শিবরাম কথা : নজরুলের সঙ্গে জেলে কাটাবার পর আর রোগা হওয়া হল না

10.03.2020

 

 

 

 

শিবরাম তখন যুগান্তর পত্রিকার সম্পাদক।

ইংরেজ সরকারের বিরুদ্ধে লেখা ছাপিয়ে জেলে গিয়েছেন। প্রেসিডেন্সি জেলের* অখাদ্য লপসি দুইবেলা খেতে খেতে মন মেজাজ খুবই খারাপ। 

 

এমন সময় *বহরমপুর জেলে বদলি হওয়ার নির্দেশ এল।

 

শিবরাম শুনেছিলেন, বহরমপুর জেল হল পাগলাগারদ। 

 

তাই জেলরকে বললেন,“স্যার *আমি কি পুরো পাগল হয়েছি?”

 

“আহা ওখানে আর পাগল থাকে না। বিশেষ রাজবন্দিরাই থাকেন। *কাজী নজরুল ইসলামও এখন ওই জেলেই রয়েছেন।”

 

জেলরের ওই কথা শুনে শিবরাম আনন্দে ডগমগ।

"বলেন কী! তা হলে কাজীর দেখা পাব!'

 

ওই সময় *বিপ্লবীদের কাছে মস্ত এক আনন্দের বিষয়  ছিল জেলে কাজী নজরুলের সঙ্গ পাওয়া। তার কারণটা ঠিক কী, জানতেন না শিবরাম। বুঝেছিলেন সেই জেলে যাওয়ার পর*।

 

ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই কাজীর অভ্যর্থনা, “লে হালুয়া! দে গরুর গা ধুইয়ে।”

 

সে'ও এক গল্প! শুনিয়েছেন চক্কোত্তিমশাই নিজেই

 

প্রথম আপ্যায়নেই শিবরামের দিলখুশ। আর তার পরদিনই বুঝে গেলেন এই *গোটা জেলখানাতেই কাজীর রাজত্ব। সারাক্ষণ হই-হুল্লোড়, গানকবিতা আড্ডায় সবাইকে মাতিয়ে রাখেন কাজী*।

শিবরাম বরাবরই কুঁড়ে প্রকৃতির। খাই আর শুই। এই মস্ত হলঘরে বন্দিদের জন্য সার সার লোহার খাট। খাওয়া দাওয়ার পর নিজের জন্য নিদিষ্ট খাটে শিবরাম হয়তো একটু শোবার ব্যবস্থা করছেন, অমনই কাজী এসে হাজির - “আরে ধুর ভায়া! এখন শোবে কী! চলো চলো গানবাজনা হবে।” বলে টেনে নিয়ে কাজী গান করতেন। 

 

কখনও “কারার ওই লৌহকপাট", কখনও আবার প্রেমের গজল। বন্দি শ্রোতারা মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনতেন।

 

শুধু নিজের গান কবিতা নয়, একের পর এক রবীন্দ্রসঙ্গীতও গেয়ে চলতেন নজরুল। 

 

বলা ভাল, নিজের গানের থেকে রবি ঠাকুরের গানই বেশি গাইতেন নজরুল। এমন কী তার প্যারোডিও।

 

(যেমন, তোমারই গেহে পালিছ স্নেহে'র প্যারডি "তোমারই জেলে পালিছ ঠেলে, তুমি ধন্য ধন্য হে”)

 

কিন্তু শুধু গান আর কবিতা শুনে নয়, কাজীর প্রতি গদগদ হওয়ার যে মস্ত কারণ ছিল তা হল, জেলখানায় রাজবন্দিদের জন্য খানাদানা নিজে হাতে রান্না করতেন নজরুল। অল্প বয়েসে কোথায় যেন বাবুর্চির কাজ করেছিলেন বেশ কিছুকাল।* সেখান

থেকেই মোগলাই খানা বানানো শিখেছিলেন আর *বিরিয়ানি , পোলাও, কোর্মা, নানা রকম কাবাব, কাটলেট, মাংসের চপ - সে এক এলাহি ব্যাপার। কী অপূর্ব সে সবের স্বাদ।

শিবরামের নিজের ভাষায়, “মনে পড়লে এখনও জিভে জল সরে। নিজেকে "সজিভ" বোধ করি। আর জেলখানার সেই খানা! আহা! আমি তো বহরমপুর জেলে যাওয়ার আগে পর্যন্ত টিংটিংয়ে রোগা  ছিলাম। তারপর দুইবেলা কাজীর খানা খেয়ে

এমন মোগলাই চেহারা নিয়ে বেরলাম যে আর রোগা হলাম না। জেলখানায় আর জেলের খানায় গড়া এই চেহারা এতটুকু টসকায়নি।”

Share on Facebook
Share on Twitter
Please reload

জনপ্রিয় পোস্ট

I'm busy working on my blog posts. Watch this space!

Please reload

সাম্প্রতিক পোস্ট
Please reload

A N  O N L I N E  M A G A Z I N E 

Copyright © 2016-2019 Bodh. All rights reserved.

For reprint rights contact: bodhmag@gmail.com

Designed, Developed & Maintained by: Debayan Mukherjee

Contact: +91 98046 04998  |  Mail: questforcreation@gmail.com