গ্রাম বাংলায় করোনা /১ করোনা গ্রামবাংলায় কেমন থাবা বসিয়েছে?দৈনন্দিন পত্রিকার বাইরে বোধ পত্রিকায় গ্রামের মানুষের মুখ থেকে শুনুন। গ্রামের কবি- লেখক বিমল মন্ডল এর কলমে সুদূর মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম কাঁথি অঞ্চলের বৃত্তান্ত

 

"যখন  মৃতেরা দূরে চলে  যায় কুয়াশায় হাওয়ার ভিতরে

অস্পষ্ট মুখের চিহ্ন একদিন- দুই দিন- খেলা করে চুপে

তারপর নিভে যায়, একদিন- দুই দিন- আঙিনার ধূপে " (জীবনানন্দ দাশ)

 

 

সারাবিশ্বে যখন নোভেল কোভিড-১৯  মারণ ব্যাধি  সংক্রমণ হচ্ছে লক্ষাধিক মানুষ।   , মারা যাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ   । এই মারণ ব্যাধির হাত থেকে বাঁচার জন্য সারা পৃথিবী জুড়ে লকডাউন ঘোষিত হয়েছে। ভারতও  তার ব্যাতিক্রম নয়। ভারতের সমস্ত রাজ্যগুলি  এই লকডাউনের আওতায় পড়ে যাওয়ার  ফলে মধ্যবৃত্ত সম্প্রদায়ের মানুষজন এবং  গরীব এবং দারিদ্র্য পরিবারের মানুষের পক্ষে সবচেয়ে বেশি অসুবিধা দেখা যায়। প্রতিটি রাজ্যের মতো  আমাদের রাজ্যের সমস্ত জেলাগুলোর এক করুন ছবি ধরা পড়ে। বিশেষকরে প্রতিটি জেলার গ্রামগুলোতে। গ্যেরাম বাংলায় তাঁদেরকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। না পারছে কাজে যেতে, না পারছে বাইরে যেতে, না পারছে পেট চালাতে। এই ভয়ংকর পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে বর্তমান গ্রাম বাংলার সাধারণ মানুষ করোনা থেকে নিস্কৃতি পেতে চায়। 

 

 

তেমনই পশ্চিমবাংলার জেলাগুলোর মধ্যে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা অন্যতম। এই জেলার বেশির ভাগ গ্রামের সাধারণ মানুষ  গরীব ও মধ্যবিত্ত সম্প্রদায়ের। এই জেলাতে তপশিলি ও তপশিলি উপজাতি বেশি বসবাস করে। ফলে  লকডাউনের জন্য এদের ছবি পাল্টে যায়। মানুষ একেবারে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। 

    কি করবে, কি না করবে কিছুই ভেবে পাচ্ছে না। এদিকে গৃহবন্দী অন্যদিকে বউ বাচ্চা খাবে কি তার চিন্তা। 

করোনার আতঙ্ক যেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার প্রতিটি গ্রামে গ্রামে  ছড়িয়ে পড়েছে। তবুও গ্রাম বাংলার  কিছু মানুষ বিশৃঙ্খল ভাবে ভয় কে দূরে রেখে  রাজ্যসরকার কিংবা কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশ কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে লকডাউন অমান্য করে বিন্দাস ঘোরাঘুরি করছে। পূজা পার্বণে যাচ্ছে।   তাতে করে মানুষের বিপদ আরও বাড়ছে। 

গ্রাম- বাংলা ও করোনা যেন  পরস্পর পরস্পরকে সংক্রমণ করছে। সচেতনতা ও দূরত্ব বজায় কোনটাই মানুষ না করে সরকাররের সমস্ত পরিকল্পনাকে থডাই কেয়ার  দেখাচ্ছে। 

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ২৫টি পঞ্চায়েত সমিতির অন্তর্ভুক্ত বেশ কয়েকটি গ্রামে এই রকম নজির পাওয়া যায়। যেমন- মুগবেড়িয়া, খেজুরী, মারশদা, নন্দীগ্রাম, ইত্যাদি। প্রশাসন কোনো কোনো জায়গায় কঠিন হাতে পদক্ষেপ নিলেও আবার কোনো কোনো জায়গায় প্রশাসনের দুর্বল দিকও ধরা পড়ে। 

 

 

রেশন দোকানের সামনে লম্বা লাইন 

 

রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয়সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী ১লা এপ্রিল থেকে৩০ শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুরো দেশ ও রাজ্যজুড়ে বিনামূল্যে দেওয়া শুরু হলো রেশন সামগ্রিক। তার মধ্যে পশ্চিমবাংলা অন্যতম। এই রাজ্যের  প্রতিটি জেলায় জেলায়   সর্বত্রই   বিনামূল্যে  রেশন  দেওয়া শুরু হতেই সর্বত্রই দেখা গেল  রেশন দোকানের সামনে লম্বা লাইন  । তার মধ্যে পূর্বমেদিনীপুর জেলাও    বাদ গেল না। এই জেলার  বিভিন্ন গ্রামে  গ্রামে এই একই ছবি ফুটে উঠেছে। প্রতিটি রেশন দোকানের সামনে কোথায় লম্বা লাইন। যেখানে করোনার আতঙ্কে সারা দেশ জুড়ে লকডাউন চলছে, সেখানে সবাইকে ঘরে থাকার আর্জি জানানো হয়েছে। তার উপর এই জমায়েত কিছতেই এই করোনা থেকে রেহাই পাবে না। কিন্তু এখানে প্রশ্ন থাকে যে এই জেলায় প্রশাসনের তৎপরতা এতো কম কেন? 

তবুও কোনো কোনো রেশন দোকানের সামনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে   রেশন নিচ্ছে। আবার কোথাও সিভিক দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে।আবার কোথাও বিন্দুমাত্র   সচেতনতা লক্ষ করা গেলনা। 

এই  ভীড়  বলে দেয়  ভয়। এই ভয় থেকে করোনা  সংক্রমণের আশা। আর যার জন্য লকডাউন। তার থেকে বিনামূল্যে খাদ্য ঘোষণা। তাই অনেক দাবি তুলেছেন যে  এই ভীড় এড়াতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে এই খাদ্য সামগ্রিক তুলে দিলে তাতে এই আতঙ্ক থেকে কিছুটা নিস্কৃতি পাওয়া যাবে। 

এই জেলার গ্রামগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায় যে চারদিক  শুনশান। সাধারণ মানুষের আয়ের পথ বন্ধ লকডাউনের ফলে। সেই চিন্তার কারণে তাদের রাতের ঘুম চলে গেছে। ফলে বহু মানুষ  জেলা জুড়ে খাদ্য সংকটের সম্মুখীন হচ্ছেন দিনদিন। সেই অভাব মেটাতেই  ১লা এপ্রিল থেকে  বিনামূল্যে সারা জেলা জুড়ে চাল ও আটা  দেওয়া শুরু করেন খাদ্য দপ্তর। সেই  সামগ্রী সংগ্রহ করতেই  রেশন দোকানগুলিতে করোনার আতঙ্ক দূরে ঠেলে উপচে পড়ে ভীড়। আর সেই ভীড় থেকে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করেছেন অনেকে। 

 

রাজ্যসরকার ঘোষণা করেছিলেন যে রাজ্যসরকারের কার্ড অর্থাৎ অন্তদয়-১, অন্তদয় -২ যাদের আছে এবং যাদের নেই তারা উভয়ই  ২ কেজি চাল ৩ কেজি গম  বিনামূল্যে পাবে। 

কিন্তু কোনো কোনো অঞ্চল প্রধান মাইক দিয়ে ঘোষণা করেছেন যে যাদের রাজ্য সরকারের এই দুই ধরনের কার্ড আছে তাদেরকে বিনামূল্যের খাদ্য সামগ্রি দেওয়া হবে। এই নিয়ে বেশিরভাগ সাধারণ মানুষ সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এর ফলে কিছু কিছু গ্রামে বিক্ষোভ তৈরি হয়েছে। যদিও কোনো বিডিও  রেশন দোকানে এসে নাম নিয়ে গেছেন তবে কবে পাবে এই সুবিধা। তা লকডাউন চলাকালীন নিশ্চিত নই।  তাই বহু মানুষ একবেলা খেয়ে দিন কাটাচ্ছে। 

এই করোনা আতঙ্ক যেন সাধারণ মানুষকে গ্রাস করছে। তাই  এই করোনা থেকে,  এই গ্রাম বাংলাকে বাঁচানোর জন্য সাধারণ মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সিভিক পুলিশ দিয়ে কিংবা প্রশাসক দিয়ে  বিনামূল্যে খাদ্য সামগ্রি তুলে দিয়ে এলো মনে হয় সব দিক থেকে এই ঝুঁকি কমে যাবে। তাতে বাঁচবে সাধারণ মানুষ। বাঁচবে দেশ। বাঁচবে রাজ্য। 

 

 

 

 

                                                                                                                                                   

 

 

                   

 

 

Share on Facebook
Share on Twitter
Please reload

জনপ্রিয় পোস্ট

I'm busy working on my blog posts. Watch this space!

Please reload

সাম্প্রতিক পোস্ট
Please reload

A N  O N L I N E  M A G A Z I N E 

Copyright © 2016-2019 Bodh. All rights reserved.

For reprint rights contact: bodhmag@gmail.com

Designed, Developed & Maintained by: Debayan Mukherjee

Contact: +91 98046 04998  |  Mail: questforcreation@gmail.com