গ্রামবাংলা ও করোনা -৩/ ব্যাঙ্ক পরিষেবা

 

 

লকডাউন চলছে কিন্তু বাঁচতে তো হবে। তাই জেলা জুড়ে গ্রামের ব্যাঙ্ক পরিষেবা খোলা হলেও সরকারি নির্দেশিকা কে শিকেয় তুলে অগাধ জমায়েত। যার ফলে গ্রাম বাংলার শিক্ষিত, অশিক্ষিত মানুষের মধ্যে করোনা সংক্রমণের তীব্র আশঙ্কা। 

 

পূর্ব মেদিনীপুর জেলা জুড়ে প্রায় একই ছবি ধরা পড়েছে। কোথাও রাস্তা পর্যন্ত চলে এসেছে ব্যাঙ্ক গ্রাহকদের লাইন । তাতে দূরত্ব বিধি নেই। আবার কোথাও সিভিক পুলিশ দিয়ে সরানো হচ্ছে এই লাইন। এই ভাবে হায়রানি যেমন গ্রামের মানুষদের হচ্ছে, তেমনি করোনা আক্রমণের  ভয় ও আতঙ্ক গ্রাস করছে। 

 

মাস পয়লা   বেতন, পেনশন তোলার ভিড়,   মহিলাদের জনধন প্রকল্পের প্রথম কিস্তির টাকা তোলা। এ সব মিলিয়ে বিশাল লম্বা লাইন। অনেক ক্ষেত্রেই তাই লঙ্ঘিত হলো একে- অপরের সঙ্গে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার সচেতনতা। যা করোনাভাইরাস সংক্রমণ রুখতে যেটা সবচেয়ে ছিল জরুরি। 

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুক, কাঁথি, খেজুরী, মহিষাদল, হলদিয়া, নন্দীগ্রাম, প্রভৃতি থানার বিভিন্ন প্রান্তের গ্রামগুলোতে চড়ারোদ মাথায় নিয়ে সচেতনতা না রেখে বয়স্ক থেকে শুরু করে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ এই  একই ভুল করে যাচ্ছেন। ফলে গ্রাম বাংলার মানুষের মধ্যে ভয়ের আতঙ্ক বাড়ছে। 

 

জেলা প্রশাসনের পক্ষথেকে গ্রাহকদের নিরাপদ  দূরত্ব বজায় রাখার জন্য   সিভিক পুলিশ দিয়ে কোনো কোনো গ্রামীণ ব্যাংকের সামনে এই দায়িত্ব পালন করছেন। 

একদিকে লকডাউন অন্যদিকে করোনা আতঙ্ক। গ্রামবাংলার মানুষের মধ্যে  ভয় বাড়ছে। পরবর্তী সময়ে কি হবে এই নিয়ে মাথায় হাত। 

তাই মানুষের একদিকে খাদ্য সমস্যা অন্যদিকে মারণ ব্যাধি সংক্রমণ। চারদিক শুনশান পরিবেশে গ্রাম বাংলা যেন করোনার আতঙ্কে আতঙ্কিত। 

 

২১ দিন ধরে সারাদেশ জুড়ে লকডাউন। এর ফলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষ কাজ হারিয়ে ঘর বন্দী হয়ে আছ। অপরদিকে করোনার মতো মারণ ব্যাধির ভয়। সবই মিলে গ্রামবাংলার সাধারণ মানুষের জীবন নাজেহাল হয়ে যাচ্ছে। তার উপর রাস্তাঘাট মোটামুটি শুনশান থাকলেও হাটে - বাজারে সচেতনতা তো দূরে থাক ভীড় এবং ঠেসাঠেসি করে বাজার করছে ফলে করোনা সংক্রমণের আশা থেকে যায়। তেমনি চোখে পড়লো পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বেশ কয়েকটি গ্রামের বাজারগুলোতে। 

 

          এখন হাট কিংবা বাজারে   তেমন সব্জি কিংবা ফল ঠিকভাবে পাওয়া যাচ্ছে না। যদিও একটু আধটু পাওয়া যায় তাতে বাজারগুলোতে চড়া দামে কিনে আনতে হয়। বাজারে ক্রেতা কিংবা বিক্রেতাদের মধ্যে কেউ সচেতন নয়। সামান্য দূরত্ব  বজায় রাখা তো দূরের কথা, দু'পক্ষই কেউই মাক্স পরে না। ফলে সাধারণ মানুষের একটা ভয় বা আতঙ্ক কাজ করে। 

 

একদিকে খাদ্যাভাব অন্যদিকে ভয়। কি করবে মানুষ? হাটে - বাজারে অনেকেই আবার যাচ্ছে না অর্থের জন্য। আবার অনেকে বাজারে গিয়ে আড্ডা মারছে। সেখানে প্রশাসনের তেমন তৎপরতাও তেমন দেখা যায় না। কেউ কেউ বেশি  করে কিনে নিয়ে যাচ্ছে। আবার কেউ কেউ পাচ্ছে না। এযেন  দৈনিক প্রতিলিপি হয়ে উঠেছে  বর্তমান এই সমস্যাকে কেন্দ্র করে। 

 

আবার ভুষিমাল দোকানে দেখা যায় লম্বা লাইন। সেখানেও চড়া দাম। দৈনন্দিন জীবনে যা যা প্রয়োজন মানুষের তা কিন্তু কিনতে হয় দোকান থেকে। যতটা সাধ্যের মধ্যে থাকে ততটা কিনতে হয়। তাতে যদি চড়া দাম কিংবা অভাব দেখা যায়, তাতে তো সাধারন মানুষের নানান সমস্যা দেখা যায়। 

                                     

 

 

Share on Facebook
Share on Twitter
Please reload

জনপ্রিয় পোস্ট

I'm busy working on my blog posts. Watch this space!

Please reload

সাম্প্রতিক পোস্ট
Please reload

A N  O N L I N E  M A G A Z I N E 

Copyright © 2016-2019 Bodh. All rights reserved.

For reprint rights contact: bodhmag@gmail.com

Designed, Developed & Maintained by: Debayan Mukherjee

Contact: +91 98046 04998  |  Mail: questforcreation@gmail.com