মার্কিন মুলুকে পাড়ার পুজো

 

 

 

কী ভাবছেন? মার্কিন মুলুকে পাড়ার পূজো অনুষ্ঠিত হয় না?  অন্যদের কথা জানিনে।  তবে আড্ডাবাজ বাঙালি সুদূর প্রবাসে বসেও যে আড্ডা মারতে মারতে দেশীয় কায়দায় পাড়ার আন্তরিক পরিবেশ জমিয়ে তুলতে জানেন, তার প্রমাণ মার্কিন মুলুকের ট্রাই-স্টেট দুর্গা পূজো। মানে ওহাইয়ো, ইণ্ডিয়ানা আর কেন্টাকি অঙ্গরাজ্য মিলে  সাতাশ বছর ধরে যে শারদীয় অনুষ্ঠান উদযাপন করে আসছে, তার কথা বলছি। কখনো সখনো ইলিয়ন আর জর্জিয়া রাজ্য থেকেও গুটিকয়েক পরিবার এতে যোগদান করেন। লোকসমাগম সব মিলিয়ে(ভারতীয় বাঙালি-অবাঙালি এবং সাদা-কৃষ্ণাঙ্গসহ অন্যান্য রেসের) ছয় থেকে ন’শোর মতো। এবার ২০১৯-এর দুর্গা পূজো ৫ আর ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হলো কেন্টাকি রাজ্যে। উপস্থিত মানুষের সংখ্যা ছিল ছ’শোর ওপরে। পূজোর পাশাপিাশি যথানিয়মে জমে উঠেছিল শাড়ি-জুয়েলারির স্টলের সঙ্গে বিভিন্ন জমজমাট সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও। শিল্পী কবিতা কৃষ্ণমূর্তি আর অমিত চক্রবর্তী। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ট্রাই-স্টেটের পার্টিসিপেন্টেদেরও অংশগ্রহণ ছিল। কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে আড্ডার ভাগটাই যে বেশি জমেছিল এতে কারুর দ্বিমত নেই। কারণ বাঙালির মনে ভক্তির ভাব যতখানি না প্রবল, তার চাইতে তার বেশি আকর্ষণ আড্ডা আর ভোজনে। ফি-বছর আসা যাওয়া করতে করতে এদের প্রত্যেকের মুখ প্রত্যেকের চেনা। সবার হাঁড়ির খবর সবার জানা। সেই সূত্রে পরস্পরকে নানাভাবে সম্বোধনও।

 

অতএব রেজিস্ট্রেশন টেবিল থেকেই শুরু হলো -                                                                                                

 

এই অদিতি, মেয়ে জামাই এসেছি নাকি?                                                                                              

 

হ্যাঁ গো স্বপ্নাদি। ওই তো, ওরা ওদিকে।                                                                                                                                     

 

ও মা! সবুজ রঙের পাঞ্জাবি পাজামায় এ্যারনকে কী সুন্দর মানিয়েছে!                                                    

 

অদিতি বিগলিত হয়ে হাসলেন -এবারই দেশ থেকে নিয়ে এলাম। এ্যারন এবার ধুনুচি নাচে যোগ দেবে!                                                                                                           

 

ও মা! তাই নাকি? খুব ভালো কথা! আমিও ক্যারোলিনার জন্য গতবার দুটো শাড়ি এনে দিয়েছি। অভ্যেস তো নেই, সে জন্য সামলাতেও পারে না। কিন্তু পরার খুব আগ্রহ! নিজেই গরজ করে সকালবেলায় আমার কাছ থেকে পরে নিয়েছে! আচ্ছা, অসীমাদির ছেলের বউয়ের কী হলো? ছেলে নাকি মেয়ে?                                                                                                         

মেয়ে!                                                                                                                                     

 

নিশ্চয়ই মায়ের মতো হয়েছে দেখতে? বড় মেয়েটা তো একেবারে চাইনিজ চেহারাই পেয়েছিল, দেখেছো?

 

ভেতরে পুরোহিতরা পূজো শুরু করছেন। পেশায় ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক। একজন দেবীস্নানের মন্ত্র প্রসঙ্গে গাঢ়স্বরে কথা বলছেন - শাস্ত্রে দেবীকে নয় রকমের জল দিয়ে স্নান করানোর কথা বলা হয়েছে। গঙ্গাজল, বৃষ্টির জল, ঝর্ণার জল, সরস্বতী নদীর জল......।                                                                   

 

এই রঞ্জনদা, আমার আর গার্গীর কয়েকটা পিকচার তুলে দিন না প্লিজ!                                                   

 

রমনীর কণ্ঠস্বরের আড়ালে ততোক্ষণে পূজারির স্নানব্যাখ্যা মন্ত্রসমেত নিমজ্জিত। ট্রিপল ক্রাউন প্যাভিলিয়নের ভেতরটা তখন কাঁসরঘন্টা আর ঢাকের দুন্দুভি শব্দে ঝনঝন করে বাজছে। হঠাৎই চারপাশ থেকে হুটোপুটি করে জোড়ায় জোড়ায় কয়েক জোড়া দম্পতি ছেলেপুলে সমেত নানান পোজে ফটো সেশনের জন্য আশেপাশে দাঁড়িয়ে গেলেন। আর ওদিকে লম্বা এক তরুণ ব্রিজ ক্যামেরা ফোকাস করলেন ডানদিকের একজোড়া তরুণ দম্পতির দিকে - অর্জুন, একটু পেছনে সরে যা। মাথাটা আরও উঁচুতে। বৌদি তুমি সামনের দিকে আরও একটু ঝুঁকে। হ্যাঁ, হ্যাঁ ঠিক আছে! ঠিক আছে!                                                                      

 

কারণটা ততোক্ষণে অনেকেরই নজরে পড়েছে। মেয়েটা স্বামীর চেয়ে অনেকটাই লম্বা। দুজনের হাইট ম্যানেজ করতেই ক্যামেরাম্যানের চতুর কৌশল। বেদীর ডানপাশের ফাঁকা জায়গায় পাশাপাশি কয়েকটি হুইল চেয়ারে কয়েকজন প্রবীণ-প্রবীণা। তাদের মধ্যেও আলাপচারিতা থেমে নেই - আসতে চাইনি! ছেলে কিছুতেই একা রেখে আসতে চাইলো না! হুইল চেয়ার ছাড়া চলতে পারি না! রোজ আট দশ রকমের ওষুধ খেতে হয়! তাই মাকে নিয়ে ওর খুব....!                                                           

 

প্রবীণের উত্তর - আমার মেয়ে-জামাইও খুব যত্নআত্তি করে! বহু ধরনের মেডিক্যাল ইস্যু আমারও রয়েছে! স্ত্রী মারা যাওয়ার পরে দশ বছর ধরে তাই মেয়ের কাছেই আছি! ওরাও আমাকে কোত্থাও একা ছাড়ে না! পাশের ববকাট প্রবীণা মুখ খুললেন - এসে খুব ভালো করেছেন দাদা! সারা বছরে এই একটাই তো মাকে দর্শন করার দিন! বাড়িতে একা বসে থাকতে বড় খারাপ লাগে! আমারও নভেম্বরে হাঁটু রিপ্লেসমেন্ট হবে! পা পর্যন্ত তুলতে পারি না! তারপরেও দেখুন, চলে এলাম!                                                                                                                                                                          

 

চিৎকার হৈহুল্লোড়ের মধ্যে কখন আরতির সময় ঘনিয়ে এলো। সবাইকে উঠে দাঁড়াতে বলে পুরোহিত নিজেও উঠে দাঁড়াচ্ছিলেন। হঠাৎ ছুটে গিয়ে তার কানের পাশে এক তরুণী ফিসফিস করতে শুরু করলেন। শুনতে শুনতে পুরুতঠাকুর মাইক্রোফোন তুললেন মুখের ওপরে - তনুকা ঘোষ নামে একটি চার বছরের মেয়েকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না! আপনারা কাইণ্ডলি একটু দেখুন! চার বছরের তনুকা ঘোষকে...!                                                                                      

 

পূজারির কথা শেষ না হতেই প্রবেশদ্বারের সামনে থেকে মহিলা কণ্ঠের জোর আওয়াজ - পাওয়া গেছে! পাওয়া গেছে! এই তো আমার কাছেই রয়েছে!                                                                                                                      

 

কী কাণ্ড! মেয়ে হারালো না, ওদিকে হারানো বিজ্ঞপ্তি প্রচার হয়ে গেলো! সত্যিই কী আর বলবো! সামনের সারিতে বসা এক মুখরা রমনীর মন্তব্য শোনা গেলো সঙ্গে সঙ্গে।                                                                                                     

 

আরতি শেষে অঞ্জলি শেষ হয়েছে অনেকক্ষণ। ডানপাশে একটি আয়তক্ষেত্র টেবিল থেকে প্রসাদ বিতরণ করা হচ্ছে। ভক্তদের লম্বা লাইন ছোট হয়ে এসেছে ততোক্ষণে। একজোড়া দম্পতি রেজিস্ট্রেশন সেরে তখনই ভেতরে  প্রবেশ করলেন - পূজোর অঞ্জলি কি হয়ে গেছে? এবারের পূজো আয়োজনের দায়িত্ব যার কাঁধে সেই রমণী উত্তর না দিয়ে ভারি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন - এখন অঞ্জলি?                                                                                                                                     

 

আমাদের একটু দেরি হয়ে গেলো আসতে!                                                                                                                                                                                           

 

অনেক দূরে থাকেন বুঝি?                                                                 

 

না, না, বেশি দূরে নয়। ওই ঘুম থেকে উঠতে একটু দেরি হয়ে গিয়েছিল। তাই...!                                                                                                                           

 

অঞ্জলি আবার কাল হবে! এখন প্রসাদের লাইনে যান!                                                                                                                                              

 

আজ আর তাহলে হবে না?                                                                                                                              

 

না! দু’বার হয়ে গেছে। পূজারিরা এখন লাঞ্চের টেবিলে!

 

দুপুরে প্রসাদ শেষে মহাভোজের বিপুল আয়োজন। খিচুড়ি, বাঁধাকপি, ছেঁচকি, চাটনি, বেগুনি, পাপড়, মিষ্টি। ছোটদের জন্য পিজ্জা, জুস, কেক। বিকেল সাড়ে পাঁচটায় ফের চা, কফির সঙ্গে সিঙ্গাড়া, জিলেপি, বিভিন্ন নাট, কারিপাতা, শুকনো লঙ্কা দিয়ে চিঁড়েভাজা স্ন্যাক। দুপুরের পরে অনেকেই কম্পাউণ্ডের মধ্যে ‘র্যা মাডা হোটেলে’ ছুটেছেন চেক ইন করার ফর্ম্যালিটি সারতে। দু’চারজন দাদা ধূতি পাঞ্জাবি পরেছেন আজ। বাইরে রোদের হল্কা নেই। ফুরফুরে হাওয়ায় নরম সূর্যের স্নিগ্ধ উত্তাপ উম ছড়াচ্ছে চারদিকে। সুতরাং বাইরে দাঁড়িয়ে হালকা মেজাজের আড্ডা বেশ জমজমাট। কথা বলতে বলতে সুশোভন গাঙ্গুলি বাম হাতে ধূতির কোচা ধরে রেখে থেকে থেকে তার বিশাল ভুঁড়িতে হাত বোলাচ্ছেন - দুপুরে খাওয়াটা একটু বেশি হলেই ভাতঘুম পায়! কিন্তু এখন হোটেলে যাওয়া গিন্নীর বারণ! ভিডিও করতে হবে! চার বছরের নাতি এই প্রথম নাটকে অভিনয় করছে! একটু পরেই শুরু! তোমরা বড়রা কিছু করছো না এবার?       

 

 

                                                                                                                                                                                                                                                               

 

না না উজ্জ্বল! আমাদের দিন অস্তগত! এবার ছোটদের জায়গা দিতে হবে! নিজেদের কালচারের সঙ্গে একটু চেনাজানা না হলে...!                                                                                                                    

 

সে তো বটেই! আমাদের সেটা দায়িত্বও বটে!

 

সন্ধি পূজো শেষ হয়েছে কিছুক্ষণ আগে। ধুনুচি নাচে একে একে ওহাইয়ো, কেন্টাকি, ইণ্ডিয়ানার অধিবাসীরা অংশ নিচ্ছেন। বাবা-মায়ের উৎসাহে বাঙালির দ্বিতীয়-তৃতীয় প্রজন্মের বিবাহিত তরুণ-

 

তরুণীরাও উপস্থিত।  সাদা, কৃষ্ণাঙ্গ, চাইনিজ, অন্যান্য রেসের কিংবা অবাঙালি ভারতীয় স্ত্রী আর স্বামীদের নিয়ে মেতে উঠেছেন উপভোগের আনন্দে। দেখতে দেখতে শারদীয় দুর্গোৎসব বিশ্বমানবের মহামিলন উৎসবে পরিণত হয়ে গেলো মুহূর্তে। ভিডিও ক্যামেরায় বন্দী হলো সবগুলো চলন্ত মুহূর্ত। অজস্র ছবি আটকে রইলো বিভিন্ন ক্যামেরার লেন্সগুলোতে। ডিনার পর্বে আবারও মহাভোজের আয়োজন। পোলাও, কোপ্তা, গোট মিট, চিকেন রোস্ট, ফুলকপির ডালনা, ডাল, সালাদ, চাটনির সঙ্গে দু’তিন ধরনের মিস্টি। খেতে বসেও টেবিলে টেবিলে গল্পের জোয়ার। অন্তর আদান প্রদান আলাপ-পরিচয়ের পর্ব জুড়ে।

 

পাঁচ তারিখের অনুষ্ঠান শেষ হতে রাত বারোটা। অতএব পরের দিন ৬ অক্টোবর সকালবেলায় ভিড় মোটেই নেই। ভিড় হলো সাড়ে আটটার পরে। ব্রেকফাস্টের জন্য ফের লম্বা লাইন। অবশ্য কালকের তুলনায় কিছুই নয়। ভেতরে শাস্ত্রমতে পূজোপর্ব চলছে। সেখানে হাতে গোনা দশ বারোজনের উপস্থিতি। চারপাশটা বড় ফাঁকা ফাঁকা লাগছে। ঠিক যেন ভাঙা মেলার পরিবেশ। কাল রাতে কেউ কেউ ফিরে গিয়েছেন নিজের নিজের জায়গায়। আজ লোকসমাগম যতটা হবে, সবটাই আরতির আগে। কারণ জীবন জুড়োতে ছেলেবুড়ো কেউই শান্তিজলের প্রয়োজন উপেক্ষা করতে পারেন না। ছেলেদের বদলে দশাসই চেহারার দুই তরুণী ঢাক পেটাচ্ছেন আজ। একটু পরেই বিসর্জন শুরু হবে। আবেগে বিগলিত হচ্ছে পূজারির কণ্ঠস্বর। তরুণীরা ঢাক পেটাতে পেটাতে মাঝে মাঝেই চেঁচাচ্ছেন - আসছে বছর আবার হবে! আসছে বছর আবার হবে!                                                                                                                                 

 

বাইরে থেকে হন্তদন্ত অবস্থায় ছুটে এলেন একজন। দেবীর উদ্দেশে নতজানু হয়ে প্রণাম করে চেয়ারে বসতে বসতে পাশের জনকে জিজ্ঞেস করলেন- মাসিমা-মেসোমশাই আসেননি তরুণ?                                                                                                                  না শর্মিলাদি। এবার মামা-মামিমা এসেছেন আমেরিকার পূজো দেখতে।                                                                                        

 

মামিমা হাত জড়ো করে নিঃশব্দে হাসলেন শর্মিলাদির নমস্কারে - আসলে দিদি-জামাইবাবুই আমাদের জোর করে পাঠালেন!                                                                                                                                                                    

 

ভালো করেছেন! কেমন দেখছেন আমাদের পূজো?                                                                                                                                                                                  

 

ভালোই তো! বেশ লাগছে সবকিছু!                                                                                                             

 

আমরা ফি-বছরই পূজোয় এভাবে আনন্দ করি।                                                                                                           

 

মামিমা আবারও হাসলেন শর্মিলাদির অনুভব ছুঁয়ে-আজও কালচারাল ফাংশন হবে?                                                                    

 

হ্যাঁ। লাঞ্চের পরেই হবে।

 

সার্ভিং টেবিল থেকে অল্পবয়সী এক ভদ্রলোক একজনকে পেপারপ্লেটে খাবার তুলে দিতে দিতে

 

প্রশ্ন করলেন - আমাদের খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন কেমন হলো কাকু?                                                                    

 

কাকু কানে শুনতে পেলেন কিনা কে জানে। জবাব না দিয়েই চলে গেলেন। প্রশ্নকর্তার প্রশ্ন অবশ্য ব্যর্থ হলো না। খানিকবাদেই একজন সামনে এগিয়ে এসে বললেন - দারুণ! আপনাদের আজকের রুই মাছ আর গোট মিট দুটোই বড় ভালো হয়েছে! রসকদম্বের প্রিপারেশনটাও চমৎকার!                                                                                                       

 

ঠিকমতো খেয়েছেন তো?                                                                                                                                                                                                                       

 

সে আর বলতে! বুঝতেই তো পারছেন, খেতে বড় ভালোবাসি!                                                                        

 

হাঃ! হাঃ! হাঃ!

 

বিকেল তিনটের পরে সবকিছুই পরিষ্কার। বিসর্জনের খানিক পরেই দেবী মহামায়া ছেলেপুলে নিয়ে বাক্সবন্দী হয়েছিলেন। ২০২০-তে ট্রাই-স্টেট দুর্গা পূজো ইণ্ডিয়ানা রাজ্যে। সুতরাং স্থলপথে সপরিবারে সেখানেই তিনি যাত্রা করেছেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ইণ্ডিয়ানার সঙ্গীত পরিবেশন চলছে। দর্শকের সংখ্যা ক্রমশ নিচের দিকে। সিনসিনাটির নাটিকা শেষ হয়ে শুরু হলো কেন্টাকির ‘চিত্রাঙ্গদা’। চমৎকার পরিবেশন। দৃষ্টিনন্দন উপস্থাপনা। কিন্তু ততোক্ষণে দর্শকের উপস্থিতির সংখ্যা অতি নগন্য। বাইরে, থেকে থেকেই গুরুগুরু আওয়াজ তুলে মেঘ গজরাচ্ছে। নরম রোদের আলোটুকুও উধাও তাতে। চারদিক আবছা অন্ধকারের সামিয়ানায় ঢাকা। একসময় অঝোর ধারায় কেঁদে কেঁদে বৃষ্টি ঝরে পড়লো। দেবী চলে যাচ্ছেন পিত্রালয় ছেড়ে। তাঁর কান্নাই এভাবে বৃষ্টি হয়ে ঝরছে। ভেতরে দর্শকের সংখ্যা আট থেকে দশ। শূন্যতার হাহাকার সবখানে ছড়ানো। হঠাৎই চারপাশে অশ্রুর রাগিনীতে মা মেনকার কণ্ঠস্বর, বিসর্জনের আকুলতায় এবার হৃদয়ভেঙে বাজলো - গিরি, এবার আমার উমা এলে, আর উমায় পাঠাবো না!!          

 

                                                                                                      

           

Share on Facebook
Share on Twitter
Please reload

জনপ্রিয় পোস্ট

I'm busy working on my blog posts. Watch this space!

Please reload

সাম্প্রতিক পোস্ট
Please reload

A N  O N L I N E  M A G A Z I N E 

Copyright © 2016-2019 Bodh. All rights reserved.

For reprint rights contact: bodhmag@gmail.com

Designed, Developed & Maintained by: Debayan Mukherjee

Contact: +91 98046 04998  |  Mail: questforcreation@gmail.com