মহারাষ্ট্রে জোট টিঁকিয়ে রাখাই এখন জরুরী

 

 

 

বর্তমান পরিস্থিতিতে মহারাষ্ট্রে সরকার গড়তে ব্যর্থ হওয়া এক চরম বিপর্যয় বিজেপির পক্ষে l একেই দেশের অর্থনীতির হাল বেশ খারাপ, এনআরসি কৌশলও বুমেরাং হচ্ছে এবং এরই পাশাপাশি বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ব সংস্থা বিক্রি করা নিয়ে দেশব্যাপী ক্ষোভের আঁচ বাড়ছে l এমতাবস্থায় কেন্দ্রের সরকারের হাত দুর্বল হলে সমস্যা ভয়ালরূপ নিতে পারে বলে যখন আশঙ্কা তৈরী হচ্ছে বিজেপির অন্দরে, ঠিক তখনই মহারাষ্ট্রে সরকার গঠনের প্রশ্নে  চায়ে চুমুক দেবার আগেই হাত থেকে পড়ে গেল চায়ের কাপ l ফলে এই মুহূর্তে উঃ প্রদেশ ছাড়া বিজেপির হাতে আর কোন বড় রাজ্য নেই l এহেন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রে সরকার টিঁকে থাকলেও রাজনৈতিকভাবে কমজোরি হতে বাধ্য l ঝাড়খণ্ডের ভোট শুরু হয়ে গেছে, শীঘ্রই ফলপ্রকাশও হবে l সেখানেও ফল বিজেপির পক্ষে ভালো হবেই,  এমনটা জোর দিয়ে বলা যাচ্ছেনা l যদিও সেখানে বিরোধীরাও ছন্নছাড়া l এরপরেই দিল্লীরও নির্বাচন, আপ-কংগ্রেস বোঝাপড়া হলে বিজেপির পরাজয় এখানেও নিশ্চিত l অর্থাৎ আগামীদিন বিজেপির পক্ষে খুব সুখকর নাও হতে পারে l

 

মহারাষ্ট্রে আজকের এই পরিস্থিতির জন্য যেমন প্রবীণ মারাঠা নেতা শারদ পাওয়ারের কৃতিত্ব অনেকখানি, তেমনই পরিস্থিতির ডাকে সাড়া দিয়ে সোনিয়া গান্ধীর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস দলও দ্বিধা দ্বন্ধ কাটিয়ে বিজেপিকে দুর্বল করতে পরিস্থিতির পূর্ণ সুযোগ নিতে সঠিক কৌশলই  গ্রহণ করেছেন l এই অভাবনীয় পরিস্থিতির সুবর্ণ সুযোগের অপব্যবহার করলে বা সাড়া দিতে ব্যর্থ হলে,  তা হোত এক ঐতিহাসিক ভুল l তবে এই ঘটনার ফলে গোটা দেশব্যাপী বিজেপি না যতখানি দুর্বল হয়েছে, তারচেয়ে ঢের বেশি মনোবল বেড়েছে বিরোধীপক্ষের, আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে লড়াইয়ের l এই ঘটনার ফলে এরাজ্যে মমতারও  লাভ হয়েছে বিশাল এবং নানাবিধ l যেমন, এতদিন বিজেপির পরবর্তী লক্ষ্য ছিল এইরাজ্য বাংলা, কিন্তু অতঃপর বিজেপির শিরঃপীড়া হচ্ছে মহারাষ্ট্র পুনরুদ্ধার l ফলে মোদী-শাহকে আপাততঃ তাঁদের যাবতীয় অস্ত্র ব্যবহার করতে হবে মহারাষ্ট্রের জোট সরকার ভাঙতে এবং এমএলএ-দের দলে টানার লক্ষ্যেই l কিন্তু মারাঠি নেতা শারদ পাওয়ারও কম দুঁদে  খেলোয়াড় নন, তিনিও জানেন কিভাবে কি সামলাতে হয় l এরাজ্যের তিন তিনটি উপনির্বাচন অপ্রত্যাশিতভাবে জিতে মমতা এখন অনেকখানি 'রিলাক্সড' l আর বিজেপি যতই মুখে হুঙ্কার দিক এনআরসি নিয়ে তাঁদের এখন ধীরে সুস্থেই এগোতে হবে l আসামে এনআরসি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ব্যর্থ ও বুমেরাং হয়ে দাঁড়িয়েছে l গরীব হিন্দুরাও এনআরসি প্রশ্নে আতংকগ্রস্থ হয়ে বিজেপির প্রতি বিশ্বাস হারিয়েছে l এদিকে মমতা গত লোকসভা নির্বাচনে মানুষের ক্ষোভের আঁচ পেয়ে বেশকিছু সাংগঠনিক পদক্ষেপ নিয়েছে মানুষের ক্ষোভে প্রলেপ লাগাতে l এবিষয়ে মমতার পরামর্শদাতা প্রশান্ত কিশোরের উপদেশেও  কাজ দিয়েছে l আসন্ন বিধানসভার নির্বাচণের সময় বাকি আছে দেড় বছর l এরমধ্যে বিশাল কিছু অঘটন না ঘটলে মমতার জয়ের সম্ভাবনাই অধিক l কারণ, গত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির পক্ষে প্রবল হওয়া সত্বেও মমতা পেয়েছিল 44% ভোট এবং 2021এ 45% ভোট পেলেই তাঁর জয় সুনিশ্চিত l

 

2019এর নির্বাচনে সাধারণভাবে গোড়ায় মোদির পক্ষে ভোটের হওয়া ছিলনা, কিন্তু বিরোধীপক্ষের অনৈক্য এবং নির্বাচন কমিশন ও সর্বোচ্চ আদালতকে 'ম্যানেজ' করে ভোটের শেষলগ্নে এসে যে ভেলকি দেখানো হোল,  তাতেই সবাইকে কুপোকাৎ করে 303(থ্রি নট থ্রি)টি আসন জিতে বিজেপি দলকে ক্ষমতার চূড়ান্ত শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছেন মোদী-শাহ জুটি l অতঃপর সেই সাহসে ভড় করে কাশ্মীর নিয়ে বিশাল ছক্কা হাঁকালেন এবং সুপ্রিম কোর্টের রায়ে রামমন্দির নিয়ে পেয়ে গেলেন আরও এক ছক্কা l কিন্তু মহারাষ্ট্রের ফুলটস বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়েই সীমানার প্রান্তে ধরা পরে ক্যাচ আউট হয়ে গেলেন অপ্রত্যাশিতভাবে শারদ পাওয়ারের হাতে l এর ফলে  মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিরোধীদের সামনে যে অভাবনীয় সুযোগ এনে দিয়েছে, তাকে যে কোন মূল্যে সদ্ব্যবহার করতে হবে, জোটের ঐক্য রক্ষা করতে হবে এবং এর দায়িত্ব নিতে হবে কংগ্রেস দলকেই l

 

মহারাষ্ট্র পর্বে সরকার গড়তে ব্যর্থতায় একদিকে যেমন বিজেপিকে হতোদ্যাম করেছে, অপরদিকে তেমনই প্রবল উদ্দীপ্ত করেছে বিরোধী পক্ষকে l এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিরোধীপক্ষ, বিশেষত কংগ্রেস দল যদি তাঁদের নেতৃত্বের সংকট বা দুর্বলতা কাটিয়ে সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধরূপে বিভিন্ন জনসম্পর্কিত বিষয় নিয়ে আন্দোলন শুরু করতে পারে, তাহলেই জাতীয় রাজনীতির চলচিত্রটা সম্পূর্ণ বদলে যাবে l আর একবার জনমত ঘুরতে আরম্ভ করলেই  বিভিন্ন কারণে ভীত, সন্ত্রস্ত আঞ্চলিক দলগুলিও বিরোধীপক্ষের আন্দোলনে সামিল হবে l এর ফলে বিজেপি আরও কোনঠাসা হবে, দুর্বল হবে l দেশে ধর্মনিরপেক্ষতার ঐতিহ্য রক্ষা পাবে, সংবিধান ও গণতন্ত্র সুরক্ষিত হবে l আবার সজীব হয়ে উঠবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য উন্নয়নের সাথে সাথে বেকারি ও গরিবী থেকে বাঁচার লড়াই l

 

Share on Facebook
Share on Twitter
Please reload

জনপ্রিয় পোস্ট

I'm busy working on my blog posts. Watch this space!

Please reload

সাম্প্রতিক পোস্ট
Please reload

A N  O N L I N E  M A G A Z I N E 

Copyright © 2016-2019 Bodh. All rights reserved.

For reprint rights contact: bodhmag@gmail.com

Designed, Developed & Maintained by: Debayan Mukherjee

Contact: +91 98046 04998  |  Mail: questforcreation@gmail.com