98046 04998  |  Mail: questforcreation@gmail.com