আগন্তুক

19.11.2019

 

সুন্দরবনন অঞ্চলের সংলগ্ন মাতলা নদী, একটি জলজ যানে গোটা কয়েক কলেজ স্টুডেন্ট পিয়ালী আইল্যান্ডে পিকনিকের পরিকল্পনা নিয়ে বেরিয়ে পড়লো। জনা পাঁচটি মেয়ে ও খান সাতটি ছেলে, এরা সকলেই সকলের ভীষন ভালো বন্ধু। সহপাঠী মেয়েদের সাথে খুনসুটি চলছে নাগাড়ে, সবথেকে কমবয়সী ছেলেটির থেকে যখন কঙ্কণা একটা সিগারেট চেয়ে ধরিয়ে একরাশ ধোওয়ার কুন্ডলী উড়িয়ে দিলো ছেলেটার মুখের ওপর ছেলেটা রাগত গলায় প্রতিবাদ করে উঠলো, বন্ধুরা পীঠ চাপড়িয়ে গোল থামাতে ব্যাস্ত, আর ঠিক তখনই হঠাৎ গর্জন করে উঠলো বাঘ। সাথে সাথে গোল গেলো থেমে, মাঝিভাই বলে উঠলো সবাই সাবধান, চিৎকার করবেন না, উনারা শান্ত পরিবেশ পছন্দ করেন, ছেলেমেয়েরা সবাই একেবারে চুপ হয়ে গিয়ে ফিসফাস করছে, কুন্তল বলে বসলো আর একটু হলেই আমার প্যান্টু হলুদ হয়ে যেতো রে, একে তো আমার ঐটা হয়নি এখনো, সবাই হেসে ফেললো। কঙ্গনা মুখ ভেংচে বললো ঐজন্য এতক্ষন একটা উৎকট গন্ধ তোর দিক থেকে আসছিল, বাকিরা সবাই হেসে কুন্তলের ঐটা না হওয়া (পটি) নিয়ে নানান আলোচনায় মত্ত হয়ে গেলো। সন্ধ্যায় নদীর রূপ , বনজ গন্ধের সাথে বাঘের ভয় মিশিয়ে তুমুল ঝড় উঠলো, মাঝিভাই হুশিয়ারি দিলো, সবাইকে সাবধান, জলে ভীষন টান, তারমধ্যে ঝড়, নৌকা টানা যাচ্ছে না দাদারা, ছাউনীর ভীতরে সক্কলে চুপটি করে বসে থাকুন।রঙ্গন দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র এদের সিনিয়র, গম্ভীর মুখে চিন্তায় পড়ে গেছে, এই স্টুডেন্টদের সে নিজের দায়িত্বে পিয়ালী তে এনেছে। 

 

কঙ্গনা মাঝিকে উদ্দেশ্য করে বললো এ দুর্যোগ যাবে কেটে , কখন গো? বলা তো যায়না দিদিমণি, সব উপরয়ালার ওপর ছাইরে দেন। মনে মনে কঙ্গনা বললো সেই, উপরয়ালাই তো ঝড়টা ঠিক তাদের বিপদে ফেলার জন্যেই পাঠালেন, অদিতি কাচুমাচু মুখে মোটামুটি ভাবে শতখানেক দেবদেবীর কাছে মানত করে বসলো, পাশে বসে শৈবাল অদিতি কে বললো আরে ম্যায় হু না! তুই শালা ফালতু একে ঐ দেব, তাকে তাই দেবো মানত না করে আমাদের একটা হুইস্কির বোতলের দাম দেবার মানত কর, দেখবি ঝড় যাবে থেমে। সকলে এত বিপদেও হেসে ফেললো। নৌকাটা বেশ বড়ো, পীছনের দিক থেকে যাতে কোনো বিপদ না আসে তার জন্যে কাঠের পাঠাতন সাজিয়ে রাখা, হঠাৎ.. পাটাতন পড়ার শব্দে মাঝিভাই চিৎকার করে ওঠার সাথে সাথেই তুমুল গর্জনে ঝাঁপিয়ে পড়লো একটি বাঘ, সবাই চিৎকারে হুলুস্থুল বাধিয়ে দিলো, শৈবাল দেখলো অদিতির মাথাটা কামড়ে অদিতির দেহটা টেনে নিয়ে জল ঝাঁপিয়ে পড়লো বাঘটি, তার পরে অন্ধকারে শুধুই জলের শব্দ। কান্না জুড়ে দিল বাকি সবাই, এইমাত্র যে মেয়েটা ঈশ্বরের কাছে গাদাখানেক মানত করছিল, হঠাৎই তার অস্তিত্ব হারিয়ে গেলো। ঝড় থামলো একটা সময়, সবাই চুপচাপ , মাঝিভাই নৌকা বাইছে, দাঁড়ের সাথে জলের বোঝাপড়া চলছে ছলাৎ শব্দে, আর নৌকার ভীতরে চলছে বোঝাপড়া ঐ ছেলেমেয়েদের মধ্যে। কিভাবে বলবে অদিতির মা বাবাকে। নৌকা পাড়ে এসে থামতে সবাই একে একে নামলো, বিধ্বস্ত চেহারা, টেনশনে হাঁটার শক্তি নেই তাদের পায়ে আজ, মনে মনে যুদ্ধ চলছে তাদের, কান্নায় ভেঙে পড়লো একঝাঁক পড়ুয়ারা।কে ফোনটা করবে, তাদের কি বলবে এই চিন্তায় বাকরুদ্ধ হয়ে গেছে কুন্তল, যেহেতু পিয়ালী আইল্যান্ডে বেড়াতে যাবার আইডিয়াটা তার থেকেই সবাই পেয়েছিল, কুন্তল কাঁপা হাতে মোবাইলটা থেকে ফোনটা করলো, থমকে থেকে সমস্ত ঘটনাটা জানালো অদিতির বাড়িতে, ওপ্রান্ত কি বলছে এরা শুনতে পারছেনা, কিন্তু বুঝতে পারছে শোরগোল পড়ে গেছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হলো পুলিশের হস্তক্ষেপে, মেয়েদের জেরার পর জেরা, ছেলে গুলোর কপালে চড়থাপ্পর, অবশেষে খবর এলো জঙ্গলে একটি মেয়ের ক্ষতবিক্ষত দেহ পাওয়া গেছে। পুলিশের লোকেদের সাথে মাঝিভাই, সনাক্ত হলো অদিতির আধখাওয়া দেহটি। মিডিয়া প্রশ্নের পর প্রশ্ন, সমস্ত চ্যানেল দেখালো মেয়েটির দেহ, হেডলাইনে যুক্ত হলো পিয়ালীতে খুনে কুন্তলের সাথে অদিতির গোপন অভিসার। প্রতিবাদের ঢেউ আছরে পড়লো তিলোত্তমার বুকে। মোমবাতি মিছিল, ভাষন,শাসনে জেলের অন্ধকারে জায়গা হলো অভিযুক্ত নিষ্পাপ ছেলেটির। বন্ধু হয়ে ওঠা সিনিয়র দাদার অপরাধ বাঘের মুখে ঠেলে দেওয়া সদ্য কলেজ পড়ুয়া মেয়েটিকে। মায়ের বুকফাটা কান্নারা ধাক্কা খেলো সুন্দরী গাছের পাতায় পাতায়, আর আমাদের মনে হাজার প্রশ্নের মাঝে ভেসে উঠলো অদিতির ঈশ্বর প্রার্থনা .....!!

ReplyForward

Share on Facebook
Share on Twitter
Please reload

জনপ্রিয় পোস্ট

I'm busy working on my blog posts. Watch this space!

Please reload

সাম্প্রতিক পোস্ট
Please reload

A N  O N L I N E  M A G A Z I N E 

Copyright © 2016-2019 Bodh. All rights reserved.

For reprint rights contact: bodhmag@gmail.com

Designed, Developed & Maintained by: Debayan Mukherjee

Contact: +91 98046 04998  |  Mail: questforcreation@gmail.com