মোদির কলকাতা সফর: ব্যাকফুটে মমতা

 

এক অদ্ভুত রাজনৈতিক নাটক অনুষ্ঠিত হলো  কলকাতায়। "সাংবিধানিক দায়িত্ব" পালন করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগতম জানাতে আকাশবাণীর সামনে রাস্তার মোড়ে চালানো হলো সেই স্বাধীনতার গান, "  মরা গাঙে বাঁধ ভেঙে আয় না ছুটে জয় মা বলে" আর তার ঠিক কোনাকুনি ময়দান পেরিয়ে মেয়ো রোডে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিবাদী সভা থেকে হুংকার উঠছে, মোদি সরকার নিপাত যাক, এন আর সি মানছি না।ক্যা মানছি না।"হাজার হাজার মানুষকে এদিন নাকের জলে চোখের জলে করে ধর্মতলা থেকে প্রিন্সপ ঘাট পর্যন্ত চলাচল বন্ধ করে মোদীর সুচারু চলাচলের অত্যন্ত সুন্দর ব্যবস্থা করল কলকাতা পুলিশ, কিন্তু সার্কাসে  সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও এই সংবিধানের  আদর্শ রক্ষায় রাতভর প্রতিবাদে সামিল ছাত্রদের সভায় একটা প্লাস্টিকের ছাউনি র অনুমোদন দিল না তারা। এরই মধ্যে বাম বুদ্ধিজীবীদের ডাকে একটা মিছিল ছিল , সেটা হলো কলেজ স্কোয়ার থেকে , কিন্তু নরেন্দ্র মোদিকে এয়ারপোর্টে অবরুদ্ধ করে রাখার ডাকে কাউকেই খুঁজে পাওয়া গেলো না।এই হলো বাম, ডান, দিদি ও দাদাকে নিয়ে দিনভর রাজনীতির নৌটঙ্কি ,, যার শিকার হলো শহরের পথচলতি হাজার হাজার মানুষ।

এদিন মোদীর নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বহু রুটের যান চলাচলে পরিবর্তন করা হয়।তার জন্য আগাম জনসাধারণকে জানানোর কোনো ব্যবস্থা থাকলে আজ যেভাবে পথ চলতি মানুষ নাকাল হল, সেটা আর হ'তে হতো না। খোদ ধর্মতলা থেকে বাবুঘাট কিংবা ধর্মতলা থেকে শিয়ালদা পর্যন্ত যাওয়ার রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়।গঙ্গা পারাপারের ঘাট গুলো পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়, এমনকি মিলেনিয়াম পার্কের মতো ঘুরে বেড়ানোর জায়গাও রাখা  ছিল বন্ধ। যাতায়াতের ক্ষেত্রে ভরসা ছিল একমাত্র মেট্রো।

এদিন দিন নরেন্দ্র মোদির কলকাতা সফর নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান শহরের সংখ্যালঘু মহলে এবং রাজ্যের সংখ্যালঘু শ্রেণির মধ্যে হতাশা ছড়িয়েছে। ফেসবুকে সেই হতাশা নানারকম কটুক্তি বর্ষণের মধ্যে দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে। এসব দেখে মনে হচ্ছে, মোদির কাছে মোদির মতন আর রাজ্যের রাজনীতিতে মোদী বিরোধিতা করবার যে অবস্থান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিয়েছেন সেটা মানুষ ভালো মনে নিচ্ছে না। এদিন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিবাদ সমাবেশের চারপাশে থাকা পথ চলতি সাধারণ মানুষজন যে ভাষা এবং যেভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে স্বাগতম জানানোয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সক্রিয়তা নিয়ে ব্যঙ্গ করেছেন, তাতে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে, বাংলার মানুষ চাইছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিংহীর মতন রুখে দাঁড়ান। কিন্তু একই সঙ্গে একই মঞ্চে সরকারি প্রোগ্রাম হলেও মোদি- মমতা কে  একসাথে দেখতে মানুষ পছন্দ করছেন না। তাই মমতা যত মোদির কাছাকাছি যাবেন, ততই তার মধ্যে সিংহির রূপ হারিয়ে অনেকটা সংঘীর মতো বলে সাধারণ মানুষের কাছে মনে হচ্ছে। আগামী ভোটের দিকে তাকিয়ে সেটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে যথেষ্ট আশঙ্কাজনক।

 

 

 

 

 নরেন্দ্র মোদির কলকাতা সফর খুব একটি অসাধারণ চাল। একইসঙ্গে নরেন্দ্র মোদী বুঝিয়ে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কতটা নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে চান, মুখে  যতই বাজার গরম করা রাজনৈতিক স্লোগান থাকুক, আসলে যে মোদির বিরুদ্ধে মমতার নন, বরং অনেক বেশি শ্রদ্ধাবনত ও রাজনৈতিক দিক থেকে সরাসরি সংঘর্ষ- বিরোধী সেটা মোদি প্রমাণ করে দিলেন মমতার নিজের ডেরায় ঢুকে। একইসঙ্গে রামকৃষ্ণ মিশনে গিয়ে সেখানে এক রাত থেকে বিবেকানন্দের জন্মদিনে গঙ্গার পাড়ে বসে ধ্যান করে নরেন্দ্র মোদি  বাংলার হিন্দুদের কাছে নিজের ইমেজ ভোটের আগে শানিয়ে দিয়ে গেলেন। ইউ এক চতুর রাজনৈতিক নৌটঙ্কি। এদিনের কলকাতা সফরে নরেন্দ্র মোদি এই খেলায় মমতাকে টপকে গেলেন।

আগামী ভোটে যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে  নিজের ঘর অক্ষত রাখতে হয় তাহলে সরাসরি বিজেপি বিরোধিতা করা ছাড়াও নরেন্দ্র মোদির বিরোধিতা করা ও খুব জরুরি। আজকে পথ চলতি সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে  এই কথাই মনে হয়েছে,  প্রত্যেককেই নোট বাতিল থেকে এনআরসি, ক্যা, হিন্দুত্ব ইত্যাদি নিয়ে মোদির উপরে সরাসরি বিরক্ত। কিন্তু মমতার এই যে মোদির বিরুদ্ধে নীরবতা ও কিঞ্চিৎ হলেও খাতির করা এটা মানুষ নিতে পারছে না। আগামী ভোটের দিকে তাকিয়ে এবার সরাসরি  মোদী - বিরোধিতাকে আরো চড়া সুরে তুলতে হবে, নইলে জনমানসে ব্যাকফুটে চলে যাচ্ছেন  মমতা নিজেই।

 

 

Share on Facebook
Share on Twitter
Please reload

জনপ্রিয় পোস্ট

I'm busy working on my blog posts. Watch this space!

Please reload

সাম্প্রতিক পোস্ট
Please reload

A N  O N L I N E  M A G A Z I N E 

Copyright © 2016-2019 Bodh. All rights reserved.

For reprint rights contact: bodhmag@gmail.com

Designed, Developed & Maintained by: Debayan Mukherjee

Contact: +91 98046 04998  |  Mail: questforcreation@gmail.com