আমাজনের করুণ পরিণতি: দায়ভার কেউই কাঁধে নিতে রাজি নয়

 শুধু যে আমাজন রেইনফরেস্টই আজ ধ্বংসের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রয়েছে, তা নয়। বিশ্বের সবগুলো ট্রপিক্যাল এবং টেম্পারেট রেইনফরেস্টই বর্তমানে বিপর্যস্ত। আমাজন আয়তনে বিশ্বের এক নম্বর বৃহত্তম গ্রীষ্মপ্রধান অরণ্য।  দক্ষিণে রয়েছে ব্রাজিল(আমাজনের ৪০% অরণ্যই ব্রাজিলের সীমান্ত জুড়ে)।উত্তরে গায়ানা হাইল্যাণ্ড। পশ্চিমে অ্যাণ্ডিস পর্বতমালা। পূর্বদিকে রয়েছে অনন্তপ্রসারিত আটলান্টিক মহাসাগর। পৃথিবীর সবচাইতে বেশিসংখ্যক উদ্ভিদ ও জীববৈচিত্র রয়েছে আমাজনের জঙ্গলে। সত্তর দশকের কিছু আগেও এর আয়তন ছিল ৫,৫০০,০০০ স্কয়ার কিলোমিটার। সত্তর দশকে আয়তন পরিমাপ করা হয়, ৪,১০০,০০০ স্কয়ার কিলোমিটার। নব্বইয়ের মধ্যভাগে মহাঅরণ্যের বিরাট শরীর আরও বেশি সংকুচিত হয়ে পড়ে। অরণ্য সুরক্ষায় তখনকার ব্রাজিলিয়ান সরকার এবং আন্তর্জাতিক বিশ্ব মিলে কিছু সুনির্দিষ্ট ফর্ম্যাল পদক্ষেপ গ্রহণ করে। কিন্তু এই অসাধারণ ট্রপিক্যাল রেইনফরেস্টের করুণ পরিণতি তাতে ঠেকানো যায়নি। অবৈধ এবং বৈধ, দু’ভাবেই ক্রমাগত বিস্তীর্ণ বনভূমি উজাড় হতে থাকে। ২০১৬-এর নতুন মেজরমেন্টে ধরা পড়ে ক্ষীণাঙ্গ হতে হতে আমাজনের আয়তন দাঁড়িয়েছে ১,২৮৩,০০০ স্কয়ার কিলোমিটার। ২০১৮-য় ব্রাজিলের নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন বোলসোনারো। ইনি এদেশের ৩৮তম প্রেসিডেন্ট। বিভিন্ন তথ্যসূত্রের প্রকাশ, তাঁর উৎসাহে তীব্রভাবে চলতে থাকে নতুন শিল্পকারখানা আর নতুন কৃষিজমি আবিষ্কারের পরিকল্পনা। আমাজনে ঘটতে থাকে একের পরে এক অগ্নিকাণ্ডের সব ভয়াবহ ঘটনা।  

অবশ্য আমাজন বেসিনের রেইনফরেস্ট ২০১৯ সালেই যে প্রথম লেলিহান শিখায় জ্বলছে তা নয়। এখানকার প্রাচিন ইতিহাস বলছে, বাসস্থান গড়তে, কৃষিজমির প্রস্তুতিতে এই অঞ্চলের মানুষ বহুবার পুড়িয়েছে এই অরণ্যকে। এছাড়া শুষ্ক মৌসুমে দাবানলের ঘটনাও রেইনফরেস্টগুলোতে এক স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু কুড়ি শতক থেকে যেভাবে সারা বিশ্বে অরণ্যভূমি বিনষ্ট করার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে, অতীতে সেভাবে কোনোদিনও হয়নি। বরং প্রকৃতির সঙ্গে সম্পূর্ণ সহযোগিতা বজায় রেখে হাজার হাজার বছর ধরে অরণ্যবাসী মানুষ ও বন্য প্রাণি বসবাস করে এসেছে অরণ্যের অভ্যন্তরে। এরপর জনসংখ্যা যত বেড়েছে, জড়বিজ্ঞানের প্রবল প্রতাপ যত বেশি আকাশচুম্বি হয়েছে, ততোই অরণ্যসভ্যতা বিলীন হয়ে গেছে পৃথিবীর মাতৃকোল থেকে। জড়বিজ্ঞান সভ্যতায় বছরের পর বছর ধরে সীমাহীন নগরায়নের কারণে, শিল্পসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তৈরির কাজে, আসবাবপত্র কিংবা জ্বালানির ব্যবহারে, কৃষিজমির অনুসন্ধানে এবং আরও হাজার রকমের নিষ্ঠুর অভিপ্রায় নিয়ে বিশাল বিস্তীর্ণ বনভূমিকে মানুষ নিঃশেষিত করেছে অপূরণীয় ক্ষতিতে।

তবে ব্রাজিলের বর্তমান প্রেসিডেন্টের সময় যতটা দ্রুতগতিতে এবং নির্বিচারে অরণ্য উজাড় করা হচ্ছে, এমন নাকি অতীতে কখনোই দেখা যায়নি। এ বছর ৭৫০০০ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে ব্রাজিলের আমাজনে। পুড়ে ছাই হয়েছে ৭২০০ স্কয়ার মাইল। এই আয়তন যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যের সমান। ২০১৯-এর ১৯শে সেপ্টেম্বর ব্রাজিলের স্পেস এজেন্সি একটি গবেষণা ড্যাটা প্রকাশ করে জানিয়েছে-‘The number of the forest fires in the Brazilian Amazon between January and August surged by 84%, from the same period in 2018.' অথচ কিছুদিন আগেই জাতিসংঘে বসে আমাজন সম্বন্ধে প্রশ্নের উত্তরে প্রেসিডেন্ট বলসোনারো বলে এসেছেন, আমাজন রেইনফরেস্ট যাকে বলে একেবারে অক্ষত আর আনটাচড অবস্থাতেই রয়েছে।

আমাজনের করুণ পরিণতির দায়ভার কেউই কাঁধে নিতে রাজি নয়। অতএব ২০১৯-এর ২৪শে সেপ্টেম্বর CNBC চ্যানেল থেকেও ব্রাজিলের বন প্রতিরক্ষা গ্রুপের বরাত দিয়ে জানানো হলো -‘Conservation Groups have blamed illegal logging and Criminal networks for the rain

 

forest fires.’ তবে এনভায়রনমেন্টাল অর্গানাইজেশন এবং গবেষকরা বললেন, সত্যি বটে, গবাদিপশুর খামার মালিকরা আর কাঠ ব্যবসায়ীরাই আগুনগুলো লাগাচ্ছে। তবে সেটা অবৈধভাবে নয়। ব্রাজিলের নতুন প্রেসিডেন্ট জাই বোলসোনারোর উদ্দীপনায় আর উৎসাহে। 

 

 

Share on Facebook
Share on Twitter
Please reload

জনপ্রিয় পোস্ট

I'm busy working on my blog posts. Watch this space!

Please reload

সাম্প্রতিক পোস্ট
Please reload

A N  O N L I N E  M A G A Z I N E 

Copyright © 2016-2019 Bodh. All rights reserved.

For reprint rights contact: bodhmag@gmail.com

Designed, Developed & Maintained by: Debayan Mukherjee

Contact: +91 98046 04998  |  Mail: questforcreation@gmail.com