ভিতরে ভিতরে সমাজটা আগের থেকেও খারাপ হয়ে গেছে

 

 

ধর্ষণের মতো জঘন্য নারকীয় ঘটনা এখনও অবলীলাক্রমে ঘটে চলেছে। পাশাপাশি 'বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও' স্লোগানও দেশময় চলছে। আগের সময়ের চেয়ে মেয়েদের অবস্থানগত ভাবে অনেকটা বদল ঘটেছে। এখন মেয়েদের অনেক বেশি বাইরের জগতের সঙ্গে মিশতে হয়। তারা চাকরি করে বা ব্যবসা করে। পেশাগত কারণেও  রাতবিরতে বেরতেও হয়। কিন্তু ইদানিং ধর্ষণ ও নারী নিগ্রহের ঘটনা যে ভাবে বেড়ে চলেছে তা প্রাক-আধুনিক সময়কেও হার মানাবে। শুধু ধর্ষণই নয়, ধর্ষণে বাধা দিলে খুন করে পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। সাম্প্রতিক উদাহরণ প্রিয়াঙ্কা রেড্ডি। হায়দরাবাদের বছর ছাব্বিশের এই তরুণী পেশায় পশু চিকিৎসক। রাত সাতটা নাগাদ তিনি একটি টোলপ্লাজায় নিজের স্কুটিটি রেখে, এক চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করতে যান। ন'টা নাগাদ ফিরে এসে দেখেন স্কুটির পেছনের চাকাটি পাংচার হয়ে গিয়েছে। তখন গায়ে পড়ে দুই ট্রাকচালক তাকে সাহায্য করতে আসে। তখন প্রিয়াঙ্কা বোনকে ফোন করে বলেন, ' দুই ট্রাকচালক যেচে সাহায্য করতে চাইছে। ভাবগতিক ভাল লাগছে না। বেশ কিছু লোক ঘুরঘুর করছে। আমার খুব ভয় করছে।আমার সঙ্গে কথা বলতে থাক।' বোন তাঁকে উপদেশ দেয়, ওখানে স্কুটি রেখে ক্যাব ধরে বাড়ি চলে আসতে। মিনিট পনেরো পরে বোন দিদিকে ফোন করে দেখে ফোন সুইচড অফ। পরেরদিন সকালে প্রিয়াঙ্কার পোড়া দেহ পুলিশ উদ্ধার করে। তেলেঙ্গানা রাজ্যের এক মন্ত্রী জানিয়েছেন, মেয়েটি ভুল করেছিল। বাড়িতে ফোন না করে পুলিশে ফোন করা উচিত ছিল। সত্যি তো মেয়েরাই ভুল করে। ভাগ্যিস বলেননি, মেয়েটির পোশাক ঠিক ছিল না। মেয়েটি ভয় পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই বাড়িতে ফোন করেছিল। এর মধ্যে ভুল কোথায়! আসলে সমাজের বাইরের ভোল পালটালেও ভেতরের অবস্থার বদল ঘটেনি। মেয়েদের সম্পর্কে সমাজের ধারণার বিশেষ বদল ঘটেনি। যে কারণে মেয়েরা ধর্ষণে বাধা দিলে তাঁকে হত্যা করতে পিছপা হচ্ছে না। ধর্ষক পুরুষ চায়, ধর্ষণের সময় মেয়েরা মুখ বন্ধ রাখুক। কোন বেচাল সে সহ্য করবে না। কোন বেচাল ঘটলেই মেয়েরা মাগী হয়ে যায়। 

বর্তমানে আর্থিক ক্ষেত্রে মেয়েদের অবস্থান কিছুটা বদল সত্ত্বেও মেয়েদের পদে পদে লাঞ্ছিত হতে হয়। চাকরিক্ষেত্রে কোন মেয়ের পদোন্নতি হলে পুরুষ সহকর্মীরা ভাল চোখে দেখেন না। তখন মেয়েটি বেশ্যা হয়ে ওঠেন, পুরুষ সহকর্মীদের চোখে। বসকে শরীরের ছলাকলা দেখিয়েই পদোন্নতি আদায় করে নিয়েছে মেয়েটি এমন আলোচনা মেয়েটির আড়ালে চলতে থাকে।

 

মেয়েটি ফোন করে বোনকে বলেছিল, 'ওদের দেখে আমার খুব ভয় করছে। কান্না পাচ্ছে। দাঁড়িয়ে থাকতে পারছি না। প্লিজ কথা বলতে থাক। আমার খুব ভয় করছে।' এরকম ভয়ের বাতাবরণের মধ্যেই বেঁচে থাকে মেয়েরা। বাসে-ট্রেনে- রাস্তায়-অফিসে সবসময় মেয়েরা ভয়ে ভয়ে থাকে। এখনও সমাজ মেয়েদের নিজস্ব পরিচয়ে বেঁচে থাকার অধিকার দেয়নি। আজও ধর্ষিতার পোশাক নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।  ধর্ষিতার চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধকেও সমাজের বেশ কিছু মানুষ বৈধতা দেয় মনে মনে।

 

 

Share on Facebook
Share on Twitter
Please reload

জনপ্রিয় পোস্ট

I'm busy working on my blog posts. Watch this space!

Please reload

সাম্প্রতিক পোস্ট
Please reload

A N  O N L I N E  M A G A Z I N E 

Copyright © 2016-2019 Bodh. All rights reserved.

For reprint rights contact: bodhmag@gmail.com

Designed, Developed & Maintained by: Debayan Mukherjee

Contact: +91 98046 04998  |  Mail: questforcreation@gmail.com