প্রার্থনা

            

 

 

 

 

 সন্ধ্যা প্রায় ৭টা। আমি তখন কবিতা যাপন করছি। হঠাৎ আমার মোবাইল ফোনে  একটি অজানা নম্বর ভেসে ওঠে। ধরতে গেলাম মিস্ট কল হয়ে গেলো। আমি গুরুত্ব না দিয়ে আবার নিজের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। তারপর পরপর দুবার একই নম্বর ভেসে ওঠে। 

বিরক্ত হয়ে পড়লাম। মনোযোগটা ফোনের দিকে পড়তে ভাবলাম আমারই একবার ফোন করা উচিৎ। নিজেদের কেউ হতে পারে। 

ফোন করতেই ও প্রান্ত থেকে একটা মহিলার কণ্ঠস্বর শুনে প্রথমেই চমকে উঠলাম। নিজেকেই ঠিক করে নিয়ে বললাম -কে বলছেন? কোথ থেকে বলছেন? কত নম্বর চাইছেন? 

 

প্রশ্নগুলো ভদ্র মহিলা শুনেই চুপচাপ। হ্যালো হ্যালো করলাম কয়েকবার। শেষে বিরক্ত হয়ে বললাম -এই রাখছি। মুহূর্তেই রিনরিনে  গলায় বললেন -রাখবেন না। আমার কথাটা একবার শুনুন। 

আমার সারা শরীর কাঁটা দিয়ে উঠলো। যেন সমস্ত জগৎ ঘিরে রয়েছে দুটো অপরিচিত পুরুষ নারীর কণ্ঠস্বরকে। অজানা একটা ঝড় মোচড় খেয়ে গেল। 

ততক্ষণে ও প্রান্ত থেকে ভেসে আসছে -আমি, আমি বলছি। আমি মায়া। 

স্তব্ধ হয়ে গেলাম। ভাবছি - কোন মায়া?  কলেজে  নাচে, গানে সবার সেরা যে মেয়েটি ছিলো তারনামও মায়া ছিলো। সে নয়তো?

বারবার কতপ্রশ্ন যাচ্ছে আসছে। কিছুতেই মেলাতে পারছি না। 

যে মায়া শ্যামলা রঙের, শরীরী গঠন বেশ সুঠাম। চোখে মুখে হাসি লেগে । যে কেউ দেখলে প্রেমে পড়ে যাবে। আমারও তাই হয়েছিলো। আমি বলতে পারিনি কোনোদিন। ও বারবার কাছে এসেছে, কতনা গল্প হয়েছে। কিন্তু কেউ কাউকে " ভালোবাসি " কথাটা বলতে পারিনি। এ বিষয়ে বন্ধুরা ইয়ার্কি, ফাজলামো করেছে। তখন এসব মনেই আসেনি। 

 

এতোদিন পর "মায়া" নামটা শুনে বুকটা ধড়াসধড়াস করে উঠলো। ফোনে হ্যালো হ্যালো শব্দ আসছে। প্রথম প্রেমের লোভ সামলাতে না পেরে ফোনটা কানের কাছে রাখলাম। 

-আমি মায়া বলছি।

-হ্য্যঁ বলুন

-আমায় চিনতে পারোনি?

 

তুমি সম্বোধন আমাকে   অতীতের প্রেমে ফিরিয়ে আনলো। সমস্ত সংশয় কাটিয়ে নিজের মতো করে বললাম -

-বলো কেমন আছো? 

-ভালো নেই! 

গড়গড় করে বলেগেল তার ইতিহাস। হঠাৎ নরম কান্নার সুর ভেসে আসে। 

-মানে... আমার স্বামী... 

-কি হয়েছে তোমার স্বামীর। 

-ক্যান্সার। 

 

সারা পৃথিবী চেপে বসলো আমার শরীরের উপর। মেয়েটি এতো যন্ত্রণা, এতো কষ্ট নিয়ে আছে কেমন করে? এসব আমাকে ভাবাতে লাগলো। চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে সেই অতীত প্রেমের জল। 

চেপে বসলো মাথায়। ওর জন্য কিছু একটা করতে হবে। তাই এ-প্রান্তথেকে চিৎকারে বললাম -

-কি করতে হবে আমাকে?

-কিচ্ছু না। 

-তাহলে?

-তুমি আসবে একবার? 

 

খানিকটা স্তব্ধ হয়েগেলাম। মনের মধ্যে ব্যকুলতা। মায়া নিজেই কি সব জেনে  ডাকছে। 

আগে পিছে না ভেবে কথাদিলাম। 

-আমি এক্ষুনি যাচ্ছি। 

ঠিক করলাম না ভুল করলাম আমি নিজেই জানি না।   

তারপর কিচ্ছুক্ষণ আবেগভরা কণ্ঠে অতীতস্মৃতি গড়গড় করে বলে গেলাম। 

ও প্রান্ত থেকে এক নিস্তব্ধতা বারবার প্রতিধ্বনি হলো কয়েকবার। 

 

সময় নষ্ট না করে এগোতে লাগলাম। প্রার্থনা করতে করতে ওর কাছেই পৌঁছে গেলাম। ও তখন ব্যাকুলকণ্ঠে কাঁদছে।             

 

 

Share on Facebook
Share on Twitter
Please reload

জনপ্রিয় পোস্ট

I'm busy working on my blog posts. Watch this space!

Please reload

সাম্প্রতিক পোস্ট
Please reload

A N  O N L I N E  M A G A Z I N E 

Copyright © 2016-2019 Bodh. All rights reserved.

For reprint rights contact: bodhmag@gmail.com

Designed, Developed & Maintained by: Debayan Mukherjee

Contact: +91 98046 04998  |  Mail: questforcreation@gmail.com