ট্রাজেডি না ফার্স

 

 

 

ফ্রান্সের ফেব্রুয়ারী বিপ্লবের দিকে তাকিয়ে মার্ক্স সাহেব বলেছিলেন "History repeats itself: the first time as a tragedy, the second time as a farce."

 

দেশটা ব্রিটিশ শাসনে ভালো ছিল না, বেশ কষ্টে ছিল। স্বাধীনতা পেলাম বা অর্জন করলাম। এল কংগ্রেস শাসন। তারপর এগোচ্ছি আর এগোচ্ছি। কেবল কৃষি উৎপাদন নয়, বড় বড় বাঁধ নির্মাণে, শক্তি উৎপাদনে, প্রতিরক্ষায় বা ভারিশিল্পে, শিক্ষা(সাক্ষরতা)য়, স্বাস্থ্যে(গড় সম্ভাব্য আয়ুর বিচারে) দেশটা অল্প অল্প করে এগোচ্ছিল। কেন অল্প অল্প? কর্তারা যে বলেছিল দ্রুতপায়ে এগোব। ছুটব, খেলব, হাসব।  কোথায় কী? উল্টে ওরা কাড়ছিল মানুষের অধিকার, কালোবাজারি করছিল, ধ্বংস করছিল জলসম্পদ ও ভূপ্রকৃতি, নষ্ট করছিল প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য ইত্যাদি ইত্যাদি। গোয়া-হায়দ্রাবাদ থেকে সিকিম-কাশ্মীর  - এগিয়ে চলল দখলের রাজনীতি, বহুস্বর গণতন্ত্রের রথ থামিয়ে।  চাহা কেয়া, কেয়া মিলা! ট্রাজেডি নয়তো কী? 

 

এখন মোদি সরকার। এই তো সেদিন এল ক্ষমতায়। তারা নাকি মানুষের উপকারার্থে করেছে বিমুদ্রাকরণ; এনেছে জিএসটি, গড়েছে নতুন অর্থনীতি্র বুনিয়াদ ইত্যাদি ইত্যাদি। ভারতবর্ষের মানুষকে নাগরিকত্ব দিতে, নাগরিকের প্রকৃত অধিকার দিতে আনছে নাগরিকত্ব বিল, দেশের মানুষকে হিন্দু সংস্কৃতি শেখাতে ও বোঝাতে(দেশটা যে ভারতবর্ষ, ভুললে চলবে? নেহরু-গান্ধি- রবীন্দ্রনাথের নয়, এ দেশ মনু-মোদির দেশ।)ব্যস্ত। কিছুলোক হাত-পা ছুঁড়ছে না বুঝে। শিল্পপতি রাহুল বাজাজও! তিনি বলছেন কিনা মুখ খোলার স্বাধীনতা নেই(কর্পোরেট ট্যাক্স কমিয়ে দেবার পরও)। এ যদি ‘ফার্স’ না হয় তো ফার্স কী?  শ্রমিকরা বলছে অধিকার নেই আন্দোলনের, ছাঁটাই আর বেসরকারিকরণ চলছে তো চলছেই, কৃষক বলছে ফসলের দাম পাচ্ছি না, ছাত্ররা চেষ্টা করেও শিক্ষা বাণিজ্যিকীকরণ আর বেসরকারিকরণ থামাতে পারছে না, জিডিপি বৃদ্ধির হার কমতে কমতে এখন ৪.৫%।   মুখ থুবড়ে পড়েছে দেশের অর্থনীতি। কেউ মানছেন, কেউ মানছেন না সে কথা।  কেউ শোনাচ্ছেন কংগ্রেস আমলের ট্রাজেডির কথা, কেউ দেখাচ্ছেন বিশ্বের প্রধান প্রধান দেশের অর্থনীতির ছবি। 

 

আমাদের সামনে একটা প্রশ্ন। প্রশ্ন এই যে - দেশে কী সত্যিই এসে পড়েছে মন্দা? মন্দার সংজ্ঞা নিয়ে মহা পণ্ডিতদের মধ্যে মহা বিতর্ক চলেছে। আমি অতি দীনহীন মনুষ্য বলি কেমনে যে না না মন্দা নেই, সংকট নেই - সব গুজব। দেখছি তো আয় কমছে, বেকারত্ব বাড়ছে, কাজের সুযোগ কমছে, বেড়েই চলেছে জিনিসপত্রের দাম। চর্চা হচ্ছে কেবল পেঁয়াজ নিয়ে। অথচ আমি আলু, তেল, জ্বালানি সবারই দাম বাড়তে দেখছি। যা কিনতে যাই তাতেই হাত ঠেকানো  যায় না, ছেঁকা লাগে। 

 

 আগুন কেবল বাজারে নয়, আগুন মনে নয় কেবল, আগুন লেগেছে শরীরে, পেটে, মগজে। চিতার আগুনের মতো হয়ে জ্বলছে বাজার। আসলে তো জ্বলছি আমি। দেখে যা দেখে যা দেখে যা লো তোরা - ও মাসি, ও পিসী, ও কাকা, ও দাদা, ও মামা। গলা ছেড়ে বলছি এ বড়ো সুখের সময় নয় গো! 

 

তবু কিছু পন্ডিত বলেই চলেছে ধৈর্য ধর ওরে বৎস ক্ষণকাল! এটা মন্দা নয়, হতে পারে মন্দকাল।  ধৈর্য ধর। মন্দকাল কাটবে, কাটবেই, আসবেই মধুমাস! তৃতীয় ত্রৈমাসিকের ফল দেখিস, জিডিপি ঊর্ধমুখি হবে। হবেই।

 

কিন্তু যদি তার আগেই মন্দার এ ভার বা তাপ সইতে বা পেরে এ মরদেহ  মর্তলোক ছেড়ে যেতে চায়?

- বোকা কৃষকের মতো আত্মহত্যা!চাইলেই হবে? যাবে কোথায় চাঁদু? ঊর্ধলোকে?  স্বর্গে যাবার সাধ বুঝি? 

- না গুরু, একদা স্বর্গে যাবার স্বপ্ন বা সাধ ছিল বটে, অনেক অনেক কাল আগের কথা। গোলাভরা ধান, কালো গরুর দুধ - তেমন  স্বপ্ন বা সাধ

আর নেই। ভোট দিয়ে নতুন সরকার এনেছি ইহলোকে স্বর্গসুখ পাব এ আশায়। তাও ভেসে যায়! 

 

 কিচ্ছু ভেসে যায়নি বাছা, ভরসা রাখো আর ‘মামেকং শরণং ব্রজ’। আমি, শ্রী নরেন্দ্র দামোদরণ মোদি বলছি মন্দা আসেনি। গব্বর আসেনি। তোমরা ঘুমোও।

 

 

Share on Facebook
Share on Twitter
Please reload

জনপ্রিয় পোস্ট

I'm busy working on my blog posts. Watch this space!

Please reload

সাম্প্রতিক পোস্ট
Please reload

A N  O N L I N E  M A G A Z I N E 

Copyright © 2016-2019 Bodh. All rights reserved.

For reprint rights contact: bodhmag@gmail.com

Designed, Developed & Maintained by: Debayan Mukherjee

Contact: +91 98046 04998  |  Mail: questforcreation@gmail.com