উন্নয়নের বলি হতে চলেছে পুরুলিয়ার বিশাল জঙ্গল

16.09.2018

 

 

খুউব শিগগিরই আবার উন্নয়নের বলি হতে চলেছে পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়ের ঠুড়গা (তুর্গা) নদী সংলগ্ন বিশাল জঙ্গল এলাকা - লক্ষ লক্ষ গাছ । ১২ টি হাতির একটি দল, যার ৪টিই শিশু এছাড়াও পাঙ্গোলিন, লেপার্ড, ট্রিশ্রিউ, হায়নার মতন জীববৈচিত্র, আদিবাসীদের মারাংবুড়ু পাহাড় । পুরুলিয়ার তুর্গায় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য পাম্পড্যাম করা হবে । তাই প্রকৃতি বাঁচাতে এগিয়ে আসতে হবে পুরুলিয়ার আশেপাশের মানুষগুলোকেই । তাদেরকেই রুখে দাঁড়াতে হবে আর আমাদের হতে হবে সচেতন যাতে এই ঘটনা সকলে জানতে পেরে বিরূদ্ধে সরব হতে পারেন - সঠিক আইনি ব্যবস্থা নিতে পারেন

 

   আসুন পড়ে নিই অযোধ্যা পাহাড়স্থিত বনগ্রামের মানুষেরা কি বলছেন...

 

To
The District Magistrate
Purulia District
Purulia Head Office
West Bengal

 

মহাশয়,

 

   আমরা জানতে পেরেছি যে, আমরা যে এলাকায় বাস করি তার কাছে ঠুড়্গা পাম্পড স্টোরেজ পাওয়ার প্রজেক্টের কাজ শুরু হয়েছে। আমরা জানতে পারছি যে, পরিবেশ আইনের ব্যাপারে গণশুনানি হয়ে গেছে এবং এই ধরণের প্রজেক্টে ছাড়পত্র পাওয়ার জন্য গ্রামের মানুষের যে ধরণের সম্মতির প্রয়োজন সেগুলো নাকি নেওয়া হয়ে গেছে। কিন্তু আসলে সরকারীভাবে এই প্রজেক্টের ব্যাপারে আমাদের মত তো নয়ই, আমাদের ভালো করে কোনোকিছু জানানোই হয়নি। তাই এই বিষয়ে আমরা আপনাকে কিছু জানাতে চাই।

 

   কয়েক বছর আগে আমাদের এলাকায় পুরুলিয়া পাম্পড স্টোরেজ প্রজেক্ট হয়েছিল। আমাদের বলা হয়েছিল যে, এই প্রজেক্ট থেকে আমরা বিনা পয়সায় কারেন্ট পাব আর কাজ পাব। কিন্তু কারেন্ট চলে গেছে আরামবাগে, রাঁচিতে; আর আমরা মোটেই এই কারেন্ট পাইনি। প্রজেক্টের শুরুতে কিছুদিন কিছু ঠিকা কাজ পেয়েছিলাম আমরা, কিন্তু স্থায়ী কোনো কাজ আমরা পাইনি। উলটে হাতির থাকার, যাতায়াতের এবং খাবার পাওয়ার মিষ্টি ফলের গাছ, বাঁশ কমে যাওয়ায় হাতির দল আমাদের চাষের ক্ষেতে, আমাদের ঘরে এসে উৎপাত করছে। এমনকি ২/৩ বছর আগে কাশিডি বাঁধ এলাকায় হাই টেনশন লাইনে ইলেক্ট্রিক শক লেগে একটা হাতি মারাও গিয়েছিল। এ ছাড়াও নেকড়ে, বনচিতি/পাহাড়িচিতি সাপও এসে ঢুকে পড়ছে আমাদের ঘরে। জঙ্গলে আগে যে পরিমাণে খরগোস, সুর্যমুখি, ভাল্লুক, হরিণ ছিল সেগুলো খুব কমে গেছে। ঠুড়্গা প্রজেক্ট হলে অন্যান্য জন্তুদের সঙ্গে আমাদের ঝামেলা আরও বেড়ে যাবে।

 

   বামনী নদীটা প্রায় নষ্ট হয়ে গেছে পুরুলিয়া প্রজেক্টের জন্য। আমাদের চাষের জল পেতে খুব অসুবিধে হচ্ছে। ঠুড়্গা প্রজেক্ট হলে আমাদের চাষের জল পেতে আরও অসুবিধে হবে। 

 

   আমরা আদিবাসী, অ-আদিবাসী অনেকেই জঙ্গলের শুকনো গাছের ডাল কুড়িয়ে বিক্রি করে পেট চালাই। জঙ্গলের কাঠ থেকে চাষের লাঙল, আমাদের ঘরের খুঁটি, বৃষ্টির জল থেকে বাঁচতে গাছের পাতা দিয়ে মাথার ঘঙ সব পাই। জঙ্গলের কেন্দ পাতা আমরা বিক্রি করি। জঙ্গলের খাড়াঙ ঘাস, চিরু ঘাস থেকে আমরা ঝাড়ু বানাই। জঙ্গলের ঘাস আমাদের গরু-ছাগলরা খায়। জঙ্গল না থাকলে গরু-ছাগল চরার জায়গা থাকবে না। এমনিতেই আগে পাহাড়ে আমাদের যত প্রচুর গরু ছিল ঘাসের অভাবে এখন তা খুব কমে গেছে। আমাদের সমাজ থেকে ঠিক করা গাছ আমাদের বিয়ের সাক্ষী হয়। পুরোনো জঙ্গলের নির্দিষ্ট জায়গায় মারাং বুঢ়ুর থান কাটা পড়ে গেলে আমরা কোথায় যাব! পুরুলিয়া প্রজেক্টের জন্য অনেক জঙ্গল কাটা পড়েছিল যাতে আমাদের খুব ক্ষতি হয়েছে। পুরুলিয়া প্রজেক্টের সময় বলা হয়েছিল অযোধ্যা পাহাড়ে প্রায় সারে তিন লাখ গাছ কাটা পড়ছে বলে বান্দোয়ানে গাছ লাগানো হবে, কিন্তু সেসব আদৌ হয়েছে কিনা কেউ জানেনা। ওষোধী গাছপালা প্রচুর নষ্ট করে দিয়েছে পুরুলিয়া প্রজেক্ট। ঐ প্রজেক্টের সময়ে আমরা নতুন নতুন যন্ত্রপাতি দেখতে গেলে আমাদের চোর অপবাদও দেওয়া হয়েছিল। নতুন প্রজেক্টের জন্য অনেক গাছ কেটে মোটা রাস্তা তৈরী হচ্ছে, আরও অনেক জঙ্গল কাটা পড়লে আমাদের অসুবিধের শেষ থাকবে না। আমাদের মনে হয় প্রচুর জঙ্গল কাটার ফলে আমাদের পাহাড়ে বৃষ্টি ঠিক মতো হচ্ছে না।

 

   অযোধ্যা গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে আছে আমাদের পবিত্র সুতানটান্ডি এলাকা। সেই এলাকার মধ্যে কোনও জায়গা যাতে কেউ নিজের হিসেবে নিয়ে নিতে না পারে সে জন্যে সে জায়গাকে সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করার কথা আমরা সরকারকে জানিয়েছি। কিন্তু ঠুড়্গার জন্য একই গ্রাম পঞ্চায়েতের জমি নেওয়া শুরু হচ্ছে অথচ আমাদের সমাজের পবিত্র চিরাচরিত সুতানটান্ডি সংরক্ষণের কথাটা একবারও বলছেনা সরকার।

 

   জনশুনানী ক'রে ভালভাবে আমাদের কিছু জানানই হয়নি। এই সব কারণে আমরা আমাদের এলাকায় ঠুড়্গা পাম্প স্টোরেজ প্রজেক্ট চাই না। আপনাকে অনুরোধ করছি আমাদের জীবন-জীবিকা সুরক্ষার কল্যানে এই প্রজেক্টের দূর্ভোগের হাত থেকে আমাদের রক্ষা করুন।

Share on Facebook
Share on Twitter
Please reload

জনপ্রিয় পোস্ট

I'm busy working on my blog posts. Watch this space!

Please reload

সাম্প্রতিক পোস্ট
Please reload

A N  O N L I N E  M A G A Z I N E 

Copyright © 2016-2019 Bodh. All rights reserved.

For reprint rights contact: bodhmag@gmail.com

Designed, Developed & Maintained by: Debayan Mukherjee

Contact: +91 98046 04998  |  Mail: questforcreation@gmail.com