যাদের ভোটে ক্ষমতায় , তাদেরই নাগরিকত্ব প্রশ্নচিহ্নে ফেলা যায় ?

 

ন্যাশনাল পপুলেশন রেজিস্ট্রার (NPR) ও জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (NRC) : কিছু বাস্তব কিছু বিভ্রান্তি

 

 

 

নীতিগতভাবে একটি রাষ্ট্র যদি সিদ্ধান্ত নেয়, বহিরাগত অনুপ্রবেশ বন্ধ করবে বা তাতে রাশ টানবে, তাহলে দোষের কিছু নেই। কিন্তু আশঙ্কা থেকে যায় অনুপ্রবেশকারী সনাক্তকরণের পদ্ধতিটা নিয়ে। যদি মানবিক অবস্থান থেকে শরণার্থীদের আশ্রয়দান ও অনুপ্রবিষ্টদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়, নীতিগত দিক দিয়ে তাহলে তো আপত্তির কারণ থাকতেই পারে না। কিন্তু কে শরণার্থী আর কে অনুপ্রবেশকারী তার মাণদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। সেই বিতর্কের বাইরে থেকেও বলা যায় অভিযোগের সত্যাসত্য প্রমাণের দায় কার? অভিযুক্ত ব্যক্তির না অভিযোগকারীর? বিনা প্রমাণে অভিযোগ এনে বন্দী করে তারপর বন্দীর কাছে নির্দোষিতার প্রমাণ চাওয়াটা বোধহয় পৃথিবীর কোনও দেশেরই আইন হতে পারে না। কিন্তু গণতান্ত্রিক ভারতবর্ষের উত্তরপূর্বে সেটাই কার্যত হচ্ছে। আর তার জেরে গতি পাচ্ছে নেতিবাচক বিরোধী রাজনীতি। আসামের পর পশ্চিমবঙ্গেও এনআরসি চালু করার ঘোষণা হওয়ার পর জ্বলন্ত আগুনে যেন পেট্রল পড়ে গেছে।

 

২০১৮-র জানুয়ারিতে ঘোষিত হয়েছে ন্যাশনাল পুলেশন রেজিস্ট্রার (NPR)-এর প্রথম তালিকা। NPR হল উত্তর-পূর্ব ভারতে নাগরিকত্বের একটি তথ্যভাণ্ডার (database)। এটি বাকি ভারতীয় ভূখণ্ডে চালু ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অব ইন্ডিয়া (UIDAI)-র সমতুল্য যে বিভাগটি নাগরিকদের আধার (AADHAAR) কার্ড প্রদান করে। NPR-এর যাবতীয় তথ্যভাণ্ডার রক্ষণাবেক্ষণ করে Registrar General and Census Commissioner of India। ভারত সরকারও NPR-এর ভিত্তিতে একটি National Register of Indian Citizens বা NRC অর্থাৎ ‘জাতীয় নাগরিক পঞ্জি’ তৈরি করছে। এনপিআর ও ইউআরডিআই যৌথভাবে ভারতীয় নাগরিকদের একটি পূর্ণাঙ্গ তাথ্যভাণ্ডার প্রস্তুত করছে। নামে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি হলেও NRC শুধু আসামে প্রযোজ্য এবং ত্রিপুরার ক্ষেত্রেও প্রস্তাবিত। এমনকি পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেও ভাবনাচিন্তা চলেছে বলে খবর। সোজা কথা পূর্ব ও উত্তরপূর্বের যে সব সীমান্তবর্তী রাজ্য অনুপ্রবেশের সমস্যায় জর্জরিত, তাদের জন্য ‘প্রকৃত নাগরিক’ সনাক্তকরণের কর্মসূচী এই NPR প্রকল্প ও NRC তালিকা। The date was decided in the 1985 Assam Accord, which was signed between the then Prime Minister Rajiv Gandhi and the AASU. The NRC was first published after the 1951 Census in the independent India when parts of Assam went to the East Pakistan, now Bangladesh. অর্থাৎ বিতর্কিত NRC-র প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল ১৯৮৫-তে কংগ্রেসি আমলে ‘আসাম চুক্তি’ বলে, বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের স্বেচ্ছাচারে নয়।

 

এই এনপিআর (NPR) তৈরির প্রাথমিক কাজ হয়েছে ২০১০-র এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে সাধারণ আদম সুমারি (General Census)-র জন্য তথ্য সংগ্রহের সময়। কিন্তু ২০১৮-য় এসে দেখা গেল আসামের মোট জনসংখ্যা ৩.২৯ কোটির মধ্যে ১.৩ কোটি মানুষের নাম নেই। ৭০%-এর বেশি বাঙালি প্রথম তালিকা অনুযায়ী ভারতীয় প্রমাণিত হতে পারেনি বা এক প্রকার বহিরাগত হিসাবে ঝুলে আছে। ৩০ জুন প্রকাশিতব্য চূড়ান্ত খসড়ার প্রকাশ বন্যা পরিস্থিতির জন্য পিছিয়ে ৩০ জুলাই প্রকাশিত হয়েছে। তাতে মোট ৩.৩৯ কোটি আবেদনকারীর মধ্যে ২.৮৯ কোটি মানুষের বৈধতা সাব্যস্ত হয়েছে। ৪০.৭ লক্ষ বাঙালি যাদের অধিকাংশ মুসলিম বহিরাগত হিসাবে এখনও সন্দেহভাজনের তালিকায়। তাছাড়া পুরো ব্যাপারটার মধ্যে ফড়ে দালাল ইত্যাদি মধ্যসত্তভোগীর দখলদারিতে তথা অবহেলা জনিত ভুলে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের অনেকের নাম যেখানে তালিকায় জ্বলজ্বল করছে, সেখানে জন্মসূত্রে কয়েক প্রজন্মের ভারতীয় মানুষের নাম বাদ পড়েছে।  অনুমান করা হচ্ছে ২০১৮-র ডিসেম্বরের মধ্যে তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। অবশ্য সরাষ্ট্রমন্ত্রক ও প্রশাসনের তরফ থেকে বলা হয়েছে, যাদের নাম নেই তারা পুনরায় আবেদন করতে পারবে। কিন্তু এতে করে নির্বাসন দণ্ড কার্যকর করার তারিখ পিছোলেও সাজা মকুবের আশ্বাস নেই। এত বছর ধরে যে প্রক্রিয়া সমস্ত বৈধ নাগরিকদের চিহ্নিত করতে পারেনি, সেটা আর মাস ছয়েকের মধ্যে করে ফেলবে আশা করা বাতুলতা। আর যদি আরও কিছু বাঙালি ভারতীয় বলে স্বীকৃত হলেও অধিকাংশ জাতিবিদ্বেষ থেকে মুক্তি পাবে না।

 

এর বছর পাঁচেক আগে ২০০৫ সালে তৎকালীন ছাত্রনেতা আসু-র সভাপতি এবং ২০১৭-য় বিজেপি প্রার্থী হিসাবে নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল IMDT বা Illegal Migrants (Determination by Tribunal) Act, 1983 আইনটি অসাংবিধানিক বলে বাতিল করিয়ে আসামে রীতিমতো জননায়কের মর্যাদা লাভ করেন। সেই আইন অনুসারে বিদেশী বলে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে বিদেশী প্রমাণ করার দায় ছিল প্রশাসনের, যেখানে পরবর্তী আইনে সেই দায় বর্তাবে সন্দেহভাজন বলে চিহ্নিত মানুষটির। বলা বাহুল্য প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ নস্যাৎ করে বিদেশী অনুপ্রবিষ্ট হিসাবে দেগে দেওয়া প্রশাসনের পক্ষে যতটা সহজ, অসহায় অভিযুক্তের পক্ষে নিজেকে নাগরিক বা বসবাসের দাবিদার বলে প্রমাণ করা ততটাই কঠিন। বাঙালিদের বিশেষত উদ্বাস্তু বাঙালিদের কিছুটা রক্ষাকবচ IMDT আইনটির পরিবর্তে নতুন নিয়ম জারি করে যাকে তাকে বিদেশী তথা সন্দেহভাজন ‘ডি’ (doubtful) ভোটার বলে চিহ্নিত করার ব্যবস্থা পাকা করে রেখেছিলেন সর্বানন্দ সোনোয়াল।

 

২০১১ সালে গুয়াহাটি হাইকোর্ট আসাম পুলিসকে নির্দেশ দেয় বহিরাগত হিসাবে ট্রাইবুনালে পেশ করা ব্যক্তিদের যেন রাতারাতি গায়েব না করে ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখা হয়, যাতে করে তারা নিজেদের নাগরিকত্ব প্রমাণের সুযোগ পায়। অর্থাৎ বাঁচিয়ে রাখার নির্দেশ দিলেও চিহ্নিত মানুষগুলো নিজেদের নিরপরাধ প্রমাণ না করা অব্দি অপরাধীর মতো ডিটেনশন ক্যাম্পে আটক থাকবে। এর ফলে পুলিস যাকে তাকে সন্দেহভাজন ‘ডি’ ভোটার বলে দাগিয়ে গ্রেপ্তার করতে পারে, যার ফলশ্রুতিতে শিলচর, কোকরাঝাড় ও গোয়ালপাড়ার ক্যাম্প ভরে উঠল অবৈধ অনুপ্রবিষ্ট বলে চিহ্নিত বাঙালিতে, ডিটেনশন ক্যাম্পে যাদের অবস্থা জেলখানার কয়েদির চেয়ে খারাপ, কারণ কোনো আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে দেখা করা, খোলা স্থানে চলাচল, সামান্য বিনোদন – মানুষের মতো বেঁচে থাকার যে ন্যূনতম অধিকার অপরাধী কয়দিরাও পায়, তা থেকে ডিটেনশন ক্যাম্পের অধিবাসীরা বঞ্চিত। উপরন্তু মুক্তির তারিখ নিশ্চিত হওয়ার বদলে বিদেশী বদলে চিরকালের জন্য দাগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। একটি বিচিত্র কানুন জানা গেল, ট্রাইবুনালের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত এবং তার রায়কে ভারতের কোনও আদালতেই পুনর্বিচারের জন্য আবেদন করা যাবে না, সম্ভবত সুপ্রীম কোর্ট ছাড়া।

 

২০১৪ সালে নির্বাচনী প্রচারে গিয়েই বিজেপি-র বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা করেছিলেন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ বন্ধ করবে। ১৯৭১-এর পর ভারতে আসা বাংলাদেশিদের ভারতের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে না। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে উৎপাটিত হিন্দু  বাঙালি যারা প্রাণ বাঁচাতে ভারতে আশ্রয় নিয়েছে তাদের মানবতার খাতিরে নাগরিকত্ব দান করা হবে। এই ঘোষণায় অসমিয়ারা ও সেখানকার ডিটেনশন ক্যাম্পে থাকা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা হিন্দু বাঙালিরা দু পক্ষই খুশি হয়েছিল। সর্বশেষ অনুমোদিত অনুপ্রবেশের বছরটা রাজ্য সরকার ভেদে আগুপিছু করলেও বাংলাদেশি বহিরাগত অনুপ্রবেশকারীদের আসাম থেকে উৎখাৎ করাটা আসাম রাজনীতি এমনকি সমাজেরও অঙ্গ হিসাবে প্রতিষ্ঠা পেয়ে এসেছে। সুতরাং নরেন্দ্র মোদী মুসলিম প্রধান হাইলাকান্দিতে সভা করার সময় যেমন অনুপ্রবেশ বিষয়ে প্রত্যাশিত ভাবে নিঃশব্দ ছিলেন, তেমনি স্বেচ্ছাচারী ‘ডি ভোটার’ চিহ্নিতকরণ নিয়েও মুখ খোলেননি; কারণ তাহলে অসমিয়া ভোট ব্যাংকে ব্যালেন্স কমে যাবে। কংগ্রেস সাংসদ সুস্মিতা দেবের অভিযোগ, “He is doing a flip flop on the issue. When he goes to Assamese-dominated areas he says I’m not going to allow foreigners. When he comes to this valley, he sings a different song. This time basically he had nothing to say about the Bengalis.”

 

২০১৮-র গোড়া পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী সরকারি হিসাবে ৬টি ডিটেনশন ক্যাম্প আছে যেখানে কতদিন পর্যন্ত কাউকে ধরে রাখা যাবে সেটা পরিষ্কার নয়। কতদিন ধরে ও কী পদ্ধতিতে ‘বাংলাদেশি’ বা বিদেশী বিতাড়নের কর্মসূচী চলবে সরকার সেটাও পরিষ্কার করেনি। তাদের শধু আশঙ্কা নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল বা The Citizenship (Amendment) Bill, 2016 আইনে পরিণত হলে সমস্ত অমুসলিম অনাসমীয়ারা নাগরিকত্ব অর্জনের সুযোগ পেয়ে যাবে। আসু বা অগপ-র মতো কট্টর জাতি বিদ্বেষীদের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতা করা বা তাদের চাপে নতিস্বীকার করার দায় অবশ্যই ভারতীয় জনতা পার্টির ওপর বর্তায়। প্রাক্তন আসু নেতা থেকে শুরু করে অসমিয়া সাধারণের মধ্যে সামগ্রিকভাবে হিন্দু-মুসলিম নির্বশেষে বাঙালিদের প্রতি বিদ্বেষের কথা জেনেই মোদীজি সর্বানন্দ রূপ বাঘের পিঠে চড়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার করেছেন।

 

 

মুসলিম অনুপ্রবেশ দ্বারা আসামের জনমানচিত্র (demography) বদলানো রোখা সর্বভারতীয় স্তরে ঘোষিত নীতি হলেও বাস্তবে বারবার আক্রান্ত হয়েছে হিন্দু বাঙালিরাই। কারণ বরাক উপত্যকা ছাড়া আসামের অন্যত্র বিশেষ করে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় মুসলিম বাংলাদেশিরা জন-সমীক্ষা কর্মীদের কাছে নিজেদের অসমিয়া বলে পরিচয় দিয়ে অসমিয়া জনসংখ্যার অঙ্গ হিসাবে শুধু প্রতিষ্ঠাই পায়নি, রীতিমতো শক্তি সঞ্চয় করে ফেলেছে। অসমিয়াদের কাছে তারা ‘ন-অসমিয়া' অর্থাৎ নতুন অসমিয়া। তারাও অসমিয়া ও বাঙালি হিন্দুর বিরোধ জিইয়ে রেখে আসামের মাটিতে টিঁকে থাকতে চায়। অথচ এদের পাশে নিয়েই বাঙালি অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই করতে চাইছে আসামের বাঙালি বুদ্ধিজীবিরা বিশেষ করে বামপন্থীরা। আর প্রাক্তন আসু-নেতা যে বিজেপি-কে বিভ্রান্ত করতেই দলে যোগ দিয়েছেন, তাতে আর সন্দেহের অবকাশ থাকছে না। বিজেপি-র ঘোষিত অ্যাজেন্ডা শরণার্থী পুনর্বাসন ও নাগরিকত্ব আইন সংক্রান্ত পরিকল্পনা বানচাল করে বাঙালিদের আরও নির্বল করাই যে সোনোয়ালের অভিসন্ধি ছিল, তা ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আসামে হিন্দু ঐক্যও অবস্তব কল্পনা, যদিও গোপীনাথ বরদোলোই এক সময় হিন্দু বাঙালিদের পুনর্বাসনে কিঞ্চিত দাক্ষিণ্য দেখিয়েছিলেন।

 

২০১১-র জনগণনায় প্রকাশ আসামের ২৭টি জেলার মধ্যে ৯টি মুসলিম অধ্যুষিত যেখানে ২০০১-এ মুসলিম সংখ্যাগুরুত্ব ছিল ৬টি জেলায়। বরাক উপত্যকারও তিনটি প্রধান প্রশাসনিক অঞ্চলের মধ্যে দুটিতেই মুসলিম সংখ্যাধিক্য – হাইলাকান্দি ও করিমগঞ্জ। মুসলিম জনসংখ্যা ২০৫১-য় ছিল ২৪.৬৮%, ১৯৯১-এ হল ২৮.৪৩% এবং ২০১১-য় দাঁড়িয়েছে ৩৪.২২% অর্থাৎ আসামের মোট জনসংখ্যার এক তৃতিয়াংশের বেশিই মুসলমান। এটাই আসাম ও কেন্দ্র সরকারের উদ্বেগের কারণ। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে অসমিয়ারা অসমিয়া ছাড়া আর কাউকেই বিশেষত বাঙালিদের আসামে থাকতে দিতে রাজি নয় – হয় বাংলাদেশ ফেরো না হয় ভারতের অন্য কোনও রাজ্যে কেটে পড়ো। নাগরিক অধিকার রক্ষা কমিটি (Citizen’s Rights Preservation Committee)-র পুরোধা সাধন সাধুখাঁ একই কথা জানিয়েছেন, “There are Assamese chauvinist groups who don’t want non-Assamese people in Assam at all. They want to oust them one way or another, send them to another state or to Bangladesh – wherever, whatever.”

 

তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য যেসব নথি দাখিল জরুরি সেগুলো হল –

১.  ১৯৫১ সালের নাগরিক পঞ্জি, অথবা

২. ১৯৭১ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত ভোটার তালিকা, অথবা

৩. ভূমি ও রায়তি সত্ত্বের নথিপত্র, অথবা

৪. নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র, অথবা

৫. স্থায়ী বাসিন্দার প্রমাণপত্র (PRC), অথবা

৬. শরণার্থী পঞ্জিকরণ পত্র, অথবা

৭. পাসপোর্ট, অথবা

৮. ভারতীয় জীবন বীমা নিগমের পলিসি, অথবা

৯. সরকার প্রদত্ত অনুজ্ঞাপত্র, অথবা

১০. সরকারি/ সর্বজনীন সংস্থায় নিযোগপত্র, অথবা

১১. ব্যাংক বা ডাকঘরের পাসবই, অধবা

১২. জন্মের প্রমাণপত্র, অথবা

১৩. বোর্ড/ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাগত প্রমাণপত্র, অথবা

১৪. আদালতের প্রক্রিয়াজনিত নথি।

তাছাড়া আরো দুটি নথি – ১. বিবাহসূত্রে স্থঅনান্তরিত মহিলারা রাজস্ব আধিকারিক বা পঞ্চায়েত সচিব দ্বারা প্রদত্ত প্রমাণপত্র, (১৯৭১-এর আগে বা পরে) এবং ২. ১৯৭১-এর ২৪ মার্চ মধ্যরাত্রির আগে প্রদত্ত রেশনকার্ড। এই দুটি অবশ্য পূর্বোক্ত ১৪টি নথির যেকোনও একটির সঙ্গে গ্রহণযোগ্য।

 

          অনেক বাঙালি আবেদনকারীই একটির বদলে একাধিক নথি দাখিল করেছে। কিন্তু প্রথমেই সুপ্রীম কোর্টের দোহাই দিয়ে ‘ভূমিপুত্র’ চিহ্নিত অসমীয়াভাষীদের নথি পরীক্ষা থেকে রেহাই দেওয়া হয়েছে। আর অনসামীয়াদের জন্য রয়েছে জটিল ছিদ্রান্বেষী পরীক্ষার আয়োজন। দ্বিতীয়ত, সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয়ভাবে বোর্ড বা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশাপত্র চাওয়ার পর লক্ষ লক্ষ সার্টিফিকেট পরীক্ষা করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থা অস্বীকার করায় আবেদন ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তৃতীয়ত, রীতিমতো পুলিসি অনুসন্ধানের পর ভারত সরকারের দেওয়া পাসপোর্ট কিংবা আয়কর বিভাগ প্রদত্ত প্যানকার্ড পর্যন্ত গ্রাহ্য হচ্ছে যেগুলো খুব সহজে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট থেকে পরখ করা সম্ভব। চতুর্থত, রাজ্যিক সমণ্বয়ক (State Coordinator) বাঙালি বিদ্বেষী ছাত্র সংস্থা দ্বারা চালিত হয়ে এআরসি প্রক্রিয়া বহুদূর এগিয়ে যাওয়ার পর ‘বংশবৃক্ষ পরীক্ষা’ নামের অদ্ভূদ ব্যবস্থা চালু করেছে। এর ফলে অসুস্থ, শিশু, বৃদ্ধ-বৃদ্ধারাও রাজ্যের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত পর্যন্ত ছোটাছুটিতে বাধ্য হয়েছে। প্রতি মুহূর্তে যে অবর্ণনীয় নিপীড়ন চলেছে অসমীয়া বাঙালিদের ওপর তা সভ্যদেশে অকল্পনীয়। সর্বোপরি, এত হ্যানস্থার পর যখন এনআরসি প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে, তখন রাজ্যিক সমণ্বয়ক প্রতীক হাজেলা ফরমান জারি করেছেন, কোনও কারণে পরিবারের একজন সদস্যের নাম নাগরিকপঞ্জিতে না উঠলে গোটা বাকি সদস্যরাও অভারতীয় বলে গণ্য হবে। [তথ্যসূত্র: কিছু জরুরি তথ্যের পেক্ষিতে আসামে বেপরোয়া বাঙালি বিতাড়ন, তপোধীর ভট্টাচার্য, জুন ২০১৮]।

 

            উপরন্তু এই তালিকা প্রস্তুতির সময় আসাম পুলিস হিন্দু-মুসলমান নির্বশেষে বাঙালিদের তুলে নিয়ে গিয়ে ডিটেনশন ক্যাম্পে আটকে রাখছে। ওদিকে সীমন্তরক্ষী বাহিনীও জোর করে গ্রামবাসীদের হাতের চাপ নেওয়া ও ভীতি প্রদর্শন করছে বলে অভিযোগ। জন্মগ্রহণের এক বছরের মধ্যে বার্থ সার্টিফিকেট সংগৃহীত না হলে, যা না হওয়াই ভারতীয় কর্মসংস্কৃতিতে স্বাভাবিক, তাদেরও এআরসি-তে নাম তোলা যাবে না। বিবাহিত মহিলাদের ম্যারেজ সার্টিফিকেট না থাকলে তাদের ও তাদের সন্তানদের বিদেশী বলে চিহ্নিত করছে।

তাছাড়া অনেক জায়গাতেই তথ্য সংগ্রহে নিয়োজিত হয়েছে ঠিকের স্বেচ্ছাসেবী চ্যাংড়া ছোকরা যাদের কাগজপত্র খতিয়ে দেখার ক্ষমতাই নেই, যোগ্যতার মধ্যে আছে কেবল প্রবল বাঙালি বিদ্বেষ। তাদের দায়িত্ববোধের ফলে যথোপযুক্ত নথিপত্র থাকা বাঙালিদেরই যদি নাম বাদ পড়ে, তাহলে জীবিকার সন্ধানে দিন আনি দিন খাই পরিযায়ী মানুষের, বিশেষত উদ্বাস্তু – যাদের কাগজপত্র মজুদ না থাকাই স্বাভাবিক, তাদের অবস্থা কতটা সঙ্গীন হবে অনুমান করা যায়। কোথাও একটি পরিবারের মায়ের নাম আছে তো ছেলের নেই, বরের আছে তো বৌয়ের নেই। অর্থাৎ রাজ্যিক সমণ্বয়কের জারি করা নতুন ফরমানে এই একজনের নামের অনুপস্থিতির অজুহাতে গোটা পরিবারকে বিদেশী বলে দাগিয়ে দেওয়া যাবে। তালিকায় নেই গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য তপোধীর ভট্টাচার্যের নামও, যেখানে পলাতক আলফা জঙ্গি পরেশ বড়ুয়ার নাম জ্বলজ্বল করছে।

 

          মানবাধিকার হরণে এমন নির্লজ্জভাবে আঁটঘাট বাঁধা, যে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি সংক্রান্ত কোনও তথ্য জানার অধিকার থেকে মহামান্য সুপ্রীম কোর্টই আমাদের বঞ্চিত করে রেখেছে। সুপ্রীম কোর্টে এনআরসি সংক্রান্ত যাবতীয় মামলার বিচার ভার ন্যস্ত অসমীয়াভাষী রঞ্জন গগৈয়ের ওপর, যেখানে দেশে প্রচলিত নিয়মানুসারে কোনও বিচারক তাঁর উৎস রাজ্যের মামলার শুনানি করতে পারেন না। এখানে আবার বিচারপতি নিজেই উক্ত মামলার অন্যতম আবেদনকারী। অতএব মামলার গতিপ্রকৃতি কোনদিকে অনুমান করতে অসুবিধা হয় না।

 

আসলে গোড়াতেই তো গলদ। যে দুটি মূল ভিত্তির ওপর এই এনআরসি তালিকা তৈরি অর্থাৎ ১৯৫১ সালের নাগরিক পঞ্জি ও ১৯৭১ সালের ভোটার তালিকা – সেই দুটির কোনওটিই পূর্ণাঙ্গ ও অক্ষত রূপে পাওয়া যায়নি। ফলে দুটি অস্তিত্বহীন দলিলের ভিত্তিতে নাগরিকপঞ্জি নবায়নের প্রহসন চলেছে। ১৯৫১-য় যে জেলাভিত্তিক নাগরিক পঞ্জি তৈরি হয়েছিল, তখন মেঘালয় মিজোরাম ও নাগাল্যান্ড আলাদা রাজ্য হোইসাবে আত্মপ্রকাশ করেনি, তারা ছিল আসামেরই আংশ। রাজ্য বিভক্ত হওয়ায় সেখানকার অধিবাসীরা ছড়িয়ে পড়ে। তাছাড়া প্রকৃতিক দুর্যোগ বা অর্থনৈতিক কারণে ছিন্নমূল মানুষ সভ্যতার স্বাভাবিক নিয়মেই পরিযায়ী হয়েছে। কিন্তু নাগরিক পঞ্জি নবায়নের নামে দস্তুরমতো দলিলপত্র থাকা বাঙালিদেরই যেখানে বহিস্কারের আয়োজন চলছে, সেখানে এইসব অন্তর্দেশীয় প্রব্রজনকারীদের নাম তো বাদ পড়বেই। ১৯৭১-এর ২৫ মার্চ নামমাত্র ভিত্তি তারিখ হলেও হিন্দু-মুসলমান সমস্ত বাঙালিদের জন্য ‘বহিরাগত’, ‘বিদেশী’, ‘বাংলাদেশি তকমাটি পূর্বনির্ধারিত।

যদিও মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ থেকে কেন্দ্রীয় গৃহমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ সহ বিজেপি নেতারা নিশ্চয়তা দিচ্ছেন এই তালিকা শেষ নয়, পরের তালিকার জন্য অপেক্ষা করতে; কিন্তু যে রাজ্যের প্রশাসনিক নীতি নির্ধারণ করে বাঙালি বিদ্বেষী জঙ্গিরা সেখানে লক্ষ লক্ষ মানুষের অনিশ্চয়তা উদ্বেগ কেটে যাওয়া সম্ভব নয়। উপরন্তু সবচেয়ে লজ্জা ও উদ্বেগের বিষয় নির্ধারিত ৩০ জুন চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগেই নেতা মন্ত্রীরা প্রকাশ্যে কয়েক লক্ষ নাম বাদ যাওয়ার কথা ঘোষণা করছেন। কাজে স্বচ্ছতা কোথাও নেই। অধ্যাপক তপোধীর ভট্টাচার্যের ভাষায় সমগ্র আসামে কার্যত হিটলারের গেস্টাপো বাহিনীর ইহুদি নির্মূলীকরণের কায়দায় বাঙালি নির্মূলীকরণ চলেছে।

 

 মাঝে রাষ্ট্রসংঙ্ঘের মানবাধিকার কমিশন ভারত সরকারের বিদেশ মন্ত্রকের কাছে তালিকা বহির্ভুত মানুষগুলোর কী পরিণতি হবে কৈফিয়ত চাওয়ায় এনআরসি কার্যকরী হওয়ার আশু সম্ভাবনা বেকায়দায় পড়েছিল। কিন্তু পুনরায় তা পূর্ণোদ্যোমে শুরু হয়েছে। সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের আকাশচুম্বী ৩০০০ কোটি টাকার মূর্তি যেদিন ‘ঐক্য ও জাতীয় সংহতি’র প্রতীক হিসাবে উদ্বোধিত হল, সেদিনই আসামের তিন সুকিয়ায় অজানা বন্দুকবাজদের গুলিতে ধরাশায়ী হল আরও পাঁচজন বাঙালি, আরও নির্দিষ্ট করে বললে হিন্দু বাঙালি। প্রথমটায় সন্ত্রাসবাদী সংগঠন উলফাকে দায়ী মনে করা হলেও তারা দায় স্বীকার করেনি, বরং প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা যেন সরকারি সন্ত্রাস ইঙ্গিত করছে। সাম্প্রতিক ৫ জন বাঙালি হত্যার ঘটনাটির খবরে পশ্চিমবঙ্গের মিডিয়ায় খানিক চাঞ্চল্য দেখা গেলেও এতি কোনও নতুন প্রবণতা নয়, বিগত কয়েক দশক ধরে চলে আসা পরিস্থিতিরই ধারাবাহিকতা সূচিত করেছে। 

 

ডি ভোটারের সংখ্যা প্রথম তালিকা থেকে চূড়ান্ত খসড়ায় ১.৩ কোটি থেকে নেমে যখন ৪০.৭ লক্ষ হয়েছে, তাতে অনুমান করা যায় আবেদন আর্জি পর্যালোচনা করার পর চূড়ান্ত তালিকা বের হলে তাতে আরও বেশ কিছু মানুষ ভারতীয় হিসাবে এনআরসি-ভুক্ত হতে পারবে। কিন্তু ততদিনে তারা ধনে-প্রাণে নিঃস্ব কাঙাল হয়ে যাবে, ইতিমধ্যেই হয়ে গেছে অনেকে। তাছাড়া বিদেশী বহিষ্কার ঝুলে থাকলেও বাকিদের ডিটেনশন ক্যাম্প থেকে মুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হবে না। হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সব বাঙালির প্রতি সহানুভূতি দেখানোর পরিবর্তে কেন্দ্র সরকারের প্রস্তাবিত ২০১৬-র নাগরিকত্ব (The Citizenship (Amendment) Bill, 2016) বিলটিও অসমীয়া নেতা-জনতার সম্মিলিত চাপে ২০১৮-র জুলাইয়ের ১৩-১৪ নাগাদ স্থগিত করা হল, যার ফলে ওপার বাংলা থেকে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে আসা হিন্দু বাঙালিদের হয় ডিটেনশন ক্যাম্প নামক বন্দীশালায় মৃত্যুর দিন গুণতে হবে কিংবা বাংলাদেশ নামক অগ্নিগর্ভে নিক্ষিপ্ত হতে হবে।

 

এনআরসি ও পশ্চিমবঙ্গ: আসামে এনআরসি প্রয়োগের ভয়াবহ পরিণতি ও অনিয়ম দেখেও কেন্দ্রের শাসকদল ভুল স্বীকার ও সংশোধনের পরিবর্তে বিষয়টিকে নিজেদের প্রেস্টিজ ইশ্যু করে জেদাজেদির পর্যায়ে নিয়ে গিয়ে ভোটের ময়দানে নেমেছে। পশ্চিমবঙ্গে শরণার্থী ও তথাকথিত সংখ্যালঘু দুটি শ্রেণীই ভোটযুদ্ধের অন্যতম নিয়ামক শক্তি। বস্তুত তাদের ঐ ভূমিকায় শক্তিশালী করে তোলা ও রাখা হয়েছে সযত্নে। যাদের ভোটে তুমি ক্ষমতায় এলে, ক্ষমতা লাভের পর তাদেরই নাগরিকত্ব প্রশ্নচিহ্নে ফেলা যায় কিনা সেই প্রশ্নের বিপ্রতীপে বাছাই নাগরিকত্ব প্রদানের সপক্ষে কোনও যুক্তি ধোপে টেঁকেনি। ২০১৯-এর নভেম্বর মাসে তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনে গেরুয়া শিবিরের প্রাপ্তি বলা যায় পশ্চিমবঙ্গের বুকে জাতীয় নাগরিক পঞ্জির জনমানসে গ্রহণযোগ্যতাকে নস্যাৎ করে দিয়েছে।

 

 

তথ্যসূত্র

 

 

1.Illegal Migrants (Determination by Tribunal) Act, 1983 – Wikipedia
[https://en.wikipedia.org/wiki/Illegal_Migrants_(Determination_by_Tribunal)_Act,_1983]
2.What is the Citizenship (Amendment) Bill, 2016? [https://www.thehindu.com/news/national/other-states/what-is-the-citizenship-amendment-bill-2016/article23999348.ece]
3.What is the Citizenship (Amendment) Bill, 2016? http://xaam.org/what-is-the-citizenship-amendment-bill-2016/
  1. ‘Foreigners are foreigners’: Brahmaputra Valley says no to granting Bangladeshi Hindus citizenship [https://scroll.in/article/878227/foreigners-are-foreigners-brahmaputra-valley-says-no-to-granting-bangladeshi-hindus-citizenship]

  2. What is the Citizenship (Amendment) Bill, 2016? - The Hindu [http://www.thehindu.com/news/national/other-states/what-is-the-citizenship-amendment-bill-2016/article23999348.ece]

  3. citizenship (amendment) bill 2016 the hindu [https://www.google.co.in/search?rlz=1C1DFOC_enIN697IN697&q=citizenship+(amendment)+bill+2016+the+hindu&sa=X&ved=0ahUKEwiDhrKUvvPbAhXRT30KHZYiCJEQ1QIIfigC]

  4. Why the Citizen Amendment bill 2016 can tear Assam apart? [https://www.thequint.com/voices/opinion/why-the-citizenship-amendment-bill-2016-can-tear-assam-apart]

  5. Worried about BJP using NRC for communal Agenda in 2019 polls: Congress does a course of correction. https://scroll.in/article/889264/worried-about-bjp-using-nrc-for-its-communal-agenda-in-2019-polls-congress-does-a-course-correction

  6. তপোধীর ভট্টাচার্য, “কিছু জরুরি তথ্যের পেক্ষিতে আসামে বেপরোয়া বাঙালি বিতাড়ন”, দ্বিরালাপ, ২০১৮

  7. ২৩ জুন ২০১৮-য় অনুষ্ঠিত সভার আলোচনা

  8. Citizenship amendment bill 2016 passed [https://www.google.co.in/search?rlz=1C1DFOC_enIN697IN697&q=citizenship+amendment+bill+2016+passed&sa=X&ved=0ahUKEwiDhrKUvvPbAhXRT30KHZYiCJEQ1QIIfSgB]

 

Share on Facebook
Share on Twitter
Please reload

জনপ্রিয় পোস্ট

I'm busy working on my blog posts. Watch this space!

Please reload

সাম্প্রতিক পোস্ট
Please reload

A N  O N L I N E  M A G A Z I N E 

Copyright © 2016-2019 Bodh. All rights reserved.

For reprint rights contact: bodhmag@gmail.com

Designed, Developed & Maintained by: Debayan Mukherjee

Contact: +91 98046 04998  |  Mail: questforcreation@gmail.com