সীমান্তের ওরা | কেমন আছে সীমান্তের মানুষরা ? বোধ পত্রিকা | মঞ্জীরা সাহা

    

 

 

 

জায়গাটা একটু অন্যরকম। আশপাশে তাকালে কোনো শপিং মল চোখে পড়ে না। মাল্টিপ্লেক্স চোখে পড়েনা। বড় বড় ফ্লেক্স ভিনাইলে লোম তোলা সুন্দরী মেয়েদের বিজ্ঞাপনের ছবি দেখতে পাওয়া যায় না। বেশ ঘন আম বাগান কাঁঠাল বাগান ফনি মনসার ঝোপ ঢোল কলমি জিকা গাছের জঙ্গল । মুখ গুলোও যেন একটু আলাদা। মাথায় তেল দেওয়া ঘন চুল। নিজের ছাঁচে দুখানা ভ্রু।  নাইটির উপর গামছা প্যাঁচানো। লুঙ্গি বা সস্তা দামের ফাটা জিন্স ফুট থেকে কেনা।  নাপিতের দোকান গুলিই রঙ চঙ করে নিয়েছে। লোকনাথ মা কালির ছবির ক্যালেন্ডারের নীচে ব্লিচ ফেসিয়াল চুলে কপার ব্রাউন কালার করার রঙীন রঙীন শিশি। এনামেল কালারে তুলি দিয়ে লেখা ‘বিউটি পার্লার’। এই সেলুন মিষ্টির দোকান মুদি দোকান সাইকেল সারানোর দোকান গুলি ছাড়িয়ে সামান্য একটু হাঁটতে হবে ডান দিকে। বেশি না। এই দু চার মিনিট। একেবারে অন্যকিছু চোখে পড়বে। লম্বা লম্বা মানুষ। চেহারা গুলো কেমন শক্তপোক্ত পেটানো। একটু আগের দেখা মানুষ গুলোর তুলনায় চেহারা গুলো আলাদা। গায়ে জংলা ছাপার ইউনিফর্ম। ভারি ভারি বুট। বড় বড় সার্চলাইট। চেকিং খুপড়ি। মিহি প্লেন পিচের রাস্তা। লোহার খুঁটি। নানাভাবে ঘন ঘন জড়ানো প্যাঁচানো কাঁটাতার চলে গেছে পিছনে সামনে অনেক দূর । কাঁটাতারের শেষ দেখা যায়না সে। থমথম করছে জায়গাটা। দেশের বর্ডার। ওপাশে দেখা যাচ্ছে আবার সেই সবুজ। আম গাছ ধান ক্ষেত কাঁঠাল বাগান জংলা গাছের জঙ্গল। মাঝে মাঝে দূরে দূরে গেট। লোহার গেটের জঙের ভেতর থেকে দেখা যাচ্ছে লেখা ‘সেলিব্রেশন অফ ফিফ্‌টি ইয়ারস্‌ অফ ইন্ডিপেন্ডেন্স’। 

  জায়গাটা নদীয়ার এক সীমান্ত এলাকার। গেদে সীমান্তের কাছেই। শিয়ালদা থেকে রেলপথে একশ দশ কিলোমিটার দূরে।  এলাকার আম যেমন বিখ্যাত তেমনি খেজুর গুড়। তারচেয়েও যে নামে জায়গাটা বিখ্যাত সেটা হল  ‘বর্ডার এলাকা’। 

দেশভাগ, দেশ ছেড়ে আসা যেমন আমাদের মতো শহরের মানুষের কাছে একটা স্মৃতি, ইতিহাস, ওই ওখানকার মানুষের কাছে সেটা প্রতিদিনের জীবনসঙ্গী। উঁচু নিচু নানা পদের সীমান্ত রক্ষী ধর পাকড় বন্দুক গুলি লাশ সীমানা পারাপার এসব ওদের রোজকার চেনা। সেই তিয়াত্তর বছর আগের এদেশ ওদেশের বিদেশের অনেক অনেক পাকা মাথার মিটিঙের ফলে সেই যে দেশটা ভাগ হয়ে গেল সেই যে রেডক্লিফ কাগজে কলমে দেশভাগের সীমারেখা এঁকে দিল সে ঘটনা আর ওই মানুষ গুলোকে ছাড়তে পারলোনা। যারা পারলোনা ওই বর্ডার এলাকা ছেড়ে কোনো শহরে চলে যেতে। 

এ জায়গায় একসময়ে  যাত্রা পালা ছিল পালা গান ছিল পুতুল নাচ ছিল । হ্যারিকেনের আলোয়  মাঠে তাবু টাঙিয়ে সিনেমা শো চৌকি জোড়া লাগিয়ে রবীন্দ্র জয়ন্তী ছিল। দূর দূর থেকে ছেলে মেয়েদের এ এলাকার স্কুলে পড়তে আসা ছিল। আস্তে আস্তে মানুষ চলে গেছে এ জায়গা ছেড়ে। ‘বর্ডার এলাকা খুব খারাপ’ ‘খুব ভয় ওখানে’ প্রচার হতে হতে শুধু রয়ে গেছে বেশিরভাগ মাধ্যমিকের পর ‘পড়াশোনায় খারাপ ছেলেমেয়ে’। হোল নাইট প্রোগ্রাম তাসের আসর নেশা মোবাইল ফোনে সিনেমা আর বর্ডারে পাচারের খবর, লাশ গুলি এরেস্ট পুলিশ থানা রয়ে গেছে। 

বর্ডারে পাচার করতে যাওয়া ছেলেটার রুলের বাড়ি খাওয়া শরীরটা রয়ে গেছে বুড়ো হয়ে। কোনোকালে পেটে চাল বেঁধে ওপারে পাচার করতে যাওয়া মেয়েটা এখন দিদিমা। ঘরের টিনের চালের ফুটোর নীচে রয়ে গেছে সে। ঘরের মানুষ গুলোর ভেতর চিন্তা আছে। অভাবের চিন্তা। নেশা করে বাড়ির মানুষটা কোথায় পড়ে রইল সে চিন্তা। বিয়ে করে যে নিয়ে এসে তুলল আদৌ কোনোদিন সে আর ফিরবে কিনা সে চিন্তা । বুকের শ্বাসকষ্টটা এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গেলেই কমবে তো! কোথায় কিসব ঝামেলা বেধেছে সন্ধের পর! আর কোথাও আড্ডা দিতে দিচ্ছে না। পাড়ার শীতলা ঠাকুর বিসর্জনের প্রসেশনে জোর ঝামেলা হয়ে গেছে বি এস এফের সাথে। পাড়ার ছেলে গুলো ভয়ে কেমন শিটিয়ে আছে। সেদিন বর্ডার রোড দিয়ে সাইকেল করে যেতে নিয়ে আটকে দিয়েছিল। বিকেল বেলাতেও আর উঠতে দিচ্ছেনা ওই রোডে। বর্ডার লাগোয়া ওই ক্যাম্প পাড়া দাশ পাড়া ঘোষ পাড়ার বাচ্চা গুলো ওখানে বিকেল বেলা হাওয়া খেতে যায় । বর্ডারেরর পাশের ধঞ্চের মাঠে ক্রিকেট ফুটবল খেলা হয়। শরৎ কালে ওই কাঁটাতারের পাশ দিয়ে সাদা সাদা কাশ ভরে থাকে। সেই কাশফুল তুলে এনে ছেলে মেয়েরা খেলা করে । আম চুরি করে কাঁটাতার ঘেঁষা বাগান  থেকে। সেদিন সন্ধে বেলা কাকে যেন ধরেছে ওই  বর্ডার রোড থেকে। ওই পারে যাচ্ছিল তারকাঁটা কেটে। জোর পেটান পিটিয়েছে। ওই তার কাঁটার পাশেই ওই যে ধান গোলাটা আছে না ওই ধান গোলার পিছনে যে কাঁচা বাড়িটা, ওদের শণিপুজোর  সিন্নি সবে দিতে শুরু করেছিল। ছেলেগুলো ওই বর্ডার রোডের ধারে বসে  প্রসাদ খেতে খেতে আড্ডা দিচ্ছিল। ব্যাস! অমনি পিঠে ক’টা পড়েছে। সকাল বেলা ২৭ নং গেট খোলে । ওই জিরো পয়েন্টের পাড়াটা থেকে  এপাশে বাজারে আসে। ছেলে মেয়েরা প্রাইভেট পড়তে আসে। ইস্কুলে আসে। ব্যাগ সার্চ হয়। বডি সার্চ হয়। দুপুরে আবার একবার গেট খোলে। ওই তখন এপার থেকে ওপারের মাঠে চাষ করতে যাওয়া বাবা দাদা কাকাকে ক্যানে  ভাত দিয়ে আসে। সন্ধের আগেই গেট বন্ধ। তার মধ্যেই গেট পেরিয়ে ওপারে ওই পাড়ায় ঢুকে যেতে হয়। গোলমাল বাঁধলে নিয়ম গুলো সব কড়াকড়ি হতে থাকে। নিয়ম বদলে গিয়ে আটকে যায় মাঝে মাঝে। রোগ ব্যাধী মৃত্যু সন্তান প্রসব ওই পাহারাদারের বানানো নিয়মগুলো জানে না। তাই অকালে চাড়া দিয়ে ওঠে প্রসব যন্ত্রনা, শেষ হাঁপের টান । অনুমতি করাতে সাধ্য সাধনা। স্বাস্থ্যকেন্দ্র তো এই পারে। ঘাড়ে করে কোলে চাপিয়ে সাইকেলে চাপিয়ে আনার হুলুস্থুলু পড়ে যায়। ওই মুখগুলোর আবার মাঝে মাঝেই সিনেমার হিরো সাজতে ইচ্ছে করে। দেবের মতো চুলের ছাঁট দিতে ইচ্ছে করে। ওরকম ফাটা জিন্স পরতে ইচ্ছে করে। সাইকেলের কেরিয়ারে লাভারকে বসিয়ে নিয়ে সুইজারল্যান্ড মালেশিয়ার পাহাড় লেক বরফে না হোক ওই বর্ডারের ধারের জঙ্গলের অলিগলি ঝোপঝাড়ে ঢুকে পড়তে ইচ্ছে করে। ইচ্ছে করে সাঁ সাঁ করে সাইকেল চালিয়ে ওই প্লেন পিচের বর্ডার রোড পাস করে যেতে। সিনেমার হিরোইনের মতো চুল বাঁধতে ইচ্ছে করে। আগা ফাটা চুল গুলিকেই উলটে পালটে ছেড়ে রাখতে ইচ্ছে করে।  

ওটা বর্ডার এলাকা। ওই এলাকায় ফেন্সিং এর তার গুলো আরো বেশি বেশি করে প্যাঁচানো হয়। খুঁটি গুলো বদল হয়। সার্চলাইটের পাওয়ার বেড়ে যায়। সিনেমার মতো হিরো সকালে মাটি কাটার কাজে নামে। ওর জিন্সের প্যান্টের তলায় পুকুরের কাদা ভরে যায়। আর ওই যে খোলা চুলের মেয়েগুলো মায়ের সাথে তিন বাড়ির বাসন মাজার কাজ ধরে। ওর কচি বয়সের নরম হাতের পাতায় কড়া পরে। ওদের তামাটে রুক্ষ চুল গুলি হাওয়ায় উড়তে থাকে।

কাজের কোনো বদল হয়না পূর্বপুরুষ থেকে উত্তরপুরুষ। সবজি ক্ষেতে মজুরের কাজটা বদলায়না। দেওয়াল রঙ ভ্যান টানা মাটি কাটার কাজ। লুঙ্গির বদলে জিন্স । চুলের কাটিঙের বদল। আর কিছু পাল্টায়না।  এলাকায় নতুন তেমন কিছু হয়না। নতুন অফিস কারখানা জুটমিল কিচ্ছু না। মাটি কাটার কাজ বিলের মাছ বেচা আমের সিজনে আমের কাজ এর চেয়ে সামান্য আর একটু টাকা! সারা বছরের একটা ইনকাম। সেই আশায় রওনা হয়। 

সীমান্তের আশপাশের ওই পাড়ার ইয়ং ছেলেরা এলাকা ছাড়ে। না শহরের সাজানো গোছানো ফ্ল্যাটে নয়। আরব কাতার দুবাই কেরালা অন্ধ্র প্রদেশ দিল্লী নয়ডায় ঘেঁষাঘেঁষি করে দম বন্ধ করা কাজের জায়গায়। চটকলে ধান মাঠে দেওয়াল রঙে সেন্টারিং এ। তারমধ্যে আবার আরেক ভয় এসে জুটল। খুব ভয়। এ আবার কিসের ভয়! এ ভয় তো জানা ছিল না । মৃত্যু ভয়টা বদলে গেল। অভাব, ধরপাকড়, মারামারি,  পাড়ায় পাড়ায় গোলমাল, যুবতী মেয়ে রাস্তায় বেরোনোর ভয়, ওপারে কোন ছেলের সাথে পালিয়ে যাওয়ার ভয় সব ভয় ছাপিয়ে উঠে অন্য আরেক ভয় কোথা থেকে এসে মাথা চারা দিয়ে উঠল। করোনার ভয়। করোনা রোগে মরার ভয়। পৃথিবীর নামজাদা সব দেশে হতে হতে কবে থেকে যেন এই কোন কোণে পড়ে থাকা সীমান্তের ধারের এ জায়গায় এসে চেপে বসল। কোলকাতা শহরের মতো এ জায়গায় স্ট্রিট লাইট মাল্টিপ্লেক্স শপিং মল ট্র্যাফিক আইন সুযোগ সুবিধা না এলেও রোগের বেলা আগে আগে চলে আসার ভয়। শহর ভয় পাচ্ছে এই সীমান্তের ধারের গ্রামকে। আপ গেদে লোকালের প্যাসেঞ্জার ভয় পাচ্ছে এ এলাকার সহযাত্রীকে। ভয় যেন চেপে ধরছে এলাকার লোককে, এলাকার বাইরের লোকগুলিকে। কারণ কি? এখানে ওই যে ধান মাঠের মজুর কবে যেন একটু বারতি ইনকামের আশায় বেরিয়ে পড়েছিল এলাকা ছেড়ে। রাজ মিস্ত্রীর কাজ পাওয়া ছেলেটা চলে গেছিল দল বেঁধে আরব কাতার দুবাই। বোনের বিয়েতে ধুমধাম করার আশায় রওনা হয়ে গেছিল নয়ডার কোন সেন্টারিং এর কাজে। কবে যেন পালিয়েছে সেখান থেকে!  ওখানে কারখানা বন্ধ। আন্ডার কন্সট্রাকশান রুম আন্ডারকন্সট্রাকশন হয়েই থেমে গেছে । হপ্তা বন্ধ। দিনের টাকা বন্ধ। ওই ঘেঁষাঘেঁষি করে থাকার রুমে  তালা পড়ল। ওরা পালিয়ে এসে ঢুকে পড়ে নিতো গ্রামে! গলা  শুকিয়ে আসছে। ওই যে দিল্লির আনন্দ বিহার বাস স্ট্যান্ডে কাতারে কাতারে মানুষ দেখা যাচ্ছে! ওই ভিড়ের ভেতর কেউ নেই তো ওই এলাকার ছেলে! ওই যে কারা পায়ে হেঁটে হেঁটে আসছে! কিলোমিটারের পর কিলোমিটার। শয়ে শয়ে কিলোমিটার। হাজার কিলোমিটার। বাচ্চা ঘাড়ে পিঠে । হাঁটছে বাড়ির দিকে। রাতের পর রাত। রাজ্যের সীমা পেরিয়ে পেরিয়ে কোন সব হাই ওয়ে ধরে। হু হু করে এগিয়ে আসছে ওরা এই দিকেই।  ওই সীমান্ত এলাকার কেউ নেই তো সেই ভিড়ে?   ওই জিরো পয়েন্টের দিক থেকে আসা মেয়েটা ও ওতো ওই দেশেও যায়। ওদিকে ফেন্সিং নেই। ওদিকের বাড়ি বাড়ি কিসব বেচতে যায় শ্যাম্পু সাবান শাড়ি সিটি গোল্ডের গয়না। বেচে টাকা নিয়ে আসে অল্প কিছু বেশি।  রোগ নিয়ে আসছে নাতো ও সাথে করে! লকডাউনে আজো ও আসবে। ২৭ নম্বর গেট পেরিয়ে। নাহলে ওর বাজার হবে না। আটা চাল কেনা হবে না ঘরে। 

স্বাধীনতা বাহাত্তর বার সেলিব্রেশন হয়ে গেছে। পতাকা উঠেছে। ব্যান্ড বেজেছে। কুচকাওয়াজ হয়েছে। ইস্কুলে ইস্কুলে লজেন্স জিলিপি দেওয়া হয়েছে। সীমান্তের  সুরক্ষা বাড়ানো হয়েছে। সুরক্ষা বাহিনী বাড়ানো হয়েছে।  ওই যে সীমান্তের আশে পাশে থাকা ইয়ং ছেলেগুলো এইট নাইনে থাকতেই কেন পড়া ছেড়ে দিয়ে কোথায় যে চলে গেল ভাবার দরকার পড়েনি। ক্লাস এগারোর ছেলেটা সেই যে ইংরাজী পরীক্ষাটা দিয়ে আর বাকি পরীক্ষাগুলো দিতে এলো না সে নিয়ে ভাবার দরকার পড়েনি। ড্রপ আউট খোঁজার নির্দেশিকা এসেছিল স্কুলে। তাও যাওয়া হয়নি ওই সীমান্ত ঘেঁষা অজ পাড়াগাঁ গুলোতে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নেওয়া হয়নি  শ্যামল অজয় বাপি রাজুদের নাম রেজিস্টার খাতায় পরের সেশনে আর উঠল না কেন! খোঁজ নেওয়া হয়নি ওই যে ওপার থেকে গেট পেরিয়ে মেয়েটা স্কুলে আসত সে মাঝ সেশনে হঠাৎ পড়াটা ছেড়ে দিল কেন ! সব খাতা কলমে ম্যানেজ হয়ে গেছে। 

আজ হঠাৎ সব বদলে গেল। এই মারণ রোগের ভয়ে  গোটা পৃথিবী কাঁপছে। ওই যে ছেলেদের বন্ধ কারখানা থেকে আন্ডার কন্সট্রাকশান বিল্ডিং এর কাজ ছেড়ে দিয়ে হঠাৎ ফিরে আসতে দেখা যাচ্ছে ওদের নিয়ে আজ ভাবতে হচ্ছে হঠাৎ করে। ওই যে গেট পেরিয়ে ব্যাগ হাতে আসছে ওকে নিয়ে ভাবা হচ্ছে। ভাবনাটা কি? রোগ নিয়ে আসছে নাতো! এ রোগ তো কেবল ওর একার না। ওর পাড়ার ওর সহ যাত্রীর সেখান থেকে ভিড়ের ভেতর। এক ভিড় থেকে অন্য ভিড়ে। ছড়াতে ছড়াতে শহরের বাজারে। কবে যেন ঢুকে পড়বে এই আবাসনের বদ্ধ ঘরের ভেতর।  বর্ডার থেকে বহু দূরে থাকা মানুষগুলোর ঘুম ছুটেছে। যারা কোথায় আছে, কোথায় থাকে, কোথায় যায়, কেমন দিন কাটায় কোনোদিন ভাবার দরকার পড়েনি। আজ ভাবতে হচ্ছে। ওরাই এখন  ঘুম ছুটিয়ে দিচ্ছে নিজের নরম বিছানাতে। 

আবার একের পর এক স্বাধীনতা দিবসের সেলিব্রেশন হবে । এই মারণ রোগের হয়তো টিকা ওষুধ বেরিয়ে যাবে । আবার সেলিব্রিটিরা থিম ম্যারেজ হবে। উৎসব অনুষ্ঠান ক্রিকেট ফুটবল ভোট হবে। স্কুলে স্কুলে ড্রপ আউট হবে। বর্ডারও থাকবে। ওই মানুষ গুলোও থাকবে।  আই পি এল সোনার দাম সেলিব্রিটির বিয়ের খবরের পিছনে পড়ে যাবে ওই সীমান্তের পাশে থাকা মানুষগুলোর নিত্য দিনের দিনপঞ্জি। 

লেখাটি পূর্ব প্রকাশিত প্রতিদিন পত্রিকায়,লেখিকার ইচ্ছায় পুনঃপ্রকাশিত

 

 

Share on Facebook
Share on Twitter
Please reload

জনপ্রিয় পোস্ট

I'm busy working on my blog posts. Watch this space!

Please reload

সাম্প্রতিক পোস্ট
Please reload

A N  O N L I N E  M A G A Z I N E 

Copyright © 2016-2019 Bodh. All rights reserved.

For reprint rights contact: bodhmag@gmail.com

Designed, Developed & Maintained by: Debayan Mukherjee

Contact: +91 98046 04998  |  Mail: questforcreation@gmail.com