ভূত ও ঈশ্বর নিয়ে দাদাগিরি: কেন?

 

 

যে কোন মৃত ব্যক্তির উদ্দেশ্যে লেখা হয় স্বর্গীয়। বিষয়টা বেশ অদ্ভুত। মৃত ব্যক্তি যে স্বর্গেই গিয়েছেন এর কোন সত্যতা আছে কি? বরঞ্চ প্রচলিত বিশ্বাস-- স্বর্গে যাওয়া সহজ নয়। অথচ আমরা মৃত ব্যক্তির নামের পাশে সহজেই স্বর্গীয় শব্দটা বসিয়ে দিই। অনেকে বলবেন এটা আসলে কুসংস্কার।অনেকে বলবেন অভ্যাসবশত লেখা হয়। জেনে বা না-জেনে। স্বর্গ বা নরক বিষয়টা নিয়ে অনেকেই অনেক মত দিয়েছেন। এই প্রশ্ন এখন থাক। ঈশ্বর ও ভূত নিয়ে কিছু কথা বলি। সম্প্রতি দাদাগিরি অনুষ্ঠানে একজন মহিলা ভূত বিশেষজ্ঞ বিভিন্ন যন্ত্রের মাধ্যমে ভৃতের সন্ধান দিলেন। আর বেশ কয়েক বছর আগে মণি ভৌমিক নামে এক বিজ্ঞানী ঈশ্বরের সন্ধান দিয়েছিলেন। মণি ভৌমিক এক সময় হৈচৈ ফেলে দিয়েছিলেন 'কোড নেম গড' নামে একটি বই লিখে। সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন 'অ্যানথ্রোপিক প্রিন্সিপল' বা 'কোয়ান্টাম কোহেরেন্ট' বা 'ইউনিফায়েড ফিল্ড থিওরি'র কথা। ঈশ্বরের কথায় পরে আসছি, শুধুমাত্র বিশুদ্ধ বিজ্ঞানের প্রশ্নে এই শব্দবন্ধগুলি কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছে দেয় না। যেমন সেদিন দাদাগিরিতে বিভিন্ন যন্ত্রের প্রয়োগ দেখিয়ে ভূতের সন্ধানের প্রশ্নেও সাধারণ দর্শককে বিভ্রান্ত করা হয়েছে।

দাদাগিরিতে যে ভদ্রমহিলা এসেছিলেন তিনি নাকি গোস্ট ইনভেস্টিগেটর । তিনি একটি ইলেক্ট্রম্যাগনেটিক ওয়েভ ডিটেকটর এনেছিলেন। তিনি জানালেন, যখন এই ডিটেকটরের রিডিং হঠাৎ বাড়বে তখন বুঝতে হবে আশেপাশে কোনো অশরীরী কিছু আছে।  বিজ্ঞানের ভাষায় ইলেক্ট্রম্যাগনেটিক ওয়েভ হল oscillating magnetic আর electric field নিয়ে তৈরি ওয়েভ। বাড়িতে ব্যবহৃত সকল electronic goods ই electromagnetic Wave  ছড়ায়। সকলের প্রাবল্য এক নয়।  ভূত বিশেষজ্ঞর মেশিন নিয়ে টিভির কাছে যান দেখবেন সেই মেশিনের রিডিং হঠাৎ বেড়ে গেছে। আঁতকে উঠবেন না ,আপনার বাড়িতে ভূত নেই, এটাই স্বাভাবিক।  বজ্রপাতের সময়েও electromagnetic wave অসম্ভব  বাড়ে বলে ওই মেশিনে reading অনেক বেশি দেবে, তখন কী চারপাশ ভূত ছেয়ে গেছে। ভয় পাবেন না , এটা ন্যাচারাল ব্যাপার, আপনার ধারেকাছে কোথাও ভূতের অস্তিত্ব নেই।  আরেকটি যন্ত্র সেখানে  ব্যবহার  করা হয়েছিল  external thermometer। এই যন্ত্রটি বাতাসে গ্যাসের ঘনত্বের তারতম্য হলে তা জানান দেয়।  বাড়ির  রান্নার গ্যাস ছেড়ে যদি ওই মেশিনে মাপেন তাহলে দেখবেন রিডিং দিচ্ছে, ভয় পাবেন না। আপনার গ্যাসে ভূত নেই। এবার আসি বিজ্ঞানী মণি ভৌমিকের কথায়। কোয়ান্টাম তত্ত্ব বেশ জটিল আর আদ্যন্ত অস্বস্তিতে ভরা। বিজ্ঞান এখনও সবকিছু প্রাঞ্জলভাবে বোঝাতে পারেনি। আর এই ফাঁক ফোকর দিয়েই মণি ভৌমিকের মতো বিজ্ঞানীদের ঈশ্বর তত্ত্ব। তিনি বলছেন, এক আদিতম 'বিগ ব্যাংগ' থেকে বিশ্বের সৃষ্টি আর উপনিষদে আছে একমেবাদ্বিতীয়াম ব্রক্ষ্মের কথা। ফলে দিব্যি মিলে গেল ব্রক্ষ্ম আর বিগ ব্যাংগ। মণি ভৌমিক যখন এত সহজেই ঈশ্বর প্রমান করতে পারেন তখন দাদাগিরিতে গোস্ট ইনভেস্টিগেটর ভূত প্রমাণ করতে বেশ কিছু যন্ত্রের প্রয়োগের উদ্ভট ব্যাখ্যা দিতেই পারেন। এছাড়া ভদ্রমহিলা আর একটি তথ্য দিয়েছেন, ভর এনার্জিতে কনভার্ট হয়, তাই যারা সুইসাইড করে তাদের এনার্জি বেশি থাকে বলে তাঁরা ভূত হয়, আর যাঁরা রোগেভুগে বা বেশি বয়সে মরে তাঁদের এনার্জি তুলনামূলক কম থাকে বলে তাঁরা ভূত হয়না। কোথা থেকে কী হয়ে গেল। আইনস্টানের সঙ্গে ভূতের তত্ত্ব মিলিয়ে দেওয়া। ভদ্রমহিলা বোধ হয় 'কোড নেম গড' পড়েছেন। মণি ভৌমিক ঈশ্বর প্রমান করতে গিয়ে 'কোয়ান্টাম মেডিটেশন' এর কথা বলেছেন। কী ভাবে 'কোয়ান্টাম মেডিটেশন' করতে হবে তা অবশ্য তিনি বলেননি। তিনি জানাচ্ছেন, মস্তিষ্কের গঠনের মধ্যে রয়েছে কোয়ান্টাম অবস্থা সাব মাইক্রোস্কোপিক স্তরে। সেই স্তরই ঈশ্বরের রেডিয়ো সংকেত ধরতে পারে। চমৎকার। ঈশ্বরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের পথ বাতলে দিয়েছেন তিনি। আর দাদাগিরির ওই ভদ্রমহিলা ভূতের সঙ্গে আপনাদের সংযোগ স্থাপনের পথ বাতলে দিয়েছেন। বেশ কিছু যন্ত্রের সাহায্যে। তাহলে কী দাঁড়াল যত নষ্টের গোড়া আসলে বিজ্ঞান। কেননা মণি ভৌমিক থেকে দাদাগিরির ওই ভদ্রমহিলা সকলেই বিজ্ঞানের দোহাই দিয়েই ঈশ্বর কিংবা ভূত প্রমান করেছেন। এখানেই আমাদের প্রতিবাদ।

ReplyForward

 

Share on Facebook
Share on Twitter
Please reload

জনপ্রিয় পোস্ট

I'm busy working on my blog posts. Watch this space!

Please reload

সাম্প্রতিক পোস্ট
Please reload

A N  O N L I N E  M A G A Z I N E 

Copyright © 2016-2019 Bodh. All rights reserved.

For reprint rights contact: bodhmag@gmail.com

Designed, Developed & Maintained by: Debayan Mukherjee

Contact: +91 98046 04998  |  Mail: questforcreation@gmail.com